যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তর কবিতা -                                                             পাতার উপরে . . .   
২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসে আমরা হঠাৎই, পুরানো পত্রিকা ঘাঁটতে ঘাঁটতে, দেবীপ্রসন্ন রায়চৌধুরী  
সম্পাদিত “নব্যভারত” পত্রিকার বৈশাখ ১৩১৬ (এপ্রিল ১৯০৯) সংখ্যায় কবি যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তর "নববর্ষে"
কবিতাটি পেয়ে যাই। বাংলা সাহিত্যের
অগ্রণী এবং বাঙালীর ইতিহাস রক্ষা-কল্পে নিবেদিত প্রাণ এই
মানুষটিকে এই একটি মাত্র কবিতার মধ্য দিয়ে মিলনসাগরের কবিদের সভায় আসন দিতে পেরে আমরা
নিজেদের ধন্য মনে করেছিলাম।

সম্প্রতি অন্যান্য পত্র-পত্রিকা ও গ্রন্থ থেকে তাঁর আরও পাঁচটি কবিতা ও গান পেয়ে আমরা তাঁর কবিতার
পাতার পরিবর্ধন করতে পেরে পুনরায় ধন্য হলাম।

তাঁর রচনাসম্ভারে “কবিতা মঞ্জরী” নামে একটি গ্রন্থ রয়েছে। এই গ্রন্থটি আমরা হাতে পাই নি। এটি কি একটি
কাব্যগ্রন্থ বা কাব্য সংকলন ছিল? আমরা তা সঠিকভাবে বলতে পারছি না। সেটি তাঁর স্বরচিত কাব্য  
সংকলন হলে সেখানে নিশ্চয়ই তাঁর আরও কবিতা ও গান পাওয়া যাবে। সম্পাদক হিসেবে অন্যান্য
কবিদের কবিতার সংকলনও হতে পারে। আপাতত আমাদের এই ছয়টি কবিতা ও গান নিয়েই সন্তুষ্ট
থাকতে হচেছে।

যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত কবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেননি ঠিকই। কিন্তু কবিতায় প্রস্ফূটিত, তাঁর নিখাদ দেশপ্রেম।
বিগত এক অগ্নিযুগের মানুষ হিসেবে, তাঁর কবিতা, পরাধীন দেশে শাসক কর্তৃক অত্যাচারের বিরুদ্ধে তাঁর
নির্ভিক প্রতিবাদী গর্জন।

আমাদের প্রাপ্ত, তাঁর লেখা
"তোমারি গরবে গরবী আমরা" গানটি তিনি লিখেছিলেন বিক্রমপুরের আরেক
কৃতী সন্তান আচার্য্য জগদীশচন্দ্র  বসুকে, “বিক্রমপুর” পত্রিকার তরফে, সম্পাদক হিসেবে, সম্বর্ধনা দেবার
একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে।

এই কবি সম্বন্ধে কেউ যদি আমাদের আরও তথ্য, কবিতা ও কবির ছবি পাঠিয়ে সাহায্য করেন তাহলে
আমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ প্রেরকের নাম এখানে উল্লেখ করবো


বাঙালীর ইতিহাসের স্মরণীয় এবং বাঙালীর ইতাহাস রক্ষা-কল্পে নিবেদিত প্রাণ এই মানুষটিকে তাঁর  
কবিতার মধ্য দিয়ে মিলনসাগরের কবিদের সভায় আসন দিতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি।


উত্স:  
  • ওয়াকিল আহমদ, বাংলাপেডিয়া
  • সুবেধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, ২০১০।     
  • শিশিরকুমার দাশ, সংসদ বাংলা সাহিত্য সঙ্গী, ২০০৩।   



কবি যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।    



আমাদের যোগাযোগের ঠিকানা :-   
মিলনসাগর       
srimilansengupta@yahoo.co.in      



এই পাতার প্রথম প্রকাশ কেবল "নববর্ষে" কবিতাটি সহ - ৩.১.২০১৭
পাঁচটি কবিতা নিয়ে এই পাতার পরিবর্ধিত সংস্করণ - ১৫.৯.২০১৮।



.
..
কবির কর্ম, সম্পাদনা ও সাহিত্যজীবনের সূচনা   
যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তর রচনাসম্ভার   
যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তর সম্পাদিত গ্রন্থ    
যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তর কিশোর সাহিত্য   
যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তর প্রাপ্ত সম্মাননা    
কবির জীবনীতে বিস্ময়কর দুটি প্রশ্ন!   
যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তর কবিতা    
কবি যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত - জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত
বাংলার, ঢাকা জেলার মূলচর গ্রামে। মাতা মোক্ষদাসুন্দরী
দেবী, যাঁকে তাঁর স্মরণীয় রচনা “বঙ্গের মহিলা কবি” গ্রন্থটি
উত্সর্গ  করেছিলেন। কবি অল্প বয়সেই সাহিত্যচর্চা শুরু
করেন।


তিনি খ্যাতনামা শিশুসাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর
 
রচনার মধ্যে রয়েছে ধ্রুব, প্রহ্লাদ প্রভৃতি পৌরাণিক
  
চরিত্রভিত্তিক কাহিণীর পাশাপাশি ইতিহাস ও কিংবদন্তী
ভিত্তিক রোমাঞ্চকর গ্রন্থও।
মিলনসাগর কবি যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তের কাছে বিশেষভাবে ঋণী কারণ বাংলা ভাষার মহিলা কবিদের কবিতা  
ও জীবনী সংগ্রহ করতে গিয়ে কবির ১৯৩০ সালে প্রকাশিত “বঙ্গের মহিলা কবি” বইটি আমাদের
  
বিশেষভাবে সাহায্য করেছে এবং করে চলেছে। কবির এই পাতাটি, তাঁর প্রতি মিলনসগারের শ্রদ্ধার্ঘ্য।
কবির কর্ম, সম্পাদনা ও সাহিত্যজীবনের সূচনা -                                     পাতার উপরে . . .   
ছাত্রবৃত্তি পাস করে দারিদ্র্যের কারণে প্রথমে তিনি স্কুলে শিক্ষকতা করেন এবং পরে ময়মনসিংহের
 
জমিদারির চাকরিতে যোগ দেন। তাঁর “আরব বেদুইন” গ্রন্থের প্রথম পাতায় উল্লেখ করা রয়েছে যে  
কর্মজীবনে তিনি ঢাকা জগন্নাথ কলেজের বাংলার অধ্যাপক ছিলেন।

এরই পাশাপাশি তিনি মাসিক “পথিক” (১৯০৪), ত্রৈমাসিক “বিক্রমপুর” (১৯০৬ - ১৯১৮) ও
 “কৈশোরক”  
(১৯১৩ - ১৯১৮) এবং মাসিক “কিশোর ভারতী” পত্রিকা সম্পাদনা করেন এবং এর মধ্য দিয়েই তাঁর   
লেখকজীবন শুরু হয়।

সম্পাদনার পাশাপাশি, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কবিতা প্রকাশিত হতে শুরু করে। আমরা, ১৯০৭ সালে
  
প্রকাশিত, দেবীপ্রসন্ন রায়চৌধুরী সম্পাদিত “নব্যভারত” পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর কবিতা এখানে তুলে দিতে
 
সক্ষম হয়েছি।
*
যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তর রচনাসম্ভার -                                                       পাতার উপরে . . .   
ইতিহাস, জীবনী, গল্প, উপন্যাস, নাটক ও কোষগ্রন্থ মিলিয়ে তাঁর রচনাসম্ভার বিপুল।

তাঁর স্মরণীয় ইতিহাস গ্রন্থ রচনার  মধ্যে রয়েছে “বিক্রমপুরের ইতিহাস” (১৯০৯), “পৃথিবীর ইতিহাস”
 
(২১খণ্ডে, ১৯১৮-২৫), “বিক্রমপুরের বিবরণ” (২ খণ্ডে, ১৯৩৯), “বাঙ্গালার ইতিহাস”, “ভারতের ইতিহাস”,

“আসামের ইতিহাস” প্রভৃতি অতি উল্লেখযোগ্য ইতিহাস গ্রন্থ। “বিক্রমপুরের বিবরণ” গ্রন্থটি বিক্রমপুর সম্পর্কে
একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে এখনও বিবেচিত হয়।

জীবনীকার হিসেবে যোগেন্দ্রনাথ বসু দেশি-বিদেশি অনেক জ্ঞানী-গুণীর জীবনী রচনা করেছেন। তাঁর রচিত
জীবনী-গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “কেদার রায়” (১৯১৪), “মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর”, “বিদ্যাসাগর”, “গান্ধীজীর
  
জীবনযজ্ঞ”, “সাধক কবি রামপ্রসাদ” (১৯৫৪), “কান্তকবি রজনীকান্ত”, “মাইকেল মধুসূদন”, “রবীন্দ্রনাথ”,
 
“তারাবাঈ” (১৯৪৯), “ঝাঁসীর রাণী”, “রাণী দুর্গাবতী”, “রণজিৎ সিংহ”, “গুরুগোবিন্দ সিংহ”, “ম্যাজিনি”,
 
“আব্রাহাম লিঙ্কন”, “গ্যারিবল্ডী” প্রভৃতি।

তাঁর মৌলিক রচনার মধ্যে রয়েছে “আনারকলি” (১৯০৯), “তসবীর” (নাটক ১৯১২) “অর্জ্জুন” (১৯১৫),
 
“পল্লীরাণী” (১৯১৯), “পরশমণি” (১৯১৯), “লক্ষ্য-পথে” (১৯২০), “ঋণের দায়” (১৯২১), “জীবন সঙ্গিনী” (১৯২১),
“শ্রীশ্রীবিজয়কৃষ্ণ” (১৯২২), “বঙ্গের মহিলা কবি” (১৯৩০), “মাধবী” (উপন্যাস ১৯৩০), “অজানা দেশে” (১৯৩৫),
“সাহারার বুকে” (১৯৩৬), “নীলনদের দেশে” (১৯৩৫), “আরব বেদুইন” (১৯৩৯), অভিযান ও ভ্রমণ
 বিষয়ক
গ্রন্থ “হিমালয় অভিযান” (১৯৪১), “গোবিন্দ চয়নিকা” (১৯৪৮), “রূপকথার দেশে” (১৯৫৯), “তাল বেতাল”
 
(১৯৫৯), “বাঙ্গালার ডাকাত” ২খণ্ড (১৯৫৮-৫৯), “যাদুপুরী” (১৯৫৯), “ভারত মহিলা” (১৯৬৫) প্রভৃতি।

তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে “মুঘল ভারত”, “ব্রিটিশ ভারত”, “ধ্রুব”, “প্রহ্লাদ”, “ভীমসেন”,
 “কল্পকথা”  
(ছোট গল্প), “সাহিত্যিক”, “প্রিয়তমা”, “সুভক্ষণ”, “গৃহলক্ষ্মী”, “শান্তিলতা”, “রূপের আগুন”, “পল্লী-রাণী” (উপন্যাস),
“পল্লীবধূ”, “প্রেমের অভিষেক”, “কবিতা মঞ্জরী”, “বঙ্গ সমাজ”, “ঊর্ম্মিলা”, “শুভ-বিবাহ”, প্রভৃতি।
*
যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তর সম্পাদিত গ্রন্থ -                                                     পাতার উপরে . . .   
যোগেন্দ্রনাথ সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে স্বভাবকবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের কবিতা-সংকলন “গোবিন্দ
 
চয়নিকা” (১৯৪৮)। অধ্যাপক বিমানবিহারী মজুমদারের সহসম্পাদনায় রয়েছে “আমেরিকা”
 (পৃথিবীর  
ইতিহাস চিত্র ও গল্পে, ১৯৪১)।
*
যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তর কিশোর সাহিত্য -                                                পাতার উপরে . . .   
যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তর শিশু ও কিশোর সাহিত্যেও অসীম অবদান রয়েছে। তাঁর দশ খন্ডে সম্পাদিত
 
“শিশুভারতী” (ছেলেদের বিশ্বকোষ) তাঁর একটি বিশেষ কীর্তি।  “পৃথিবীর ইতিহাস” (২১ খণ্ডে ১৯১৮-২৫),
 
বিক্রমপুরের বিবরণ (২খণ্ডে ১৯৩৯) প্রভৃতি। তাঁর “বাঙ্গালার ডাকাত” (২ খণ্ডে, ১৯৫৮ - ১৯৫৯) বইটিও তাঁর
এক উল্লেখযোগ্য কীর্তি। কবিপুত্র সুধাংশু গুপ্ত, পরবর্তীতে, পিতার সংগৃহীত অপ্রকাশিত গল্পের থেকে
 
“বাঙলার ডাকাত” ৩য় ও ৪র্থ খণ্ঠ প্রকাশিত করেন।

ভারতবর্ষের অবহেলিত নারী জাতির প্রতি তাঁর দরদ, শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠা আমরা দেখতে পাই প্রাচীন যুগ থেকে
বর্তমান কাল পর্যন্ত নারী-প্রগতির কথা সম্বলিত তাঁর “বঙ্গের মহিলা কবি” (১৯৩০) এবং “ভারত মহিলা”
 
(১৯৩১) গ্রন্থের মধ্য দিয়ে। প্রথমোক্ত গ্রন্থটি আজও, বাংলা কবিতায় মহিলা কবিদের অবদানের একটি
 
প্রামাণ্য গ্রন্থ।
*
যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তর প্রাপ্ত সম্মাননা -                                                   পাতার উপরে . . .   
তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের “গিরিশ লেকচারার” নিযুক্ত হন এবং তাঁকে “ভুবনমোহিনী পদক”-এ ভূষিত
করা হয়।
*
কবির জীবনীতে বিস্ময়কর দুটি প্রশ্ন! -                                              পাতার উপরে . . .   
কবির জীবনী বিস্তারিতভাবে আমরা কোথাও পাইনি।
 তাই  বহু ঘটনাবলী ও  তথ্য আমরা জানতে পারছি
না। প্রথমত যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তর পিতার নাম কোথাও উল্লেখ করা নেই। এটা আজকের দিনে, খুব বড় বিষয়
না হলেও, দ্বি
তীয় বিষয়টি খুবই চমকপদ। তাঁর জন্মদিন আমরা সঠিকভাবে জানতে পারলেও, ১৯৬৫ সালের
মে মাসে তাঁর মৃত্যুর সঠিক তারিখটি আমরা জানতে পারিনি, যা কি না খুব বেশী পূর্বের ঘটনা নয়। এই
 
তারিখটি কোনও জীবনী-গ্রন্থে পাওয়া যায়নি। দেখা যাচ্ছে যে কবিপুত্র সুধাংশু গুপ্ত, পরবর্তীতে, পিতার
 
সংগৃহীত অপ্রকাশিত গল্পের থেকে “বাঙলার ডাকাত” ৩য় ও ৪র্থ খণ্ঠ প্রকাশিত করেন। অর্থাৎ
আত্মবিস্মৃত
বাঙালী জাতি তাঁর কথা না মনে রাখলেও তাঁর বংশধর জীবিত ছিলেন
। তাই এ দুটি প্রশ্ন আমাদের কাছে
বিস্ময়কর লেগেছে। এসব প্রশ্নের
নিরসন হওয়া দরকার বলে আমরা মনে করি।
*
*