আমাকে আমার প্রেমিকার নাম জিজ্ঞেস করো না, অগ্নিশিখা সকালে কারোও হাত ধরে আমি পেড়ে আনি যুবতী রোদ দুপুরে কারোও হাতের চুড়ির রিনিঝিনি বৃত্তে পেতে রাখি নিরীহ মেদ আর বিকেলে উদ্বায়ী শ্যাম্পুচুলের গন্ধ, কার জন্য যেন মন কেমন করে ওঠে সন্ধেতে কারোও নীল আঁচলে বেঁধে রাখি অবৈধ নিশ্বাস..........
আমাকে আমার প্রেমিকার নাম জিজ্ঞেস করো না, অগ্নিশিখা গহীন রাতে আমি স্নান করবো তোমাতে তখন তুমি আমায় ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখো প্রশ্ন বিহীন গোপন অঙ্গ দারুণ ভাবে পেতে.......
দ্যাখো একদিন ঠিক নদীর কাছে গিয়ে দাঁড়াবো । দ্যাখো একদিন ঠিক ধুলোয় মাথা ছোঁয়াবো, চাইবো অরণ্যের আশীর্ব্বাদ। একদিন তোমার রক্তে আঙ্গুল ছুঁইয়ে খুঁজে পাবো আমার পিতার স্নেহ । একদিন শান্তিগড়ের মাঠে দাঁড়িয়ে ঘুড়ি ওড়াবো। একদিন দুপুরে ইতিহাস পড়বো ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে । একদিন, কোন একদিন, কোন এক শতাব্দীর একদিন শিশিরে ভিজতে ভিজতে ঘুমিয়ে পড়বো ক্লান্তিহীন , সপ্তর্ষিমণ্ডলকে সাক্ষী রেখে কোন এক গোছানো সন্ধ্যায়।
সেদিন ঈশ্বরের সংগে দেখা। কুয়াশার মধ্যে। ভোরে। তিনি দৌড়াচ্ছিলেন। এবং গায়ে হালকা পোশাক। পায়ে বয়সের মরচে। চোখে কবেকার জমে যাওয়া আঁশ। ফলতঃ কিছুক্ষণের মধ্যে রাস্তার পাশে হাঁপাতে হাঁপাতে বসে পড়লেন। যেমন অনন্ত জ্যাঠুর পুরানো বুড়ো ট্রাকটা রাস্তার পাশে গভীর কুয়াশায় দাঁড়িয়ে যায় পিছনে লাল লাইট জ্বেলে। এদিকে আমি। ঈশ্বরের বিপরীত পাশে। প্রাতঃক্রিয়া রত। কোষ্ঠকাঠিন্য। তাহলে আমি এবং ঈশ্বর রাস্তার এপাশ - ওপাশ। কাছাকাছি। তবুও কোন অটোগ্রাফ নিতে ছুটলাম না। মৃদু করুণা হল। অত্যন্ত সচেষ্ট হলাম প্রাতঃক্রিয়ায়--- এই জোর লাগিয়ে --- হবে হবে এই আরও জোরে --- হতেই হবে
আর আমাদের দু'জনার মাঝের রাস্তায় চকচকে গাড়িগুলো শব্দ করে নিমেষে হারিয়ে যাচ্ছে কুয়াশায়....
জলের ক্যামেরায় ধরা আছে কাঁপা কাঁপা কিছুটা কমলা পথ, আবির বিকেল এবং তোর আমার পাশাপাশি গোলাপি পায়ের মৃদু আলাপে সবুজ বুনো ঘাসের বুকে নেমে আসা নীল বৃষ্টি তুই ছাতা উড়িয়ে দিয়ে একটা লাল ডালিম পেড়ে এনে দিয়েছিলি আমার হাতে
তারপর থেকে ডালিম ছাড়িয়ে তার একটা একটা দানার স্বাদের মধ্য দিয়ে . আমি আজও হাঁটছি....
আর উদ্ভ্রান্ত বিকেলে তুই আয়নায় মেপে নিচ্ছিস ধূসর দূরত্ব.....
গল্প বলো গল্প বলো গল্পে বলো তেমন কথা, রোদের থেকে ফিরলে যেমন নরম হাওয়া তালের পাখা। গল্প বলো তেমন করে যেমন হাতে হাত ঠেঁকে যায়, গল্প বলো এমন করে যেমন শেষের রেশ রয়ে যায়।
এপাশে গুন, ওপাশে ভাগ মধ্যে বিকেল কথার ছায়া, গল্প বলো গল্প বলো যা কিছু সব সরল চাওয়া। গল্পে উড়ুক পক্ষি-রাজ আর কাকের মেয়ে পান্তা খেয়ে, গল্পে বাজুক হৃদয়রেখা সত্যিকারের সকাল ছুঁয়ে।
এসব কেবল কথার কথা গল্প কথা সত্যি তো নয়, এসো, তবু দাওয়ায় বসো গল্প বলো, বৃষ্টি সময়। এক ছাতাতে আজকে ভিজি, কালকে আবার ভোর বেলাতে আমার বাবা কাজে যাবে তোমার বাবার কারখানাতে।