বৈষ্ণব ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী
*
শ্রীগুণমঞ্জরী-পদ মোর প্রাণ-সম্পদ
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), চতুর্থ খণ্ড, চতুর্থ শাখা---দ্বিতীয় ভাগ, ৩৬শ
পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০৭৭।

॥ কেদার॥

শ্রীগুণমঞ্জরী-পদ                                  মোর প্রাণ-সম্পদ
শ্রীমণিমঞ্জরী তার সঙ্গে।
হেন দশা মোর হব                            সে পদ দেখিতে পাব
সখী মোর প্রেমের তরঙ্গে॥
মদন-সুখদা নাম                              কুঞ্জ-শোভা অনুপাম
তাহে রত্ন সিংহাসন পরি।
চতুর্দ্দিকে সখীগণ                                   বসিবেন দুইজন
রসাবেশে কিশোর-কিশোরী॥
সেই সিংহাসন-বামে                            দাঁড়াইবে সাবধানে
গুণ-মণি-মঞ্জরীর পাছে।
মালতীমঞ্জরী নাম                              রূপে গুণে অনুপাম
আমারে ডাকিবে নিজ কাছে॥
মুঞি তার কাছে যাঞা                          দুহুঁ-রূপ নিরখিয়া
নয়নে বহিবে প্রেম-ধারা।
দোঁহার দর্শনামৃতে                            মোর নেত্র-চাতকেতে
রহিবে সে হইয়া বিভোরা॥
শ্রীরূপমঞ্জরী সুখে                               তাম্বুল দিবেন মুখে
রাই কানু করিবে ভক্ষণ।
পিক ফেলিবার বেলি                          আলবাটি আন বলি
আমারে ডাকিবে দুইজন॥
সখীর ইঙ্গিত পাঞা                            আলবাটি করে লঞা
ধরিব সে মুখ-চন্দ্র পাশে।
তাহাতে ফেলিবে পিক                       মুঞি লঞা এক ভিত
দাঁড়াইব মনের হরিষে॥
কত বা কৌতুক কাজ                         হইবে সে কুঞ্জ মাঝ
তাহা মুঞি শুনিব শ্রবণে।
পূরিবে মনের আশা                          পালটিবে মোর দশা
নিবেদয়ে বৈষ্ণবচরণে॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, প্রথম পরিশিষ্ট - নানা ভাবের সঙ্গীত, পদসংখ্যা ১০০, ৩৬০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

শ্রীগুণমঞ্জরীপদ                                মোর প্রাণসম্পদ
শ্রীমণিমঞ্জরী তার সঙ্গে।
হেন দশা মোর হব                       সে পদ দেখিতে পাব
সখীসহ প্রেমের তরঙ্গে॥        
মদনসুখদা নাম                            কুঞ্জশোভা অনুপাম
তাহে রত্ন-সিংহাসনোপরি।
চতুর্দ্দিকে সখীগণ                             বসিবেন দুই জন
রসাবেশে কিশোর কিশোরী॥
সেই সিংহাসন বামে                        দাঁড়াইব সাবধানে
গুণমণি মঞ্জরীর পাছে।
মালতী মঞ্জরী নাম                        রূপে গুণে অনুপাম
আমারে ডাকিবে নিজ কাছে॥
মুই তাঁর কাছে যাঞা                       দুহুঁ রূপ নিরখিয়া
নয়নে বহিবে প্রেমধারা।
দোঁহার দর্শনামৃতে                       মোর নেত্র-চাতকেতে
সে আনন্দে হইবে বিভোরা॥
শ্রীরূপমঞ্জরী সুখে                         তাম্বুল দিবেন মুখে
রাই কানু করিবে ভক্ষণ।
পিক ফেলিবার বেরি                     আলবাটি আন বলি
আমারে ডাকিবে দুইজন॥
সখীর ইঙ্গিত পাঞা                       আলবাটি করে লঞা
ধরিব সে মুখচন্দ্র পাশে।
তাহাতে ফেলিবে পিক                  মুঞি যায়া এক ভিত
দাঁড়াইব মনের হরিষে॥
কত বা কৌতুক কাজে                   হইবে সে কুঞ্জ মাঝে
তাহা মুঞি শুনিব শ্রবণে।
পূরিবে মনের আশা                     পালটিবে মোর দশা
নিবেদয়ে বৈষ্ণবচরণে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর