কবি বিমানবিহারী মজুমদার, ভাগবতরত্ন - জন্মগ্রহণ করেন নদীয়া জেলার কুমারখালিতে। পিতা সাহিত্যিক শ্রীশচন্দ্র মজুমদার।
কবি নবদ্বীপ হিন্দুর স্কুল থেকে ১৯১৭ সালে ম্যাট্রিক পাশ করে বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে ইতিহাসে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে স্নাতক হন। ১৯২৩ সালে তিনি ইতিহাসে, এম.এ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। এরপর তিনি অর্থনীতিতেও এম.এ. পাশ করে পাটনা বি.এন. কলেজে ইতিহাস ও অর্থনীতিতে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন।
এই কলেজে অধ্যাপনাকালে তিনি “History of Political Thought : From Rammohun to Dayananda : 1821-84” এবং এরই সাথে এর সহায়ক গ্রন্থ “History of Religious Reformation in India in the Nineteenth Century” গ্রন্থ রচনা করে ১৯৩২ সালে প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তি লাভ করেন।
তাঁর “চৈতন্যচরিতের উপাদান” গবেষণা গ্রন্থ বাংলায় রচনা করে ১৯৩৭ সালে, তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি.এইচডি. হন। বাংলায় রচিত কোনো গবেষণা গ্রন্থ এই প্রথম এই সম্মান লাভ করে।
বিমানবিহারী মজুমদারের কর্মযজ্ঞ - পাতার উপরে . . . ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ইতিহাস ও অর্থনীতিতে পাণ্ডিত্য ও প্রতিষ্ঠা অর্জন করলেও বৈষ্ণব সাহিত্যের বহু মূল্যবান গ্রন্থ ও সংকলন তিনি রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। তিনি বৈষ্ণব সমাজে একজন শীর্ষস্থানীয় শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি ছিলেন। বৈষ্ণব ধর্ম ছাড়া তিনি অন্যান্য বিষয়েও গ্রন্থ রচনা করে গিয়েছেন।
জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি পাটনাতেই কাটান। ১৯৪৫ সালে তিনি আরায় হরপ্রসাদ জৈন কলেজের অধ্যক্ষ হন। ১৯৫২ সালে তিনি বিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ-পরিদর্শক নিযুক্ত হন। ১৯৫৯ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৬৫ থেকে আমৃত্যু তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউ.জি.সি. গবেষক অধ্যাপক ছিলেন।
তাঁর সংকলিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত “চণ্ডীদাসের পদাবলী” (১৯৬০), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত “গোবিন্দদাসের পদাবলী ও তাঁহার যুগ” (১৯৬১), “যোড়শ শতাব্দীর পদাবলী সাহিত্য” (১৯৬১), “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী” (১৯৬১), বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বা পদকর্তা হরিবল্লভ দাসের “শ্রীশ্রীক্ষণদাগীতচিন্তামণি” প্রভৃতি।
বিমানবিহারীর বৈষ্ণব পদাবলী রচনা - পাতার উপরে . . . তিনি কেবল বৈষ্ণব গ্রন্থ সম্পাদনা করেই ক্ষান্ত হন নি। তাঁর সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী” গ্রন্থের পরিশিষ্টে তিনি, সমৃদ্ধিমান্ সম্ভোগ পর্যায়ে কুরুক্ষেত্রে রাধাকৃষ্ণের মিলন লীলার পদাবলী গীত রচনা করেছেন। আমরা তা সম্পূর্ণরূপে এখানে তুলে দিলাম। পরিশিষ্টের মুখবন্ধে তিনি লিখেছেন . . .
“সমৃদ্ধিমান্ সম্ভোগ পর্যায়ে কুরুক্ষেত্রে রাধাকৃষ্ণের মিলন একটি বিশেষ লীলা। এটি গীত না হইলে চৌষট্টি রসের কীর্তন পূর্ণ হয় না ; অথচ এ বিষয় কোনো পদ নাই। তাই নিতান্ত অক্ষম হইলেও সংকলয়িতা তাঁহার গুরুদত্ত নাম, নিতাই ভণিতা দিয়া আধুনিক ভাষায় কয়েকটি পদ রচনা করিয়াছেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের অনেক আগে, সনাতন গোস্বামীর মতে রাজসূয় যজ্ঞের পরে (শ্রীমদ্ভাগবতের বৃহদ্বৈষ্ণবতোষণী টীকা ১০।৮২। ১), কিন্তু শ্রীজীব গোস্বামীর মতে রাজসূয়ের পূর্বে ( শ্রীকৃষ্ণ সন্দর্ভ ১৭৪ ), সূর্যগ্রহণ উপলক্ষে সমাগত শ্রীকৃষ্ণের সহিত ব্রজের গোপগোপীদের দেখাসাক্ষাৎ হইয়াছিল।”
উপরোক্ত বিষয়ে, তাঁর রচিত সবক'টি পদ (৯টি) মিলনসাগরে, এই পাতায় তুলে দিয়েছি।
আমরা মিলনসাগরে কবি বিমানবিহারী মজুমদারের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।