কবি বৈষ্ণবদাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
হাহা বৃষভানু-সুতে
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), চতুর্থ খণ্ড, চতুর্থ শাখা---দ্বিতীয় ভাগ,
৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০৮০।


॥ কেদার॥

হাহা বৃষভানু-সুতে।
তোমার কিঙ্করী                          শ্রীগুণমঞ্জরী
মোরে লবে নিজ যুথে॥ ধ্রু॥
নৃত্য-অবসানে                         তোমরা দুজনে
বসিবারে দিব পরে।
ঘামে টলমল                           সে অঙ্গ অতুল
রাস-পরিশ্রম-ভরে॥
মুঞি তার কৃপা-                       ইঙ্গিত পাইয়া
শ্রীমণিমঞ্জরী সাথে।
দোঁহার শ্রীঅঙ্গে                        বাতাস করিব
চামর লইয়া হাতে॥
কেহুঁ দুহঁ জন-                               বদন-চরণ
পাখালি মোছাবে সুখে।
শ্রীরূপমঞ্জরী                             তাম্বুল বীটিকা
দেয়ব দোঁহার মুখে॥
শ্রম দূরে যাবে                         অঙ্গ সুখী হবে
অলসে ভরিবে গা।
বৈষ্ণবদাসের                          এ আশা পূরিবে
করিবে মন্দ বা॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, প্রথম পরিশিষ্ট - নানা ভাবের সঙ্গীত, পদসংখ্যা ৪৫, ৩৪৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

হাহা বৃষভানুসুতে।
তোমার কিঙ্করী, শ্রীগুণমঞ্জরী, মোরে লবে নিজ যুথে॥ ধ্রু॥
নৃত্য অবসানে, তোমরা দুজনে, বসিবারে দিব পরে।
ঘামে টলমল, সে অঙ্গ অতুল, বাস-পরিশ্রম-ভরে॥
মুঞি তায় কৃপা-ইঙ্গিত পাইয়া, শ্রীমণিমঞ্জরী সাতে।
দোহাঁর শ্রীঅঙ্গে, বাতাস করিব, চামর লইয়া হাতে॥
কেহ দুই জন, বদন চরণ, পাখালি মুছিবে সুখে।
শ্রীরূপমঞ্জরী তাম্বুল বিটিকা, দেয়ব দোহাঁর মুখে॥
শ্রম দূরে যাবে, অঙ্গ সুখী হবে, অলসে ভরিবে গা।
বৈষ্ণবদাসের, এ আশা পূরিবে, কবে দিব মন্দ বা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০০১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

হাহা বৃষভানু-সুতে।
তোমার কিঙ্করী                          শ্রীগুণমঞ্জরী
মোরে লবে নিজ যূথে॥ ধ্রু॥
নৃত্য-অবসানে                        তোমরা দুজনে
বসিবারে দিব পরে।
ঘামে টলমল                          সো অঙ্গ অতুল
রাস-পরিশ্রম-ভরে॥
মুঞি তার কৃপা-                       ইঙ্গিত পাইয়া
শ্রীমণিমঞ্জরী সাথে।
দোঁহার শ্রীঅঙ্গে                        বাতাস করিব
চামর লইয়া হাতে॥
কেহুঁ দুহ জন-                              বদন-চরণ
পাখালি মোছাবে সুখে।
শ্রীরূপমঞ্জরী                            তাম্বুল বীটিকা
দেয়ব দোঁহার মুখে॥
শ্রম দূরে যাবে                        অঙ্গ সুখী হবে
অলসে ভরিবে গা।
বৈষ্ণবদাসের                        এ আশা পূরিবে
করিবে মন্দ বা॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কুঞ্জ-ভবনে নব কিশলয় আনি
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), চতুর্থ খণ্ড,
চতুর্থ শাখা---দ্বিতীয় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০৮১।

.        ॥ কেদার॥

কুঞ্জ-ভবনে নব কিশলয় আনি।
শেজ বিছায়ব ইঙ্গিত জানি॥
শ্যাম গোরি আলসে শূতব তায়।
সখিগণ শূতব আনহি ঠায়॥

মদন-মদালসে দুহুঁ ভই ভোর।
করবহি রতি-রণ যুগল-কিশোর॥
কঙ্কণ-কিঙ্কিণি-বলয়-নিসান।
শুনইতে হামারি জুড়ায়ব কাণ॥
ঝরকহি ঝাঁকি হেরব সখি মেলি।
দুহুঁ জন রতি-রণ করবহু কেলি॥
বৈঠব শ্রম-জলে পূরব গা।
রতিমঞ্জরি করু মৃদু মৃদু বা॥

শ্রীগুণমঞ্জরি দিবে সুবাসিত জল।
হেরি হোয়ব মঝু নয়ন-সফল॥
পূরব চিরদিনে ইহ-জন আশ।
নিবেদয়ে তুয়া পায়ে বৈষ্ণব দাস॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪
(১৩৩৪ বঙ্গাব্দ) গ্রন্থের, ষষ্ঠ তরঙ্গ, চতুর্থ উচ্ছাস - ভক্তের দৈন্য ও প্রার্থনা, পদসংখ্যা ১০১,
৩৬১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এখানে প্রথম চারটি এবং শেয চারটি পংক্তি একই
রয়েছে। মাঝের আটটি পংক্তি বদলে এবেবার ভিন্ন ছয়টি পংক্তি সে জায়গায় জুড়ে
দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ বরাড়ী॥

কুঞ্জভবনে নব কিশলয় আনি।
.                        শেজ বিছাইব ইঙ্গিত জানি॥
শ্যাম গৌরি আলসে শুতব তায়।
.                        সখিগণ শুতব আনহি ঠায়॥


দুহুঁ জন পীরিতে দুহুঁ ভঁই ভোর।
.                        করব বিবিধ কেলি  যুগল কিশোর॥
শ্রমজলে যব দুহুঁ পূরব গা।
.                        সখী সঙ্গে করব মৃদু মৃদু বা॥


শ্রীগুণমঞ্জরী দিবে সুবাসিত জল।
.                        হেরি হোয়ব মঝু নয়ন সফল॥
পূরব চিরদিনে ইহ মনে আশ।
.                        নিবেদয়ে তুয়া পায়ে বৈষ্ণবদাস॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ বরাড়ী॥

কুঞ্জ ভবনে নব কিশলয় জানি।
শেজ বিছায়ব ইঙ্গিত জানি॥
শ্যাম গোরী আলসে শুতব তায়।
সখিগণ শুতব আনহি ঠায়॥
দুহুঁ জন পীরিতে দুহুঁ ভই ভোর।
করব বিবিধ কেলি যুগল কিশোর॥
শ্রমজলে যব দুহু পূরব গাঁ।
সখীসঙ্গে করব মৃদু মৃদু বা॥
শ্রীগুণমঞ্জরী দিবে সুবাসিত জল।
হেরি হোয়ব মঝু নয়ন সফল॥
পূরব চিরদিনে ইহ মনে আশ।
নিবেদয়ে তুয়া পায়ে বৈষ্ণব দাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিন্দের আলসে শুতিবে দুজন
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), চতুর্থ খণ্ড, চতুর্থ শাখা---দ্বিতীয় ভাগ, ৩৬শ
পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০৮২।

॥ কেদার॥

নিন্দের আলসে                      শুতিবে দুজন
রতন-পালঙ্ক পরে।
সহচরীগণ                            শুতিবে তখন
কলপ-নিকুঞ্জ ঘরে॥
রূপ-রতি-গুণ-                         মঞ্জরী তখন
করয়ে বিবিধ সেবা।
পাদ-সম্বাহন                           চামর-বীজন
যাহার করণ যেবা॥
শ্রীগুণমঞ্জরী                         বহু কৃপা করি
ঠারিয়া কহিবে মোরে।
ললিতা বিশাখা                    চম্পকলতিকার
চরণ সেবিবার তরে॥
মুঞি সে আজ্ঞাতে                   বসিব তুরিতে
ললিতা-চরণ-তলে।
গুলুফ অঙ্গুলি                           চরণ সকলি
সম্বাহিব মন-বলে॥
কটি পীঠ আদি                      মৃদু মৃদু চাপি
যতেক বন্ধান আছে।
তিহো নিন্দ যাবে                   উঠি যাব তবে
বিশাখা দেবীর কাছে॥
গায়ের ওঢ়নি                        কাঁচলি খুলিয়া
দু জানু চাপিয়া বসি।
চরণ-যুগল                            হৃদয়ে ধরিয়া
হেরিব নখর-শশী॥
পরম নিপুণে                          সম্বাহি চরণে
যাইব চিত্রার পাশে।
হেন অনুক্রমে                      করিবে সেবনে
কেবল বৈষ্ণব আশে॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, ষষ্ঠ তরঙ্গ, চতুর্থ উচ্ছাস - ভক্তের দৈন্য ও প্রার্থনা, পদসংখ্যা ১০৩, ৩৬১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ কেদার॥

নিদেঁর আলসে, শুতিবে দুজন, রতন পালঙ্কোপরে।
সহচরীগণ, শুতিবে তখন, কলপ নিকুঞ্জ ঘরে॥
রূপ রতি গুণমঞ্জরী তখন, করয়ে বিবিধ সেবা।
পাদ সংবাহন, চামর বীজন, তাহার কারণ যেবা॥
শ্রীগুণমঞ্জরী, বহু কৃপা করি, যারিয়া কহিবে মোরে।
ললিতা বিশাখা, চম্পক-কলিকা, চরণ সেবিবার তরে॥
মুঞি সে অজ্ঞাতে, বসিব তুরিতে, ললিতা চরণতলে।
গুল্ ফ অঙ্গুলি, চরণ সকলি, সমবাহিব মনোবলে॥
কটি পীঠ আদি, মৃদু মৃদু চাপি, যতেক বন্ধান আছে।
তাঁহা নিদ যাবে, উঠি যাব তবে, বিশাখা দেবীর কাছে॥
গায়ের ওড়নী, কাঁচুলি খুলিয়া, দুজানু চাপিয়া বসি।
চরণযুগল, হৃদয়ে ধরিয়া, হেরব নখরশশী॥
পরম নিপুণে, সংবাহি চরণে, যাইব চিত্রার পাশে।
হেন অনুক্রমে করিবে শয়ন, কেবল বৈষ্ণবদাসে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রূপ-গুণবতী রস-মঞ্জরী লবঙ্গ পাশ
ভণিতা বৈষ্ণব
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), চতুর্থ খণ্ড, চতুর্থ শাখা---দ্বিতীয় ভাগ,
৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০৮৩।

॥ কেদার॥

রূপ-গুণবতী রস-                        মঞ্জরী লবঙ্গ পাশ
বিলাসাদি একত্র হইয়া।
শ্রীলীলামঞ্জরী আর                       কহিবেন পরস্পর
রাই কানু দোঁহারে নিছিয়া॥
হরি হরি মোর হেন হবে শুভ দিনে।
মালতী দেবীর পাছে                   বসিয়া সভার কাছে
মুঞি তাহা করিব স্রবণে॥
রাই-কানু-রূপ-গুণে                    রতি-রস-প্রশংসনে
শ্রীঅঙ্গ-সৌরভ সুবিলাসে।
বিভোর হইয়া সভে                  অনুক্রমে প্রশংসিবে
নিভৃত-নিকুঞ্জ-গৃহ পাশে॥
নানাভাবে অলঙ্কৃত                    হইবে বিভোল চিত
সব প্রিয়-নর্ম্ম-সখীগণে।
কেবল বৈষ্ণবের আশা                পালটিবে মোর দশা
সে সব করিব দরশনে॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, ষষ্ঠ তরঙ্গ, চতুর্থ উচ্ছাস - ভক্তের দৈন্য ও প্রার্থনা, পদসংখ্যা ১০২, ৩৬১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ কেদার॥

রূপ গুণ রতী রস                        মঞ্জরী লবঙ্গ পাশ
বিলাসাদি একত্র হইয়া।
শ্রীলীলামঞ্জরী আর                       কহিবেন পরস্পর
রাই কানু দোঁহার নিছিয়া॥
হরি হরি মোর হেন হবে শুভ দিনে।
মালতী দেবীর পাছে                  বসিয়া সভার কাছে
মুঞি তাহা করিব স্রবণে॥ ধ্রু॥
রাই-কানু রূপ-গুণে                     রতি রস প্রশংসনে
শ্রীঅঙ্গ সৌরভ সুবিলাসে।
বিভোর হইয়া লভে                   অনুক্রমে প্রশংসিবে
নিভৃত নিকুঞ্জগৃহ পাশে॥
নানাভাবে অলঙ্কৃত                     হইবে বিভোর চিত
সব প্রিয় নর্ম্মসখীগণে।
কেবল বৈষ্ণবের আশা                 পালটিবে মোর দশা
সে সব করিব দরশনে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হে নাথ গোকুল-চন্দ্র হা কৃষ্ণ পরমানন্দ
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), চতুর্থ খণ্ড, চতুর্থ শাখা---দ্বিতীয় ভাগ,
৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০৮৪।


॥ কেদার॥

হে নাথ গোকুল-চন্দ্র                        হা কৃষ্ণ পরমানন্দ
হাহা ব্রজেশ্বরীর নন্দন।
হা রাধিকা চন্দ্র-মুখি                      গান্ধর্ব্বা ললিতা সখি
কৃপা করি দেহ দরশন॥
তোমা দোঁহার শ্রীচরণ                      আমার সর্ব্বস্ব-ধন
তাহার দর্শনামৃত-পান।
করাইয়া জীবন রাখ                        মরিতেছি এই দেখ
করুণা-কটাক্ষ কর দান॥
দোহেঁ সহচরী সঙ্গে                            মদনমোহন-রঙ্গে
শ্রীকুণ্ডে কলপতরু-ছায়।
আমারে করুণা করি                      দেখাইবে সে মাধুরী
তবে হয় জীবন-উপায়॥
হাহা শ্রীদামের সখা                      কৃপা করি দাও দেখা
হাহা বিশাখার প্রাণ-সখি।
দোঁহে সকরুণ হৈয়া                            চরণ-দর্শন দিয়া
দাসীগণ মাঝে লেহ লেখি॥
তোমার করুণা-রাশি                   তেঞি চিতে অভিলাষি
কৃপা করি পূর মোর আশ।
দশনেত তৃণ ধরি                        ডাকি নাম উচ্চ করি
দীন হীন বৈষ্ণবের দাস॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, প্রথম পরিশিষ্ট - নানা ভাবের সঙ্গীত, পদসংখ্যা ৪৬, ৩৪৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

হা নাথ গোকুলচন্দ্র                         হা কৃষ্ণ পরমানন্দ
হাহা ব্রজেশ্বরীর নন্দন।
হা রাধিকে চন্দ্রমুখী                        গান্ধর্ব্বা ললিতা সখি
কৃপা করি দেহ দরশন॥
তোমা দোঁহার শ্রীচরণ                        আমার সর্ব্বস্ব ধন
তাহার দর্শনামৃত পান।
করাইয়া জীবন রাখ                        মরিতেছি এই দেখ
করুণা কটাক্ষ করু দান॥
দুঁহে সহচরী সঙ্গে                              মদনমোহন ভঙ্গে
শ্রীকুণ্ডে কল্পতরু ছায়।
আমারে করুণা করি                        দেখাইবে সে মাধুরী
তবে হয় জীবন উপায়॥
হাহা শ্রীদামাদি সখা                        কৃপা করি দাও দেখা
হাহা বিসখাদি প্রাণসখি।
দোঁহে সকরুণ হৈয়া                             চরণ দর্শন দিয়া
দাসীগণ মাঝে লেহ লিখি॥
তোমার করুণারাশি                       তেঁই চিতে অভিলাষি
কৃপা করি পূর মোর আশ।
দশনেতে তৃণ ধরি                        ডাকি নাম উচ্চ করি
দীনহীন এ বৈষ্ণবদাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০০১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

হে নাথ গোকুলচন্দ্র                        হা কৃষ্ণ পরমানন্দ
হাহা ব্রজেশ্বরীর নন্দন।
হা রাধিকা চন্দ্র-মুখি                      গান্ধর্ব্বিকা সহ সখি
কৃপা করি দেহ দরশন॥
তোমা দোঁহার শ্রীচরণ                      আমার সর্ব্বস্ব-ধন
তাহার দর্শনামৃত-পান।
করাইয়া জীবন রাখ                       মরিতেছি এই দেখ
করুণা কটাক্ষ কর দান॥
দোহেঁ সহচরী সঙ্গে                            মদনমোহন-রঙ্গে
শ্রীকুণ্ডে কলপতরু ছায়।
আমারে করুণা করি                      দেখাইবে সে মাধুরী
তবে হয় জীবন উপায়॥
হাহা শ্রীদামের সখা                      কৃপা করি দাও দেখা
হাহা বিশাখার প্রাণ-সখি।
দোঁহে সকরুণ হৈয়া                           চরণ-দর্শন দিয়া
দাসীগণ মাঝে লেহ লেখি॥
তোমার করুণা-রাশি                  তোঁঞ চিতে অভিলাষি
কৃপা করি পূর মোর আশ।
দশনেতে তৃণ ধরি                       ডাকি নাম উচ্চ করি
দীন হীন বৈষ্ণবের দাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হরি হরি কি কহিয়ে প্রলাপ বচন
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), চতুর্থ খণ্ড, চতুর্থ শাখা---দ্বিতীয় ভাগ,
৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০৮৫।


॥ কেদার॥

হরি হরি কি কহিয়ে প্রলাপ বচন।
কাহাঁ সে সম্পদ-সার                  কাহাঁ এই মুঞি ছার
কিয়ে চিত্র বাউলের মন॥
অনন্ত-বৈকুণ্ঠ-সার                        বৃন্দাবন নাম যার
তাহে পূর্ণতম কৃষ্ণচন্দ্র।
তার প্রিয়া-শিরোমণি                  শ্রীরাধিকা ঠাকুরাণী
বিলসয়ে সঙ্গে সখীবৃন্দ॥
তার অনুচরী সঙ্গে                     প্রেম-সেবা-পরবন্ধে
ব্রহ্মা শিব শেষের অগম্য।
কাহাঁ এ পাপিষ্ঠ জন                    পাপালয়ে মূর্ত্তিমান
আশা করি করে তাহা কাম্য॥
যথা বাঙনের ইন্দু                        পঙ্গুর লঙ্ঘন সিন্ধু
মূকের যেমন বেদ-ধ্বনি।
পশ্চিমে উদয় সূর                         মল-গন্ধ সুকর্পূর
পথের কঙ্কর চিন্তামণি॥
এ সব যদিহ হয়                        তথাপিহ মোর নয়
শ্রীরাধামাধব-দরশন।
বৈষ্ণব দাসের মনে                     দরিদ্র বিজয়া-পানে
শুতি যেন দেখয়ে স্বপন॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ)
গ্রন্থের, প্রথম পরিশিষ্ট - নানা ভাবের সঙ্গীত, পদসংখ্যা ৬২, ৩৫০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

হরি হরি কি কহিয়ে প্রলাপ বচন।
কাঁহা সে সম্পদসার                    কাঁহা এই মুঞি ছার
কিয়ে চিত্র বাউলের মন॥ ধ্রু॥
অনন্ত বৈকুণ্ঠ সার                        বৃন্দাবন নাম যার
তাহে পূর্ণতম কৃষ্ণচন্দ্র।
তার প্রিয় শিরোমণি                   শ্রীরাধিকা ঠাকুরাণী
বিলসয়ে সঙ্গে সখীবৃন্দ॥
তার অনুচরি সঙ্গে                      প্রেমসেবা পরসঙ্গে
ব্রহ্মা শিব শেষের অগম্য।
কাঁহা এ পাপিষ্ঠ জন                     পাপালয়ে মূর্ত্তিমান
আশা করো কর তা অকাম্য॥
যথা বামনের ইন্দু                        পঙ্গুর লঙ্ঘন সিন্ধু
মূকের যেমন বেদধ্বনি।
পশ্চিমে উদয় সূর                         মলয়জ সুকর্পূর
পথের কঙ্কর চিন্তামণি॥
ঠাএ সব যদি হয়                      কৃপা কভু বিনে নয়
শ্রীরাধামাধবদরশন।
বৈষ্ণবদাসের মনে                     দরিদ্র বিজয়া পানে
শুতি যেন দেখয়ে স্বপন॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০০১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

হরি হরি কি কহিয়ে প্রলাপ বচন।
কাঁহা সে সম্পদ-সার                   কাঁহা এই মুঞি ছার
কিয়ে চিত্র বাউলের মন॥
অনন্ত-বৈকুণ্ঠ-সার                        বৃন্দাবন নাম যার
তাহে পূর্ণতম কৃষ্ণচন্দ্র।
তার প্রিয়া-শিরোমণি                  শ্রীরাধিকা ঠাকুরাণী
বিলসয়ে সঙ্গে সখীবৃন্দ॥
তার অনুচরী সঙ্গে                     প্রেম-সেবা পরবন্ধে
ব্রহ্মা শিব শেষের অগম্য।
কাহাঁ এ পাপিষ্ঠ জন                     পাপালয়ে মূর্ত্তিমান
আশা করি করে তাহা কাম্য॥
যথা বাঙনের ইন্দু                        পঙ্গুর লঙ্ঘন সিন্ধু
মূকের যেমন বেদ-ধ্বনি।
পশ্চিমে উদয় সূর                         মল-গন্ধ সুকর্পূর
পথের কঙ্কর চিন্তামণি॥
এ সব যদিহ হয়                        তথাপিহ মোর নয়
শ্রীরাধামাধব-দরশন।
বৈষ্ণবদাসের মনে                      দরিদ্র বিজয়া-পানে
শুতি যেন দেখয়ে স্বপন॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় জয় অদ্বৈত আচার্য্য দয়াময়
ভণিতা বৈষ্ণব
কবি বৈষ্ণবদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ১৭শ পল্লব, জন্মলীলা, পদসংখ্যা ১১১৫। এই পদটি পদকল্পতরুতে, শেষ দুটি পংক্তি
বাদ দিয়ে, ভণিতাহীন পদ হিসেবে এইরূপে তোলা হয়েছে।

.        ॥ তথারাগ॥

জয় জয় অদ্বৈত আচার্য্য দয়াময়।
অবতীর্ণ হৈলা জীবে হইয়া সদয়॥
মাঘ মাস শুক্লপক্ষে সপ্তমী দিবসে।
শান্তিপুরে আসি প্রভু হইলা প্রকাশে॥
সকল মহান্ত মাঝে আগে আগুয়ান।
শিশুকালে থুইলা পিতা কমলাক্ষ নাম॥
কলি-কাল-সাপে জীবে করিল গরাস।
দেখিয়া করুণা করি হইলা প্রকাশ॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪
(১৩৩৪ বঙ্গাব্দ) গ্রন্থের, ষষ্ঠ তরঙ্গ, দ্বিতীয় উচ্ছাস - অদ্বৈতাচার্য্য, পদসংখ্যা ২৯। এ ছাড়া,
প্রথম পংক্তির ভিন্নতার জন্য পদটিকে আমরা এখানে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও রাখছি।


.        ॥ ভাটিয়ারী॥

জয় জয় অদ্বৈত আচার্য্য মহাশয়।
অবতীর্ণ হৈলা জীবে হইয়া সদয়॥
মাঘ মাস শুক্লা পক্ষ সপ্তমী দিবসে।
শান্তিপুর আসি প্রভু হইলা প্রকাশে॥
সকল মহান্ত মাঝে আগে আগুয়ান।
শিশুকালে থুইলা পিতা কমলাক্ষ নাম॥
কলিকাল সাপে জীবে করিল গরাস।
দেখি বিষ বৈদ্যরূপে হইলা প্রকাশ॥
যাহার হুঙ্কারে গোরা আইলা অবনী।
বৈষ্ণব মরিবে তার লইয়া নিছনি

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এত শুনি বিধুমুখী মনে হয়ে অতি সুখী
কবি বৈষ্ণবদাস
জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ) গ্রন্থের,
প্রথম তরঙ্গ, প্রথম উচ্ছাস - নান্দী বা পূর্ব্বাভাস, পদসংখ্যা ৫।


এত শুনি বিধুমুখী                            মনে হয়ে অতি সুখী
কহে শুন প্রাণনাথ তুমি।
কহিলে সকল তত্ত্ব                               বুঝিনু স্বপন সত্য
সেই রূপ দেখিব হে আমি॥
আমারে যে সঙ্গে লবে                            দুই দেহ এক হবে
অসম্ভব হইবে কেমনে।
চূড়াধরা কোথা থোবে                        বাঁশী কোথা লুকাইবে
কাল গৌর হইবে কেমনে॥
এত শুনি কৃষ্ণচন্দ্র                             কৌস্তভের প্রতিবিম্বে
দেখাওস শ্রীরাধার অঙ্গ।
আপনি তাহে প্রবেশিলা                         দুই দেহ এক হৈলা
ভাবপ্রেমময় সব অঙ্গ॥
নিধুবনে এই কয়ে                                দুহুঁ তনু এক হয়ে
নদীয়াতে হইলা উদয়।
সঙ্গে যে ভক্তগণে                                  হরিনাম সঙ্কীর্ত্তনে
প্রেমবন্যায় জগত ভাসায়॥
বাহিরে জীব উদ্ধারণ                          অন্তরে রস আস্বাদন
ব্রজবাসী সখা সখী সঙ্গে।
বৈষ্ণব দাসের মন                              হেরি রাজা শ্রীচরণ
না ভাসিলাম সে সুখতরঙ্গে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মরি আলো নদীয়া মাঝারে ও না রূপ
কবি বৈষ্ণবদাস
জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪
বঙ্গাব্দ) গ্রন্থের, চতুর্থ তরঙ্গ, দ্বিতীয় উচ্ছাস - নৃত্য ও কীর্ত্তন, পদসংখ্যা ৭৮।


.        ॥ শ্রীরাগ॥

মরি আলো নদীয়া মাঝারে ও না রূপ।
কেবল মূরতি নব পিরীতের কূপ॥ ধ্রু॥
বদনমণ্ডল চাঁদ ঝলমল কনক-দরপণ নিন্দিতে।
চাঁদমুখে হরি বোলে বাবভরে প্রেমে কাঁদিতে কাঁদিতে॥
তেজি সুখময় শয়ন আসন, নামডোর গলে শোভিতে।
সুগন্ধী চন্দন অঙ্গেতে লেপন, সংকীর্ত্ত্ন রসে তুষিতে॥
ভাবে গর গর না চিহ্নে আপন পর পূলক আবলী অঙ্গেতে।
‘রা’ বলিয়া গোরা ‘ধা’ বোল না পারে ভবভরে আর বলিতে॥
বাজহি মাদল করহি করতাল কলিকলুষ ভয় নাশিতে।
ভকতগণ মেলি দেই করতালি ফিরয়ে চৌদিকে নাচিতে॥
চরণপল্লব দিতে ভক্তগণে, হরিনাম-জীবে প্রকাশিতে।
দয়াল গৌরাঙ্গ আসিলা অবনী বৈষ্ণব দাসেরে ভবে তারিতে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মিশ্র পুরন্দর তবে মনে বিচারিঞে
কবি বৈষ্ণবদাস
১৯২২ সালে চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সংকলিত রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত
শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু, পৃষ্ঠা ৪১।


.        ॥ গৌরচন্দ্র॥

মিশ্র পুরন্দর তবে মনে বিচারিঞে।
পুরোহিত দ্বিজগণে আনিল ডাকিয়ে॥
নীলাম্বর চক্রবর্ত্তী আইল তখন।
মিশ্র পুরন্দর কহে মধুর বচন॥
অদ্য শুভদিন হয় শুক্লাষ্টমী তিথি।
বিশ্বম্ভরের হাতে দেহ ভাগবত পুথি॥
জগন্নাখ মিশ্র তবে দ্বিজ আজ্ঞা মতে।
ভাগবত পুথি দিল বিশ্বম্ভরের হাতে॥
দেখিঞে ব্রাহ্মণগণ করে বেদধ্বনি।
বহিরে কতজন করে হরিধ্বনি॥
বৈষ্ণবদাস কহে যোড় করি হাত।
ধন্য রে নদীয়ার লোক শচী জগন্নথা॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় জয় অদ্বৈত আচার্য্য মহাশয়
ভণিতা বৈষ্ণব
কবি বৈষ্ণবদাস
জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী, ১৯৩৪ (১৩৩৪
বঙ্গাব্দ) গ্রন্থের, ষষ্ঠ তরঙ্গ, দ্বিতীয় উচ্ছাস - অদ্বৈতাচার্য্য, পদসংখ্যা ২৯।


.        ॥ ভাটিয়ারী॥

জয় জয় অদ্বৈত আচার্য্য মহাশয়।
অবতীর্ণ হৈলা জীবে হইয়া সদয়॥
মাঘ মাস শুক্লা পক্ষ সপ্তমী দিবসে।
শান্তিপুর আসি প্রভু হইলা প্রকাশে॥
সকল মহান্ত মাঝে আগে আগুয়ান।
শিশুকালে থুইলা পিতা কমলাক্ষ নাম॥
কলিকাল সাপে জীবে করিল গরাস।
দেখি বিষ বৈদ্যরূপে হইলা প্রকাশ॥
যাহার হুঙ্কারে গোরা আইলা অবনী।
বৈষ্ণব মরিবে তার লইয়া নিছনি॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮),
২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১৭শ পল্লব, জন্মলীলা, পদসংখ্যা ১১১৫। এই পদটি
পদকল্পতরুতে, শেষ দুটি পংক্তি বাদ দিয়ে, ভণিতাহীন পদ হিসেবে তোলা হয়েছে। এ
ছাড়া, প্রথম পংক্তির ভিন্নতার জন্য পদটিকে আমরা এখানে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও
রাখছি।

.        ॥ তথারাগ॥

জয় জয় অদ্বৈত আচার্য্য দয়াময়।
অবতীর্ণ হৈলা জীবে হইয়া সদয়॥
মাঘ মাস শুক্লপক্ষে সপ্তমী দিবসে।
শান্তিপুরে আসি প্রভু হইলা প্রকাশে॥
সকল মহান্ত মাঝে আগে আগুয়ান।
শিশুকালে থুইলা পিতা কমলাক্ষ নাম॥
কলি-কাল-সাপে জীবে করিল গরাস।
দেখিয়া করুণা করি হইলা প্রকাশ॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ ভাটিয়ারী॥

জয় জয় অদ্বৈত আচার্য্য মহাশয়।
অবতীর্ণ হৈলা জীবে হইয়া সদয়॥
মাঘ মাস শুক্ল পক্ষ সপ্তমী দিবসে।
শান্তিপুর আসি প্রভু হইলা প্রকাশে॥
সকল মহান্ত মাঝে আগে আগুয়ান।
শিশুকালে থুইলা পিতা কমলাক্ষ নাম॥
কলি-কাল-সাপে জীবে করিল গরাস।
দেখি বিষ-বৈদ্যরূপে হইলা প্রকাশ॥
যাহার হুঙ্কারে গোরা আইলা অবনী।
বৈষ্ণব মরিবে তার লইয়া নিছনি॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর