কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্তর কবিতা
|
বর্ষা-মধ্যাহ্নে
কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্ত
স্বর্ণকুমারী দেবী সম্পাদিত “ভারতী” পত্রিকার শ্রাবণ ১৩১৮ (জুলাই ১৯১১) সংখ্যায়
প্রকাশিত।
বৃষ্টি নাই তবু আজ মেঘে ঢাকা গগনমণ্ডল
দিকে দিকে রুদ্রৃজটা উড়ে যেন অসিত-পিঙ্গল।
ম্লান দিবসের আলো --- মধ্যাহ্নে কি গোধূলি-লগন ---
রূপসী প্রকৃতি বালা অস্রু-স্নাতা বিরস বদন!
সম্মুখে সরসী মোর নীরপূর্ণ যৌবন-চঞ্চলা
তীর-চূম্বী ধান-ক্ষেতে রচিয়াছে আসন কমলা।
কদলীর কুঞ্জ তীরে --- কাশবনে ঘেরা চারিধার---
উদাসী সমীর ফিরে ক্ষিপ্ত হেন করি হাহাকার!
একা আমি শূন্য-গৃহে বসি মুক্ত বাতায়ন-পথে
সারা প্রাণে চাহিতেছি --- স্মৃতি তব শত দিক হতে
জড়ায়ে ধরিতে বক্ষে ; জুড়াইতে বিরহী হৃদয়---
বৃথা কেটে যায় আজি মিলনের নিভৃত সময়।
প্রেমময়ী দেবী তুমি, দীন ভক্তে পাশরি কেমনে
রহিয়াছ বহুদূরে অমরার আনন্দ-ভবনে।
. ********************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
চিত্র-মিলন
কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্ত
কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার পৌষ ১৩২৩ (ডিসেম্বর ১৯১৬)
সংখ্যায় প্রকাশিত।
শুধু দু’টি চিত্রপট --- আর কিছু নয়!
জানে না কারেও কেহ, চিনে না হৃদয়!
বুকে বুকে মুখে মুখে,
মিলিয়াছে তবু সুখে,---
ছায়ায় ছায়ায় মায়া --- ভূবন-বিস্ময়।
কি মধুর এ মিলন!
স্বপনের ফুলবন!---
স্বপনে ছড়ায় হাসি বড় সুধাময়!
হেথায় বিরহ নাই,
তিয়াসার কোথা ঠাঁই?---
ভাবনা বেদনা কবে হয়ে গেছে লয়!
মৌন প্রেম, মৌন ভাষা,
মৌন সব সাধ-আশা,---
নীরবতা-কোলে শুধু কৌমুদী উদয়!
জগতের যত গান,
কে হেথা করেছে দান!
যেন সবে ভুলি তান ঘুমে ডুবে রয়!
না জানি নিঠুর ভবে,
এ ঘুম টুটিবে কবে,
জাগিয়া হেরিবে বিশ্বে হয়েছে অক্ষয়
দু’জনার ভালবাসা --- আর কিছু নয়!
. ********************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
তীর্থযাত্রী কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্ত কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার ভাদ্র ১৩২৫ (অগাস্ট ১৯১৮) সংখ্যায় প্রকাশিত।
( ১ ) তীর্থযাত্রী পান্থ ওগো! ওগো অমৃতের অতৃপ্ত পিপাসি! শুনিলে কি শুভক্ষণের আনন্দলোকের সম্মোহন বাঁশী! খুলে গেল রুদ্ধদ্বার, আঁধার গুহায় পশিল কিরণ, ছুটে এসে আলিঙ্গিল সুহৃদের প্রায় স্নিগ্ধ সমীরণ! শুনাল ললিত কণ্ঠে মধুর সঙ্গীত বিহঙ্গ সমাজ, ঘুচে গেস মুহূর্ত্তেকে কল্পনা অতীত দুঃখ-দৈন্য-লাজ! দাঁড়াইলে অকস্মাৎ নিখিল বিশ্বের মাঝখানে আসি’--- তীর্থযাত্রী পান্থ ওগো! ওগো অমৃতের অতৃপ্ত পিপাসি!
( ২ ) অনন্ত আকাশ ঊর্দ্ধে --- নিয়ে বসুন্ধরা দিগন্ত বিস্তার, তোমারে লইল বরি’ স্নেহ-প্রীতি ভরা আনন্দে অপার! রবি-চন্দ্র-গ্রহ-তারা জ্যোতিঃ দিল দান ভরিয়া অন্তর,
|
বিশ্বামিত্র
( “ব্রহ্মর্ষি” আখ্যালাভে )
কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্ত
কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার আষাঢ় ১৩২৫ ( জুন ১৯১৮ )
সংখ্যায় প্রকাশিত।
“ব্রহ্মর্ষি” “ব্রহ্মর্ষি” আমি! দৃপ্ত আত্ম-বলে
আহরিণু নবজন্ম আজি ভূমণ্ডলে
অচিন্ত্য অশ্রুতপূর্ব্ব! তীব্র তপস্যার
সফল সমাপ্তি আজি! জয়ী দুর্নিবার
ক্ষাত্রতেজঃ বসুধায়!
. আজি পড়ে মনে
মহাঋষি বশিষ্ঠের শান্ত তপোবনে
আতিথ্যের বিনিময়ে সহসা কি মোহে
তুচ্ছ পয়স্বিনী লয়ে মেতেছিনু দ্রোহে
সসৈন্যে সদর্পে অতি! পরিণামে যবে
লভিলাম পরাজয় ব্রহ্মণ্য-গৌরবে
অটল সঙ্কল্পে কিবা বাঁধিয়া হৃদয়
মুহূর্ত্তেকে রাজৈশ্বর্য্য ত্যজি সমুদয়
আমিনু এ তপোবনে হিমাদ্রি-শিখরে
সাধিতে অসাধ্য-ব্রত!
. যুগ যুগ ধরে
তারপর কত কি বিঘ্ন অন্তরে বাহিরে
কুটিল ভ্রুকুটি করি ডুবাতে তিমিরে
চাহিয়াছে মুহুর্মুহুঃ! রহি অচঞ্চল
আপনার ধ্রুব-লক্ষ্যে, রাখিয়া কেবল
বিশ্বাস নির্ভর নিজে, সব অন্তরায়
ফুত্কারে উড়ায়ে দিনু শুষ্ক তৃণ-প্রায়
চরণে দলিয়ে বুঝি! এই হিমাচল

সাগরের ডাক
কবি জীবেন্দ্রকুমার দত্ত
কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩২৫ (মে ১৯১৮) সংখ্যায়
প্রকাশিত।
. ( ১ )
অকূলে যদি ভাসতে চাস্
. “জয় মা” বলে ভাসা তরী,
তুফান যদি এসেই থাকে
. কি হবে আর বৃথা ডরি’!
নাচবি সুখে ঢেউর তাসে,
পাগ হাওয়া লাগবে পালে,
গাইবি গান প্রাণ খুলে
. প্রলয়েরি ছন্দ ধরি’!
অকূলে যদি ভাসতে চাস্
. “জয় মা” বলে ভাসা তরী।
. ( ২ )
অকূলে তুই খুঁজবি কূল
. আশা রাখিস্ মনে মনে,
ভাবিস্ কেন? একলা চল্---
. নাইবা রলি কারো সনে।
ডুবতে যদি নেহাৎ হয়,
ডুব্ বি একা কিসের ভয়,---
ডুব্ বি সে যে আমার বুকে
. শান্তি যেথা আছে ঘেরি’।
অকূলে যদি ভাসতে চাস্
. “জয় মা” বলে ভাসা তরী।
. ********************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর