| বৈষ্ণব ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী |
| রূপ-গুণবতী রস-মঞ্জরী লবঙ্গ পাশ ভণিতা বৈষ্ণব কবি বৈষ্ণবদাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), চতুর্থ খণ্ড, চতুর্থ শাখা---দ্বিতীয় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০৮৩। ॥ কেদার॥ রূপ-গুণবতী রস- মঞ্জরী লবঙ্গ পাশ বিলাসাদি একত্র হইয়া। শ্রীলীলামঞ্জরী আর কহিবেন পরস্পর রাই কানু দোঁহারে নিছিয়া॥ হরি হরি মোর হেন হবে শুভ দিনে। মালতী দেবীর পাছে বসিয়া সভার কাছে মুঞি তাহা করিব স্রবণে॥ রাই-কানু-রূপ-গুণে রতি-রস-প্রশংসনে শ্রীঅঙ্গ-সৌরভ সুবিলাসে। বিভোর হইয়া সভে অনুক্রমে প্রশংসিবে নিভৃত-নিকুঞ্জ-গৃহ পাশে॥ নানাভাবে অলঙ্কৃত হইবে বিভোল চিত সব প্রিয়-নর্ম্ম-সখীগণে। কেবল বৈষ্ণবের আশা পালটিবে মোর দশা সে সব করিব দরশনে॥ এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ) গ্রন্থের, ষষ্ঠ তরঙ্গ, চতুর্থ উচ্ছাস - ভক্তের দৈন্য ও প্রার্থনা, পদসংখ্যা ১০২, ৩৬১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ রূপ গুণ রতী রস মঞ্জরী লবঙ্গ পাশ বিলাসাদি একত্র হইয়া। শ্রীলীলামঞ্জরী আর কহিবেন পরস্পর রাই কানু দোঁহার নিছিয়া॥ হরি হরি মোর হেন হবে শুভ দিনে। মালতী দেবীর পাছে বসিয়া সভার কাছে মুঞি তাহা করিব স্রবণে॥ ধ্রু॥ রাই-কানু রূপ-গুণে রতি রস প্রশংসনে শ্রীঅঙ্গ সৌরভ সুবিলাসে। বিভোর হইয়া লভে অনুক্রমে প্রশংসিবে নিভৃত নিকুঞ্জগৃহ পাশে॥ নানাভাবে অলঙ্কৃত হইবে বিভোর চিত সব প্রিয় নর্ম্মসখীগণে। কেবল বৈষ্ণবের আশা পালটিবে মোর দশা সে সব করিব দরশনে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নিন্দের আলসে শুতিবে দুজন কবি বৈষ্ণবদাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), চতুর্থ খণ্ড, চতুর্থ শাখা---দ্বিতীয় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০৮২। ॥ কেদার॥ নিন্দের আলসে শুতিবে দুজন রতন-পালঙ্ক পরে। সহচরীগণ শুতিবে তখন কলপ-নিকুঞ্জ ঘরে॥ রূপ-রতি-গুণ- মঞ্জরী তখন করয়ে বিবিধ সেবা। পাদ-সম্বাহন চামর-বীজন যাহার করণ যেবা॥ শ্রীগুণমঞ্জরী বহু কৃপা করি ঠারিয়া কহিবে মোরে। ললিতা বিশাখা চম্পকলতিকার চরণ সেবিবার তরে॥ মুঞি সে আজ্ঞাতে বসিব তুরিতে ললিতা-চরণ-তলে। গুলুফ অঙ্গুলি চরণ সকলি সম্বাহিব মন-বলে॥ কটি পীঠ আদি মৃদু মৃদু চাপি যতেক বন্ধান আছে। তিহো নিন্দ যাবে উঠি যাব তবে বিশাখা দেবীর কাছে॥ গায়ের ওঢ়নি কাঁচলি খুলিয়া দু জানু চাপিয়া বসি। চরণ-যুগল হৃদয়ে ধরিয়া হেরিব নখর-শশী॥ পরম নিপুণে সম্বাহি চরণে যাইব চিত্রার পাশে। হেন অনুক্রমে করিবে সেবনে কেবল বৈষ্ণব আশে॥ এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ) গ্রন্থের, ষষ্ঠ তরঙ্গ, চতুর্থ উচ্ছাস - ভক্তের দৈন্য ও প্রার্থনা, পদসংখ্যা ১০৩, ৩৬১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ নিদেঁর আলসে, শুতিবে দুজন, রতন পালঙ্কোপরে। সহচরীগণ, শুতিবে তখন, কলপ নিকুঞ্জ ঘরে॥ রূপ রতি গুণমঞ্জরী তখন, করয়ে বিবিধ সেবা। পাদ সংবাহন, চামর বীজন, তাহার কারণ যেবা॥ শ্রীগুণমঞ্জরী, বহু কৃপা করি, যারিয়া কহিবে মোরে। ললিতা বিশাখা, চম্পক-কলিকা, চরণ সেবিবার তরে॥ মুঞি সে অজ্ঞাতে, বসিব তুরিতে, ললিতা চরণতলে। গুল্ ফ অঙ্গুলি, চরণ সকলি, সমবাহিব মনোবলে॥ কটি পীঠ আদি, মৃদু মৃদু চাপি, যতেক বন্ধান আছে। তাঁহা নিদ যাবে, উঠি যাব তবে, বিশাখা দেবীর কাছে॥ গায়ের ওড়নী, কাঁচুলি খুলিয়া, দুজানু চাপিয়া বসি। চরণযুগল, হৃদয়ে ধরিয়া, হেরব নখরশশী॥ পরম নিপুণে, সংবাহি চরণে, যাইব চিত্রার পাশে। হেন অনুক্রমে করিবে শয়ন, কেবল বৈষ্ণবদাসে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |