.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্তর কবিতা
প্রকৃতির মাধুকরী
কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্ত
সুকুমার সেন সম্পাদিত বাংলা কবিতা সমুচ্চয় প্রথম খণ্ড (১৯৯১) কাব্য সংকলন থেকে।


পঞ্চ ঠাঁই হতে নিত্য পঞ্চমুঠি ভিক্ষা করে আনি
তুমি করিতেছ রক্ষা আপনার জীব দেহখানি!
তব এ যোগিনী সাজে লুকাইয়ে আছে কি মাধুরী,
যার দ্বারে জাও যবে ভিক্ষা-ঝুলি দেয় সেই পুরি!
সৃষ্টির প্রারম্ভ হতে কত যুগ, কত বর্ষ মাস,
কালের বিরাট গর্ভে রচে নিল আপন আবাস!
নাহি শান্তি, নাহি ক্লান্তি, শৈথিল্যে বিশ্রাম ক্ষণ আর,
তুমি সদা একভাবে পালিতেছ ব্রত আপনার।
এ ব্রতের কোথা আদি, কোনখানে হবে অবসান,
বিশ্বের কল্পনা কিছু নাহি করে সদুত্তর দান!
জানি শুধু রাজেন্দ্রানী, তব এই ভিখারিনী বেশ,
সাধিতেছ প্রতি পলে জগতের কল্যাণ অশেষ।
আনন্দে বিস্ময়ে তাই ভাবি বসে দিবা-বিভাবরী,
কিবা আসে কল্পে কল্পে আচরিছ পূত মাধুকরী।

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
সাধনা কুঞ্জ
কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্ত
বিজয়চন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত বঙ্গবাণী পত্রিকার বৈশাখ ১৩২৯ (এপ্রিল ১৯২২) সংখ্যায়
প্রকাশিত।


“সাধনা-কুঞ্জ” কোথায় তোমার ওগো উদাসীন কবি!
নিত্য যেথায় গাহিছ নিজনে আঁকিছ করুণ ছবি!
.                মাথা রাখিবার নাই ঠাঁই ভবে,
.                পথে পথে ফির আপন গৌরবে,---
.                “কুঞ্জ” তোমার বিরচিলে কবে
.                                রহস্য বুঝি সবি!
“সাধনা-কুঞ্জ” কোথায় তোমার ওগো উদাসীন কবি!

সত্য সুহৃদ! যা কহিলে তুমি জীর্ণ কুটীর (ও) নাই।
“সাধনা-কুঞ্জ” কোথায় আমার ভাবিতেছি আমি তাই!
.                মনে হয় মোর হৃদয়-গহন
.                যেথা ছিল শুধু কণ্টক-বন,
.                ফুলে ফুলে আজি সাজিল কেমন
.                                কার পরশন পাই’!
“সাধনা-কুঞ্জ” সেই কি আমার ভাবিতেছি আমি তাই!

মানস তটিনী বয়ে যায় সেথা ‘কুলু’ ‘কুলু’ ‘কুলু’ তানে!
*

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
আগমনী
রচনা - কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্ত
সুর ও স্বরলিপি - মোহিনী সেনগুপ্তা
বিজয়চন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত “বঙ্গবাণী” পত্রিকার আশ্বিন ১৩২৯ (অক্টোবর ১৯২২) সংখ্যায় প্রকাশিত।


॥ জলধর কেদারা, তেওড়া॥

সকল রসের উত্সরূপিনী এস মা, ঈশাণী এস,
সকল হৃদয় মধুর সরস করি’।
তুমি কৃপাময়ী জগৎ-জননী এস মা, অভয়া এস,
করুণাধারায় ভাবনা-বেদনা হরি’॥
শান্তরসের তুমি মা প্রতিমা এস মা, সারদা এস,
শারজযামিনী বোধন-রাগিণী ভরি’।
বিভীষিকাময়ী ভীমা করালিনী এস মা, রুদ্রাণী এস,
অধম সুতের জীবন-শ্মশান ’পরি॥
বীরের জননী বীর প্রসবিনী এস মা, বরদা এস,
হীনতা দীনতা পড়ুক সভয়ে সরি’।
মহা-সাগরের কল্লোল তুলি’ এস মা, ভবাণী এস,
ভাসাব অকূলে আজিকে মানস-তরী॥
বীর ও রৌদ্র রসের মূরতি তুমি মা, শিবাণী এস,
জড়িমা আঁধারে আলোক-চেতনা গড়ি’।
এস মা, এস মা, সঙ্গীতময়ী, তৃষিত আকুল প্রাণ,
জুড়াই হৃদয়ে রাতুল চরণ ধরি’॥

.              ********************               

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
অনুপমা
কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্ত
সরযূবালা দত্ত সম্পাদিত “ভারত মহিলা” পত্রিকার মাঘ ১৩১৫ (জানুয়ারী ১৯০৯) সংখ্যায়
প্রকাশিত।


অয়ি জন্ম-জন্মান্তরের জীবন সঙ্গিনী,
কল্যাণী মানসী মোর! দেবী মন্দাকিনী
আরাধ্য দেবতা সম যে দিন প্রথম
লভিলেন সাগরের প্রথম সঙ্গম
বহু তপস্যার পরে, সেই দিন হতে
শত বাধা অতিক্রমি’ শত লক্ষ স্রোতে
কত স্নিগ্ধ সুধা-ধারা করিয়া অর্পণ
করিলা অর্চ্চনা তার নিত্য অনুক্ষণ
অদ্যাবধি প্রেমময়ি! মোর মনে হয়,
তুমি যত পূণ্য-প্রেমে এ শূন্য হৃদয়
করিয়াছ পূর্ণ মোর জন্ম-জন্ম ধরি
অকাতর-করুণায় দিবস-শর্ব্বরী
আত্মহারা জ্ঞান-হারাস তা’রি সনে হায়!
হয় না তুলনা কভু জাহ্নবী-ধারায়
চির-অলুলনা অয়ি!
.                        সিন্ধু সে মহান ;---
সায্যের আদর্শপূত, জাহ্নবীর দান
করে নাই স্ফীত তারে, দেয়নি গৌরব,---
তুচ্ছ পঙ্ক আবর্জনা হাস্য-মুখে সব
গ্রহণ করেছে শুধু, দেখেনি ভাবিয়া
কত প্রেম তা’রি সাথে এনেছে বহিয়া
নিঃশব্দে হিমাদ্রি-সুতা!
.                        ক্ষুদের নয় আমি ;---
তব প্রেম অয়ি দেবি, মোরে দিন-যামি
করেছে পবিত্র ধন্য, ঊর্দ্ধে স্বর্গ-মুখে।
*
মহানিদ্রায় মহাকবি
কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্ত
স্বর্ণকুমারী দেবী সম্পাদিত “ভারতী” পত্রিকার বৈশাখ ১৩১৬ (এপ্রিল ১৯০৯) সংখ্যায়
প্রকাশিত।
কবি নবীনচন্দ্র সেনের প্রয়াণে এই কবিতাটি লেখা হয়েছিল।


বিশ্বের বরেণ্য কবি প্রতিভার প্রদীপ্ত ভাস্কর,
হের ওই চিরসুপ্ত --- যোগমগ্ন তাপস সুন্দর!
প্রশান্ত শান্তির রেখা উদ্ভাসিত প্রসন্ন আননে,
তৃপ্ত যেন পূত আত্মা আজনম সফল-সাধনে!
ভারতের বর পুত্র, জগতের অমর নন্দন,
গীতা বক্ষে যুক্ত-করে করিছে আত্ম-সমর্পণ!
জীবনের যত কিছু দুঃখ-দৈন্য বেদনা-বিষাদ,
সকলি বিস্মিত যেত লভি আজি দেব-আশীর্ব্বাদ!
মুক্ত দু’টি আঁখি-তারা বুঝি হেরে অদূরে সম্মুখে
অভীষ্ট আরাধ্য দেবে সুনির্ভরে অক্ষয় কৌতুকে!
অর্দ্ধ-বিকশিত-আস্য করে যেন নীরবে জ্ঞাপন
জন্মভূমি জননীরে অন্তরের শেষ-সম্ভাষণ!

নামাবলী বন্ধ শিরে, চন্দনের শুভ-টিকা ভালে,
মহা ‘বিজয়ার’ সজ্জা উপহাস করিতেছে কালে!
নির্ম্মল প্রসূনপুঞ্জে সাজাইয়ে শ্রীঅঙ্গ শোভন
পুষ্পরূপে অশ্রু-অর্ঘ্য করিয়াছে ভক্তে নিবেদন।

বঙ্গের সন্তানবৃন্দ! আর্ত্তনাদ ভুলি’ ক্ষণতরে,
হের ওই দিব্য মূর্ত্তি একবার সারা প্রাণ ভ’রে!
নবীন ‘ভারত’-স্রষ্টা --- কল্পনার অফুরন্ত-গান ---
সরল উদার হৃদি, ওইখানে নিয়েছে নির্ব্বাণ!
আবার আসিবে বিশ্ব কালি শুভ্র প্রভাত-প্রভায়,---

কবীন্দ্রের মহানিদ্রা আর কভু ভাঙ্গিবেনা হায়!!

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*