| কবি আনন্দচাঁদ-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| মরকত মণি নব-ঘন জিনি কবি আনন্দচাঁদ আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা - ২য় ভাগ, ২৮শ পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের রূপ, পদসংখ্যা ২৪৫৫। ॥ ইমন্॥ মরকত মণি নব-ঘন জিনি নীল-উতপল-শোভা। দলিত-অঞ্জন- অধিক চিক্কণ রূপে ত্রিভূবন-লোভা॥ শিরে মোহন চূড়া। নব-মল্লিকা-মালতি-বেড়া। ময়ূর-চন্দ্রিকা শোভে তছু পর কুলবতী-কুল-বুড়া॥ ধ্রু॥ কুটিল কুন্তল কিয়ে কাম-জাল অলকা-উগর পাশে। শোভে স্বেদ-কণ যেন উড়ুগণ উদিল ভেল আকাশে॥ ভালে চন্দন-চান্দ। কিয়ে কামিনি-মোহন ফান্দ। তিলক রুচির মোহে পঞ্চ-শর যুবতী-বন্ধন ছান্দ॥ যুগল নয়ন গঞ্জে মৃগ মীন কটাক্ষ কাম-শায়ক। ভুরু-চাপে ধরি বিন্ধে বর-নারী মদন-মোহন এক॥ নাসায় মুকুতা দোলে। যেন হিম-কণ তিল-ফুলে। অধর-যুগল জিনি নব-দল মণ্ডিত বন্ধুক-ফুলে॥ দশন দাড়িম কুন্দ-কলি সম বিকচ-কমল হাসি। কিয়ে নিশাপতি নিশা করি স্থিতি ঢালিছে অমিয়া-রাশি॥ গণ্ডে দোলয়ে কুণ্ডল। হেরি মকর আকুল ভেল। শ্রুতি-যুগ পরি কদম্ব-মঞ্জরী যুবতি-ভরম গেল॥ আজানুলম্বিত ভুজ সুবলিত করি-সুত-শুণ্ড জিনি। রচিত কাঞ্চন নানা মণিগণ বলয় কঙ্কণ পাণি॥ তাহে শোভয়ে বাঁশি। কিয়ে যুবতি-ধরম গ্রাসি। রাতা উতপল জিনি কর-তল নখরে উদিত শশী॥ উর পরিসর শ্রীবত্স সুন্দর কৌস্তুভ কুসুম-হারা। মুকুতা মাণিক কুন্দন কণক জড়িত বহে ত্রিধারা॥ কিয়ে তরু-তমালে। যেন স্থকিত বিজুরী খেলে। মলয়জ-ঘন অঙ্গে বিলেপন চাঁদ-জ্যোতি জামি জলে॥ জিনি মৃগ-পতি ক্ষীণ কটি অতি রোমাবলি কাম-দণ্ড। নাভি-সরোবরে কাম-মীন চরে ত্রিবলি তরঙ্গ-খণ্ড॥ শোভে পীত বসন। নব ঘনেতে তড়িত যেন। কটিতে কিঙ্কিণী ঘন্টিকার ধ্বনি মোহিত যুবতি-মন॥ উরু রাম-রম্ভা মুনি-মন-লোভা চরণে অরুণ সাজে। নখর-মুকুর রতন-নূপুর রুণুর ঝুনুর বাজে॥ গতি মত্ত মাতঙ্গে। হেরি মুছিত ভেল অনঙ্গে। @ আনন্দ-চাঁদের চিত-মধুকর পিয়তহি মকরন্দে॥ শ্রীশ্রী পদকল্পতরুর টীকা। @ - অতঃপর ক, খ, চ, ( পদকল্পতরু ওরফে গীতকল্পতরু গ্রন্থের হস্তলিখিত আদর্শ পুথি সকল ) পুথিতে নিম্নলিখিত অতিরিক্ত পংক্তিদ্বয় দৃষ্ট হয়, যথা--- "মনে অভিলাষ তুয়া পদে আশ বঞ্চিত ভেল আনন্দ।" এই পদটি, ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”-এর ১০৬৪পৃষ্ঠায় এভাবে রয়েছে। ॥ ইমন্॥ মরকত মণি নব-ঘন জিনি নীল-উতপল-শোভা। দলিত-অঞ্জন- অধিক চিক্কণ রূপে ত্রিভূবন লোভা॥ শিরে মোহন চূড়া। নব-মল্লিকা-মালতি-বেড়া। ময়ূর-চন্দ্রিকা শোভে তছু পর কুলবতী-কুল-বূরা॥ ধ্রু॥ কুটিল কুন্তল কিয়ে কাম-জাল অলকা উগর পাশে। শোভে স্বেদ-কণ যেন উড়ুগণ উদিল ভেল আকাশে॥ ভালে চন্দন-চান্দ। কিয়ে কামিনি-মোহন ফান্দ। তিলক রুচির মোহে পঞ্চ-শর যুবতী-বন্ধন ছান্দ॥ যুগল নয়ন গঞ্জে মৃগমীন কটাক্ষ কাম-শায়ক। ভুরু-চাপে ধরি বিন্ধে বর নারী মদন-মোহন-নায়ক॥ নাসায় মুকুতা দোলে। যেন হিম-কণ তিল-ফুলে। অধর-যুগল জিনি নব-দল বন্ধুক-নহেক তুলে॥ দশন দাড়িম কুন্দ-কলি সম বিকচ-কমল হাসি। কিয়ে নিশাপতি নিশা করি স্থিতি ঢালিছে অমিয়া-রাশি॥ গণ্ডে কুণ্ডল খেলা। হেরি মকর আকুল ভেলা। শ্রুতি-যুগপরি কদম্ব-মঞ্জরী যুবতি-ভরম গেলা॥ আজানুলম্বিত ভুজ সুবলিত করি-সুত-শুণ্ড জিনি। রচিত কাঞ্চন নানা মণিগণ বলয় কঙ্কণ পাণি॥ তাহে শোভয়ে বাঁশি। কিয়ে যুবতি-ধরম গ্রাসি। রাতা উতপল জিনি কর-তল নখরে উদিত শশী॥ উর পরিসর শ্রীবত্স সুন্দর কৌস্তুভ কুসুম-হারা। মুকুতা মাণিক কুন্দন কণক জড়িত বহে ত্রিধারা॥ কিয়ে তরু-তমালে। যেন স্থকিত বিজুরী খেলে। মলয়জ-ঘন অঙ্গে বিলেপন চাঁদ-জ্যোতি যমি-জলে॥ জিনি মৃগ-পতি ক্ষীণ কটি অতি রোমাবলি কাম-দণ্ড। নাভি-সরোবরে কাম-মীন চরে ত্রিবলি তরঙ্গ-খণ্ড॥ পীত বসন হেন। নব ঘনেতে তড়িত যেন। কটিতে কিঙ্কিণী ঘন্টিকার ধ্বনি মোহিত যুবতি-মন॥ উরু রাম-রম্ভা মুনি-মন-লোভা চরণে অরুণ সাজে। নখর-মুকুর রতন-নূপুর রুণুর ঝুনুর বাজে॥ গতি মত্ত মাতঙ্গে। হেরি মুছিত ভেল অনঙ্গে। আনন্দ-চাঁদের চিত-মধুকর পিয়ে মকরন্দে রঙ্গে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |