কবি বৈষ্ণবদাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
নীলাচলে জগন্নাথ রায়
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), দ্বিতীয় খণ্ড,
তৃতীয় শাখা, ২৯শ পল্লব, রথযাত্রা, পদসংখ্যা ১৫৪৪।


॥ সুহই॥

নীলাচলে জগন্নাথ রায়।
গুণ্ডিচা-মন্দিরে চলি যায়॥
অপরূপ রথের সাজনি।
তাহে চড়ি যায় যদুমণি॥
দেখিয়া আমার গৌরহরি।
নিজগণ লৈয়া এক করি॥
মাল্য চন্দন সভে দিয়া।
জগন্নাথ নিকটে যাইয়া॥
রথ বেঢ়ি সাত সম্প্রদায়।
কীর্ত্তন করয়ে গোরা রায়॥
আজানুলম্বিত বাহু তুলি।
ঘন উঠে হরি হরি বলি॥
গগন ভেদিল সেই ধ্বনি।
অন্য আর কিছুই না শুনি॥
নিতাই অদ্বৈত হরিদাস।
নাচে বক্রেশ্বর শ্রীনিবাস॥
মুকুন্দ স্বরূপ রাম রায়।
মন বুঝি উচ্চস্বরে গায়॥
গোবিন্দ মাধব বাসু ঘোষ।
যার গানে অধিক সন্তোষ॥
বসু রামানন্দ নরহরি।
গদাধর পণ্ডিতাদি করি॥
দ্বিজ হরিদাস বিষ্ণুদাস।
ইহা সভার গানেতে উল্লাস॥
এই মত কীর্ত্তন নর্ত্তনে।
কথো দূর করিল গমনে॥
এ সভার পদ-রেণু আশ।
করি কহে বৈষ্ণবের দাস॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪
(১৩৩৪ বঙ্গাব্দ) গ্রন্থের, পঞ্চম তরঙ্গ, প্রথম উচ্ছাস - দ্বাদশ মাসিক লীলা (রথযাত্রা),
পদসংখ্যা ১, ২০৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.                ॥ সুহই॥

নীলাচলে জগন্নাথরায়।            গুণ্ডিচামন্দিরে চলি যায়॥
অপরূপ রথের সাজনি।          তাহে চড়ি যায় যদুমণি॥
দেখিয়া আমার গৌরহরি।        নিজগণ লৈয়া এক করি॥
মাল্য-চন্দন সবে নিয়া।           জগন্নাথ নিকটে যাইয়া॥
রথ বেড়ি সাত সম্প্রদায়।        কীর্ত্তন করয়ে গোরারায়॥
আজানুলম্বিত বাহু তুলি।         ঘন উঠে হরি হরি বলি॥
গগন ভেদিল সেই ধ্বনি।          অন্য আর কিছুই না শুনি॥
নিতাই অদ্বৈত হরিদাস।          নাচে বক্রেশ্বর শ্রীনিবাস॥
মুকুন্দ স্বরূপ রাম রায়।          মন বুঝি উচ্চঃস্বরে গায়॥
গোবিন্দ মাধব বাসু ঘোষ।       যার গানে অধিক সন্তোষ॥
বসু রামানন্দ নরহরি।            গদাধর পণ্ডিতাদি করি॥
দ্বিজ হরিদাস বিষ্ণুদাস।          ইহা সভার গানেতে উল্লাস॥
এমত কীর্ত্তন নর্ত্তনে।              কথো দূর করিল গমনে॥
এ সভার পদরেণু আশ।          করি কহে বৈষ্ণবদাস॥

ই পদটি ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং ১৯২২ সালে
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৮-পৃষ্ঠা।

.                ॥ সুহই॥

নীলাচলে জগন্নাথরায়। গুণ্ডিচা-মন্দিরে চলি যায়॥
অপরূপ রথের সাজনি। তাহে চড়ি যায় যদুমণি॥
দেখিয়া আমার গৌরহরি। নিজগণ লৈঞা এক করি॥
মাল্য চন্দন সভে নিয়া। জগন্নাথ নিকটে যাইয়া॥
রথ বেড়ি সাত সম্প্রদায়। কীর্ত্তন করয়ে গোরারায়॥
আজানুলম্বিত বাহু তুলি। ঘন উঠে হরি হরি বলি॥
গগন ভেদিল সেই ধ্বনি। অন্য আর কিছুই না শুনি॥
নিতাই অদ্বৈত হরিদাস। নাচে বক্রেশ্বর শ্রীনিবাস॥
মুকুন্দ স্বরূপ রাম রায়। মন বুঝি উচ্চঃস্বরে গায়॥
গোবিন্দ মাধব বাসু ঘোষ। যার গানে অধিক সন্তোষ॥
বসু রামানন্দ নরহরি। গদাধর পণ্ডিতাদি করি॥
দ্বিজ হরিদাস বিষ্ণুদাস। ইহা সভার গানেতে উল্লাস॥
এই মত কীর্ত্তন নর্ত্তনে। কতদূর করিল গমনে॥
এ সভার পদরেণু আশ। করি কহে বৈষ্ণবের দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-
পদলহরী”, ৫৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

নীলাচলে জগন্নাথ রায়।
গুণ্ডিচা-মন্দিরে চলি যায়॥
অপরূপ রথের সাজনী।
তাহে চড়ি যায় যদুমণি॥
দেখিয়া আমার গৌরহরি।
নিজগণ লৈয়া এক করি॥
মাল্য চন্দন সবে নিয়া।
জগন্নাথ নিকটে যাইয়া॥
রথ বেড়ি সাত সম্প্রদায়।
কীর্ত্তন করয়ে গৌর রায়॥
আজানুলম্বিত বাহু তুলি।
ঘন উঠে হরি হরি বলি॥
গগন ভেদিল সেই ধ্বনি।
অন্য আর কিছুই না শুনি॥
নিতাই অদ্বৈত হরিদাস।
নাচে বক্রেশ্বর শ্রীনিবাস॥
মুকুন্দ স্বরূপ রাম রায়।
মন বুঝি উচ্চৈঃস্বরে গায়॥
গোবিন্দ মাধব বাসু ঘোষ।
যার গানে অধিক সন্তোষ॥
বসু রামানন্দ নরহরি।
গদাধর পণ্ডিতাদি করি॥
দ্বিজ হরিদাস বিষ্ণুদাস।
ইহা সভার গানেতে উল্লাস॥
এই মত কীর্ত্তন নর্ত্তনে।
কত দূর করিল গমনে॥
এ সবার পদ-রেণু আশ।
করি কহে বৈষ্ণবের দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০০৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রথ-যাত্রা
॥ সুহই॥

নীলাচলে জগন্নাথ রায়।
গুণ্ডিচা-মন্দিরে চলি যায়॥
অপরূপ রথের সাজনি।
তাহে চড়ি যায় যদুমণি॥
দেখিয়া আমার গৌরহরি।
নিজগণ লৈয়া এক করি॥
মাল্য চন্দন সভে দিয়া।
জগন্নাথ নিকটে যাইয়া॥
রথ বেঢ়ি সাত সম্প্রদায়।
কীর্ত্তন করয়ে গোরা রায়॥
আজানুলম্বিত বাহু তুলি।
ঘন উঠে হরি হরি বুলি॥
গগন ভেদিল সেই ধ্বনি।
অন্য আর কিছুই না শুনি॥
নিতাই অদ্বৈত হরিদাস।
নাচে বক্রেশ্বর শ্রীবাস॥
মুকুন্দ স্বরূপ রাম রায়।
মন বুঝি উচ্চস্বরে গায়॥
গোবিন্দ মাধব বাসু ঘোষ।
যার গানে অধিক সন্তোষ॥
বসু রামানন্দ নরহরি।
গদাধর পণ্ডিতাদি করি॥
দ্বিজ হরিদাস বিষ্ণুদাস।
ইহা সভার গানেতে উল্লাস॥
এই মত কীর্ত্তন নর্ত্তনে।
কথো দূর করিল গমনে॥
এ সভার পদ-রেণু আশ।
করি কহে বৈষ্ণবের দাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঝুলনা হইতে নামিলা তুরিতে
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), দ্বিতীয় খণ্ড, তৃতীয় শাখা, ৩০শ পল্লব, ঝুলন-
যাত্রা, পদসংখ্যা ১৫৬৮।


॥ ধানশী॥

ঝুলনা হইতে                        নামিলা তুরিতে
রসবতী রস-রাজ।
রতন-আসনে                          বসিলা যতনে
রতন-মন্দির মাঝ॥
সুচামর লেহ                            বীজন বীজই
সেবা-পরায়ণ সখী।
সুবাসিত জলে                         বদন পাখালে
বসনে মোছাঞা দেখি॥
থারি ভরি কোই                       বিবিধ মিঠাই
ধরি দুহুঁ-সম্মুখে।
সখীগণ সহে                           কতহুঁ কৌতুকে
ভোজন করিল সুখে॥
তাম্বুল সাজাঞা                      কোন সখী লৈয়া
দোহার বদনে দিল।
এ কেশ-কুসুমে                         আপাদবদনে
নিছিয়া নিছিয়া নিল॥
কুসুম-তলপে                         অলপে অলপে
বসিলা রাধিকা শ্যাম।
আলসে ঈষত                           নয়ন মুদিত
হেরিয়া মোহিত কাম॥
দেখি সখীগণে                          কতহুঁ যতনে
শুতায়ল দুহুঁ তায়।
সখীর ইঙ্গিতে                           চরণ সেবিতে
এ দাস বৈষ্ণব যায়॥

ই পদটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬ এর ২৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
তাঁরা পদটি পদকল্পতরু থেকেই নিয়েছিলেন।

॥ ধানশী॥

ঝুলনা হইতে                        নামিলা তুরিতে
রসবতী রসরাজ।
রতন আসনে                          বসিলা যতনে
রভসমন্দির মাঝ॥
সুচামরু লেই                           বীজন বীজই
সেবাপরায়ণ সখি।
সুবাসিত জলে                        বদন পাখালে
বসনে মোছাঞা দেখি॥
থারি ভরি কোই                       বিবিধ মিঠাই
ধরি দুহুঁ সনমুখে।
সখীগণ সহ                            কতহুঁ কৌতুল
ভোজন করিল সুখে॥
তাম্বুল সাজাঞা                     কোন সখী লঞা
দুহার বদনে দিল।
এ কেশ কুসুমে                         আপাদকনে
নিছিয়া নিল॥
কুসুম তলপে                        অলপে অলপে
বসিলা রাধিকা শ্যাম।
আলসে ঈষৎ                           নয়ন মুদিত
হেরিয়া মোহিত কাম॥
দেখি সখিগণে                         কতহু যতনে
শুতায়ল দুহুঁ তায়।
সখীর ইঙ্গিতে                        চরণ সেবিতে
এ দাস বৈষ্ণব যায়॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ঝুলনা হইতে,                        নামিলা-তুরিতে,
রসবতী রস রাজ।
রতন-আসনে,                         বসিলা যতনে,
রতন-মন্দির মাঝ॥
সুচামর লেই,                           বীজন বীজই
সেবা-পরায়ণ সখী।
সুবাসিত জলে,                        বদন পাখালে
বসনে মোছাঞা দেখি॥
থারি ভরি কোই,                      বিবিধ মিঠাই,
ধরি দুহুঁ সনমুখে।
সখীগণ সনে,                         কতহুঁ কৌতুকে,
ভোজন করিল সুখে॥
তাম্বূল সাজাঞা,                    কোন সখী লৈয়া,
দোঁহার বদনে দিল।
এ কেশ কুসুমে,                       আপাদ-বদনে,
নিছিয়া নিছিয়া নিল॥
কুসুম তলপে,                        অলপে অলপে,
বসিলা রাধিকা শ্যাম।
আলসে ঈষত,                          নয়ন মুদিত,
হেরিয়া মোহিত কাম॥
দেখি সখীগণে,                         কতহুঁ যতনে,
শুতায়ল দুহুঁ তায়।
সখীর ইঙ্গিতে,                         চরণ সেবিতে,
এ দাস বৈষ্ণব যায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০০৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধাকৃষ্ণের ঝুলন যাত্রা
॥ ধানশী॥

ঝুলনা হইতে                        নামিলা তুরিতে
রসবতী রস-রাজ।
রতন-আসনে                          বসিলা যতনে
রতন-মন্দির মাঝ॥
সুচামর লেহ                           বীজন বীজই
সেবা-পরায়ণা সখী।
সুবাসিত জলে                        বদন পাখালে
বসনে মোছাঞা দেখি॥
থারি ভরি কোই                      বিবিধ মিঠাই
ধরি দুহুঁ-সম্মুখে।
সখীগণ সহে                         কতহুঁ কৌতুকে
ভোজন করিল সুখে॥
তাম্বুল সাজাঞা                    কোন সখী লৈয়া
দোঁহার বদনে দিল।
এ কেশ-কুসুমে                        আপাদবদনে
নিছিয়া নিছিয়া নিল॥
কুসুম-তলপে                        অলপে অলপে
বসিলা রাধিকা শ্যাম।
আলসে ঈষত                           নয়ন মুদিত
হেরিয়া মোহিত কাম॥
দেখি সখীগণে                           কতহুঁ যতনে
শুতায়ল দুহুঁ তায়।
সখীর ইঙ্গিতে                          চরণ সেবিতে
এ দাস বৈষ্ণব যায়॥

ই পদটি সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ১২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী শ্রীরাগ মিশ্র - তাল দোঠুকি॥

ঝুলনা হইতে                        নামিলা তুরিতে
রসবতী রস-রাজ।
রতন-আসনে                          বসিলা যতনে
রতন-মন্দির মাঝ॥
সুচামর লেহ                            বীজন বীজই
সেবা-পরায়ণ সখী।
সুবাসিত জলে                         বদন পাখালে
বসনে মোছাঞা দেখি॥
থারি ভরি কোই                       বিবিধ মিঠাই
ধরি দুহুঁ-সম্মুখে।
সখীগণ সহে                          কতহুঁ কৌতুকে
ভোজন করিল সুখে॥
তাম্বুল সাজাঞা                     কোন সখী লৈয়া
দোহার বদনে দিল।
এ কেশ-কুসুমে                        আপাদবদনে
নিছিয়া নিছিয়া নিল॥
কুসুম-তলপে                        অলপে অলপে
বসিলা রাধিকা শ্যাম।
আলসে ঈষত                           নয়ন মুদিত
হেরিয়া মোহিত কাম॥
দেখি সখীগণে                           কতহুঁ যতনে
শুতায়ল দুহুঁ তায়।
সখীর ইঙ্গিতে                          চরণ সেবিতে
এ দাস বৈষ্ণব যায়॥

ভাবার্থ -
বীজই . . . চামর দ্বারা বাতাস করে। থারি . . . থালা। তলপে বিছানায়। শ্রীরাধা-গোবিন্দ দু’জনে ঝুলনা
হইতে নামিয়া রতন মন্দিরে রত্নময় আসনে উপবেশন করিলেন। সখীগণ বিবিধ মিষ্টান্ন দু’জনার সম্মুখে
ধরিলেন। সখীগণসহ সকলে আনন্দে ভোজন করিলেন। ঈষৎ নয়ন মুদ্রিত অবস্থা দেখিয়া সখীগণ কুসুম
শয্যায় শোয়াইয়া দিয়া দূরে সরিয়া গেলেন। পদকর্ত্তা বৈষ্ণব দাস সখীর অনুমতি লইয়া যুগল চরণ সেবা
করিতে ধাবমান হইলেন।---সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, “পদামৃত লহরী”॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মধু-ঋতু সময় নবদ্বিপ-ধাম
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), তৃতীয়
খণ্ড, চতুর্থ শাখা, ১৬শ পল্লব, সমৃদ্ধিমান্ সম্ভোগের রসোদ্গার, পদসংখ্যা ২০২৪।


॥ বসন্ত বা কন্দর্প সুহই রাগ॥

মধু-ঋতু সময় নবদ্বিপ-ধাম।
সুরধুনি-তীর সবহুঁ অনুপাম॥
কোকিল মধুকর পঞ্চম ভাষ।
চৌদিশে সবহুঁ কুসুম পরকাশ॥
ঐছন হেরইতে গৌর কিশোর।
পূরব প্রেম-ভরে পহুঁ ভেল ভোর॥
ঝর ঝর লোচন ঢরকত লোর।
পুলকে পুরল তনু গদগদ বোল॥
শুনহ মুকুন্দ মরম-অভিলাষ।
আজু নন্দ-নন্দন করত বিলাস॥
সো মুখ যদি হাম দরশন পাঙ।
তব দুখ খণ্ডয়ে তছু গুণ গাঙ॥
মোহে মিলাহ ব্রজমোহন পাশ।
এত কহি গৌরক দীঘ নিশাস॥
বুঝই না পরিয়ে ইহ অনুভাব।
বৈষ্ণব দাসক অতি দুখ লাভ॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪
(১৩৩৪ বঙ্গাব্দ) গ্রন্থের, চতুর্থ তরঙ্গ, সপ্তম উচ্ছাস - মহাপ্রভুর নৃত্য ও
সংকীর্তন, পদসংখ্যা ২৬, ২০৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বসন্ত বা সুহই-কন্দর্প তাল॥

মধুঋতু সময় নবদ্বীপ ধাম।
সুরধুনিতীর সবহুঁ অনুপাম॥
কোকিল মধুকর পঞ্চম ভাষ।
চৌদিশে সবহুঁ কুসুম পরকাশ॥
ঐছন হেরইতে গৌরকিশোর।
পূরুব প্রেমভরে পহুঁ ভেল ভোর॥
ঝর ঝর লোচন ঢরকত লোর।
পুলকে পূরল তনু গদগদ রোল॥
শুনহ মুকুন্দ মরম অভিলাষ।
আজু নন্দ-নন্দন করত বিলাস॥
সো মুখ যদি হাম দরশন পাঙ।
তব দুখ খণ্ডয়ে তছু গুণ গাঙ॥
মোহে মিলাহ ব্রজমোহন পাশ।
এত কহি গৌরক দীঘ নিশাস॥
বুঝই না পারই ইহ অনুভাব।
বৈষ্ণবদাসক অতি দুখলাভ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০০৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বসন্ত বা কন্দর্প সুহই রাগ॥

মধু-ঋতু সময় নবদ্বিপ-ধাম।
সুরধুনি-তীর সবহুঁ অনুপাম॥
কোকিল মধুকর পঞ্চম ভাষ।
চৌদিশে সবহুঁ কুসুম পরকাশ॥
ঐছন হেরইতে গৌর কিশোর।
পূরব প্রেম-ভরে পহুঁ ভেল ভোর॥
ঝর ঝর লোচন ঢরকত লোর।
পুলকে পুরল তনু গদগদ বোল॥
শুনহ মুকুন্দ মরম-অভিলাষ।
আজু নন্দ-নন্দন করত বিলাস॥
সো মুখ যদি হাম দরশন পাঙ।
তব দুখ খণ্ডয়ে তছু গুণ গাঙ॥
মোহে মিলাহ ব্রজমোহন পাশ।
এত কহি গৌরক দীঘ নিশাস॥
বুঝই না পরিয়ে ইহ অনুভাব।
বৈষ্ণবদাসক অতি দুখ লাভ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বহুক্ষণ নটন-পরিশ্রমে পহুঁ মোর
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), তৃতীয় খণ্ড, চতুর্থ শাখা, ১৭শ পল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা, পদসংখ্যা ২১০৮।

॥ কেদার॥

বহুখণ নটন-পরিশ্রমে পহুঁ মোর
বৈঠল সহচর-কোর।
সুশিতল মলয়-পবন বহু মৃদু মৃদু
হেরইতে আনন্দ কো করু ওর॥
দেখ দেখ অপরূপ গোরা দ্বিজ-রাজ।
সুন্দর বদনে স্বেদ-কণ শোভন
হেম-মুকুরে জনু মোতি বিরাজ॥ ধ্রু॥
বহুবিধ সেবনে সকল ভকতগণে
শ্রম-জল সকল কয়ল তব দূর।
নিজ গৃহে আওল গৌর দয়াময়
পরিজন-হিয়ে আনন্দ পরিপূর॥
সব সহচরগণে গেও নিকেতনে
নিতি নিতি ঐছন করয়ে বিলাস।
সো সুখ-সিন্ধু-বিন্দু নাহি পাওল
রোয়ত দুরমতি বৈষ্ণবদাস॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, চতুর্থ তরঙ্গ, দ্বিতীয় উচ্ছাস - মহাপ্রভুর নৃত্য ও সংকীর্তন, পদসংখ্যা ৪০, ১৬৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

বহুক্ষণ নটন                            পরিশ্রমে পহুঁ মোর
বৈঠল সহচর কোর।
সুশিতল মলয় পবন                            বহু মৃদু মৃদু
হেরইতে আনন্দে কো করু ওর॥
দেখ দেখ অপরূপ গোরা দ্বিজরাজ।
সুন্দর বদনে                               স্বেদকণ শোভন
হেমমুকুরে জনু মোতি বিরাজ॥ ধ্রু॥
বহুবিধ সেবনে                            সকল ভকতগণে
শ্রমজল সকল কয়ল তব দূর।
নিজ গৃহে আওল                             গৌর দয়াময়
পরিজন হিয়ে আনন্দপরিপূর॥
সব সহচরগণে                              গেও নিকেতনে
নিতি নিতি ঐছন করয়ে বিলাস।
সো সুখ-সিন্ধু-                            বিন্দু নাহি পাওল
রোয়ত দুরমতি বৈষ্ণব দাস॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, পঞ্চম তরঙ্গ, দ্বিতীয় উচ্ছাস - অষ্টকালীয় লীলা, পদসংখ্যা ৪৫, ২৩১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

বহুক্ষণ নটন                                পরিশ্রমে পহুঁ মোর
বৈঠল সহচর কোর।
সুশিতল মলয়                                পবন বহে মৃদু মৃদু
হেরইতে আনন্দ কো করু ওর॥
দেখ দেখ অপরূপ গৌর দ্বিজরাজ।
সুন্দর বদনে                                স্বেদকণ শোভন
হেম মুকুরে জনু মোতি বিরাজ॥ ধ্রু॥
বহুবিধ সেবনে                                সকল ভকতগণে
শ্রমজল সকল কয়ল তব দূর।
নিজ গৃহে আওল                        গৌর দয়াময়
পরিজন হিয়া আনন্দ পরিপূর॥
সব সহচরগণে                                গেও নিজ নিকেতনে
নিতি ঐছন করয়ে বিলাস।
সো সুখসিন্ধু-                                বিন্দু নাহি পাওল
রোয়ত দুরমতি বৈষ্ণবদাস॥

এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০০২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

বহুখণ নটন-পরিশ্রমে পহুঁ মোর
বৈঠল সহচর-কোর।
সুশিতল মলয়-পবন বহু মৃদু মৃদু
হেরইতে আনন্দ কো করু ওর॥
দেখ দেখ অপরূপ গোরা দ্বিজ-রাজ।
সুন্দর বদনে স্বেদ-কণ শোভন
হেম-মুকুরে জনু মোতি বিরাজ॥ ধ্রু॥
বহুবিধ সেবনে সকল ভকতগণে
শ্রম-জল সকল কয়ল তব দূর।
নিজ গৃহে আওল গৌর দয়াময়
পরিজন-হিয়ে আনন্দ পরিপূর॥
সব সহচরগণে গেও নিকেতনে
নিতি নিতি ঐছন করয়ে বিলাস।
সো সুখ-সিন্ধু-বিন্দু নাহি পাওল
রোয়ত দুরমতি বৈষ্ণবদাস॥

.           *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোরাচাঁদ ফিরি চাহ নয়ানের কোণে
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), চতুর্থ খণ্ড, চতুর্থ শাখা---দ্বিতীয় ভাগ, ৩৬শ
পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০১২।


॥ ভাটিয়ারি॥

গোরাচাঁদ ফিরি চাহ নয়ানের কোণে।
দেখি অপরাধী জনা                        যদি তুমি কর ঘৃণা
অযশ ঘুষিবে ত্রিভুবনে॥ ধ্রু॥
তুমি প্রভু দয়া-সিন্ধু                        পতিত-জনার বন্ধু
সাধু-মুখে শুনিয়া মহিমা।
দিয়াছি তোমার দায়                         এই মোর উপায়
উদ্ধারিলে মহিমার সীমা॥
মুঞি ছার দুষ্ট-মতি                     তুয়া নামে নাহি রতি
সদাই অসত পথে ভোর।
তাহাতে হইছে পাপ                      আর অপরাধ তাপ
সে কত তাহার নাহি ওর॥
তোমার কৃপা বলবানে                  অপরাধী নাহি মানে
শুনি নিবেদিয়ে রাঙ্গা পায়।
পূরাহ আমার আশ                     ফুকারে বৈষ্ণব দাস
তুয়া নাম স্ফুরুক জিহ্বায়॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, ষষ্ঠ তরঙ্গ, চতুর্থ উচ্ছাস - ভক্তের দৈন্য ও প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৯, ৩৩০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

গোরাচাঁদ ফিরি চাহ নয়ানের কোণে।
দেখি অপরাধী জনা                        যদি তুমি কর ঘৃণা
অযশ ঘুষিবে ত্রিভুবনে॥ ধ্রু॥
তুমি প্রভু দয়াসিন্ধু                           পতিতজনার বন্ধু
সাধুমুখে শুনিয়া মহিমা।
দিয়াছি তোমার দায়                         এই মোর উপায়
উদ্ধারিলে মহিমার সীমা॥
মুঞি ছার দুষ্টমতি                      তুয়া নামে নাহি রতি
সদাই অসত পথে ভোর।
তাহাতে হৈয়াছে পাপ                   আরো অপরাধ তাপ
সেবক তাহার নাহি ওর॥
তোমার কৃপা বলবানে                    অপরাধী নাহি মানে
শুনি নিবেদিয়ে রাঙ্গা পায়।
পূরাহ আমার আশ                        ফুকরে বৈষ্ণবদাস
তুয়া নাম স্ফুরুক জিহ্বায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৯৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ ভাটিয়ারি॥

গোরাচাঁদ ফিরি চাহ নয়ানের কোণে।
দেখি অপরাধী জনা                        যদি তুমি কর ঘৃণা
অযশ ঘুষিবে ত্রিভুবনে॥ ধ্রু॥
তুমি প্রভু দয়া-সিন্ধু                           পতিতজনার বন্ধু
সাধুমুখে শুনিয়া মহিমা।
দিয়াছি তোমার দায়                         এই মোর উপায়
উদ্ধারিলে মহিমার সীমা॥
মুঞি ছার দুষ্ট-মতি                      তুয়া নামে নাহি রতি
সদাই অসত পথে ভোর।
তাহাতে হইছে পাপ                      আর অপরাধ তাপ
সে কত তাহার নাহি ওর॥
তোমার কৃপা বলবানে                   অপরাধী নাহি মানে
শুনি নিবেদিয়ে রাঙ্গা পায়।
পূরাহ আমার আশ                        ফুকারে বৈষ্ণব দাস
তুয়া নাম স্ফুরুক জিহ্বায়॥

.           *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পহুঁ মোর গৌরাঙ্গ গোসাঞি
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), চতুর্থ খণ্ড, চতুর্থ
শাখা---দ্বিতীয় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০১৩।


.        ॥ ভাটিয়ারি॥

পহুঁ মোর গৌরাঙ্গ গোসাঞি।
এই কৃপা কর যেন তোমারি গুণ গাই॥
যে-সে কুলে জন্ম হই যে-সে দেহ পাইয়া।
তোমার ভক্ত সঙ্গে ফিরি তোমার গুণ গাইয়া॥
চিরকালে আশা প্রভু আছয়ে হিয়ায়।
তোমার নিগূঢ় লীলা স্ফুরাবে আমায়॥
তোমার নামে সদা রুচি হৌক মোর।
তোমার গুণগানে যেন সদাই ভোর॥
তোমার গুণ গাইতে শুনিতে ভক্ত সঙ্গে।
সাত্বিক বিকার কি হইবে মোর অঙ্গে॥
অশ্রুকম্প পুলকে পূরিবে সব তনু।
ভূমিতে পড়িব প্রেমে অগেয়ান জনু॥
যে সে কর প্রভু এক তুমি মাত্র গতি।
কহয়ে বৈষ্ণবদাস তোমায় রহু মতি॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪
(১৩৩৪ বঙ্গাব্দ) গ্রন্থের, ষষ্ঠ তরঙ্গ, চতুর্থ উচ্ছাস - ভক্তের দৈন্য ও প্রার্থনা, পদসংখ্যা ১০,
৩৩০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ ভাটিয়ারি॥

পহুঁ মোর গৌরাঙ্গ গোসাঞী।
এই কৃপা কর যেন তোমারি গুণ গাই॥
যে সে কুলে জন্ম হৌক যে সে কুল পাঞা।
তোমার ভক্তসঙ্গে ফিরি তোমার গুণ গাইয়া॥
চিরকালে আশা প্রভু আছয়ে হিয়ায়।
তোমার নিগূঢ় লীলা স্ফুরয়ে আমায়॥
তোমার নামে সদা রুচি হউক মোর।
তোমার গুণ-গানে যেন সদা রুচি হউ ভোর॥
তোমার গুণ গাইতে শুনিতে ভক্ত সঙ্গে।
সাত্বিক বিকার কি হইবে মোর অঙ্গে॥
অশ্রু-কম্প-পুলকে পূরিবে সব তনু।
ভূমিতে পড়িব প্রেমে অগেয়ান জনু॥
যে-সে কর প্রভু এক তুমি মাত্র গতি।
কহয়ে বৈষ্ণবদাস তোমায় রহুক মতি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৯৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ তথারাগ॥

পহুঁ মোর গৌরাঙ্গ গোসাঞি।
এই কৃপা কর যেন তোমারি গুণ গাই॥
যে-সে কুলে জন্ম হউ যে-সে দেহ পাইয়া।
তোমার ভক্ত সঙ্গে ফিরি তোমার গুণ গাইয়া॥
চিরকালে আশা প্রভু আছয়ে হিয়ায়।
তোমার নিগূঢ় লীলা স্ফুরাবে আমায়॥
তোমার নামে সদা রুচি হউক মোর।
তোমার গুণ-গানে যেন সদা হউ ভোর॥
তোমার গুণ গাইতে শুনিতে ভক্ত সঙ্গে।
সাত্বিক বিকার কি হইবে মোর অঙ্গে॥
অশ্রু-কম্প-পুলকে পূরিবে সব তনু।
ভূমিতে পড়িব প্রেমে অগেয়ান জনু॥
যে-সে কর প্রভু এক তুমি মাত্র গতি।
কহয়ে বৈষ্ণবদাস তোমায় রহু মতি॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ২৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


পহুঁ মোর গৌরাঙ্গ গোসাঞি।
এই কৃপা কর যেন তোমারি গুণ গাই॥
যে-সে কুলে জন্ম হউ যে-সে দেহ পাইয়া।
তোমার ভক্ত সঙ্গে ফিরি তোমার গুণ গাইয়া॥
চিরকালে আশা প্রভু আছয়ে হিয়ায়।
তোমার নিগূঢ় লীলা স্ফুরাবে আমায়॥
তোমার নামেতে সদা রুচি হউক মোর।
তোমার গুণ-গানে যেন সদা হউ ভোর॥
তোমার গুণ গাইতে শুনিতে ভক্ত সঙ্গে।
সাত্বিক বিকার কি হইবে মোর অঙ্গে॥
অশ্রু-কম্প পুলকে পূরিবে সব তনু।
ভূমিতে পড়িব প্রেমে অগেয়ান জনু॥
যে-সে কর প্রভু এক তুমি মাত্র গতি।
কহয়ে বৈষ্ণবদাস তোমায় রহু মতি॥

.           *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নীলাচলে যব মঝু নাথ
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), চতুর্থ খণ্ড, চতুর্থ
শাখা---দ্বিতীয় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০৫৮।

.        ॥ মুহিনী॥

নীলাচলে যব মঝু নাথ।
দেখিব আপনে জগন্নাথ॥
রামরায় স্বরূপে লইয়া।
নিজ-ভাব কবে উঘারিয়া॥
মোর কি হইবে হেন দিনে।
তাহা কি মুঞি শুনিব শ্রবণে॥
পুন কিয়ে জগন্নাথ দেবে।
গুণ্ডিচা-মন্দিরে চলি যাবে॥
প্রভু মোর সাত সম্প্রদায়।
করিবে কীর্ত্তন উচ্চ-রায়॥
মহানৃত্য কীর্ত্তন-বিলাস।
সাত ঠাঞি হইবে প্রকাশ॥
মোর কি এমন দিন হব।
সে সুখ কি নয়নে দেখিব॥
সকল ভকতগণ মেলি।
উদ্যানে করিবে নানা কেলি॥
বৈষ্ণব দাসের অভিলাষ।
দেখি মোর পূরিবেক আশ॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪
(১৩৩৪ বঙ্গাব্দ) গ্রন্থের, ষষ্ঠ তরঙ্গ, চতুর্থ উচ্ছাস - ভক্তের দৈন্য ও প্রার্থনা, পদসংখ্যা ২৯,
৩৩৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহগড়া বা সুহিনী॥

নীলাচলে যব মঝু নাথ।
দেখিব আপনে জগন্নাথ॥
রাম রায় স্বরূপে লইয়া।
নিজভাব কবে উঘারিয়া॥
মোর কি হইবে হেন দিনে।
তাহা কি মুঞি শুনিব শ্রবণে॥
পুন কিয়ে জগন্নাথদেবে।
গুণ্ডিচামন্দিরে চলি যাবে॥
প্রভু মোর সাত সম্প্রদায়।
করিবে কীর্ত্তন উচ্চরায়॥
মহানৃত্য কীর্ত্তন বিলাস।
সাত ঠাঁই হইবে প্রকাশ॥
মোর কি এমন দশা হব।
সে সুখ কি নয়নে হেরব॥
সকল ভকতগণ মেলি।
উদ্যানে করিবে নানা কেলি॥
বৈষ্ণবদাসের অভিলাষ।
দেখি মোর পূরব আশ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০০০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ মুহিনী॥

নীলাচলে কবে মঝু নাথ।
সহিত দেখিব জগন্নাথ॥
রামরায় স্বরূপে লইয়া।
নিজ-ভাব কবে উঘারিয়া॥
মোর কি হইবে হেন দিনে।
তাহা কি মুঞি শুনিব শ্রবণে॥
পুন কিয়ে জগন্নাথ দেবে।
গুণ্ডিচা-মন্দিরে চলি যাবে॥
প্রভু মোর সাত সম্প্রদায়।
করিবে কীর্ত্তন উচ্চ-রায়॥
মহানৃত্য কীর্ত্তন-বিলাস।
সাত ঠাঞি হইবে প্রকাশ॥
মোর কি এমন দিন হব।
সে সব কি নয়নে দেখিব॥
সকল ভকতগণ মেলি।
উদ্যানে করিবে নানা কেলি॥
বৈষ্ণবদাসের অভিলাষ।
দেখি মোর পূরিবেক আশ॥

.           *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্রীগুণমঞ্জরী-পদ মোর প্রাণ-সম্পদ
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), চতুর্থ খণ্ড, চতুর্থ শাখা---দ্বিতীয় ভাগ, ৩৬শ
পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০৭৭।


॥ কেদার॥

শ্রীগুণমঞ্জরী-পদ                             মোর প্রাণ-সম্পদ
শ্রীমণিমঞ্জরী তার সঙ্গে।
হেন দশা মোর হব                     সে পদ দেখিতে পাব
সখী মোর প্রেমের তরঙ্গে॥
মদন-সুখদা নাম                        কুঞ্জ-শোভা অনুপাম
তাহে রত্ন সিংহাসন পরি।
চতুর্দ্দিকে সখীগণ                            বসিবেন দুইজন
রসাবেশে কিশোর-কিশোরী॥
সেই সিংহাসন-বামে                      দাঁড়াইবে সাবধানে
গুণ-মণি-মঞ্জরীর পাছে।
মালতীমঞ্জরী নাম                        রূপে গুণে অনুপাম
আমারে ডাকিবে নিজ কাছে॥
মুঞি তার কাছে যাঞা                    দুহুঁ-রূপ নিরখিয়া
নয়নে বহিবে প্রেম-ধারা।
দোঁহার দর্শনামৃতে                     মোর নেত্র-চাতকেতে
রহিবে সে হইয়া বিভোরা॥
শ্রীরূপমঞ্জরী সুখে                        তাম্বুল দিবেন মুখে
রাই কানু করিবে ভক্ষণ।
পিক ফেলিবার বেলি                    আলবাটি আন বলি
আমারে ডাকিবে দুইজন॥
সখীর ইঙ্গিত পাঞা                      আলবাটি করে লঞা
ধরিব সে মুখ-চন্দ্র পাশে।
তাহাতে ফেলিবে পিক                  মুঞি লঞা এক ভিত
দাঁড়াইব মনের হরিষে॥
কত বা কৌতুক কাজ                     হইবে সে কুঞ্জ মাঝ
তাহা মুঞি শুনিব শ্রবণে।
পূরিবে মনের আশা                      পালটিবে মোর দশা
নিবেদয়ে বৈষ্ণবচরণে॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, প্রথম পরিশিষ্ট - নানা ভাবের সঙ্গীত, পদসংখ্যা ১০০, ৩৬০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

শ্রীগুণমঞ্জরীপদ                             মোর প্রাণসম্পদ
শ্রীমণিমঞ্জরী তার সঙ্গে।
হেন দশা মোর হব                    সে পদ দেখিতে পাব
সখীসহ প্রেমের তরঙ্গে॥        
মদনসুখদা নাম                         কুঞ্জশোভা অনুপাম
তাহে রত্ন-সিংহাসনোপরি।
চতুর্দ্দিকে সখীগণ                          বসিবেন দুই জন
রসাবেশে কিশোর কিশোরী॥
সেই সিংহাসন বামে                      দাঁড়াইব সাবধানে
গুণমণি মঞ্জরীর পাছে।
মালতী মঞ্জরী নাম                      রূপে গুণে অনুপাম
আমারে ডাকিবে নিজ কাছে॥
মুই তাঁর কাছে যাঞা                      দুহুঁ রূপ নিরখিয়া
নয়নে বহিবে প্রেমধারা।
দোঁহার দর্শনামৃতে                      মোর নেত্র-চাতকেতে
সে আনন্দে হইবে বিভোরা॥
শ্রীরূপমঞ্জরী সুখে                          তাম্বুল দিবেন মুখে
রাই কানু করিবে ভক্ষণ।
পিক ফেলিবার বেরি                      আলবাটি আন বলি
আমারে ডাকিবে দুইজন॥
সখীর ইঙ্গিত পাঞা                       আলবাটি করে লঞা
ধরিব সে মুখচন্দ্র পাশে।
তাহাতে ফেলিবে পিক                    মুঞি যায়া এক ভিত
দাঁড়াইব মনের হরিষে॥
কত বা কৌতুক কাজে                    হইবে সে কুঞ্জ মাঝে
তাহা মুঞি শুনিব শ্রবণে।
পূরিবে মনের আশা                        পালটিবে মোর দশা
নিবেদয়ে বৈষ্ণবচরণে॥

.           *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মদীশ্বরি তুমি মোরে করিবে করুণা
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), চতুর্থ খণ্ড, চতুর্থ শাখা---দ্বিতীয় ভাগ,
৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০৭৮।


॥ কেদার॥

মদীশ্বরি তুমি মোরে করিবে করুণা।
এই ত তাপিত জনে                        তোমার সে শ্রীচরণে
দাসী করি করিবে আপনা॥ ধ্রু॥
দশ দণ্ড রাত্রি পরে                        হবে তুয়া অভিসারে
ললিতাদি সহচরী সঙ্গে।
যাইবা নিকুঞ্জ-বনে                             শ্রীনন্দকুমার সনে
মিলিবারে মদন-তরঙ্গে॥
সে কালে শ্রী গুণ-মণি-                       মঞ্জরী প্রেমের খনি
চন্দন-কটোরি ফুল-মালা।
দিবেন আমার করে                      সঙ্গে লৈয়া ধীরে ধীরে
নিভৃতে চলিবে সব বালা॥
তুমি সশঙ্কিত হৈয়া                          ইতি উতি নিরখিয়া
সখী মাঝে করিবে গমন।
রহিয়া রহিয়া যাবা                        পাছে আমা নিরখিবা
মোর হবে সঙ্কোচিত মন॥
হেন মতে কুঞ্জ মাঝে                        ভেটিবে নাগর-রাজে
আগুসরি লই যাবে কান।
দুহুঁ রত্ন-সিংহাসনে                            বসিবা আনন্দমনে
দেখি মোর জুড়াবে নয়ান॥
হেন দিন মোর হব                        ইহা কি দেখিতে পাব
তুয়া দাসীগণ সঙ্গে রৈয়া।
এ বড় বিচিত্র আশ                           এ দীন বৈষ্ণব দাস
লেহ কৃপা-তরঙ্গে বহাইয়া॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, প্রথম পরিশিষ্ট - নানা ভাবের সঙ্গীত, পদসংখ্যা ৪৪, ৩৪৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

মদীশ্বরি তুমি মোরে করিবে করুণা।
এই ত তাপিত জনে                     তোমার সে শ্রীচরণে
দাসী করি করিবে আপনা॥ ধ্রু॥
দশ দণ্ড রাত্রি পরে                    হৈয়া তুয়া অভিসারে
ললিতাদি সহচরী সঙ্গে।
যাইবা নিকুঞ্জবনে                           শ্রীনন্দকুমার সনে
মিলিবার বিলাস তরঙ্গে॥
সে কালে সে গুণমণি                      মঞ্জরী প্রেমের খনি
চন্দন কোটরি ফুলমালা।
দিবেন আমার করে                   সঙ্গে লৈয়া ধীরে ধীরে
নিভৃতে চলিবে সব বালা॥
তুমি সশঙ্কিত হৈয়া                       ইতি উতি নিরখিয়া
সখী মাঝে করিবে গমন।
রহিয়া রহিয়া যাবা                      পাছে আমা নিরখিবা
মোর হবে সঙ্কুচিত মন॥
হেন মতে কুঞ্জ মাঝে                       ভেটিবে নাগররাজে
আগুসরি লৈয়া যাবে কাণ।
দুহুঁ রত্ন সিংহাসনে                        বসিবা আনন্দমনে
দেখি মোর জুড়াবে নয়ান॥
হেন দিন মোর হব                        ইহা কি দেখিতে পাব
তুয়া দাসীগণ সঙ্গে রৈয়া।
এ বড় বিচিত্র আশ                        এ দীন বৈষ্ণবদাস
লেহ কৃপা তরঙ্গে বহাইয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০০০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

মদীশ্বরি তুমি মোরে করিবে করুণা।
এইত তাপিত জনে                        তোমার সে শ্রীচরণে
দাসী করি করিবে আপনা॥ ধ্রু॥
দশ দণ্ড রাত্রি পরে                       হবে তুয়া অভিসারে
ললিতাদি সহচরী সঙ্গে।
যাইবা নিকুঞ্জ-বনে                            শ্রীনন্দকুমার সনে
মিলিবারে মদন-তরঙ্গে॥
সে কালে শ্রী গুণমণি                        মঞ্জরী প্রেমের খনি
চন্দন-কটোরি ফুল মালা।
দিবেন আমার করে                     সঙ্গে লৈয়া ধীরে ধীরে
নিভৃতে চলিবে সব বালা॥
তুমি সশঙ্কিত হৈয়া                         ইতি উতি নিরখিয়া
সখী মাঝে করিবে গমন।
রহিয়া রহিয়া যাবা                        পাছে আমা নিরখিবা
মোর হবে সঙ্কোচিত মন॥
হেন মতে কুঞ্জ মাঝে                       ভেটিবে নাগর-রাজে
আগুসরি লই যাবে কান।
দুহুঁরত্ন-সিংহাসনে                           বসিবা আনন্দ মনে
দেখি মোর জুড়াবে নয়ান॥
হেন দিন মোর হব                        ইহা কি দেখিতে পাব
তুয়া দাসীগণ সঙ্গে রৈয়া।
এ বড় বিচিত্র আশ                            এ দীন বৈষ্ণবদাস
লেহ কৃপা-তরঙ্গে বহাইয়া॥

.           *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যমুনাক তীর সমীর ইহ মৃদু
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), চতুর্থ খণ্ড,
চতুর্থ শাখা---দ্বিতীয় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০৭৯।


.        ॥ কেদার॥

যমুনাক তীর সমীর ইহ মৃদু
.        অলি-পিকু-পঞ্চম-গানে।
দুহুঁ রসে ভোর ওর নাহি পাওব
.        বিলসব নটন-বিধানে॥
.        সদয়ে হেন কিরিপা হবে তোর।
সো রস-বৈভব রাস-মহোত্সব
.        দরশন হোয়ব মোর॥ ধ্রু॥
সহচরি সঙ্গে রঙ্গে করি মণ্ডলি
.        যবহুঁ নাচায়বি শ্যাম।
তব সখি-ইঙ্গিতে তন্ত্র সঙারিয়া
.        যন্ত্র দেয়ব তুয়া ঠাম॥
হেন কিয়ে হোয়ব মহতি সু বোলব
.        হরিষহি হেরবি মোয়।
হাম তব অমিয়া-সরোবরে ডূবব
.        শুনব মধুর সব সোয়॥
নাচব নটবর-শেখর নাগর
.        গায়বি দুহুঁ সখি সঙ্গে।
তুহুঁ নাচবি যব নাগর গাওব
.        কত কত রাগ-তরঙ্গে॥
ঐছন অনুদিন শ্রীবৃন্দাবনে
.        বিলসবি রাস-বিলাস।
ইহ দুরভগ জন সে কিয়ে দরশন
.        পাওব বৈষ্ণব দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০০০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ তথারাগ॥

যমুনাক তীর সমীর ইহ মৃদু
.   অলি-পিকু-পঞ্চম-গানে।
দুহুঁ রসে ভোর ওর নাহি পাওব
.   বিলসব নটন-বিধানে॥
.   কবে হেন কৃপা হবে তোর।
সো রস-বৈভব রাস মহোত্সব
.   দরশন হোয়ব মোর॥ ধ্রু॥
সহচরি সঙ্গে রঙ্গে করি মণ্ডলি
.   যবহুঁ নাচায়বি শ্যাম।
তব সখি-ইঙ্গিতে তন্ত্র সঙারিয়া
.   যন্ত্র দেয়ব তুয়া ঠাম॥
হেন কিয়ে হোয়ব সংহতি গায়ব
.   হরিষহি হেরবি মোয়।
হাম তব অমিয়া-সরোবরে ডুবব
.   শুনব মধুর সব সোয়॥
নাচব নটবর-শেখর নাগর
.   গায়বি দুহুঁ সখি সঙ্গে।
তুহুঁ নাচবি যব নাগর গাওব
.   কত কত রাগ তরঙ্গে॥
ঐছন অনুদিন শ্রীবৃন্দাবনে
.   বিলসবি রাস-বিলাস।
ইহ দুরভগ জন সে কিয়ে দরশন
.   পাওব বৈষ্ণবদাস॥

.           *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর