কবি বৈষ্ণবদাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
জয় জয় শ্রীগুরু প্রেম-কলপ-তরু
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), প্রথম খণ্ড, প্রথম শাখা, প্রথম পল্লব,
মঙ্গলাচরণ, পদসংখ্যা ১।

॥ মঙ্গল রাগ॥

জয় জয় শ্রীগুরু                                 প্রেম-কলপ-তরু
অদভুত যাক প্রকাশ।
হিয়-আগেয়ান-তি-                             মির-বর জ্ঞান-সু-
চন্দ্র-কিরণে করু নাশ॥
ইহ লোচন-আনন্দ-ধাম।
অযাচিত হেন                              পতিত হেরি যো পহুঁ
যাচি দেয়ল হরি-নাম॥ ধ্রু॥
দুরগতি অগতি অ-                           সত-মতি যো জন
নাহি সুকৃতি-লবলেশ।
শ্রীবৃন্দাবন-                                       যুগল-ভজন-ধন
তাহে করত উপদেশ॥
নিরমল গৌর-                                   প্রেম-রস-সিঞ্চনে
পূরল সব মন আশ।
সো চরণাম্বুজে                                  রতি নাহি হোয়ল
রোয়ত বৈষ্ণবদাস॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, প্রথম তরঙ্গ, দ্বিতীয় উচ্ছাস - মঙ্গলাচরণ, পদসংখ্যা ১৩, ৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
      
॥ মঙ্গলরাগ॥

জয় জয় শ্রীগুরু, প্রেম-কলপতরু, অদ্ভুত যাক প্রকাশ।
হিয় আগেয়ান, তিমির বর জ্ঞান, সুচন্দ্রকিরণে করু নাশ॥
ইহ লোচন আনন্দ ধাম।
অযাচিত এহেন                       পতিত হেরি যো পহুঁ
যাচি দেয়ল হরিনাম॥ ধ্রু॥
দুরগতি অগতি                        অসতমতি যো জন
নাহি সুকৃতি লবলেশ।
শ্রীবৃন্দাবন                                   যুগল ভজনধন
তাহে করত উপদেশ॥
নিরমল গৌর-প্রেমরস সিঞ্চনে, পূরল সব মন আশ।
সো চরণাম্বুজে, রতি নাহি হোঅল, রোঅত বৈষ্ণবদাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৯৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মঙ্গলাচরণ
॥ মঙ্গলরাগ॥

জয় জয় শ্রীগুরু                                প্রেম-কলপ-তরু
অদভুত যাক প্রকাশ।
হিয়-আগেয়ান                                  তিমির সুনিবিড়
জ্ঞান-কিরণে করু নাশ॥
ইহ লোচন-আনন্দ ধাম।
অযাচিত এ হেন                              পতিত হেরি পহুঁ
যাচি দেয়ল হরিনাম॥
দুরগতি অগতি                            অসত-মতি যো জন
নাহি সুকৃতি-লবলেশ।
শ্রীবৃন্দাবন-                                      যুগল-ভজন-ধন
তাহে করত উপদেশ॥
নিরমল গৌর-                                  প্রেম-রস-সিঞ্চনে
পূরল সব মন আশ।
সো চরণাম্বুজে                                 রতি নাহি হোয়ল
রোয়ত বৈষ্ণবদাস॥

ই পদটি সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী মঙ্গল - তাল দশকুশি॥

জয় জয় শ্রীগুরু, প্রেমকলপতরু, অদভুত যাক প্রকাশ।
হিয় আগেয়ান, তিমির বর জ্ঞান, সুচন্দ্র কিরণে করু নাশ॥
ইহ লোচন আনন্দ ধাম।
অযাচিত এহেন, পতিত হেরি যো পহুঁ, যাচি দেওল হরিনাম॥ ধ্রু॥
দুরগতি অগতি, অসত মতি যো জন, নাহি সুকৃতি লবলেশ।
শ্রীবৃন্দাবন, যুগল ভজন ধন, তাহে করত উপদেশ॥
নিরমল গৌর, প্রেমরস সিঞ্চনে, পূরল সব মন আশ।
সো চরণাম্বুজে, রতি নাহি হোয়ল, রোয়ত বৈষ্ণবদাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় জয় শ্রীনব-দ্বীপ-সুধাকর
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), প্রথম খণ্ড, প্রথম শাখা, প্রথম পল্লব,
মঙ্গলাচরণ, পদসংখ্যা ৮।


॥ কামোদ॥

জয় জয় শ্রীনব-                        দ্বীপ-সুধাকর
প্রভু বিশ্বম্ভর দেব।
জয় পদ্মাবতি-                        নন্দন পহুঁ মঝু
শ্রীবসু-জাহ্নবী সেব॥
জয় জয় শ্রীঅ-                      দ্বৈত সীতা-পতি
সুখদ শান্তিপুর-চন্দ্র।
জয় জয় শ্রীল-                        গদাধর পণ্ডিত
রসময় আনন্দ কন্দ॥
জয় মালিনি-পতি                   সদয়-হৃদয় অতি
পণ্ডিত শ্রীবাস উদার।
গৌর-ভকত জয়                       পরম দয়াময়
শিরে ধরি চরণ সভার॥
ইহ সব ভুবনে                      প্রেম-রস-সিঞ্চনে
পূরল জগ-জন-আশ।
আপন করম-                     দোষে ভেল বঞ্চিত
দুরমতি বৈষ্ণবদাস॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, ষষ্ঠ তরঙ্গ, তৃতীয় উচ্ছাস - পরিকর, পদসংখ্যা ৭৯, ৩২৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

জয় জয় শ্রীনবদ্বীপসুধাকর দেব।
জয় পদ্মাবতিনন্দন পহুঁ মঝু শ্রীবসু জাহ্নবী সেব॥ ধ্রু॥
জয় জয় শ্রীঅদ্বৈত সীতাপতি সুখ শান্তিপুরচন্দ্র।
জয় জয় শ্রীল গদাধর পণ্ডিত রসময় আনন্দ কন্দ॥
জয় মালিনিপতি সদয় হৃদয় অতি পণ্ডিত শ্রীবাস উদার।
গৌরভকত জয় পরম দয়াময় শিরে ধরি চরণ সবার॥
ইহ সব ভুবনে প্রেমরসসিঞ্চনে পূরল জগজন আশ।
আপন করমদোষে ভেল বঞ্চিত মূঢ়মতি বৈষ্ণবদাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৯৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

জয় জয় শ্রীনব-                        দ্বীপ-সুধাকর
প্রভু বিশ্বম্ভর দেব।
জয় পদ্মাবতি-                        নন্দন পহুঁ মঝু
শ্রীবসু-জাহ্নবী সেব॥
জয় জয় শ্রী                        অদ্বৈত সীতা-পতি
সুখদ শান্তিপুর চন্দ।
জয় জয় শ্রীল-                        গদাধর পণ্ডিত
রসময় আনন্দ-কন্দ॥
জয় মালিনি-পতি                সদয়-হৃদয় অতি
পণ্ডিত শ্রীবাস উদার।
গৌর-ভকত জয়                পরম দয়াময়
শিরে ধরি চরণ সভার॥
পতিত অধম                        দীন দূরগত যত
মিটল সবাকার আশ।
আপন করম-                        দোষে ভেল বঞ্চিত
দুরমতি বৈষ্ণবদাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় জয় অতিশয় দীন দয়াময়
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), প্রথম খণ্ড, প্রথম শাখা, প্রথম পল্লব,
মঙ্গলাচরণ, পদসংখ্যা ৯।


॥ কামোদ॥

জয় জয় অতিশয়                          দীন দয়াময়
স্বরুপ রামানন্দ রায়।
সুমধুর নিগূঢ়                         গৌর-রস জগ জন
জানল যাঁক কৃপায়॥
জয় নরহরি গদাধর শ্রীনিবাস।
জয় বক্রেশ্বর                              দাস গদাধর
মুকুন্দ মুরারি হরিদাস॥ ধ্রু॥
বসু রামানন্দ                             সেন শিবানন্দ
গোবিন্দ মাধব বাসুঘোষ।
জয় বৃন্দাবন-                            দাস গৌর-রসে
জগ-জনে করল সন্তোষ॥
জয় জয় অনন্ত-                         দাস নয়নানন্দ
জ্ঞানদাস যদুনাথ।
শ্রীরূপ সনাতন                        জয় জয় শ্রীজিব
ভট্ট-যুগল রঘুনাথ॥
জয় জয় কৃষ্ণ-                       দাস কবি-ভূপতি
গৌর-ভকতগণ আর।
বৈষ্ণবদাস-                             আশ পরিপূরহ
দেহ চরণ-রজ-সার॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, ষষ্ঠ তরঙ্গ, তৃতীয় উচ্ছাস - পরিকর, পদসংখ্যা ৭৪, ৩২২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

জয় জয় অতিশয়                         দীন দয়াময়
স্বরুপ রামানন্দ রায়।
সুমধুর নিগূঢ়                        গৌর-রস জগজনে
জানল যাক কৃপায়॥
জয় গদাধর নরহরি শ্রীনিবাস।
জয় বক্রেশ্বর                              দাস গদাধর
মুকুন্দ মুরারি হরিদাস॥ ধ্রু॥
বসু রামানন্দ                            সেন শিবানন্দ
গোবিন্দ মাধব বাসু ঘোষ।
জয় বৃন্দাবন-                            দাস গৌররসে
জগজনে কয়ল সন্তোষ॥
জয় জয় অনন্ত-                          দাস নয়নানন্দ
জ্ঞানদাস যদুনাথ।
শ্রীরূপ সনাতন                         জয় জয় শ্রীজীব
ভট্টযুগল রঘুনাথ॥
জয় জয় কৃষ্ণ-                        দাস কবি ভূপতি
গৌর-ভকতগণ আর।
বৈষ্ণবদাস-                              আশ পরিপূরহ
দেহ চরণরজঃ সার॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৯৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

জয় জয় অতিশয়                         দীন দয়াময়
স্বরুপ রামানন্দ রায়।
সুমধুর নিগূঢ়                        গৌর-রস জগ-জন
জানল যাঁক কৃপায়॥
জয় নরহরি গদাধর শ্রীনিবাস।
জয় বক্রেশ্বর                               দাস গদাধর
মুকুন্দ মুরারি হরিদাস॥ ধ্রু॥
বসু রামানন্দ                             সেন শিবানন্দ
গোবিন্দ মাধব বাসুঘোষ।
জয় বৃন্দাবন-                            দাস গৌর-রসে
জগ-জনে করল সন্তোষ॥
জয় জয় অনন্ত                           দাস নয়নানন্দ
জ্ঞানদাস যদুনাথ।
শ্রীরূপ সনাতন                          জয় জয় শ্রীজীব
ভট্ট-যুগল রঘুনাথ॥
জয় জয় কৃষ্ণ-                        দাস কবি-ভূপতি
গৌর ভকতগণ আর।
বৈষ্ণব দাস-                            আশ পরিপূরহ
দেহ চরণ-রজ-সার॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় জয়দেব কবি-নৃপতি-শিরোমণি
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), প্রথম খণ্ড, প্রথম শাখা, প্রথম পল্লব,
মঙ্গলাচরণ, পদসংখ্যা ১৫।


॥ ধানশী॥

জয় জয়দেব কবি-                        নৃপতি-শিরোমণি
বিদ্যাপতি রস-ধাম।
জয় জয় চণ্ডী-                              দাস রস-শেখর
অখিল-ভুবনে অনুপাম॥
যাকর রচিত                             মধুর-রস নিরমল
গদ্য-পদ্যময় গীত।
প্রভু মোর গৌর-                            চন্দ্র আস্বাদিলা
রায় স্বরূপ সহিত॥
যবহুঁ যে ভাব                            উদয় করুঁ অন্তরে
তব গাওই দুহুঁ মেলি।
শুনইতে দারু                             পাষাণ গলি যায়ত
ঐছন সুমধুর কেলি॥
আছিল গোপতে                       যতন করি পহুঁ মোর
জগতে করল পরকাশ।
সো রস শ্রবণে                           পরশ নাহি হোয়ল
রোয়ত বৈষ্ণবদাস॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জয়দেব, বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাস বন্দনা।

জয় জয়দেব কবি                        নৃপতি শিরোমণি,
বিদ্যাপতি রসধাম।
জয় জয় চণ্ডী-                              দাস রস শেখর,
অখিল ভুবনে অনুপাম॥
যা কর রচিত,                            মধুর রস নিরমল
গদ্য পদ্য ময় গীত।
প্রভু মোর গৌর                             চন্দ্র আস্বাদিলা,
রায় স্বরূপ সহিত॥
যবহু যে ভাব,                            উদয় করু অন্তরে,
তব গাওই দুহু মেলি।
শুনইতে দারু,                            পাষাণ গলি যায়ত,
ঐছন সুমধুর কেলি॥
আছিল গোপত,                       যতন করি পহু মোর,
জগতে করল পরকাশ।
সো রস শ্রবণে,                          পরশ নাহি হোয়ল,
রোয়ত বৈষ্ণব দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৯৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীজয়দেবাদির বন্দনা
॥ ধানশী॥

জয় জয়দেব কবি                        নৃপতি-শিরোমণি
বিদ্যাপতি রস-ধাম।
জয় জয় চণ্ডী-                              দাস রসশেখর
অখিল-ভুবনে অনুপাম॥
যাকর রচিত                             মধুর-রস নিরমল
গদ্য-পদ্যময় গীত।
প্রভু মোর গৌর                            চন্দ্র আস্বাদিলা
রায় স্বরূপ সহিত॥
যবহুঁ যে ভাব                            উদয় করু অন্তরে
তব গাওই দুহুঁ মেলি।
শুনইতে দারু                             পাষাণ গলি যায়ত
ঐছন সুমধুর কেলি॥
আছিল গোপতে                       যতন করি পহুঁ মোর
জগতে করল পরকাশ।
সো রস শ্রবণে                          পরশ নাহি হোয়ল
রোয়ত বৈষ্ণবদাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রভু গৌরচন্দ্র প্রভু নিত্যানন্দ
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), প্রথম খণ্ড, প্রথম শাখা, প্রথম পল্লব,
মঙ্গলাচরণ, পদসংখ্যা ১৬।


॥ শ্রীরাগ॥

প্রভু গৌরচন্দ্র                        প্রভু নিত্যানন্দ
প্রভু সীতানাথ আর।
পণ্ডিত গোসাঞি                       শ্রীবাস রামাই
ঠাকুর শ্রীসরকার॥
মুরারি মুকুন্দ                           শ্রীজগদানন্দ
দামোদর বক্রেশ্বর।
সেন শিবানন্দ                          বসু রামানন্দ
সদাশিব পুরন্দর॥
আচার্য্য নন্দন                          বুদ্ধিমন্ত খান
ছোট বড় হরিদাস।
বাসুদেব দত্ত                          রাঘব পণ্ডিত
জগদীশ তার পাশ॥
আচার্য্য রতন                          গুপ্ত নারায়ণ
বিদ্যানিধি শুক্লাম্বর।
শ্রীধর বিজয়                            শ্রীমান সঞ্জয়
চক্রবর্ত্তী নীলাম্বর॥
পণ্ডিত গরুড়                            শ্রীচন্দ্রশেখর
হলায়ুধ গোপীনাথ।
গোবিন্দ মাধব                        ঘোষ বাসুদেব
সুধানিধি আদি সাথ॥
পণ্ডিত ঠাকুর                            দাস গদাধর
উদ্ধারণ অভিরাম।
রামাই মহেশ                             ধনঞ্জয় দাস
বৃন্দাবন অনুপাম॥
ঠাকুর মুকুন্দ                              শ্রীরঘুনন্দন
চিরঞ্জীব সুলোচন।
বৈদ্য বিষ্ণুদাস                         দ্বিজ হরিদাস
গঙ্গাদাস সুদর্শন॥
গোবিন্দ শঙ্কর                         আর কাশীশ্বর
রামাই নন্দাই সাথ।
রায় ভবানন্দ                        সুত রামানন্দ
গোপীনাথ বাণীনাথ॥
নীলাচল-বাসী                       সার্ব্বভৌম কাশী
মিশ্র জনার্দ্দন আর।
শ্রীশিখি মাহাতি                        রুদ্র গজপতি
ক্ষেত্র-সেবা অধিকার॥
গোসাঞি স্বরুপ                        সনাতন রূপ
ভট্ট-যুগ রঘুনাথ।
শ্রীজীব ভূগর্ভ                        গোসাঞি রাঘব
লোকনাথ আদি সাথ॥
যতেক মহান্ত                       কে করিবে অন্ত
গৌরাঙ্গ সভার প্রাণ।
গোরাচাঁদ হেন                       সভে কৃপাবান
প্রেম-ভক্তি করে দান॥
ইহা সভাকার                         যত পরিবার
সন্তান আছয়ে যার।
গৌর-ভকত                          আর যত যত
সভে কর অঙ্গীকার॥
অধম দেখিয়া                        করুণা করিয়া
সভে পূর মোর আশ।
কাতর হইয়া                         গুণ সোঙরিয়া
কান্দয়ে বৈষ্ণবদাস॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সহচর সহ শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ বন্দনা।

প্রভু মোর গৌরচন্দ্র,           প্রভু মোর নিত্যানন্দ,
প্রভু সীতানাথ আর।
পণ্ডিত গোসাঞি,                     শ্রীবাস রামাই,
ঠাকুর শ্রীসরকার॥
মুরারি মুকুন্দ,                          শ্রীজগদানন্দ,
দামোদর বক্রেশ্বর।
সেন শিবানন্দ,                        বসু রামানন্দ,
সদাশিব পুরন্দর॥
আচার্য্য নন্দন,                        বুদ্ধিমন্ত খান,
ছোট বড় হরিদাস।
বাসুদেব দত্ত,                        রাঘব পণ্ডিত,
জগদীশ তার পাশ॥
আচার্য্য রতন,                         গুপ্ত নারায়ণ,
বিদ্যানিধি শুক্লাম্বর।
শ্রীধর বিজয়,                           শ্রীমান সঞ্জয়,
চক্রবর্ত্তী নীলাম্বর॥
পণ্ডিত গরুড়                          শ্রীচন্দ্রশেখর,
হলায়ুধ গোপীনাথ।
গোবিন্দ মাধব,                      ঘোষ বাসুদেব,
সুধানিধি আদি সাথ॥
পণ্ডিত ঠাকুর                           দাস গদাধর,
উদ্ধারণ অভিরাম।
রামাই মহেশ,                           ধনঞ্জয় দাস,
বৃন্দাবন অনুপাম॥
ঠাকুর মুকুন্দ,                          শ্রীরঘু নন্দন,
চিরঞ্জীব সুলোচন।
বৈদ্য বিষ্ণুদাস                        দ্বিজ হরিদাস
গঙ্গাদাস সুদর্শন॥
গোবিন্দ শঙ্কর                        আর কাশীশ্বর,
রামাই নন্দাই সাথ।
রায় ভবানন্দ,                        সুত রামানন্দ,
গোপীনাথ বাণীনাথ॥
নীলাচল-বাসী,                      সার্ব্বভৌম কাশী,
মিশ্র জনার্দ্দন আর।
শ্রীশিখি মাহাতি,                       রুদ্র গজপতি,
ক্ষেত্র সেবা অধিকার॥
গোসাঞি স্বরুপ,                        সনাতন রূপ,
ভট্ট যুগ রঘুনাথ।
শ্রীজীব ভূগর্ভ,                       গোসাঞি রাঘব,
লোকনাথ আদি সাথ॥
যতেক মহান্ত,                       কে করিবে অন্ত,
গৌরাঙ্গ সভার প্রাণ।
গোরাচাঁদ হেন                        সভে কৃপাবান,
প্রেম ভক্তি করে দান॥
ইহা সবাকার,                          যত পরিবার
সন্তান আছয়ে যার।
গৌর ভকত,                           আর যত যত,
সবে কর অঙ্গীকার॥
অধম দেখিয়া,                         করুণা করিয়া,
সবে পূর মোর আশ।
কাতর হইয়া,                        গুণ সোঙরিয়া,
কান্দয়ে বৈষ্ণব দাস॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, ষষ্ঠ তরঙ্গ, তৃতীয় উচ্ছাস - পরিকর, পদসংখ্যা ৮৪, ৩২৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

প্রভু মোর গৌরচন্দ্র        প্রভু মোর নিত্যানন্দ
প্রভু সীতানাথ আর।
পণ্ডিত গোসাঞী                        শ্রীবাস রামাই
ঠাকুর শ্রীসরকার॥
মুরারি মুকুন্দ                        শ্রীজগদানন্দ
দামোদর বক্রেশ্বর।
সেন শিবানন্দ                        বসু রামানন্দ
সদাশিব পুরন্দর॥
আচার্য্য নন্দন                        বুদ্ধিমন্ত খান
ছোট বড় হরিদাস।
বাসুদেব দত্ত                        রাঘব পণ্ডিত
জগদীশ তার পাশ॥
আচার্য্য রতন                        গুপ্ত নারায়ণ
বিদ্যানিধি শুক্লাম্বর।
শ্রীধর বিজয়                         শ্রীমান্ সঞ্জয়
চক্রবর্ত্তী নীলাম্বর॥
পণ্ডিত গরুড়                         শ্রীচন্দ্রশেখর
হলায়ুধ গোপীনাথ।
গোবিন্দ মাধব                      বাসুদেব ঘোষ
সুধানিধি আদি সাথ॥
পণ্ডিত ঠাকুর                          দাস গদাধর
উদ্ধারণ অভিরাম।
রামাই মহেশ                           ধনঞ্জয় দাস
বৃন্দাবন অনুপাম॥
ঠাকুর মুকুন্দ                          শ্রীরঘুনন্দন
চিরঞ্জীব সুলোচন।
বৈদ্য বিষ্ণুদাস                        দ্বিজ হরিদাস
গঙ্গাদাস সুদর্শন॥
গোবিন্দ শঙ্কর                        আর কাশীশ্বর
রামাই নন্দাই সাথ।
রায় ভবানন্দ-                        সুত-রামানন্দ
গোপীনাথ বাণীনাথ॥
নীলাচল-বাসী                      সার্ব্বভৌম কাশী
মিশ্র জনার্দ্দন আর।
শ্রীশিখি মাহাতি                       রুদ্র গজপতি
ক্ষেত্র সেবা অধিকার॥
গোসাঞী স্বরুপ                        সনাতন রূপ
ভট্টযুগ রঘুনাথ।
শ্রীজীব ভূগর্ভ                        গোসাঞী রাঘব
লোকনাথ আদি সাথ॥
যতেক মহান্ত                        কে করিবে অন্ত
গৌরাঙ্গ সবার প্রাণ।
গোরাচাঁদ হেন                        সবে কৃপাবান
প্রেমভক্তি করে দান॥
ইহা সবাকার                         যত পরিবার
সন্তান আছয়ে যার।
গৌরভকত                           আর যত যত
সভে কর অঙ্গীকার॥
অধম দেখিয়া                        করুণা করিয়া
সবে পূর মোর আশ।
কাতর হইয়া                          গুণ সোঙরিয়া
কাঁদয়ে বৈষ্ণবদাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৯৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

প্রভু গৌরচন্দ্র                      প্রভু নিত্যানন্দ
প্রভু সীতানাথ আর।
পণ্ডিত গোসাঞি                     শ্রীবাস রামাই
ঠাকুর শ্রী সরকার॥
মুরারি মুকুন্দ                        শ্রীজগদানন্দ
দামোদর বক্রেশ্বর।
সেন শিবানন্দ                        বসু রামানন্দ
সদাশিব পুরন্দর॥
আচার্য্য নন্দন                        বুদ্ধিমন্ত খান
ছোট বড় হরিদাস।
বাসুদেব দত্ত                        রাঘব পণ্ডিত
জগদীশ তার পাশ॥
আচার্য্য রতন                        গুপ্ত নারায়ণ
বিদ্যানিধি শুক্লাম্বর।
শ্রীধর বিজয়                          শ্রীমান সঞ্জয়
চক্রবর্ত্তী নীলাম্বর॥
পণ্ডিত গরুড়                          শ্রীচন্দ্রশেখর
হলায়ুধ গোপীনাথ।
গোবিন্দ মাধব                       ঘোষ বাসুদেব
সুধানিধি আদি সাথ॥
পণ্ডিত ঠাকুর                          দাস গদাধর
উদ্ধারণ অভিরাম।
রামাই মহেশ                           ধনঞ্জয় দাস
বৃন্দাবন অনুপাম॥
ঠাকুর মুকুন্দ                             শ্রীরঘুনন্দন
চিরঞ্জীব সুলোচন।
বৈদ্য বিষ্ণুদাস                        দ্বিজ হরিদাস
গঙ্গাদাস সুদর্শন॥
গোবিন্দ শঙ্কর                        আর কাশীশ্বর
রামাই নন্দাই সাথ।
রায় ভবানন্দ                         সুত রামানন্দ
গোপীনাথ বাণীনাথ॥
নীলাচল-বাসী                       সার্ব্বভৌম কাশী
মিশ্র জনার্দ্দন আর।
শ্রীশিখি মাহাতি                        রুদ্র গজপতি
ক্ষেত্র-সেবা অধিকার॥
গোসাঞি স্বরুপ                        সনাতন রূপ
ভট্ট-যুগ রঘুনাথ।
শ্রীজীব ভূগর্ভ                       গোসাঞি রাঘব
লোকনাথ আদি সাথ॥
যতেক মহান্ত                       কে করিবে অন্ত
গৌরাঙ্গ সভার প্রাণ।
গোরাচাঁদ হেন                       সভে কৃপাবান
প্রেম-ভক্তি করে দান॥
ইহা সভাকার                         যত পরিবার
সন্তান আছয়ে যার।
গৌর-ভকত                         আর যত যত
সভে কর অঙ্গীকার॥
অধম দেখিয়া                        করুণা করিয়া
সভে পূর মোর আশ।
কাতর হইয়া                        গুণ সোঙরিয়া
কান্দয়ে বৈষ্ণবদাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গৌরাঙ্গচাঁদের প্রিয় পরিকর
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), প্রথম খণ্ড, প্রথম শাখা, প্রথম পল্লব,
মঙ্গলাচরণ, পদসংখ্যা ১৭।


॥ শ্রীরাগ॥

গৌরাঙ্গচাঁদের                        প্রিয় পরিকর
দ্বিজ হরিদাস নাম।
কীর্ত্তন-বিলাসী                        প্রেম-সুখরাশি
যুগল-রসের ধাম॥
তাহার নন্দন                           প্রভু দুই জন
শ্রীদাস গোকুলানন্দ।
প্রেমের মূরতি                        যুগল-পিরিতি
আরতি-রসের কন্দ॥
গোরা-গুণময়                            সদয় হৃদয়
প্রেমময় শ্রীনিবাস।
আচার্য্য ঠাকুর                      খেয়াতি যাহার
দোহে রহে তার পাশ॥
পিতৃ-অনুমতি                     জানিয়া এ দোহে
হইলা তাহার শাখা।
শাখা গণনাতে                        প্রভুর সহিতে
অভেদ করিয়া লেখা॥
গৌরাঙ্গচাঁদের                         প্রিয় অনুচর
জয় দ্বিজ হরিদাস।
জয় জয় মোর                         আচার্য ঠাকুর
খ্যাতি নাম শ্রীনিবাস॥
জয় জয় মোর                        শ্রীদাস ঠাকুর
জয় শ্রীগোকুলানন্দ।
করুণা করিয়া                        লেহ উদ্ধারিয়া
অধম পতিত মন্দ॥
ইহা সভাকার                        বংশ পরিবার
যতেক ঠাকুরগণ।
সভার চরণে                         রতি মতি মাগে
বৈষ্ণব দাসের মন॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, ষষ্ঠ তরঙ্গ, তৃতীয় উচ্ছাস - পরিকর, পদসংখ্যা ৮৫, ৩২৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

গৌরাঙ্গচাঁদের                         প্রিয় পরিকর
দ্বিজ হরিদাস নাম।
কীর্ত্তন বিলাসী                        প্রেম সুখরাশি
যুগল রসের ধাম॥
তাহার নন্দন                           প্রভু দুই জন
শ্রীদাস গোকুলানন্দ।
প্রেমের মূরতি                          যুগল পিরীতি
আরতি রসের কন্দ॥
গোরা গুণময়                             সদয় হৃদয়
প্রেমময় শ্রীনিবাস।
আচার্য্য ঠাকুর                        খেয়াতি যাঁহার
দুঁহে রহে তার পাশ॥
পিতৃ-অনুমতি                        জানিয়া এ দুহুঁ
হইলা তাহার শাখা।
শাখাগণনাতে                          প্রভুর সহিতে
অভেদ করিয়া লেখা॥
গৌরাঙ্গচাঁদের                           প্রিয় অনুচর
জয় দ্বিজ হরিদাস।
জয় জয় মোর                         আচার্য ঠাকুর
খ্যাতি নাম শ্রীনিবাস॥
জয় জয় মোর                        শ্রীদাস ঠাকুর
জয় শ্রীগোকুলানন্দ।
করুণা করিয়া                        লেহ উদ্ধারিয়া
অধম পতিত মন্দ॥
ইহা সবাকার                        বংশ পরিবার
যতেক ঠাকুরগণ।
সবার চরণে                         রতি মতি মাগে
বৈষ্ণবদাসের মন॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৯৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দ্বিজ হরিদাসের বন্দনা
॥ তথারাগ॥

গৌরাঙ্গচাঁদের                        প্রিয় পরিকর
দ্বিজ হরিদাস নাম।
কীর্ত্তন-বিলাসী                        প্রেম-সুখরাশি
যুগল রসের ধাম॥
তাহার নন্দন                          প্রভু দুই জন
শ্রীদাস গোকুলানন্দ।
প্রেমের মুরতি                        যুগল-পিরীতি
আরতি-রসের কন্দ॥
গোরা-গুণময়                            সদয় হৃদয়
প্রেমময় শ্রীনিবাস।
আচার্য্য ঠাকুর                      খেয়াতি যাহার
দোহে রহে তার পাশ॥
পিতৃ-অনুমতি                     জানিয়া এ দোহে
হইলা তাহার শাখা।
শাখা গণনাতে                        প্রভুর সহিতে
অভেদ করিয়া লেখা॥
গৌরাঙ্গচাঁদের                         প্রিয় অনুচর
জয় দ্বিজ হরিদাস।
জয় জয় মোর                         আচার্য ঠাকুর
খ্যাতি নাম শ্রীনিবাস॥
জয় জয় মোর                        শ্রীদাস ঠাকুর
জয় শ্রীগোকুলানন্দ।
করুণা করিয়া                        লেহ উদ্ধারিয়া
অধম পতিত মন্দ॥
ইহা সভাকার                        বংশ পরিবার
যতেক ঠাকুরগণ।
সভার চরণে                         রতি মতি মাগে
বৈষ্ণবদাসের মন॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় জয় শ্রীশ্রী-নিবাস নরোত্তম
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), প্রথম খণ্ড, প্রথম শাখা, প্রথম পল্লব,
মঙ্গলাচরণ, পদসংখ্যা ১৮।


॥ শ্রীরাগ॥

জয় জয় শ্রীশ্রী-                         নিবাস নরোত্তম
রামচন্দ্র কবিরাজ।
জয় জয় শ্রীগতি                        গোবিন্দ রসময়
জয় তছু ভকত-সমাজ॥
জয় কবিরাজ-                           রাজ রস-সায়র
শ্রীযুত গোবিন্দ দাস।
ঐছন কথিহুঁ না                        হেরিয়ে ত্রিভুবনে
প্রেম-মুরতি পরকাশ॥
যাকর গীতে                            সুধারস বরিখয়ে
কবিগণ চমরয়ে চীত।
শুনইতে গর্ব্ব                            খর্ব্ব তব হোয়ত
ঐছন রসময় গীত॥
জয় জয় যুগল-                       পিরিতিময় শ্রীযুত
চক্রবর্ত্তী গোবিন্দ।
গৌরগুণার্ণবে                             ঘুরত অহনিশি
জনু মন্দার গিরীন্দ্র॥
জয় জয় শ্রীযুত                            ব্যাস কৃপাময়
শ্যামদাস প্রভু আর।
জয় জয় পহুঁ মোর                        রামচরণ শর-
ণাগত করু আপনার॥
জয় জয় রাম-                           কৃষ্ণ কুমুন্দানন্দ
দ্বিজকুল-তিলক দয়াল।
জয় জয় রূপ                            ঘটক ঘট-রসময়
মণ্ডল ঠাকুর ভাল॥
জয় জয় নৃপবর                             মল্ল-বংশধর
শ্রীবির-হাম্বির নাম।
জয় জয় শ্রীকবি-                           রাজ কর্ণপূর
গোকুল শ্রীভগবান॥
জয় জয় গোপী-                            রমণ রসায়ন
উজ্জ্বল মুরতি নিতান্ত।
জয় জয় শ্রীনর-                           সিংহ কৃপাময়
জয় জয় বল্লবিকান্ত॥
জয় জয় শ্রী-                            বল্লভ পরমাদ্ভুত
প্রেম-মুরতি পরকাশ।
প্রভু-সুতা-চরণ-                          সরোরুহ-মধুকর
জয় যদুনন্দন দাস॥
কবি-নৃপ-বংশজ                       ভুবন-বিদিত যশ
ঘনশ্যাম বলরাম।
ঐছন দুহুঁ জন                             নিরুপম গুণগণ
গৌর-প্রেমময়-ধাম॥
ইহ সব প্রভুগণ-                             চরণ যাক ধন
তাক চরণ করি আশ।
অতিহুঁ অসত-মতি                        পামর দুরগতি
রোয়ত বৈষ্ণবদাস॥

ইতি মঙ্গল-জনিত-পূর্ব্ব-পূর্ব্ব-গীত-কর্ত্তৃগণ-শ্রীচরণ-স্মরণম্।

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, ষষ্ঠ তরঙ্গ, তৃতীয় উচ্ছাস - পরিকর, পদসংখ্যা ৮৬, ৩২৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

জয় জয় শ্রী-                        শ্রীনিবাস নরোত্তম
রামচন্দ্র কবিরাজ।
জয় জয় শ্রীগতি                        গোবিন্দ রসময়
জয় তছু ভকতসমাজ॥
জয় কবিরাজ                            রাজ রসসায়র
শ্রীযুত গোবিন্দ দাস।
ঐছন কতিহুঁ না                       হেরিয়ে ত্রিভুবনে
প্রেমমুরতি পরকাশ॥
যাকর গীতে                           সুধারস বরিখয়ে
কবিগণ চমরয়ে চিত।
শুনইতে গর্ব্ব                           খর্ব্ব তব হোয়ত
ঐছন রসময় গীত॥
জয় জয় যুগল                        পিরিতিময় শ্রীযুত
চক্রবর্ত্তী গোবিন্দ।
গৌর-গুণার্ণবে                           ডুবত অহনিশি
জনু মন্দার গিরীন্দ্র॥
জয় জয় শ্রীযুত                           ব্যাস কৃপাময়
শ্যামদাস প্রভু আর।
জয় জয় পহুঁ মোর                       রামচরণ শর-
ণাগতে করু আপনার॥
জয় জয় রাম-                          কৃষ্ণ কুমুন্দানন্দ
দ্বিজ-কুল-তিলক দয়াল।
জয় জয় রূপ                         ঘটক ষড়্-রসময়
মণ্ডল ঠাকুর ভাল॥
জয় জয় নৃপবর                            মল্লবংশধর
শ্রীবীর হাম্বীর নাম।
জয় জয় শ্রীকবি-                          রাজ, কর্ণপূর
গোকুল শ্রীভগবান॥
জয় জয় গোপী-                           রমণ রসায়ন
উজ্জ্বল মুরতি নিতান্ত।
জয় জয় শ্রীনর-                         সিংহ কৃপাময়
জয় জয় বল্লভীকান্ত॥
জয় জয় শ্রীনর-                        বল্লভ পরমাদ্ভুত
প্রেমমূরতি পরকাশ।
প্রভুসুতা চরণ-                        সরোরুহ মধুকর
জয় যদুনন্দন দাস॥
কবি নৃপবংশজ                        ভুবনবিদিত যশ
ঘনশ্যাম বলরাম।
ঐছন দুহুঁ জন                          নিরুপম গুণ গণ
গৌর প্রেমময়ধাম॥
ইহ সব প্রভুগণ                          চরণ যাক ধন
তাক চরণে করি আশ।
অতিহুঁ অসতমতি                        পামর দুরগতি
রোঅত বৈষ্ণবদাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৯৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

পদকর্ত্তৃগণের বন্দনা
॥ তথারাগ॥

জয় জয় শ্রীশ্রী-                         নিবাস নরোত্তম
রামচন্দ্র কবিরাজ।
জয় জয় শ্রীগতি-                        গোবিন্দ রসময়
জয় তছু ভকত-সমাজ॥
জয় কবিরাজ-                          রাজ রস-সায়র
শ্রীযুত গোবিন্দ দাস।
ঐছন কথিহুঁ না                        হেরিয়ে ত্রিভুবনে
প্রেম-মুরতি পরকাশ॥
যাকর গীতে                           সুধারস বরিখয়ে
কবিগণ চমরয়ে চীত।
শুনইতে গর্ব্ব                           খর্ব্ব তব হোয়ত
ঐছন রসময় গীত॥
জয় জয় যুগল-                       পিরীতিময় শ্রীযুত
চক্রবর্ত্তী গোবিন্দ।
গৌরগুণার্ণবে                            ঘুরত অহনিশি
জনু মন্দার গিরীন্দ্র॥
জয় জয় শ্রীযুত                          ব্যাস কৃপাময়
শ্যামদাস প্রভু আর।
জয় জয় পহুঁ মোর                       রামচরণ শর-
ণাগত করু আপনার॥
জয় জয় রাম-                         কৃষ্ণ কূমূন্দানন্দ
দ্বিজকুল-তিলক দয়াল।
জয় জয় রূপ                         ঘটক ঘট-রসময়
মণ্ডল ঠাকুর ভাল॥
জয় জয় নৃপবর                          মল্ল-বংশধর
শ্রীবীর-হাম্বির নাম।
জয় জয় শ্রীকবি-                         রাজ কর্ণপূর
গোকুল শ্রীভগবান॥
জয় জয় গোপী-                          রমণ রসায়ন
উজ্জ্বল-মুরতি নিতান্ত।
জয় জয় শ্রীনর-                        সিংহ কৃপাময়
জয় জয় বল্লবিকান্ত॥
জয় জয় শ্রী-                          বল্লভ পরমাদ্ভুত
প্রেম-মুরতি পরকাশ।
প্রভু-সুতা-চরণ-                       সরোরুহ-মধুকর
জয় যদুনন্দন দাস॥
কবি-নৃপ-বংশজ                     ভুবন-বিদিত যশ
ঘনশ্যাম বলরাম।
ঐছন দুহুঁ জন                          নিরুপম গুণগণ
গৌর-প্রেমময়-ধাম॥
ইহ সব প্রভুগণ                           চরণ যাক ধন
তাক চরণ করি আশ।
অতিহুঁ অসত-মতি                      পামর দুরগতি
রোয়ত বৈষ্ণবদাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এ তিন ভুবন মাঝে অবনী-মণ্ডল সাজে
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), দ্বিতীয় খণ্ড, তৃতীয় শাখা, ১৭শ পল্লব,
জন্মলীলা, পদসংখ্যা ১১১২।

