| কবি বল্লভদাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| নিতাই করিয়া আগে চলিলেন অনুরাগে কবি বল্লভ দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), তৃতীয় খণ্ড, চতুর্থ শাখা-প্রথম ভাগ, ২১শ পল্লব, গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, পদসংখ্যা ২২৩৩। ॥ শ্রীগান্ধার॥ নিতাই করিয়া আগে চলিলেন অনুরাগে আইলা সভাই শান্তিপুরে। মুড়াইতে মাথার কেশ ধব়্যাছে সন্ন্যাসীর বেশ দেখিয়া সভার প্রাণ ঝুরে॥ কর যোড় করি আগে দাঁড়াইয়া মায়ের আগে পড়িলেন দণ্ডবৎ হৈয়া। দুই হাত তুলি বুকে চুম্ব দিলা চাঁদ-মুখে কান্দে শচী গলায় ধরিয়া॥ ইহার লাগিয়া যত পড়াইলাম ভাগবত এ কথা কহিব আমি কায়। অনাথিনী করি মোরে যাবে বাছা দেশান্তরে বিষ্ণুপ্রিয়ার কি হবে উপায়॥ এ ডোর কৌপিন পরি কি লাগিয়া দণ্ড ধরি ঘরে ঘরে খাবে ভিক্ষা মাগি। জিয়ন্ত থাকিতে মায় ইহা নাকি সহা যায় কার বোলে হইলা বৈরাগী॥ গৌরাঙ্গের বৈরাগে ধরণী বিদার মাগে আর তাহে শচীর করুণা। কহয়ে বল্লভ দাস গোরাচাঁদের বৈরাগ ত্রিজগতে রহিল ঘোষণা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ভুবন-মঙ্গল গোরা-গুণে লোকনাথ ভোরা কবি বল্লভ আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), তৃতীয় খণ্ড, চতুর্থ শাখা-প্রথম ভাগ, ২৫শ পল্লব, শ্রীগৌরভক্তবৃন্দের চরিত্র-বর্ণন, পদসংখ্যা ২৩৮৩। ॥ মঙ্গল॥ ভুবন-মঙ্গল গোরা- গুণে লোকনাথ ভোরা সুখে নরেত্তমে দয়া করি। রাধাকৃষ্ণ-লীলা গুণ নিজ-শক্তি আরোপণ পিয়াইল গৌরাঙ্গ-মাধুরি॥ অনুক্ষণ গোরা-রঙ্গে বিলাস বৈষ্ণব সঙ্গে প্রিয় রামচন্দ্র সঙ্গে লৈয়া। শ্রীভাগবত আদি গ্রন্থ গীত বিদ্যাপতি নিজ পহু-গুণ আস্বাদিয়া॥ নরোত্তম দীন-বন্ধু অপার করুণা-সিন্ধু রূপে গুণে রসের মুরতি। রাধাকান্ত না দেখিয়া সদাই বিদরে হিয়া কে বুঝিবে ঐছন পিরীতি॥ মোর ঠাকুর মহাশয় নরোত্তম দয়াময় দন্তে তৃণ করোঁ নিবেদন। বল্লভ পড়িয়া পাকে আকুল হইয়া ডাকে অহে নাথ লইলুঁ শরণ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হেন দিন শুভ পরভাতে কবি বল্লভ আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), তৃতীয় খণ্ড, চতুর্থ শাখা-প্রথম ভাগ, ২৫শ পল্লব, শ্রীগৌরভক্তবৃন্দের চরিত্র-বর্ণন, পদসংখ্যা ২৩৮৪। ॥ মঙ্গল॥ হেন দিন শুভ পরভাতে। শ্রীনরোত্তম-নাম পহু মোর গৌর-ধাম বার এক স্মৃতি হয় যাতে॥ ধ্রু॥ যাহার সঙ্গতি-কাম শ্রীল কবিরাজ নাম ছাড়িয়া সে গৃহ পরিকর। ঠাকুর শ্রীশ্রীনিবাস খেতরী করিলা বাস প্রাণ-সমতুল কলেবর॥ নিত্যানন্দ-ঘরণী জাহ্নবা ঠাকুরাণী ত্রিভুবনের পূজিত-চরণ। যাহার কীর্ত্তন-কালে রুধির পুলক-মুলে দেখি কৈল চৈতন্য-স্মরণ॥ ভাব দেখি আপনি জাহ্নবা ঠাকুরাণী নাম থুইলা ঠাকুর মহাশয়। পতিত-পাবন নাম ধর বল্লভে উদ্ধার কর তবে জানি মহিমা নিশ্চয়॥ ব্যাখ্যা - যেদিন অন্তত একবারও আমার প্রভু গৌরধামস্বরূপ নরোত্তমের নাম স্মরণ হয় সেদিনের প্রভাতকে শুভ বলিয়া জানি। সেই নরোত্তমের সঙ্গলাভ-কামনায় রামচন্দ্র কবিরাজ গৃহ পরিকর, এমন কি, ঠাকুর শ্রীনিবাসকে ছাড়িয়া খেতরিতে বাস করিতেন। রামচন্দ্র নরোত্তমের প্রাণতুল্য ছিলেন। . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |