কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্তর কবিতা
|
কাঞ্চী বা কর্ণফুলী কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্ত কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার মাঘ ১৩২৬ (জানুয়ারী ১৯১৯) সংখ্যায় প্রকাশিত।
পূণ্যতোয়া কাঞ্চী অয়ি! অয়ি চট্টলার স্নেহ-প্রবাহিনী! যুগান্তরের পূত স্মৃতি সারা বক্ষে লয়ে নিতি তুলিছে অনুক্ষণ কি মহা রাহিণী! আত্মভোলা মহেশ্বর সে কবে হায়, দক্ষ-যজ্ঞালয়ে, জীবন-তোষিণী প্রিয়া সতী-ব্রতে বিসর্জ্জিয়া সংহার মূর্ত্তির বেশে উদ্ভ্রান্ত হৃদয়ে, প্রচণ্ড ঝঞ্ঝার সম মথিয়া ভূবন
|
জন্মান্তর-স্মৃতি
কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্ত
কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার শ্রাবণ ১৩২৭ (জুলাই ১৯২০)
সংখ্যায় প্রকাশিত।
জন্মান্তের কথা মোর আজি যেন পড়িতেছে মনে
বিস্মৃত-গীতের সুর জাগে শান্ত চিত্ত-তপোবনে
মধুর প্রণব হেন! কোন্ এক অখ্যাত পল্লীর
নিভৃত কুটীর-কোণে স্নেহ-মাখা অঙ্কে জননীর
হয়েছিল জন্ম মম, পিতা মোর কৃষক সুজন
হৃদয়ের রক্ত দিয়ে কমলার রত্ন সিংহাসন
রচিতেন শূন্য ক্ষেতে, স্বাভাবিক সরল জীবন
স্নিগ্ধ তরুছায়া ঘেরা শৈলজার স্রোতের মতন
বয়ে যেত অনাবিল!
. মোদের সে পল্লীসীমানায়
অনুন্নত গিরিশ্রেণী লীলারত তরঙ্গের প্রায়
শৈলবালার প্রতি গিরি-কন্দর
কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্ত
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত “প্রবাসী” পত্রিকার আষাঢ় ১৩১৪ (জুলাই ১৯০৭) সংখ্যায়
প্রকাশিত।
হে শৈলজে, পলে পলে তিলে তিলে বিন্দু বিন্দু হয়ে
তুমি পশেছিলে যবে এ আমার নিভৃত হৃদয়ে,
বিস্ময়ে আনন্দে কত তখন তোমায় সমাদরে
ডেকে নিয়েছিনু সখি! আজ কি তা’ কিছু মনে পড়ে?
নিরস কঠোর প্রাণে ঘেরা শুধু ছিল অন্ধকার,
অভিযান
কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্ত
নারায়ণচন্দ্র বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত “স্বদেশী” পত্রিকার চৈত্র ১৩১৪ (মার্চ ১৯০৮) সংখ্যায়
প্রকাশিত।
শুভ লগ্নে সাঙ্গ করি সর্ব্ব আয়োজন,
লক্ষ চমূ দাঁড়াইয়া স্থির অচঞ্চল ;---
শান্ত যেন সমুদ্রের ভীষণ নর্ত্তন
ঝটিকার পূর্ব্বাভাস সূচিয়া কেবল!
হে রাজেন্দ্র, বীরশ্রেষ্ঠ, সন্ন্যাসি প্রবর,
প্রতীক্ষা করিছে সবে ইঙ্গিত তোমার ;
পূর্ণ করি মুহূর্ত্তেকে বিশ্ব-চরাচর
নিনাদ মহ্গল-শঙ্ক তবে এইবার!
ছুটুক তড়িৎ বক্ষে, নাচুক ধমনি,
ক্ষণে ক্ষণে বহ্নিকণা ভাতি জ্যোতির্ম্ময়---
তুলিয়া তাণ্ডব রোল বিকট অশনি
ঘুষুক দিগন্তে তব অনন্ত বিজয়!
প্রাণ দিয়ে, প্রাণ নিয়ে, পেতে হবে প্রাণ,
সার্থক হইবে তবে মহা অভিযান!!
. ********************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
ঐতিহাসিক বীর বালক জালিম সিংহ
কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্ত
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত “প্রবাসী” পত্রিকার আশ্বিন ১৩১৪ (অক্টোবর ১৯০৭)
সংখ্যায় প্রকাশিত।
(মুর্শিদাবাদের সুবিশাল গিরিয়া প্রান্তরে ১৭৪০ খ্রীষ্টাব্দে সিংহাসন লইয়া বাঙ্গালার নবাব
সরফরাজ খাঁর সহিত তদীয় অনুচর আলিবর্দ্দী খাঁর যে ভীষণ যুদ্ধ ঘটে, তাহার ফলাফল
ইতিহাসজ্ঞ পাঠকের অবিদিত নহে। কিন্তু এই যুদেধে নবাবের একতম রাজপুত সেনাপতি
বিজয়সিংহের নবমবর্ষীয় শিশু সন্তান জালিম সিংহ যে অপূর্ব্ব পিতৃভক্তি ও শৌর্য্য প্রদর্শন
করিয়াছিলেন, তাহা অনেকের নিকট অজ্ঞাত। সে বিচিত্র বীর-গাথা চিরকাল ভারতের গৃহে
গৃহে কীর্ত্তিত হওয়া উচিত। আমার ক্ষুদ্র লেখনী আজ সে পুণ্য-কাহিনী সংস্পৃষ্ট হইয়া ধন্য
হইল।)
প্রভাত তখন হয়ে এল
. সূর্য্য উঠে-উঠে---
লক্ষ বীরের শিরার মাঝে---
. তপ্ত শোণিত ছুটে!
ঘেরি ‘গিরিয়ার’ বিশাল ভূমি
বীরের কণ্ঠ আকাশ চুমি
. ফুটে---
প্রভাত তখন হয়ে এল
. সূর্য্য উঠে-উঠে!
উঠিল হর্জ্জি হাজার কামান
. ছুটিল গুলি গোলা---
কাল-সমুদ্রে মুহূর্ত্তেকে
. জাগিল ভীষণ দোলা!
আপনি নবাব কবীর পরে
দীপ্ত অসি বজ্র-করে
. খোলা---
উঠিল গর্জ্জি হাজার কামান
. ছুটিল গুলি গোলা!
আলিবর্দ্দীর সৈন্য হতে
. মারিল কেবা বাণ---
লুটান নবাব হাওদা মাঝে
. গেলরে বুঝি প্রাণ!
বিদ্রোহী দল গরজে সুখে
নবাব সৈন্য নহেরে দুখে
. ম্লান---
গেছেন নবাব-আছে ত বীর্য্য
. আছে ত দেহে প্রাণ!
সৈন্যাধ্যক্ষ বিজয় সিংহ
. হুঙ্কারে ঘোর স্বনে---
কাঁপিছে ঊর্দ্ধে তীক্ষ্ণ শৈল্য
. শঙ্কর যেন রণে!
বিদ্রোহী সেনা তৃণের প্রায়!
আঘার তাহার ভাসিয়ে যায়
. ক্ষণে---
সৈন্যাধ্যক্ষ বিজয় সিংহ
. হুঙ্কারে ঘোর স্বনে!
আলিবর্দ্দীর বিশাল বক্ষ
. সম্মুখেতে হেরি---
আস্ফালিয়া দারুণ বর্ষা
. শূন্যে দিলেন এড়ি!
পূর্ব্ব জন্মের পুণ্য-ফলে
বর্ষা গেল রসাতলে
. পড়ি---
অরি দলে হরষ-ধ্বনি
. জাগিল আকাশ ঘেরি!
সহসা এক জ্বলন্ত গোলা