॥ সিন্ধুড়া॥

এ তিন ভুবন মাঝে                         অবনী-মণ্ডল সাজে
তাহে পুন অতি অনুপাম।
শোক দুখ তাপত্রয়                          যার নামে শান্ত হয়
হেন সেই শান্তিপুর গ্রাম॥
কুবের পণ্ডিত তায়                           শুদ্ধ-সত্ব দ্বিজরায়
নাভা দেবী তাহার গৃহিণী।
শান্তিপুরে করি স্থিতি                     কৃষ্ণপূজা করে নিতি
ভক্তি-হীন দেখিয়া অবনী॥
কলি-হত জীব দেখি                         মনে দুখ পায় অতি
ভক্ত্যে আরাধয়ে ভগবান।
সেই আরাধন-কাজে                        নাভা দেবী-গর্ভ মাঝে
মহাবিষ্ণু হৈলা অধিষ্ঠান॥
মাঘ মাস শুভক্ষণে                             শুক্লা সপ্তমী দিনে
অবতীর্ণ হৈলা মহাশয়।
দেখিয়া পণ্ডিত অতি                        হৈলা হরষিত-মতি
নয়নে আনন্দ-ধারা বয়॥
আচম্বিতে জগ-জনে                           আনন্দ পাইল মনে
কি লাগিয়া কেহো নাহি জানে।
এ বৈষ্ণবদাসে বলে                          উদ্ধার হইবে হেলে
পতিত পাষণ্ডী দীন হীনে॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, ষষ্ঠ তরঙ্গ, দ্বিতীয় উচ্ছাস - অদ্বৈতাচার্য্য, পদসংখ্যা ২৫, ২৯৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

এ তিন ভুবন মাঝে                        অবনীমণ্ডল সাজে
তাহে পুন অতি অনুপাম।
শোক দুখ তাপত্রয়                        যার নামে শান্ত হয়
হেন সেই শান্তিপুর গ্রাম॥
কুবের পণ্ডিত তায়                           শুদ্ধসত্ব দ্বিজরায়
নাভা দেবী তাহার গৃহিণী।
শান্তিপুরে করি স্থিতি                    কৃষ্ণপূজা করে নিতি
ভক্তিহীন দেখিয়া অবনী॥
কলিহত জীব দেখি                       মনোদুঃখ পায় অতি
ভক্ত্ আরাধিয়া ভগবান্।
সেই আরাধন কাজে                      নাভা দেবী গর্ভমাজে
মহাবিষ্ণু কৈলা অধিষ্ঠান॥
মাঘমাস শুভক্ষণে                             শুক্লা সপ্তমী দিনে
অবতীর্ণ হৈলা মহাশয়।
দেখিয়া পণ্ডিত অতি                        হৈলা হরষিত মতি
নয়নে আনন্দধারা বয়॥
আচম্বিতে জগজ্জনে                        আনন্দ পাইল মনে
কি লাগিয়া কেহ নাহি জানে।
এ বৈষ্ণবদাস বলে                          উদ্ধার হইয়া হেলে
পতিত পাষণ্ডী দীনহীনে॥

ই পদটি ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং ১৯২২ সালে তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,  ৮-পৃষ্ঠা।

শ্রীঅদ্বৈতচন্দ্রাবির্ভাব
॥ সিন্ধুরা॥

এতিন ভুবনমাঝে, অবনীমণ্ডল সাজে, তাহে পুন অতি অনুপাম।
শোক দুখ তাপত্রয়, যার নামে শান্ত হয়, হেন সেই শান্তিপুর গ্রাম॥
কুবের পণ্ডিত তায়, শুদ্ধসত্ত্ব দ্বিজরায়, নাভা দেবী তাহার গৃহিণী।
শান্তিপুরে করি স্থিতি, কৃষ্ণপূজা করে নিতি, ভক্তিহীন দেখিয়া অবনী॥
কলিহত জীব দেখি, মন দুঃখ পায় অতি, ভক্তে আরাধয়ে ভগবান।
সেই আরাধন কাজে, নাভাদেবী গর্ভমাঝে, মহাবিষ্ণু হৈলা অধিষ্ঠান॥
মাঘ মাস শুভক্ষণে, শুক্লা সপ্তমী দিনে, অবতীর্ণ হৈলা মহাশয়।
দেখিয়া পণ্ডিত অতি, হৈলা হরষিত মতি, নয়নে আনন্দবারি বয়॥
আচম্বিতে জগজনে, আনন্দ পাইল মনে, কি লাগিয়া কেহ নাহি জানে।
এবৈষ্ণব দাস বলে, উদ্ধার হইবে হেলে, পতিত পাষণ্ডী দীন হীনে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

এ তিন ভুবন মাঝে,                        অবনী-মণ্ডল সাজে,
তাহে পুন অতি অনুপাম।
শোক দুখ তাপত্রয়,                        যার নামে শান্ত হয়,
হেন সেই শান্তিপুর গ্রাম॥
কুবের পণ্ডিত তায়,                        শুদ্ধ সত্য দ্বিজরায়,
লাভা দেবী তাহার গৃহিণী।
শান্তিপুরে করি স্থিতি,                  কৃষ্ণ-পূজা করে নিতি,
ভক্তি-হীন দেখিয়া অবনী॥
কলি-হত জীব দেখি,                     মনোদুঃখ পায় অতি,
ভক্তে আরাধয়ে ভগবান্।
সেই আরাধন কাজে,                     লাভাদেবী গর্ভ মাঝে,
মহাবিষ্ণু হৈলা অধিষ্ঠান॥
মাঘ মাস শুভক্ষণে,                          শুক্লা সপ্তমী দিনে,
অবতীর্ণ হৈলা মহাশয়।
দেখিয়া পণ্ডিত অতি,                      হৈলা হরষিত মতি,
নয়নে আনন্দ-ধারা বয়॥
আচম্বিতে জগ-জনে,                        আনন্দ পাইল মনে,
কি লাগিয়া কেহ নাহি জানে।
এ বৈষ্ণবদাসে বলে,                        উদ্ধার হইবে হেলে,
পতিত পাষণ্ডী দীন হীনে॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

এ তিন ভুবন মাঝে                        অবনী মণ্ডল সাজে
তাহে পুন অতি অনুপাম।
শোক দুখ তাপত্রয়                        যার নামে শান্ত হয়
হেন সেই শান্তিপুর গ্রাম॥
কুবের পণ্ডিত তায়                        শুদ্ধ তত্ত্ব দ্বিজরায়
নাভা দেবী তাহার গৃহিণী।
শান্তিপুরে করে স্থিতি                   কৃষ্ণপূজা করে নিতি
ভক্তিহীন দেখিয়া অবনী॥
কলি হত জীব দেখি                     মনোদুঃখ পায় অতি
ভক্তে আরাধিয়া ভগবান।
সেই আরাধন কাজে                      নাভা-দেবী গর্ভমাঝে
মহাবিষ্ণু হৈলা অধিষ্ঠান॥
মাঘমাসে শুভক্ষণে                           শুক্লা সপ্তমী দিনে
অবতীর্ণ হৈলা মহাশয়।
দেখিয়া পণ্ডিত অতি                        হৈলা হরষিত মতি
নয়নে আনন্দ ধারা বয়॥
আচম্বিতে জগজ্জনে                        আনন্দ পাইয়া মনে
কি লাগিয়া কেহো নাহি জানে।
এ বৈষ্ণব দাস বলে                        উদ্ধার হইবে হেলে
পতিত পাষণ্ডী দীন হীনে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০০১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অদ্বৈতের জন্মলীলা
॥ সিন্ধুড়া॥

এ তিন ভুবন মাঝে                        অবনী-মণ্ডল সাজে
তাহে পুন অতি অনুপাম।
শোক দুখ তাপত্রয়                        যার নামে শান্ত হয়
হেন সেই শান্তিপুর গ্রাম॥
কুবের পণ্ডিত তায়                        শুদ্ধ-সত্ত্ব দ্বিজরায়
নাভা দেবী তাহার গৃহিণী।
শান্তিপুরে করি স্থিতি                    কৃষ্ণ-পূজা করে নিতি
ভক্তি-হীন দেখিয়া অবনী॥
কলি-হত জীব দেখি                      মনে দুখ পায় অতি
ভক্ত্যে আরাধয়ে ভগবান।
সেই আরাধন-কাজে                        নাভা দেবী-গর্ভ মাঝে
মহাবিষ্ণু হৈলা অধিষ্ঠান॥
মাঘ মাস শুভক্ষণে                        শুক্লা সপ্তমী দিনে
অবতীর্ণ হৈলা মহাশয়।
দেখিয়া পণ্ডিত অতি                        হৈলা হরষিত-মতি
নয়নে আনন্দ-ধারা বয়॥
আচম্বিতে জগ-জনে                         আনন্দ পাইল মনে
কি লাগিয়া কেহো নাহি জানে।
এ বৈষ্ণবদাসে বলে                           উদ্ধার হইবে হেলে
পতিত পাষণ্ডী দীন হীনে॥

ই পদটি সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীশ্রীঅদ্বৈত প্রভুর জন্মোত্সব
॥ রাগিণী সিন্ধুরা - তাল দশকুশি॥

এতিন ভুবনমাঝে, অবনী মণ্ডল সাজে, তাহে পুনঃ অতি অনুপাম।
শোক দুঃখ তাপত্রয়, যার নামে শান্তি হয়, হেন সেই শান্তিপুর গ্রাম॥
কুবের পণ্ডিত তায়, শুদ্ধসত্য দ্বিজরায়, লাভা১ দেবী তাহার গৃহিণী।
শান্তিপুরে করে স্থিতি, কৃষ্ণৃ পূজা করে নিতি, ভক্তিহীন দেখিয়া অবনী॥
কলিহত জীব দেখি, মনোদুঃখ পায় অতি, ভক্তে আরাধয়ে ভগবান।
সেই আরাধন কাজে, লাভাদেবী গর্ভমাঝে, মহা-বিষ্ণু হৈলা অধিষ্ঠান॥
মাঘ মাস শুভক্ষণে, শুক্লা সপ্তমী দিনে, অবতীর্ণ হৈলা মহাশয়।
দেখিয়া পণ্ডিত অতি, হৈলা হরষিত মতি, নয়নে আনন্দধারা বয়॥
আচম্বিতে জগজনে, আনন্দ পাইল মনে, কি লাগিয়া কেহ নাহি জানে।
এ বৈষ্ণব দাসে বলে, উদ্ধার হইব হেলে, পতিত পাষণ্ডী দীন হীনে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কুবের পণ্ডিত অতি হরষিত
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), দ্বিতীয় খণ্ড, তৃতীয় শাখা, ১৭শ পল্লব,
জন্মলীলা, পদসংখ্যা ১১১৩।


॥ কল্যাণী॥

কুবের পণ্ডিত                        অতি হরষিত
দেখিয়া পুত্রের মুখ।
করি জাত কর্ম্ম                      যে আছিল ধর্ম্ম
বাঢ়য়ে মনের সুখ॥
সব সুলক্ষণ                             বরণ কাঞ্চন
বদন-কমল-শোভা।
আজানুলম্বিত                          বাহু সুবলিত
জগ-জন-মন-লোভা॥
নাভি সুগভীর                            পরম সুন্দর
নয়ন কমল জিনি।
অরুণ চরণ                                নখ-দরপণ
জিতি কত বিধুমণি॥
মহাপুরুষের                            চিহ্ন মনোহর
দেখিয়া বিস্ময় সভে।
বুঝি ইহা হৈতে                        জগত তরিবে
এই করে অনুভবে॥
যত পুরনারী                          শিশু-মুখ হেরি
আনন্দ-সায়রে ভাসে।
না ধরয়ে হিয়া                        পুন পুন গিয়া
নিরখয়ে অনিমেষে॥
তাহার মাতারে                       করে পরিহারে
কহে হেন সুত যার।
তার ভাগ্য-সীমা                      কি দিব উপমা
ভুবনে কে সম তার॥
এতেক বচন                            সব নারীগণ
কহে গদ গদ ভাষা।
জগত-তারণ                           বুঝল কারণ
দাস বৈষ্ণবের আশা॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, ষষ্ঠ তরঙ্গ, দ্বিতীয় উচ্ছাস - অদ্বৈতাচার্য্য, পদসংখ্যা ২৬, ২৯৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণ॥

কুবের পণ্ডিত অতি হরষিত দেখিয়া পুত্রের মুখ।
করি জাতকর্ম্ম যে আছিল ধর্ম্ম বাড়য়ে মনের সুখ॥
সব সুলক্ষণ বরণ কাঞ্চন কনক-কমলশোভা।
আজানুলম্বিত বাহু সুবলিত জগজন-মনোলোভা॥
নাভি সুগভীর পরম সুন্দর নয়নকমল জিনি।
অরুণ চরণ নাম দরপণ জিতি কত বিধুমণি॥
মহাপুরুষের চিহ্ন মনোহর দেখিয়া বিস্মিত সবে।
বুঝি ইহা হৈতে জগত তরিবে এই করে অনুভবে॥
যত পুরনারী শিশুমুখ হেরি আনন্দ-সাগরে ভাসে।
না ধরয়ে হিয়া পুন পুন গিয়া নিরখয়ে অনিমেষে॥
তাহার মাতারে করে পরিহারে কহে হেন সুত যার।
তার ভাগ্যসীমা কি দিব উপমা ভুবনে কে সম তার॥
এতেক বচন সব নারীগণ কহে গদ গদ ভাষা।
জগততারণ বুঝল কারণ দাস বৈষ্ণবের আশা॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৫৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণ॥

কুবের পণ্ডিত,                        অতি হরষিত,
দেখিয়া পুত্রের মুখ।
করি জাতকর্ম্ম,                        যে আছিল ধর্ম্ম,
বাড়য়ে মনের সুখ॥
সব সুলক্ষণ,                            বরণ কাঞ্চন,
বদন-কমল-শোভা।
আজানুলম্বিত,                          বাহু সুবলিত,
জগ-জন-মন-লোভা॥
নাভি সুগভীর,                           পরম সুন্দর,
নয়ন কমল জিনি।
অরুণ চরণ,                                নখ-দরপণ,
জিতি কত বিধুমণি॥
মহাপুরুষের,                            চিহ্ন মনোহর,
দেখিয়া বিস্ময় সবে।
বুঝি ইহা হৈতে,                        জগত তরিবে,
এই করে অনুভবে॥
যত পুরনারী,                          শিশু-মুখ হেরি,
আনন্দ-সায়রে ভাসে।
না ধরয়ে হিয়া,                        পুনঃ পুন গিয়া,
নিরখয়ে অনিমিষে॥
তাহার মাতারে,                       করে পরিহারে,
কহে হেন সুত যার।
তার ভাগ্য-সীমা,                     কি দিব উপমা,
ভুবনে কে সম তার॥
এতেক বচন,                           সব নারীগণ,
কহে গদ গদ ভাষা।
জগত তারণ,                          বুঝল কারণ,
দাস বৈষ্ণবের আশা॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণ॥

কুবের পণ্ডিত                          অতি হরষিত
দেখিয়া পুত্রের মুখ।
করি জাত কর্ম্ম                        যেবা ছিল ধর্ম্ম
বাড়য়ে মনের সুখ॥
সব সুলক্ষণ                             বরণ কাঞ্চন
কনক-কমল শোভা।
আজানুলম্বিত                           বাহু সুবলিত
জগজন মনলোভা॥
নাভি সুগভীর,                          পরম সুন্দর,
নয়ন কমল জিনি।
অরুণ চরণ,                               নখ দরপণ,
জিনি কত বিধুমণি॥
মহাপুরুষের,                            চিহ্ন মনোহর,
দেখিয়া বিস্ময় সবে।
বুঝি ইহা হৈতে,                        জগত তরিবে,
এই করে অনুভবে॥
যত পুর নারী,                        শিশু মুখ হেরি,
আনন্দ-সায়রে ভাসে।
না ধরয়ে হিয়া,                       পুনঃ পুনঃ গিয়া,
নিরখয়ে অনিমিখে॥
তাহার মাতারে,                      করে পরিহারে,
কহে হেন সুত যার।
তার ভাগ্য সীমা,                    কি দিব উপমা,
ভুবনে কে সম তার॥
এতেক বচন,                            সব নারীগণ,
কহে গদ গদ ভাষা।
জগত তারণ                           বুঝল কারণ
দাস বৈষ্ণবের আশা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০০২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণী॥

কুবের পণ্ডিত                        অতি হরষিত
দেখিয়া পুত্রের মুখ।
করি জাতকর্ম্ম                       যে আছিল ধর্ম্ম
বাঢ়য়ে মনের সুখ॥
সব সুলক্ষণ                             বরণ কাঞ্চন
বদন-কমল-শোভা।
আজানুলম্বিত                          বাহু সুবলিত
জগ-জন-মন-লোভা॥
নাভি সুগভীর                          পরম সুন্দর
নয়ন কমল জিনি।
অরুণ চরণ                               নখ-দরপণ
জিতি কত বিধুমণি॥
মহাপুরুষের                           চিহ্ন মনোহর
দেখিয়া বিস্ময় সভে।
বুঝি ইহা হৈতে                        জগত তরিবে
এই করে অনুভবে॥
যত পুরনারী                          শিশু-মুখ হেরি
আনন্দ-সায়রে ভাসে।
না ধরয়ে হিয়া                         পুন পুন গিয়া
নিরখয়ে অনিমেষে॥
তাহার মাতারে                       করে পরিহারে
কহে হেন সুত যার।
তার ভাগ্য সীমা                      কি দিব উপমা
ভুবনে কে সম তার॥
এতেক বচন                            সব নারীগণ
কহে গদ গদ ভাষা।
জগত-তারণ                            বুঝল কারণ
দাস বৈষ্ণবের আশা॥

ই পদটি সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী কল্যাণ - তাল একতালী॥

কুবের পণ্ডিত, অতি হরষিত, দেখিয়া পুত্রের মুখ।
করি জাত কর্ম্ম, যে আছিল ধর্ম্ম, বাড়য়ে মনের সুখ॥
সব সুলক্ষণ, বরণ কাঞ্চন, বদন কমল শোভা।
আজানু লম্বিত, বাহু সুললিত, জগজন মনোলোভা॥
নাভি সুগভীর, পরম সুন্দর, নয়ন কমল জিনি।
অরুণ চরণ, নখ দরপণ, জিতি কত বিধু মণি॥
মহাপুরুষের, চিহ্ন মনোহর, দেখিয়া বিস্ময় সবে।
বুঝি ইহাঁ হৈতে, জগত তরিবে, এই করে অনুভবে॥
যত পুরনারী, শিশু মুখ হেরি, আনন্দ সায়রে ভাসে।
না ধরয়ে হিয়া, পুনঃ পুনঃ গিয়া, নিরখয়ে অনিমিষে॥
তাহার মাতারে, করে পরিহারে, কহে হেন সুত যার।
তার ভাগ্য সীমা, কি দিব উপমা, ভুবনে কে সম তার॥
এতেক বচন, বলে নারীগণ, কহে গদগদ ভাষা।
জগত তারণ, বুঝল কারণ, দাস বৈষ্ণবের আশা॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিষয়ে সকল মত্ত নাহি কৃষ্ণ-নাম-তত্ত্ব
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), দ্বিতীয় খণ্ড, তৃতীয় শাখা, ১৭শ পল্লব,
জন্মলীলা, পদসংখ্যা ১১১৪।


॥ সুহই॥

বিষয়ে সকল মত্ত                        নাহি কৃষ্ণ-নাম-তত্ত্ব
ভক্তিশূন্য হইল অবনী।
কলিকাল-সর্প-বিষে                        দগ্ধ জীব মিথ্যারসে
না জানয়ে কেবা সে আপনি॥
নিজ কন্যা-পুত্রোত্সবে                        ধন-ব্যয় করে সভে
নাহি অন্য শুভ কর্ম্মলেশ।
যক্ষ পূজে মদ্য মাংসে                        নানা মতে জীব হিংসে
এই মত হইল সর্ব্ব দেশ॥
দেখিয়া করুণা করি                        কমলাক্ষ নাম ধরি
অবতীর্ণ হইলা গৌড় দেশে।
ব্রজরাজ-কুমার                                সাঙ্গোপাঙ্গে অবতার
করাইব এই অভিলাষে॥
সর্ব্ব-আগে আগুয়ান                        জীবের করিতে ত্রাণ
শান্তিপুরে করিলা প্রকাশ।
সকল দুষ্কৃতি যাবে                        সভে কৃষ্ণ-প্রেম পাবে
কহে দীন বৈষ্ণবের দাস॥

এই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৫৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

বিষয়ে সকলে মত্ত,                        নাহি কৃষ্ণ-নাম-তত্ত্ব,
ভক্তিশূন্য হইল অবনী।
কলিকাল সর্প-বিষে,                        দগ্ধ জীব মিথ্যারসে,
না জানয়ে কেবা সে আপনি॥
নিজ কন্যা-পুত্রোত্সবে,                        ধন-ব্যয় করে সবে,
নাহি অন্য শুভ কর্ম্মলেশ।
যক্ষ পূজে মদ্য মাংসে,                        নানা মতে জীব হিংসে,
এই মতে হইল সর্ব্ব দেশ॥
দেখিয়া করুণা করি,                        কমলাক্ষ নাম ধরি,
অবতীর্ণ হইলা গৌড় দেশে।
ব্রজরাজ-কুমার,                                সাঙ্গোপাঙ্গে অবতার,
করাইব এই অভিলাষে॥
সর্ব্ব আগে আগুয়ান,                        জীবের করিতে ত্রাণ,
শান্তিপুরে করিলা প্রকাশ।
সকল দুষ্কৃতি যাবে,                        সবে কৃষ্ণ-প্রেম পাবে,
কহে দীন বৈষ্ণবের দাস॥

এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০০২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

বিষয়ে সকল মত্ত                        নাহি কৃষ্ণ-নাম-তত্ত্ব
ভক্তিশূন্য হইল অবনী।
কলিকাল-সর্প-বিষে                        দগ্ধ জীব মিথ্যারসে
না জানয়ে কেবা সে আপনি॥
নিজকন্যা-পুত্রোত্সবে                        ধন-ব্যয় করে সভে
নাহি অন্য শুভ কর্ম্মলেশ।
যক্ষ পূজে মদ্য মাংসে                        নানা মতে জীব হিংসে
এই মত হইল সর্ব্ব দেশ॥
দেখিয়া করুণা করি                        কমলাক্ষ নাম ধরি
অবতীর্ণ হইলা গৌড় দেশে।
ব্রজরাজ-কুমার                                সাঙ্গোপাঙ্গে অবতার
করাইব এই অভিলাষে॥
সর্ব্ব-আগে আগুয়ান                        জীবের করিতে ত্রাণ
শান্তিপুরে করিলা প্রকাশ।
সকল দুষ্কৃতি যাবে                        সভে কৃষ্ণ-প্রেম পাবে
কহে দীন বৈষ্ণবের দাস॥

এই পদটি সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী সুহই - তাল ছোট দশকুশি॥

বিষয়ে সকল মত্ত, নাহি কৃষ্ণ নাম তত্ত্ব, ভক্তিশূন্য হইল অবনী।
কলিকাল সর্প বিষে, দগ্ধ জীব মিথ্যা রসে, না জানয়ে কেবা সে আপনি॥
নিজ কন্যা-পুত্রোত্সবে, ধন ব্যয় করে সবে, নাহি অন্য শুভ কর্ম্ম লেশ।
যক্ষ পূজে মদ্য মাংসে, নানা মতে জীব হিংসে, এই মত হৈল সর্ব্ব দেশ॥
দেখিয়া করুণা করি, কমলাক্ষ নাম ধরি, অবতীর্ণ হইলা গৌড় দেশে।
ব্রজ রাজ কুমার, সাঙ্গোপাঙ্গে অবতার, করাইব এই অভিলাষে॥
সর্ব্ব আগে আগুয়ান, জীবেরে করিতে ত্রাণ, শান্তিপুরে করিলা প্রকাশ।
সকল দুষ্কৃতি যাবে, সবে কৃষ্ণ প্রেম পাবে, কহে দীন বৈষ্ণব দাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর