কবি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বৈষ্ণব পদাবলী
*
কবি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পরিচিতির পাতায় . . .
অয়ি নন্দতনূজ কিঙ্করং
পঞ্চদশ শতকে প্রকাশিত, রূপ গোস্বামী সংগৃহীত প্রাচীন বৈষ্ণবগণ এবং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য- মহাপ্রভুর স্বকৃত শ্লোকসম্বলিত, ১৮৮২ সালে রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনুদিত, গ্রন্থ “পদ্যাবলী”-র, ৭৫ পৃষ্ঠায় রচয়িতার নামের স্থানে “শ্রীশ্রীভগবতঃ” অর্থাৎ “এই শ্লোক শ্রীশ্রী ভগবান্ চৈতন্যদেবের কৃত” বলে দেওয়া রয়েছে, এইভাবে।

অথ তেষাং দৈন্যোক্তিঃ। (এই শিরোনামের এই গীতটি ১৩শ শ্লোক।)

অয়ি নন্দতনূজ কিঙ্করং
পতিতং মাং বিষয়ে ভবাম্বুধৌ।
কৃপয়া তব পাদপঙ্কজ-
স্থিতধূলিসদৃশং বিভাময়॥
শ্রীশ্রীভগবতঃ॥

অনুবাদ -
হে নন্দনন্দন! আমি তোমার কিঙ্কর বিষম ভবসমুদ্রে পতিত হইয়াছি, কৃপাপূর্ব্বক নিজপাদপদ্মস্থ ধূলিসদৃশ আমাকে বিবেচনা কর॥
এই শ্লোক শ্রীশ্রী ভগবান্ চৈতন্যদেবের কৃত॥
---রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন, পদ্যাবলী, পৃষ্ঠা-৭৭॥

*************************************






*
নাহং বিপ্রো ন চ নরপতির্নাপি বৈশ্যো ন শূদ্রো
এই শ্লোকটি বা গীতটি কোনো কোনো গ্রন্থে শ্রীচৈতন্যদেবের রচনা বলে উল্লিখিত রয়েছে। কিন্তু, পঞ্চদশ শতকে প্রকাশিত, রূপ গোস্বামী সংগৃহীত প্রাচীন বৈষ্ণব এবং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য- মহাপ্রভুর স্বকৃত শ্লোকসম্বলিত, ১৮৮২ সালে রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনুদিত, গ্রন্থ “পদ্যাবলী”-র, ৭৭ পৃষ্ঠায় রচয়িতার নামের স্থানে “কস্যচিৎ” অর্থাৎ “এই শ্লোক কোন ব্যক্তির রচিত” বলে দেওয়া রয়েছে, এইভাবে।

অথ তেষাং নিষ্ঠা। (এই শিরোনামের এই গীতটি ১ম শ্লোক।)

নাহং বিপ্রো ন চ নরপতির্নাপি বৈশ্যো ন শূদ্রো
নো বা বর্ণী নচ গৃহপতির্নো বনস্থো যতির্বা।
কিন্তু প্রোদ্যন্নিখিল-পরমানন্দপূর্ণামৃতাব্ধে-
র্গোপীভর্ক্তুঃ পদকমলয়োর্দাসদাসানুদাসঃ॥

কস্যচিৎ॥

অনুবাদ -
অথ ভক্তদিগের নিষ্ঠা।
আমি ব্রাহ্মণ নহি, ক্ষত্রিয় নহি, বৈশ্য নহি, শূদ্র নহি, ব্রহ্মচারী নহি, গৃহস্থ নহি বাণপ্রস্থ নহি এবং যতিও নহি, কিন্তু নিখিল পরমানন্দপরিপূর্ণ অমৃতসাগরস্বরূপ গোপীপতি শ্রীকৃষ্ণের চরণকমলের দাস ও দাসের অনুদাস॥ এই শ্লোক কোন ব্যক্তির রচিত॥
---রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন, পদ্যাবলী, পৃষ্ঠা-৭৭॥

*************************************






*
দধিমথননিনাদৈস্ত্যক্তনিদ্রঃ প্রভাতে
পঞ্চদশ শতকে প্রকাশিত, রূপ গোস্বামী সংগৃহীত প্রাচীন বৈষ্ণবগণ এবং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য-মহাপ্রভুর স্বকৃত শ্লোকসম্বলিত, ১৮৮২ সালে রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনুদিত, গ্রন্থ “পদ্যাবলী”-র, ১৩৩ পৃষ্ঠায় রচয়িতার নামের স্থানে “শ্রীশ্রীভগবতঃ” অর্থাৎ “এই শ্লোক শ্রীশ্রী ভগবান্ চৈতন্যদেবের কৃত” বলে দেওয়া রয়েছে ।

অথ গব্যহরণং। (এই শিরোনামের এই গীতটি ৩য় শ্লোক।)

দধিমথননিনাদৈস্ত্যক্তনিদ্রঃ প্রভাতে
নিভৃতপদমগারং বল্লবীনাং প্রবিষ্টঃ।
মুখকমলসমীরৈরাশু নির্বাপ্য দীপান্
কবলিতনবনীতঃ পাতু মাং বাল-কৃষ্ণঃ॥
শ্রীশ্রীভগবতঃ॥

অনুবাদ -
অথ গব্যহরণ।
যিনি প্রভাতকালে দধিমন্থনের ধ্বনিতে জাগরিত হইয়া নিঃশব্দ-পদসঞ্চারে গোপিকাগণের গৃহে প্রবেশপূর্ব্বক মুখ-কমল-মারুতদ্বারা শীঘ্র দীপ নির্বাণ করিয়া নবনীত কবলিত করিয়াছিলেন, সেই বাল-কৃষ্ণ আপনাকে রক্ষা করুন॥
এই শ্লোক শ্রীশ্রীভগবানের কৃত॥
---রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন, পদ্যাবলী, পৃষ্ঠা-১৩৪॥

*************************************






*
সব্যে পাণৌ নিয়মিত-রবং কিঙ্কিণীদামধৃত্বা
পঞ্চদশ শতকে প্রকাশিত, রূপ গোস্বামী সংগৃহীত প্রাচীন বৈষ্ণব এবং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য-মহাপ্রভুর স্বকৃত শ্লোকসম্বলিত, ১৮৮২ সালে রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনুদিত, গ্রন্থ “পদ্যাবলী”-র, ১৩৪ পৃষ্ঠায় রচয়িতার নামের স্থানে “শ্রীশ্রীভগবতঃ” অর্থাৎ শ্রীশ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলে দেওয়া রয়েছে।

অথ গব্যহরণং। (এই শিরোনামের এই গীতটি ৪র্থ শ্লোক।)

সব্যে পাণৌ নিয়মিত-রবং কিঙ্কিণীদামধৃত্বা
কুব্জীভূয় প্রপদগতিভির্মন্দমন্দং বিহস্য।
অক্ষ্ণোর্ভঙ্গ্যা বিহসিতমুখীর্বারয়ন্ সম্মুখীনা
মাতুঃ পশ্চাদহরত হরির্জাতু হৈয়ঙ্গবীনং॥
শ্রীশ্রীভগবতঃ॥

অনুবাদ - অথ গব্যহরণ।
কোন দিবস শ্রীকৃষ্ণ বামহস্তে কিঙ্কিণীর রজ্জুধারণপূর্ব্বক শব্দনিবারণ করিয়া এবং সঙ্কুচিত-শরীরে পদাগ্রগতিদ্বারা মন্দ মন্দ হাস্য করিয়া তথা নেত্রভঙ্গীদ্বারা সম্মুখস্থা হাস্যমুখী গোপীগণকে নিবারণ করিয়া এবং মাতার পশ্চাদ্দিকে গিয়া নবনীত হরণ করিয়াছিলেন॥
এই শ্লোক শ্রীশ্রীভগবানের কৃত॥
---রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন, পদ্যাবলী, পৃষ্ঠা-১৩৪॥

*************************************