কবি হেমন্তবালা দত্তর কবিতা
বলনা সজনী নিঠুর রজনী
কবি হেমন্তবালা দত্ত
কবির প্রয়াণের পরে, দাদা কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্তর উদ্যোগে, চট্টগ্রাম, ছনহরা, যতীশ-লাইব্রেরী থেকে
শ্রীমনীন্দ্রবিনোদ দত্ত কর্ত্তৃক ১৩২২বঙ্গাব্দে (১৯১৫খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত “মাধবী” কাব্যগ্রন্থের ২য় স্তবকের ২য়
কবিতা, ২১-পৃষ্ঠায়।


বলনা সজনী,                    নিঠুর রজনী
হইবে কখন ভোর?
আশা-পাখীগণ,                গাহিবে কখন,
জীবন-কাননে মোর?
হৃদয়-মালঞ্চে বাসনা-মুকুল
মন-ভৃঙ্গ কবে করিবে আকুল
আশার সমীর বহিয়া মৃদুল
জুড়াব দগধ প্রাণ?


মানস-ভুবন                    উজলি কখন
শ্যাম মোর দিবে দেখা,
বলনা সজনী,                পাব কিনা শুনি,
হৃদয় বিহারী সখা!
দীরঘ জীবন-পথেতে লো সখি!
তুমি বিনে আর সাথী নাহি দেখি,
তৃপ্ত রহি সদা তোমা ভালবেসে
তোমা সনে গেয়ে গান।

.              ********************             

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
হৃদি-উপবনে কে তুমি বিরাজ
কবি হেমন্তবালা দত্ত
কবির প্রয়াণের পরে, দাদা কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্তর উদ্যোগে, চট্টগ্রাম, ছনহরা, যতীশ-
লাইব্রেরী থেকে শ্রীমনীন্দ্রবিনোদ দত্ত কর্ত্তৃক ১৩২২বঙ্গাব্দে (১৯১৫খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত “মাধবী”
কাব্যগ্রন্থের ২য় স্তবকের ৩য় কবিতা, ২২-পৃষ্ঠায়।

হৃদি-উপবনে কে তুমি বিরাজ
.        গোপনে মোহিনী বালা?
মরি কি সুষমা মরি কি মাধুরী---
.        ত্রিদিব-অমিয়-ঢালা!
উছলি পড়িছে চাঁদের জ্যোছনা
.        ও চারু কোমল কায়,
নিয়ত ক্ষরিছে কুসুম সুবাস
.        যেন গো নিশ্বাস-বায়।
বসন্ত-সখার অমৃত-রাগিণী
.        তোমার মধুর বাণী,
তোমারি আলোকে আলোকিত হেরি
.        তিমির জীবন খানি।
কে তুমি ললনে! মানস-মোহিনী!
.        মোহিয়ে হৃদয় মোর?
তোমারে ঘেরিয়া কি যেন কি রয়
.        তোমাতে জীবন ভোর!
মানবী, দানবী, অপ্সরা কি দেবী,
.        এখনো বুঝিনি বালা,
এ মরু-সংসারে লভিয়া তোমারে
.        ভুলি যে সকল জ্বালা।
ভব-ঘাতে যবে ভগন হৃদয়
.        অবশ আকুল পারা,
তব মৃদু মধু আশ্বাস বচনে
.        ঘুচে যে নয়ন-ধাৱা।
ব্যথিত প্রাণের নিরাশ-আঁধার
.        যত দুখ-পাপ-কালি,
যতনে বিনাশ তুমি লো সজনী,
.        উজল আলোক জ্বালি’।
যদি গো এ ভবে জীবন-পথের
.        না হ’তে দোসর তুমি,
ভগন হৃদয় হ’য়ে শতখান
.        ঘুমাত ধরণী চুমি'।
তোমারি করুণা তোমারি মহিমা
.        সারাটা মরম ভরি’---
তুমি বিনে দেবী, কিছু নাহি মোর
.        রহগো হৃদয় জুড়ি।

.              ********************             

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
সংসার পাথারে জীবন তরণী
কবি হেমন্তবালা দত্ত
কবির প্রয়াণের পরে, দাদা কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্তর উদ্যোগে, চট্টগ্রাম, ছনহরা, যতীশ-
লাইব্রেরী থেকে শ্রীমনীন্দ্রবিনোদ দত্ত কর্ত্তৃক ১৩২২বঙ্গাব্দে (১৯১৫খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, “মাধবী”
কাব্যগ্রন্থের ২য় স্তবকের ৪র্থ কবিতা, ২৪-পৃষ্ঠায়।

.                ১
সংসার পাথারে জীবন তরণী
.        বাহিয়া যেতেছি দিবস যামী,
আপনারে লয়ে আপনি বিভোর
.        তৰ কোলাহলে বধির আমি ;
.                রহি অন্তরালে মোহন বীণায়
.                        কে তুমি সহসা রোধিলে গতি?

.                ২
অপরুপ ও বীণার ঝঙ্কার
.        আহা কি মধুর তুলনা নাই,---
অমর কি তুমি, অমরার বীণা
.        করিছ বাদন লুকায়ে তাই!
.                কি যেন বীণায় রহে সঙ্গোপনে
.                        তাই গো শ্রবণে আকুল মতি।

.                ৩
বসন্ত সখার কাকলি হতেও
.        ও বীণার তব মধুর তান,
শিশু বয়ানের আধ’ বুলি হতে
.        হরে যে ও বীণে অধিক প্রাণ।
.                কে তুমি, কে হও বলনা আমায়
.                        কে তোমা শিখালে মধুর তান।

.                ৪
আহা! মরি! মরি! কি অমৃত ধারা
.        সিঞ্চিছে অভাগা দীনের প্রাণে,---
ভব-অবসাদ শ্রান্তি ক্লান্তি যত
.        করিছে হরণ ললিত তানে।
.                কি যেন মদিরা কি যেন আবেশ,
.                        বলগো আমায় গাও কি গান?

.                ৫
নব বালাকের নবীন কিরণে
.        সাজিছে প্রকৃতি নবীন সাজে,
কুসুমিত বন বিহগকূজন
.        বহে সমীরণ ধরার মাঝে।
.                নব আবাহনে জাগি জীবগণ
.                        ছুটেছে সকল আপন ব্রতে।

.                ৬
“আমি”র মাঝারে আমি যে মগনা
.        ‘আমি’রে লইয়া সময় কাটে,
বীণার ঝঙ্কারে ভাঙ্গিলে চমক
.        কে তুমি আমার জীবন-বাটে?
.                ‘আমি’র বাঁধন যায় যে ভাসিয়া
.                        তোমারি মোহিনী বীণার স্রোতে

.                ৭
হৃদি মাঝে আজি উঠল জাগিয়া
.        কত না বাসনা তারকাচয়,
তার মাঝে হেরি কার এ মূরতি
.        শশধর সম অমিয়ময়?
.                চিনেছি এবার হৃদি-বীণা মোর
.                        বাজিছে আপনি পুলক ভরে।

.                ৮
মোহ-ঘোরে হয়ে অন্ধ ও বধির
.        গিয়েছে জীবন কেবলি বৃথা :---
বীণার লহরে ব্যাকুল পরাণ
.        অতীত স্মরণে জাগিছে ব্যথা।
.                বাজ হৃদি-বীণ্ ! বাজ অনিবার
.                        যা’ রহে কালিমা যাক্ সে মরে।

যা’ কিছু বিমল, যা’ কিছু পবিত
.        যা’ রহে শকতি যেটুকু প্রাণ,
ওগো রাজ-রাজ, বাজাও বীণায়
.        বিশ্বের সেবায় করিতে দান।

.              ********************             

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
হৃদয়ে এস! হৃদয়ে এস!
কবি হেমন্তবালা দত্ত
কবির প্রয়াণের পরে, দাদা কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্তর উদ্যোগে, চট্টগ্রাম, ছনহরা, যতীশ-
লাইব্রেরী থেকে শ্রীমনীন্দ্রবিনোদ দত্ত কর্ত্তৃক ১৩২২বঙ্গাব্দে (১৯১৫খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত “মাধবী”
কাব্যগ্রন্থের ২য় স্তবকের ৫ম কবিতা, ২৭-পৃষ্ঠায়।

.                ১
হৃদয়ে এস! হৃদয়ে এস!
.        হৃদয়-বিহারী মম।
বিরহ-রাতি হউক্ শেষ
.        ঘুচুকু সকল তমঃ!
.                ভব-পারাবারে দিবস রজনী,
.                লক্ষ্য-হারা এই জীবন-তরণী
.                কত কাল আর বাহিবে এমনি
.                        অবশ হৃদয় ল'য়ে?

.                ২
হৃদয়ে এস! হৃদয়ে এস!
.        হৃদয়-বিহারী মম!
বচন-সুধা-পিয়াসে চিত
.        ভূষিত চকোর সম!
.                পিপাসিত হয়! নীরস জীবন
.                আশা-নীরে আর জীবে কতক্ষণ?
.                শিশিরে কি কভু বাঁচে জীবগণ
.                        বরিষণ-হারা হ’য়ে?

.                ৩
হৃদয়ে এস! হৃদয়ে এস!
.        হে মম হৃদয়-রাজ!
ব্যাকুল প্রাণে কাতরে ডাকি
.        তেয়াগি সকল লাজ।
.                তোমারি অভাবে জীবন আঁধার
.                পদে পদে বাধা তাই অনিবার
.                ভবের আঘাত সহে নাকো আর
.                        প্রাণ কহে “যাই” “যাই”।

.                ৪
হৃদয়ে এস! হৃদয়ে এস!
.        হে মম হৃদয়-রাজ!
প্রেম-মিলনে প্রীতির ধারা
.        বিতর মরমে আজ!
.                পরাণে পরাণে নয়নে নয়নে
.                দিবসে নিশিথে জীবনে মরণে
.                দিও দরশন রেখো সদা মনে
.                        এই শুধু নিতি চাই!

.              ********************             

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*