মৃণালকান্তি ঘোষের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . . ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত জগদ্বন্ধু ভদ্রর গৌরপদ-তরঙ্গিণী ২য় সংস্করণের সম্পাদক মৃণালকান্তি ঘোষ, পদকর্তা বিশ্বম্ভরের পরিচয়ে লিখেছেন . . .
“ইঁহারও কোন পরিচয় পাওয়া যায় নাই। হরেকৃষ্ণবাবু বীরভূমের অন্তর্গত মুলুক গ্রামবাসী পদকর্ত্তা শশিশেখরের ভক্ত এক বিশ্বম্ভরের কথা উল্লেখ করিয়াছেন। ইনি নাকি পদকর্ত্তাও ছিলেন। কিন্তু সতীশবাবুর মতে সম্ভবতঃ তিনি কোন অপর বিশ্বম্ভর হইবেন। কেন না, তদপেক্ষা অধিক প্রসিদ্ধ পদকর্ত্তা শশিশেখর ও চন্দ্রশেখর ভ্রাতৃদ্বয়ের কোন পদ যখন পদকল্পতরুতে উদ্ধৃত হয় নাই, তখন তাঁহাদিগকে বৈষ্ণবদাসের পরবর্ত্তী বলিয়াই অনুমিত হয়। তবে গুরু অপেক্ষা শিষ্য বয়োজ্যেষ্ঠ হইয়া থাকেন। এক্ষেত্রে সেইরূপ হইয়া থাকিলে, উক্ত পদের রচয়িতা হইতে পারেন।”
আমরা মিলনসাগরে কবি বিশ্বম্ভরের বৈষ্ণব পদাবলী তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টাকে সফল মনে করবো।
বিশ্বম্ভর - এই কবির সম্বন্ধে সঠিক কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই। বৈষ্ণবদাসের শ্রীশ্রীপদকল্পতরুতে বিশ্বম্ভরের দুটি পদ রয়েছে, পদসংখ্যা ৭৪৩ ও ১১৯৯।
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় তাঁর বীরভূম বিবরণ পত্রিকায় একজন বিশ্বম্ভর নামের পদকর্তার উল্লেখ করেছেন। এই পদকর্তার একটি পদে তিনি বৈষ্ণবদাস পরবর্তী পদকর্তা বীরভূমের “মুলুক” গ্রামবাসী শশিশেখরের বন্দনা করেছেন, শিষ্য হিসেবে। শশিশেখরের নামে আমরা কোনো পদ পদকল্পতরুতে পাইনা। অনেকে সন্দেহ করেন যে পদকল্পতরুতে বিভিন্ন শেখর ভণিতার পদের সঙ্গে শশিশেখরের পদ মিশে থাকতে পারে।
সতীশচন্দ্র রায় ও মৃণালকান্তি ঘোষ, দুজনেই মনে করেন যে হয়তো বৈষ্ণবদাসের সময়ে শশিশেখরের খ্যাতি ততটা ছড়ায় নি আর বিশ্বম্ভর শশিশেখরের শিষ্য হলেও, হয়তো বয়সে গুরুর থেকে বড় ছিলেন।
অন্য সম্ভাবনা হচ্ছে এই যে, পদকল্পতরুর “বিশ্বম্ভর” এবং শশিশেখরের শিষ্য “বিশ্বম্ভর” ভিন্ন ব্যক্তি। হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, পদকল্রতরুতে দেওয়া বিশ্বম্ভর ভণিতার পদদুটি তাঁর “বৈষ্ণব পদাবলী” গ্রন্থে উদ্ধৃত করেন নি।
এই দুই কবি বিশ্বম্ভর, ভিন্ন অথবা অভিন্ন ব্যক্তি যাই হন, তাঁদের জীবনকাল অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি ধরে নেওয়া যায় অর্থাত বৈষ্ণবদাসের সমসাময়িক অথবা অব্যবহিত পরবর্তী কালের।
সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . . বৈষ্ণবদাস সঙ্কলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের সম্পাদক সতীশচন্দ্র রায় তাঁর সম্পাদিত, ১৯৩১ সালে প্রকাশিত পদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকায় পদকর্তা বিশ্বম্ভরের পরিচয়ে লিখেছেন . . .
“পদকর্তা বিশ্বম্ভর দাসের দুইটী পদ পদকল্পতরুতে উদ্ধৃত হইয়াছে। তাঁহার ৭৪৩ সংখ্যক পদ ‘শ্রীগৌরচন্দ্র’ ও ১১৯৯ সংখ্যক পদ ‘বন-ভোজন’ লীলা-বিষয়ক। বিশ্বম্ভরের কোন পরিচয় জানা যায় নাই। শ্রীযুক্ত হরেকৃষ্ণ বাবু তাঁহার সঙ্কলিত বীরভূমি বিবরণ গ্রন্থের ৩য় খণ্ডে বীরভূমের অন্তর্গত মুলুক গ্রাম-বাসী পদ-কর্ত্তা শশিশেখরের ভক্ত এক পদ-কর্ত্তা বিশ্বম্ভরের পরিচয় দিয়াছেন ; কিন্তু তিনি সম্ভবতঃ স্বতন্ত্র ব্যক্তি হইবেন। কেন না, তাঁহার অপেক্ষা অনেক প্রসিদ্ধ পদ-কর্ত্তা শশিশেখর ও চন্দ্রশেখর ভ্রাতৃদ্বয়ের কোনও পদ যখন পদকল্পতরুতে উদ্ধৃত হয় নাই, তখন তাঁহাদিগকে বৈষ্ণবদাসের কিছু পরবর্ত্তী বলিয়াই জানা যাইতেছে । অনেক স্থলে গুরু অপেক্ষা শিষ্যও বয়োজ্যেষ্ঠ হইয়া থাকেন ; এ ক্ষেত্রেও সেরূপ হইয়া থাকিলে বীরভূমের মুলুক গ্রামবাসী বিশ্বম্ভরও পদকল্পতরুর পদের রচয়িতা হইতে পারেন।”