কবি বৈষ্ণবদাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
অনাদর পেএ গোরা অভিমানে চলে
কবি বৈষ্ণবদাস
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময়
মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, পৃষ্ঠা ১২৫।


অনাদর পেএ গোরা অভিমানে চলে। পথ নাহি নিরখই নয়নের জলে॥
বিষাদিত হএ সদা বলে হরি হরি। দয়া নাহি প্রকাশিল রাই কিশোরী॥
বাবের আবেশে গোরা চলিতে না পারে। রাধা রাধা বলি ভূমে ঢলে ঢলে পড়ে॥
রোখে চলিল অতি দুখিত হইএ। বৈষ্ণবদাসের হৃদে সতত জাহএ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দুর্জয় মানে প্রবল বরসুন্দরী প্রজ্জ্বলিত দহন সমান
কবি বৈষ্ণবদাস
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময়
মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, পৃষ্ঠা ১৩৫।


দুর্জয় মানে             প্রবল বরসুন্দরী                প্রজ্জ্বলিত দহন সমান।
মরম সখীগণ            আন ঠাঞি বৈঠল              ছোড়ি সব করল পয়ান॥
বাস কুন্তল              সবহু বিগলিত                  তটিনী বহুএ নয়ানে।
কোপে ভরল তনু      স্থির নহে ভামিনী               ভালহি কঙ্কণ হানে॥
রোই রোই ধনি         কণ্ঠ বধির সম                  বদনে না নিকসই ভাষ।
মরমক দাহ             মরমে নাহি নিবারই            ছোড়ই দীঘ নিশ্বাস॥
ক্ষেণে ক্ষিতিমণ্ডলে     লুটত মানিনী                    মানহি করম অভাগে।
কানু ইহা হেরি         দূরে অবনীক সোই             বৈষ্ণবদাস হিয়া জাগে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাইক বচন সুনিএ সহচরী
কবি বৈষ্ণবদাস
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময়
মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, পৃষ্ঠা ১৪২।


রাইক বচন সুনিএ সহচরী। মরমহি সমুঝল তবহু বিচারি॥
জানল মান ইহ শোল সমান। বচনে না ভাঙ্গব ইহ মন মান॥
এতহু ভাবিএ দূতী করল পয়ান। মিলল জাহা সোই নাগর কান॥
বেথিত অন্তর সখী মলিন বদন। বৈষ্ণব দাস কহে কুশল কেমন॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুরধুনীতীরে বসি গৌরাঙ্গসুন্দর
কবি বৈষ্ণবদাস
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময়
মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, পৃষ্ঠা ১৪৪।

॥ ততো শুকোক্তি মানং যথা তদুচিত মহাপ্রভু॥

সুরধুনীতীরে বসি গৌরাঙ্গসুন্দর। রাধাভাবে ভাবি সদা হইএ বিভোর॥
প্রতুমুখে কৃষ্ণকথা অবিরত বহে। পশু পাখি সুনি সভে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কহে॥
কৃষ্ণ ভাবাযোগে গোরা সদাই বিভোলা। হেনকালে পাখি বলে কৃষ্ণ কোথা গেলা॥
পুরূবের অভিমান মনেতে স্মরিএ। অভিমানে পহু তহি রহিল বসিএ॥
মানভরে বলে গোরা আমারে ছাড়িএ। কি লাগিএ আন ঠাঞি বিহরএ গিয়া॥
কোপেতে মলিন মুখ কিছু নাহি কয়। বৈষ্ণবদাস মাগে সেই পদদ্বয়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ব্রজভাব ভাবি গোরা প্রেমাবিষ্ট হৈল
কবি বৈষ্ণবদাস
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময়
মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, পৃষ্ঠা ১৪৬।

॥ প্রকারান্তরং মানং বংশীধ্বনি শ্রবণেন যথা॥ তদ্ভাবাবৃত শ্রীমহাপ্রভু॥

ব্রজভাব ভাবি গোরা প্রেমাবিষ্ট হৈল। ভাবাবেশে অর্ধ বাহ্য দশা প্রকাশিল॥
শ্রবণে শুনিল যেন মুরলীর ধ্বনি। ব্রজভাব দড়াইএ হইলেন ভাবিনী॥
নিতি নিতি বাজে বাঁশি রাধা রাধা বলি। আজ কেনে বলে বাঁশি রাধা চন্দ্রাবলী॥
কোপেতে ভরল তনু অরুণ নয়ান। চন্দ্রাবলী নাম শুনে বাঢ়ল মান॥
লম্পট কানুর রীত কভু নাহি যায়। এত বলি গোরাচাঁন্দ নিশবদে রয়॥
ভক্তগণ ভাবে এ কি নূতুন বিলাস। হৃদয়ে ভাবিতে চায় বৈষ্ণবদাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দূরে গেও মানিনী মান
কবি বৈষ্ণবদাস
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময়
মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, পৃষ্ঠা ১৪৭।

॥ পুনউক্তি॥

দূরে গেও মানিনী মান। বিরহজনিত দুখ উতারল কান॥
দোহু জন তনু তনু মেলি। মদনসাগরে দোঁহে নিমগন ভেলি॥
রাই গোরি জলদে মিসাই। ঘন সৌদামিনী জেন মিলে এক ঠাঞি॥
সখীগণ আনন্দপুঞ্জে। বৈষ্ণবদাস ভাবে হৃদিমহাকুঞ্জে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
লএ ভক্তগণে গদাধর সনে বিলসে গৌররায়
কবি বৈষ্ণবদাস
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময়
মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, পৃষ্ঠা ১৪৭।

॥ পুনশ্চ প্রকারান্তরং মানং মানং যথা তদুচিত মহাপ্রভু॥

লএ ভক্তগণে               গদাধর সনে                বিলসে গৌররায়।
প্রেমে গরগর               হইএ বিভোর              কত না বদনে কয়॥
গদাধর গুণ                কহে ক্ষণ ক্ষণ              গৌর রসিকরাজ।
ক্ষেণে ক্ষেণে বলে         করি উতরোলে             সদাশিব কবিরাজ॥
সুনি গদাধর               মানে গরগর                অবনত করি মাথ।
মনে দুখি হএ             রহএ বসিএ                 কছু না কহএ বাত॥
সে ভাব বুঝিএ            নিরটেতে জাইএ            পহু হাঁসি হাঁসি কয়।
পুরব স্মরণে              হইলে বিমনে                এহো ত উচিত নয়॥
তোমার বদন             দেখিএ মিলন                সুখী নহে মোর অঙ্গ।
বৈষ্ণবদাস                 এই অভিলাষ               করহ সঙ্গীর সঙ্গ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিন্দাবেশে দেখে গোরা জাগর সমান
কবি বৈষ্ণবদাস
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময়
মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, পৃষ্ঠা ১৪৮ এবং পৃষ্ঠা ১৫৭।

॥ অথ স্বপ্ন উদ্দেশ মানং॥ তদুচিত মহাপ্রভু॥

নিন্দাবেশে দেখে গোরা জাগর সমান। আন ঠাঞি বিহরএ শঠ মঝু কান॥
দেখিতে দেখিতে পহুঁ পাওল চেতন। সপনহি বিলাসই মানয়ে বিপন॥
কোপে ভরল তনু না কহল বাত। অভিমানে বৈঠল অবনত মাথ॥
অপরূপ দেখি আজু গৌরাঙ্গবিলাস। চরণ ভাবিএ বলে বৈষ্ণবদাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখিলাম গোরাচান্দের মলিন বদন
কবি বৈষ্ণবদাস
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময়
মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, পৃষ্ঠা ১৫৮।

॥ অথ যোগীমিলন॥ পূর্বক্রম॥ ॥ তদুচিত মহাপ্রভু॥ তত্র গৌরচন্দ্র॥

দেখিলাম গোরাচান্দের মলিন বদন। মানভরে কিছু নাহি কহএ বচন॥
কেহু জদি নিয়ড়হি পুজই জাই। রোখে চলিয়া পুন বৈঠএ আন ঠাঞি॥
ক্ষণে আনভাব গোরা করএ উদয়। রসরাজ মুক্তি তাঁতে সদা রসময়॥
প্রিয় সখাগণে কভু জুগতি ডরাই। কৈছে মিলিবে মোহে রসময়ী রাই॥
নিজমান ভরে কত বাড়ায় আরতি। তহি মান ভাঙ্গাইতে করএ জুকতি॥
আজু দেখি গোরাচান্দের নৌতুন বিলাস। হৃদয়ে ভাবয়ে তাহা বৈষ্ণবদাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ওহে রসরাজ সাধ নিজ কাজ ধরিয়া যোগীর বেশ
কবি বৈষ্ণবদাস
দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময়
মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, ১৩৮১টি
পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, পৃষ্ঠা ১৫৮।

॥ অথ যোগীমিলন॥ পূর্বক্রম॥ ॥ তদুচিত মহাপ্রভু॥ তত্র গৌরচন্দ্র॥

ওহে রসরাজ               সাধ নিজ কাজ             ধরিয়া যোগীর বেশ।
তবে রাধার মান           হবে সমাধান               কহিলাম উপদেশে॥
সুবলের বাণী              শুমি গুণমণি                ভাবিয়া হৃদয়মাঝে।
বান্ধি জটাভার             আঁটি বাঘাম্বর              শ্রবণে কুণ্ডল সাজে॥
ডম্বরু বিষাণ               কণ্ঠে হাড়মাল              সিন্দুরমণ্ডিত ভালে।
ভস্মবিভূষণ               অঙ্গের কিরণ              ঢাকিয়া নাগর চলে॥
মুখে বলে হরে            অন্তরে বিদরে              মানিনী বিরহজ্বরে।
রাধার নিঙড়              চলিল নাগর                ভেটিল জটিলাদ্বারে॥
বসিল তখন               করিয়া আসন              চতুর শেখররায়।
বৈষ্ণবদাস                 পুরইতে আশ              তবহুঁ এ গুণ গায়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর