ভারতের জাতীয় সংহতি নেতাজীর "ভারতের মুক্তি সংগ্রাম (১৯২০ - ১৯৪২)" প্রথম খণ্ডের "ভারতে রাষ্ট্রশাসনের পটভূমি" অধ্যায়ের অংশবিশেষ | ১৯৮৮ সালে স্বাধীনতার ৪০ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে, কবি শান্তি সিংহ সম্পাদিত এবং নিউ বেঙ্গল প্রেস দ্বারা প্রকাশিত, বাংলা কাব্যে ভারত- বিষয়ক কবিতার অতি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন - "স্বদেশ আমার" কাব্যগ্রন্থে প্রথম কবিতার আকারে প্রকাশিত হয়....
ভৌগলিক দিক হইতে, ভারতকে পৃথিবীর অন্যান্য অংশ হইতে বিচ্ছিন্ন স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি অংশ বলিয়া মনে হয় | উত্তরে যাহার সীমানা নির্দেশ করিতেছে সুবিশার হিমালয় প্রর্বত, অসীম সমুদ্র যাহার দুই দিক বেষ্টন করিয়ে আছে --- সেই ভারত ভৌগলিক সত্তার একটা সর্বোত্কৃষ্ট উদাহরণ | ভারতে বিভিন্ন জাতি লইয়া কখনও কোনও সমস্যা দেখা দেয় নাই --- কেননা তাহার সমগ্র ইতিহাসে বিভিন্ন জাতিকে একাত্ম করিয়া লইতে এবং তাহাদের মধ্যে একটা সাধারণ কৃষ্টি ও ঐতিহ্য সঞ্চারিত করিতে . সে সমর্থ হইয়াছে |
এই বন্ধনের সর্বপেক্ষা প্রধাণ কারন হিন্দু ধর্ম | উত্তর কিংবা দক্ষিণ, পূর্ব বা পশ্চিম যেখানেই আপনি যান না কেন, এক ধর্মমত, এক সংস্কৃতিএবং এক ঐতিহ্য দেখিতে পাইবেন | সকল হিন্দুই ভারতকে পবিত্রভূমি বলিয়া মনে করে | তীর্থগুলির মতই সারাদেশে ছড়াইয়া আছে বহু পবিত্র স্রোতস্বিনী |
যদি আপনাকে একজন ধার্মিক হিন্দু হিসেবে আপনার তীর্থযাত্রা . সম্পূর্ণ করিতে হয়, তাহা হইলে আপনাকে একেবারে দক্ষিণে সেতুবদ্ধ-রামেশ্বর হইতে উত্তরে তুষারাচ্ছাদিত হিমালয়ের বুকে অবস্থিত বদ্রীনাথ পর্যন্ত ভ্রমণ . করিতে হইবে | শ্রেষ্ঠ আচার্যগণ, যাঁহারে দেশকে তাঁহাদের বিশ্বাসে দীক্ষিত করিতে . চাহিতেন, তাঁহাদিগকে সর্বদাই সমগ্র ভারত পর্যটন করিতে হইত | আর তাঁহাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠদিগের অন্যতম শঙ্করাচার্য খৃষ্টীয় অষ্টম শতাব্দিতে আবির্ভুত হইয়াছিলেন | তিনি ভারতের চার প্রান্তে চারিটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন, যেগুলি অদ্যাবধি বিরাজ করিতেছে | সর্বত্র একই শাস্ত্র পঠিত ও অনুসৃত হয়, আর যেখানেই আপনি ভ্রমণ করুন না কেন, রামায়ণ ও মহাভারত মহাকাব্য সর্বত্র সমান জনপ্রিয় | মুসলমানদিগের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ একটা নূতন সমন্বয় . গড়িয়া উঠে | যদিও তাহারা হিন্দুদিগের ধর্ম গ্রহণ করে নাই, তবু তাহারা ভারতবর্ষকে তাহাদের দেশ করিয়া লইয়াছিল এবং জনগণের সাধারণ সামাজিক জীবন ও তাহাদের সুখদুঃখের অংশিদার হইয়া উঠিয়াছিল | পারস্পরিক সহযোগিতায় একটা নূতন শিল্প সংস্কৃতির উদ্ভব হইল, প্রাচীন কাল হইতে যাহা ভিন্ন --- অথচ যাহা স্পষ্টতই ভারতীয় | স্থাপত্য, চিত্রকলায়, সঙ্গীতে নূতন নূতন সৃষ্টি সম্ভব হইল--- যাহা সংস্কৃতির এই দুইটি ধারার মধুর মিলনের প্রতীক হইয়া উঠিল |
ভারতে নবজাগরণ নেতাজীর "ভারতের মুক্তি সংগ্রাম (১৯২০ - ১৯৪২)" প্রথম খণ্ডের "ভারতে নবজাগরণ" অধ্যায়ের অংশবিশেষ | ১৯৮৮ সালে স্বাধীনতার ৪০ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে, কবি শান্তি সিংহ সম্পাদিত এবং নিউ বেঙ্গল প্রেস দ্বারা প্রকাশিত, বাংলা কাব্যে ভারত-বিষয়ক কবিতার অতি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন - "স্বদেশ আমার" কাব্যগ্রন্থে প্রথম কবিতার আকারে প্রকাশিত হয়....
রামকৃষ্ণ সর্বধর্ম সমন্বয়ের বাণী প্রচার করিয়াছিলেন এবং এক ধর্মের সহিত অপর ধর্মের বিরোধ দূর করিতে বলিয়াছেন | সমাজের অতি আধুনিক অনুকরণ-স্পৃহাকে নিন্দা করিয়াছেন | মৃত্যুর পূর্বে, তিনি শিষ্যকে ভারত ও ভারতের বাহিরে তাঁহার ধর্মোপদেশগুলির প্রচারকার্যের ভার এবং স্বদেশবাসীদিগকে জাগাইয়া তুলিবার দায়িত্ব দিয়া যান | ঐ উদ্দেশ্যে স্বামী বিবেকানন্দ সন্ন্যাসীদিগের আশ্রম রামকৃষ্ণ মিশন . প্রতিষ্ঠা করেন--- যাহার লক্ষ্য ছিল ভারত ও ভারতের বাহিরে, বিশেষতঃ আমেরিকায় হিন্দুধর্মের প্রকৃত রূপটি প্রচার করা ও তদনুযায়ী . চলা ; উপরন্তু সুস্থ জাতীয় কার্যকলাপের প্রতিটি উদ্যোগকে প্রেরণাদানে তিনি একটি সক্রিয় অংশ গ্রহণ করিয়াছিলেন | তাঁহাদের নিকট ধর্ম ছিল জাতীয়তাবাদের প্রেরণার উত্স | তিনি নব্য সম্প্রদায়ের মধ্যে ভারতের অতীতে গর্ববোধ, তাহার ভবিষ্যতে বিশ্বাস এবং আত্মপ্রত্যয় ও আত্মমর্যাদার চেতনা সঞ্চারিত করিবার জন্য চেষ্টা করিয়াছিলেন | যদিও স্বামীজি কখনও কোনও রাজনৈতিক বাণী প্রচার করেন নাই, তথাপি যে কেহ তাঁহার বা তাঁহার রচনাবলীর সংস্পর্শে আসিয়াছে, তাহার মধ্যেই একটা দেশাত্মবোধ ও রাজনৈতিক মনোভাব গড়িয়া . উঠিয়াছে | অন্ততঃ বাংলাদেশ সম্বন্ধে যতদূর বলা যায়, স্বামী বিবেকানন্দকে আধুনিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের আধ্যাত্মিক স্রষ্টা বলিয়া মনে করা যাইতে পারে |