| কবি হেমন্তবালা দত্তর কবিতা |
| পুরাতন যত আবিলতারাশি কবি হেমন্তবালা দত্ত কবির প্রয়াণের পরে, দাদা কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্তর উদ্যোগে, চট্টগ্রাম, ছনহরা, যতীশ-লাইব্রেরী থেকে শ্রীমনীন্দ্রবিনোদ দত্ত কর্ত্তৃক ১৩২২বঙ্গাব্দে (১৯১৫খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত “মাধবী” কাব্যগ্রন্থের ১ম স্তবকের ১ম কবিতা, ১ম-পৃষ্ঠা। ১ পুরাতন যত আবিলতারাশি করিয়া সুদুরে দুর, দাও প্রভো ! দাও মরমে আমার নবীন রাগিণী সুর। ২ জাগাতে আমার নীল নিঠুর মৃতপ্রায় হীন প্রাণ, তোমারি রাগিণী বাজাও বীণায় ধরি নিতি নব তান। ৩ প্রকৃতির সনে তোমার মাধুরী যেমতি উছলি পড়ে, আমার হৃদয়ে তোমারি করুণা জাগাও তেমতি ক’য়ে। ৪ সব কিছু মাঝে তব প্রেম-মুখ ভাসে যেন আঁখি-আগে, তব বাসনার যা’ কিছু বিরোধী প্রাণে কভু নাহি জাগে। ৫ সংসার-বিপিনে পশিবার আগে প্রতিদিন যেন আমি, তোমারি আশীস করিয়া যাচঞা অগ্রসর হই স্বামি। ৬ তোমারি আদেশ খরিয়া শিরেতে যতনে উদ্যম ভরে, প্রতি কাজ যেন করি সমাপন তোমারি চরণ স্মরে। ৭ আপন কাজের সমাধান-ফল তোমারে করিয়া দান, দিবা-শেষে যেন লভে গো আরাম অবসন্ন দেহ প্রাণ। . ******************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বহুদূর হ'তে এসেছি ছুটিয়া কবি হেমন্তবালা দত্ত কবির প্রয়াণের পরে, দাদা কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্তর উদ্যোগে, চট্টগ্রাম, ছনহরা, যতীশ-লাইব্রেরী থেকে শ্রীমনীন্দ্রবিনোদ দত্ত কর্ত্তৃক ১৩২২বঙ্গাব্দে (১৯১৫খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত “মাধবী” কাব্যগ্রন্থের ১ম স্তবকের ২য় কবিতা, ২-পৃষ্ঠা। বহুদূর হ'তে এসেছি ছুটিয়া জেনে তোমা কৃপাময়, আসিতেগো পাশে শত বাধা রয়, কত কাঁটা রাশি লক্ষ্য-পথময়, তাই আখি ক্ষত হের গো হৃদয় জীবন আঁধারময় ;--- বহুদূর হতে এসেছি ছুটিয়া জেনে তোমা কৃপাময়। খোলোগো তোমার করুণা-দুয়ার অকূলে জীবন-ভেলা,--- তুমি গো অভয়, তুমি সমবল, কিছু নাহি, আমি দীনা দুরবল, পিয়াসী হৃদয় ওপদ-কমল, ফুরায়ে অসিল বেলা ;--- খোল গো তোমার করুণা-দুয়ার অকূলে জীবন-ভেলা। . ******************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আধ-পথে এসে দাঁড়াইনু একা কবি হেমন্তবালা দত্ত কবির প্রয়াণের পরে, দাদা কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্তর উদ্যোগে, চট্টগ্রাম, ছনহরা, যতীশ-লাইব্রেরী থেকে শ্রীমনীন্দ্রবিনোদ দত্ত কর্ত্তৃক ১৩২২বঙ্গাব্দে (১৯১৫খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত “মাধবী” কাব্যগ্রন্থের ১ম স্তবকের ৫ম কবিতা, ৭-পৃষ্ঠায়। ১ আধ-পথে এসে দাঁড়াইনু একা, সাথী ছিল যারা, গেছে আগে তারা, পিছায়ে পড়িনু নাহি তাই দেখা। ২ কে আমারে হায়! দেখাইবে পথ? অচেনা সংসারে শুধাব কাহারে? কেবা নিবে বাহি এ জীবন-রথ? ৩ পদে পদে ভুল পদে পদে ভয়, মনে হয়, কাজে তাহা নয়, কত যে সমস্যা, কত যে সংশয়। ৪ ক্ষীণ দুরবল দেহ-মন-প্রাণ, আপনার পায়ে উঠিব দাঁড়ায়ে নাহি হেন শক্তি আজি ভগবান! ৫ দিন যায় চলে বৃথা ভাবনায় শখের ঠিকানা হ’ল নাকো জানা কত কাল আর ঘুরিব ধরায়। ৬ জীবনের লক্ষ্য আপন সাধনা, মোহ ফাঁদে পড়ি’ গিয়াছি পাশরি’ বিফল জনম অসহ যাতনা। ৭ যায় যাক্ প্রাণ, যাক্ সমুদয় এস ধীরে ধীরে ধ্রুব লক্ষ্য ফিরে আঁধার জীবন হোক্ আলোময়। . ******************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কি রহে আমার প্রভো! কি রহে আমার? কবি হেমন্তবালা দত্ত কবির প্রয়াণের পরে, দাদা কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্তর উদ্যোগে, চট্টগ্রাম, ছনহরা, যতীশ-লাইব্রেরী থেকে শ্রীমনীন্দ্রবিনোদ দত্ত কর্ত্তৃক ১৩২২বঙ্গাব্দে (১৯১৫খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত “মাধবী” কাব্যগ্রন্থের ১ম স্তবকের ৬ষ্ঠ কবিতা, ৯-পৃষ্ঠায়। ১ কি হে আমার প্রভো! কি রহে আমার? আশার মুকুল যত, একে একে ধূলিগত ভগন সাধের বাঁশী, থেমেছে ঝঙ্কার। সুবিশাল হৃদাকাশে, ঘোর ঘনঘটা ভাসে, হারানু অলক্ষে হায়, লক্ষ্য আপনার। কি রহে আমার প্রভো! কি রহে আমার? ২ কি রহে আমার প্রভো! কি রহে আমার? প্রণয়-রতন-হার, শোভিল না একবার, বিফল ভকতি-অর্থ বহু সাধনার, প্রাণের আবেগ-ব্যথা, মরমের কত কথা, নিবেদন হলনা’ক পদে দেবতার! কি রহে আমার প্রভো! কি রহে আমার? ৩ কি রহে আমার প্রভো! কি রহে আমার? শূন্য মন শূন প্রাণ, নীরব বাঁশীর তান, ভেঙ্গে গেছে সুখ-স্বপ্ন জীবন-উষার, ফুরায়ে আসিল বেলা, ভাসিছে জীবন-ভেলা, ভব-পারাবার হায়, অসীম অপার! কি রহে আমার প্রভো! কি রহে আমার? ৪ কি রহে আমার প্রভো! কি রহে আমার? কিছু নাই, কিছু নাই, স্মৃতি-ভস্ম চারি ঠাঁই, আবরি মরমে শুধু বহে অনিবার। শুধু সার আঁখিজল, বুকভরা দাবানল, সারাটী জীবন ঘেরি করে হাহাকার। কি রহে আমার প্রভো! কি রহে আমার? . ******************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জগত আমারে ওগো, দিয়েছে বিদায় কবি হেমন্তবালা দত্ত কবির প্রয়াণের পরে, দাদা কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্তর উদ্যোগে, চট্টগ্রাম, ছনহরা, যতীশ-লাইব্রেরী থেকে শ্রীমনীন্দ্রবিনোদ দত্ত কর্ত্তৃক ১৩২২বঙ্গাব্দে (১৯১৫খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত “মাধবী” কাব্যগ্রন্থের ১ম স্তবকের ৭ম কবিতা, ১১-পৃষ্ঠায়। জগত আমারে ওগো, দিয়েছে বিদায় তুমি কেন রাখগো বাঁধিয়া? এ জীবন ধরণীর বোঝা হেন ভার, দাও সথা! বাঁধন টুটিয়া। ২ সবার কামনা নিতি মরণ আমার, এ ধরণী মোরে নাহি চায় ;--- মহা অপরাধ মোর ভগন হৃদয়, সুখ-শান্তি সব অন্তরায়। ৩ আমার এমন দিন ছিল না একদা, আজি আমি জীবিতে যে মরা ;--- ধরণী অমরা ছিল নয়নে আমার, কি আরাম, কি হরষভরা! ৪ মরণ নামেতে মোর শিহরিত তনু, নীরবে উঠিত কেঁদে প্রাণ ;--- তাপিত মানসে হায়! ত্যজি’ প্রিয়জন কেমনে বা করিব প্রয়াণ! ৫ এমন হুখের ধরা, রূপসী প্রকৃতি, পরপারে পাব কিনা আর, সাধের জীবন হেন সুখ শান্তি মাখা আহা কিবা পুলক অপার! ৬ আজি প্রভো! ভেঙ্গে গেছে সুখের স্বপন, শুকায়েছে আশার মুকুল, জীবনের মাঝ-পথে দাঁড়াইনু একা, দিশাহারা হারায়ে দু'কূল। ৭ মরণে সুহৃদ ভাবি করি আবাহন বিনয় মধুর বোলে কত ;--- সে যে হায়! নাহি চাহে ফিরিয়া আমায় আমি যেন তা’রো বোঝা মত। ৮ মরণেও নাহি চাহে, জীবনে না কেহ, বল আজি কি করি উপায়?--- আপনার পথ মোরে নিতে হবে বেছে তুমি শুধু দাও গো বিদায়। ৯ রেখোনা ভুলায়ে আর দিও না আশ্বাস টুটে দাও সব মায়া-ডোর ;--- অনলে পতঙ্গ প্রায় ঝাঁপায়ে অসীমে জীবন-রজনী করি তোর! . ******************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| মরণের নামে সখা! কেন এত ভয়? কবি হেমন্তবালা দত্ত কবির প্রয়াণের পরে, দাদা কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্তর উদ্যোগে, চট্টগ্রাম, ছনহরা, যতীশ-লাইব্রেরী থেকে শ্রীমনীন্দ্রবিনোদ দত্ত কর্ত্তৃক ১৩২২বঙ্গাব্দে (১৯১৫খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত “মাধবী” কাব্যগ্রন্থের ১ম স্তবকের ৮ম কবিতা, ১৪-পৃষ্ঠায়। ১ মরণের নামে সখা! কেন এত ভয়? মরণ কেমনতর, সে কিগো বেদনা বড়, তাহে কি সুখের লেশ কভু নাহি রয়? রোগ-শোক-দুখ-তাপ, অনুতাপ পরিতাপ, মশে ঘেরিয়া কি গো সদা জাগি রয়? মরণেরে আমি সখা! নাহি করি ভয়! ২ মরণের নামে সখা! কেন এত ভয়? উষার সুষমারাশি, বিকচ কুসুম-হাসি মলয়ের মৃদু স্পর্শ চির মধুময়, সুধামাখা সুললিত, মধুর বিহগ-গীত, হৃদয় কি সেথা নাহি করে প্রীতিময়? মরণেরে আমি সখা। নাহি করি ভয়। ৩ মরণের নামে সখা! কেন এত ভয়? ধূসর আঁচলখানি, দুলায়ে গোধূলি-রাণী, শ্রান্তের ক্লান্তি কি সেথা নাহি করে লয়? সোণার চাঁদিমা-তারা, রজত জ্যোছনা-ধারা, বিতরি ঢালে না প্রীতি জগত-হৃদয়? মরণেরে আমি সখা! নাহি করি ভয়। ৪ মরণের নামে সখা! কেন এত ভয়? আবেগ আকুল প্রাণে, তটিনী সাগর পানে, কুলু কুলু কুলু স্বনে সেথা নাহি বয়? বিশাল গগন বুকে, সৌদামিনী মন সুখে, খেলে নাকি লুকোচুরি সকৌতুকময়? মরণেয়ে আমি সখা! নাহি করি ভয়! ৫ মরণের নামে সখা! কেন এত ভয়? “মরণ” মরণ নয়, সে যেগো অমৃতময়, নবীন জীবন লভে মরিলে নিশ্চয়। মরণে কিসের ভয়, সে যে চির-শুভময়, মঙ্গলময়ের বিধি অশুভ কি হয়? মরণেরে আমি সখা! নাহি করি ভয়। ৬ মরণের নামে সখা! কেন এত ভয়? জীবিতে জড়ের প্রায়, অনুদিন বসুধায়, পড়িয়া রয়েছি ল'য়ে দগধ হৃদয়! জীবনের লক্ষ্য হারা, আপন ভাবনা ছাড়া, জগতের কোন কাজে নাহিক সময়! মরণেরে আমি সখা! নাহি করি ভয়। ৭ মরণের নামে সখা! কেন এত ভয়? মরণ যদি গো হয়, সত্য-বিভীষিকাময়, তবে যে মরিয়া আহি নাহিকো সংশয়! হৃদয়ে নাহিক শক্তি, দয়া-প্রীতি-প্রেম-ভক্তি, শূন্য এ জীবন হায়! যেন মরুময়। মরণেরে আমি সখা! নাহি করি ভয়। ৮ মরণের নামে সখা। কেন এত ভয়? বেঁচে শুধু মরে আছি, সে মরণ হলে বাঁচি, নব জাগরণ সে যে কিবা সুখময়! ল’য়ে নব বল-আশা, বুকভরা ভালবাসা, সমাধি, সাধনা ধন্য হইবে নিশ্চয়। মরণেরে আমি সখা! নাহি করি ভয়! . ******************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |