কবির একটি ছবি ও তাঁর জীবন সম্বন্ধে আরও তথ্য যদি কেউ আমাদের পাঠান তাহলে আমরা, আমাদের কৃতজ্ঞতাস্পরূপ প্রেরকের নাম এই পাতায় উল্লেখ করবো। আমাদের ঠিকানা - srimilansengupta@yahoo.co.in
|
|
|
এই পাতার কবিতার ভণিতা - অকিঞ্চন, অকিঞ্চন দাস, দ্বিজ অকিঞ্চন, দীন অকিঞ্চন
|
অকিঞ্চন দাস সপ্তাদশ শতক থেকে উনিশ শতক
|
অকিঞ্চন দাস - এই কবির আমরা মোট ২১টি পদ হাতে পেয়েছি। যার মধ্যে রয়েছে “অকিঞ্চন”,
“অকিঞ্চন দাস”, দ্বিজ অকিঞ্চন, দীন অকিঞ্চন প্রভৃতি ভণিতার পদ। আমরা তিন জন কবি অকিঞ্চনের নাম
পাই।
১। তিনজন অকিঞ্চন - পাতার উপরে . . .
১। অকিঞ্চন দাস - ডঃ শিশিরকুমার দাশ তাঁর “বাংলা সাহিত্য সঙ্গী” (২০০৩) গ্রন্থে লিখেছেন যে “অকিঞ্চন
দাস” সপ্তদশ শতাব্দীর বৈষ্ণবতত্ত্বগ্রন্থ লেখকদের একজন। ইনি রামানন্দ রায়ের জগন্নাথ বল্লভ নাটকটি
সংস্কৃত থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। তাঁর ভণিতায় “ভক্তিরস চন্দ্রিকা”, “ভক্তি রসাত্মিকা” এ “ভক্তি
রসালিকা” নামে তিনটি তত্ত্বনিবন্ধের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
এই “অকিঞ্চন দাস” সম্বন্ধে সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত "সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান", ১ম
খণ্ডে মোটামুটি একই কথা রয়েছে। উপরন্তু তাঁরা জানিয়েছে যে “অকিঞ্চন দাস” নামে একজন পদকর্তার
কয়েকটি পদও আছে। উভয়ে একই লোক কি না জানা যায় না।
উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের গবেষক শ্রী গোবিন্দ্র বর্মন মহাশয় আমাদের
জানিয়েছেন যে কবি অকিঞ্চন দাসের রচনাসম্ভারে “শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল” নামে একটি কাব্যও রয়েছে। এই তথ্য
জানানোর জন্য আমরা শ্রী গোবিন্দ্র বর্মনের কাছে কৃতজ্ঞ থাকলাম।
তাঁর যোগাযোগের ইমেল : gobindrabarman3@gmail.com
২। অকিঞ্চন ( ১৯৫০ - ১৮৩৬ ) - সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত "সংসদ বাঙালি
চরিতাভিধান" গ্রন্থে “অকিঞ্চন” নামে এই কবির উল্লেখও করা হয়েছে। তাঁর আসল নাম ছিল রঘুনাথ রায়।
তিনি জন্মগ্রহণ করেন বর্ধমান জেলার চুপী-তে। পিতা ব্রজকিশোর রায় ছিলেন বর্ধমানরাজের দেওয়ান।
অকিঞ্চন ভণিতায় তাঁর বহু উত্কৃষ্ট শ্যামাসঙ্গীত ও কৃষ্ণ বিষয়ক গান পাওয়া যায়। তিনি দিল্লীর বিখ্যাত
ওস্তাদের কাছে সঙ্গীত শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি পরমার্থ চিন্তায় বর্ধমানরাজের দেওয়ানি ত্যাগ করেন।
৩। রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র ( ১৮৮০ - ১১.১০.১৯৬১ ) - সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত
"সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান", ১ম খণ্ডের ১৭৫-পৃষ্ঠায় রয়েছে যে তিনি “অকিঞ্চন দাস” নাম ব্যাবহার
করতেন। দুঃখের বিষয় এই যে এই বিখ্যাত শিক্ষাবীদ ও বৈষ্ণব সাহিত্যের সংসকল ও অন্যতম অগ্রণী-
পুরুষের রচিত কোন পদই প্রামাণিকভাবে আমাদের হাতে আসে নি এখন পর্যন্ত।
মিলনসাগরে, রায় বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রের রচিত, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত অন্যান্য
কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .
রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রর অকিঞ্চন নামে পদাবলী ? - পাতার উপরে . . .
রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র কেবল বৈষ্ণব পদাবলী ও কীর্তন সংগ্রহ ও সম্পাদনা করেই ক্ষান্ত হন নি,
সম্ভবত রচনা করেছেন বৈষ্ণব পদাবলী, “অকিঞ্চন দাস” ভণিতায়। আমরা প্রামাণিক ভাবে রায়বাহাদুর
খগেন্দ্রনাথ মিত্রের “অকিঞ্চন দাস” ভণিতার কোন পদ পাইনি। তাঁর নিজের সম্পাদিত ১৯৩৭
সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”,
৬০৮-পৃষ্ঠায় অকিঞ্চন দাস ভণিতার “জয় জয় শচীর নন্দন গোরারায়” পদটি পেয়ে আমরা এখানে তুলেছি।
পদটি অষ্টাদশ শতকের কবি অকিঞ্চন দাসেরও হতে পারে।
কেউ যদি আমাদের কাছে প্রমাণ সহ রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রের রচিত বৈষ্ণব পদাবলী, অকিঞ্চন দাস
ভণিতায় পাঠান তা হলে আমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাঁর নাম এই পাতায় প্রকাশ করবো।
অকিঞ্চন দাসের সংগৃহীত পদাবলী - পাতার উপরে . . .
১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা
১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু” গ্রন্থে অকিঞ্চন দাসের দুটি পদ পাওয়া গিয়েছে। এ পদ দুটি যে
অষ্টাদশ শতকের কবি অকিঞ্চন দাসের তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ সংকলক চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
সারা জীবন ধরে নদীয়ার মেলায় মেলায় গিয়ে কীর্তনিয়াদের থেকে সরাসরি গীত সংগ্রহ করেছিলেন, উনিশ
শতকের মধ্যভাগে। এর পূর্বের সংগৃহীত কোনো পদাবলী সংকলনে অকিঞ্চন দাসের কোনো পদ আমরা
পাইনি।
এর পরে ১৯৪৬এ প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদিত "বৈষ্ণব পদাবলী" সংকলনে এবং ১৯৮৫ সালে
প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলনে, ১৮টি “অকিঞ্চন”-এর পদ
রয়েছে। কিন্তু সেই সংকলনে পদকর্তাদের কোনো পরিচিতি না থাকায় আমরা এই সকল পদের রচয়িতা
সম্বন্ধে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছিনা। দুঃখের বিষয় এই যে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় মহাশয় এবং
কাঞ্চন বসু মহাশয় তাঁদের বিশাল সংকলনে, পদের উত্স এবং পদকর্তা সম্বন্ধে কোন তথ্য উল্লেখ করেন নি।
আশাকরি বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে আলোকপাত করতে পারবেন।