অসহায় কবি রাধিকারঞ্জন সমাদ্দার চৌধুরী কবির “ঐকতান” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া |
অন্ধকার অন্ধকার অন্ধকারময় দশদিক কেবলই মহাশূন্যময় | প্রকাশিত নয় কোন অস্বিত্বের চিহ্ন দ্যুলোক ভূলোক সব রয়েছে প্রচ্ছন্ন জড় অজড় জগৎ হয়েছে বিলুপ্ত অনুমাত্র সৃষ্টিকর্তা ঘোর চিন্তাক্লিষ্ট | কেন্দ্রস্থলে মাকড়ের যথা অবস্থিতি সেইমতো জালবদ্ধ, নাহিক নিষ্কৃতি | অন্ধকারে একাকীত্বে জাগে মহাভীতি ধ্যানমগ্ন হইলেন লভিতে মুকতি | স্থির করিলেন তিনি হইবেন বহু মানসপুত্র রূপে সৃজিলেন প্রভু ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরে | আরো সৃজিলেন ভূর্ভুবস্বঃ বাসস্থানরূপে গড়িলেন এ তিনভূবন দেব ও মানবের জন্য | সৃষ্টি করে হইলেন আনন্দেতে মগ্ন | সৃষ্টি স্থিতি সংহারের অধিকর্তারূপে ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বরের হল অধিষ্ঠান | প্রজা বৃদ্ধি কল্পে ব্রহ্মা হল যত্নবান | ক্রমে ক্রমে ভূলোক ভরিল প্রজাতে প্রজাপতি নাম হল বিখ্যাত জগতে | বিপুল গৌরবে ব্রহ্মা হল আনন্দিত | কিছুকাল না কাটিতেই হলেন চিন্তান্বিত | প্রজা সংখ্যাধিক্য তাকে করিল আকূল কেমনে পালিত হবে এই প্রজাকুল | ৮৬৪ কোটি বছরে ব্রহ্মার একদিন হয় একশত বর্ষ আয়ু কেমনে করিবেন ক্ষয় | প্রজা বৃদ্ধি এখন তার Control এতে নয় | উপায়ান্তর না দেখিয়া চলিলেন সেথা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের এক কোণে মগ্ন হয়ে . আছেন বিধাতা | নিবেদন করিলেন তার সন্নিধানে প্রজাকুল কি প্রকারে রক্ষিবেন যতনে | বিধাতা জানাইলেন তিনি অসহায় এই প্রজাকুল তাকে মানিতে না চায় | . ********************
পর পারের গান কবি রাধিকারঞ্জন সমাদ্দার চৌধুরী কবির “ঐকতান” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া |
জীবনের শেষ খেয়া পার হয়ে যাই মায়া মোহ স্নেহ প্রেম যা কিছু সম্বল বৈতরণী নদী জলে দিয়া বিসর্জন | ওপারেতে কিবা আছে জানে কোনজন | যতদিন বেঁচে ছিনু এই ধরণীতে পরপারে মহাসুখ এই আনন্দেতে জাগায়ে বিশ্বাস হৃদে পরিজন জানে | শেষ খেয়া নৌকা চেপে উপজিল মনে মিথ্যার বেসাতি আমি করেছি জীবনে কেহ কারো নয় এই সত্য উদ্ ঘাটনে | সম্মুখেতে মহাশূন্য আশ্রয়বিহীন চলিতেছি মহাশূন্যে পঞ্চভূতে লীন | স্মৃতি নাই, বন্ধন নাই হয়ে নিরাসক্ত মহাবিশ্বে ভ্রমিব যে ইহা অতিসত্য | মহা মুক্তি বিদেহীরে করে থাকে ভর একাকী নির্ভীক পান্থ না মিলে দোসর |
এই আপ্ত বাক্যখানি শুনিতে অতীব মধুর | আসল সত্যখানি করিতে গোপন ইহা অতি সুচতুর | জন্মাবধি মনুষ্য জীবন কষ্টে দুঃখে ভরা একমাত্র বন্ধু মরণ সব কষ্ট লাঘব করা | অতঃপর ব্রহ্মাণ্ডময় যদি থাকে আনন্দ সাগর আস্বাদ তাহার এ জীবনে লাভ করা একান্ত দুষ্কর | জীবনের প্রতিপদে যুদ্ধে মোরা রত যুদ্ধজয়ের আনন্দ অতি ক্ষণস্থায়ী সুদূর পরাহত | সমস্যা নূতন নূতন জীবনকে করে জর্জরিত নিস্তার তাদের হাতে মনুষ্যের সাধ্যের অতীত | অতএব এক সত্য শোনো মহাশয় কষ্ট দুঃখ সংগ্রাম হয়ে সমন্বয় মনুষ্য জীবনরূপে হয় মূর্তিমান ইহাদের হাতে যদি পাও পরিত্রাণ বুদ্ধের ধর্মাদর্শ মতে লভিবে নির্বাণ | অবারিত আনন্দ কোথা কহ মতিমান | . ********************
মরণের পর কবি রাধিকারঞ্জন সমাদ্দার চৌধুরী কবির “ঐকতান” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া |
আর বছরে এমনি দিনেই যখন রইব না আর এই ভুবনেই নিরালম্ব হয়ে তখন কেমন লাগবে এই ভাবনা ভেবে ভেবেই বাকি কটা দিন কাটবে | সূর্য ওঠার রইবে না তাড়া বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করা চায়ের জন্য রাঁধুনীকে দেব না আর তাড়া | নাতি নাতনির পড়ার খবর নেওয়া নিত্যদিনের অভ্যাস যত হয়ে যাবে হাওয়া | ওষুধ খাবার জন্য কেহ দিবে না আর তাগাদা | কাগজওয়ালার চিত্কার শুনব না তো আলাদা | অফিস যাবার আয়োজন হবে না আর প্রয়োজন ঠাকুরঘরের শঙ্খধ্বনি কানে পশবে না | অন্তগামী রবির রাগ মনে ধরবে না | তখন আমি ঘুরে বেড়াই দিগ্ দিগন্ত ব্যাপিয়া মহোত্সাহে নিরাশ্রয়ে পঞ্চভূতে মিশিয়া যারা পড়ে রইবে পিছে তাদের কথা স্মরণে উদয় কি আর হবে কভু --- সে তো জানিনে | . ********************