কবি জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ - খ্যাতনামা সঙ্গীতজ্ঞ, তবলা ও হারমোনিয়াম বাদক, বিশিষ্ট ছায়াছবির সঙ্গীত
পরিচালক, গীতিকার ও কবি। তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতায়। বাংলা ক্যালেণ্ডারে তাঁর জন্মদিন ২৫শে
বৈশাখ! এ নিয়ে তিনি কবিতাও লিখে গিয়েছেন!
পিতা কিরণচন্দ্র ঘোষ। পিতামহ দ্বারিকানাথ ঘোষ ছিলেন কলকাতার দেশী ও বিদেশী বাদ্যযন্ত্রের দোকান
“ডোয়ার্কিন অ্যাণ্ড সন্স” ( http://dwarkin.tradeindia.com/ ) এর প্রতিষ্ঠাতা। সে সময় সব ভারতীয় সঙ্গীতজ্ঞরাই
মাটিতে বসে তাঁদের বাদ্যযন্ত্র বাজাতেন। সেই কথা মাথায় রেখে তিনি মাটিতে বসে বাজানোর জন্য বিলিতি
অর্গ্যান এর রীড ও কী-বোর্ড নিয়ে হাতে বাজানো, হারমোনিয়াম নামে বাদ্যযন্ত্র তৈরী করেন। এক সময়ে এই
যন্ত্রটির সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রশস্তি, নানা পত্রিকায় তাঁদের বিজ্ঞাপন হিসেবেও ছাপা হয়!
শৈশব থেকেই জ্ঞানপ্রকাশ হারমোনিয়াম বাজাতেন। গানবাজনার সঙ্গে তাঁর খেলাধুলা ও ছবি আঁকাতেও
আগ্রহ ছিল। খেলাধুলায় তাঁর অদম্য উত্সাহ ছিল। স্পোর্টিং ইউনিয়ান ক্লাবের হয়ে বহু ম্যাচ তিনি
খেলেছেন। তিনি কলিন্স ইনস্টিটিউট থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে প্রেসিডেন্সী কলেজে ভর্তি হন। পালি ভাষা ও
সাহিত্য বিষয়ে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে এম.এ. ক্লাসে ভর্তি হবার পর, খেলতে গিয়ে চোখে গুরুতর আঘাত
লেগে ক্ষীণদৃষ্টি হয়ে পড়েন এবং তাঁর এম.এ. পরীক্ষা আর দেওয়া হয়ে ওঠে নি। এরপর তিনি সঙ্গীতেই
আত্মনিয়োগ করেন।
অল্প বয়সে তিনি তবলা শিখেছিলেন টনিবাবুর (সুরেন ঘোষ) কাছে, পাখোয়াজ বাদন শিখেছিলেন টনিবাবুর
নাতি বিপিন ঘোষের কাছে, পরে তবলা শেখেন ওস্তাদ আজিম খাঁ, ওস্তাদ ফিরোজ খাঁ ও ওস্তাদ মজিদ খাঁর
কাছে।
তিনি ধ্রুপদী সঙ্গীতের পাঠ শুরু করেন গিরিজাশঙ্কর চক্রবর্তীর কাছে। পঞ্চাশের দশকের সঙ্গে তিনি
আকাশবাণীর সঙ্কে যুক্ত হয়ে পড়েন। তিনিই প্রথম অনুষ্ঠানে গীটার ব্যবহার শুরু করেন।
দু-তিন প্রজন্মের উঁচুমানের তবলিয়ার শিক্ষাগুরু হিসেবে তিনি সুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তাঁর শিষ্যদের
মধ্যে রয়েছেন কানাই দত্ত, শঙ্কর ঘোষ, নিখিল ঘোষ, শ্যামল বসু, সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়,
গোবিন্দ বসু, পুত্র মল্লার বসু প্রমুখরা। তাঁর কণ্ঠসঙ্গীতের শিষ্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়,
তনিমা ঠাকুর, অরুণ ভাদুড়ী, স্ত্রী ললিতা ঘোষ, অজয় চক্রবর্তী প্রমুখরা। জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের প্রতিষ্ঠিত
সঙ্গীতশিক্ষার প্রতিষ্ঠানের নাম সৌরভ আকাদেমি।
তিনি বিখ্যাত বাদকদের সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করেছেন এবং হারমোনিয়াম বাজিয়েছেন যার মধ্যে রয়েছেন
ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁ সাহেব। তাঁর "ড্রামস অফ ইন্ডিয়া" শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে।
চলচিত্র ও রোডিওর জন্য তিনি তিন হাজারের উপর গান রচনা করেছেন। তাঁর সঙ্গীত পরিচালিত
ছায়াছবির মধ্যে রয়েছে “বসন্তবাহার”, “আশা, যদুভট্ট”, “রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত”, “আঁধারে আলো” প্রভৃতি।
তিনিই প্রথম রামচরিতমানসে সুরারোপ করেন। এর জন্য তিনি ১৯৭৮ সালে কানপুরের এশিয়ান রামায়ণ
কনফারেন্সের শ্রেষ্ঠ পুরস্কারে সম্মানিত হন। ১৯৮৪ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষন উপাধীতে ভূষিত
করে।
আমরা মিলনসাগরে কবি জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের গান ও কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে
পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা। তাঁর প্রতি এই পাতাই মিলনসাগরের স্রদ্ধার্ঘ্য।
উত্স - সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, পঞ্চম
. সংস্করণ, ২০১০।
. পূর্ণিমা সিংহ, পরবাস.কম ওয়েবসাইটে, জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত্কার ভিত্তিক একটি
. প্রবন্ধ “সতত সৃজনশীল সঙ্গীতগুরু জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ, প্রজ্ঞা ও প্রযুক্তি”।
. উইকিপেডিয়া ।
কবি জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ১০.১১.২০১৬
...