কবি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বৈষ্ণব পদাবলী
*
কবি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পরিচিতির পাতায় . . .
কানু পরশ-মণি আমার
সাধারণত আমারা শ্রীচৈতন্যর শিক্ষাষ্টকম্ এর সংস্কৃত শ্লোক্ বা গীতের সঙ্গে পরিচিত। তাঁর কোন বাংলা পদের প্রথম উল্লেখ আমরা পাই নবকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত “সঙ্গীত-মুক্তাবলী” গীত সংকলন গ্রন্থে। সেখানে একটিই পদের উল্লেখ রয়েছে তাও লোকমুখে প্রচলিত, অজ্ঞাত পদকর্তার পদ, যা শ্রীচৈতন্যের রচিত পদ বলে অনেকে মনে করতেন। এই গ্রন্থে পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কানু পরশ-মণি আমার।
কর্ণের ভূষণ আমার সে নাম শ্রবণ।
নয়নের ভূষণ আমার সেরূপ দরশন॥
বদনের ভূষণ আমার তার গুণ গান।
হস্তের ভূষণ আমার সে পদ সেবন॥
ভূষণ কি আর বাকি আছে।
আমি শ্রীকৃষ্ণ চন্দ্রহার পরিয়াছি গলে॥ @
. অজ্ঞাত।

@ - পাদটীকায় লেখা - এই গানটী চৈতন্য স্বয়ং রচনা করিয়াছিলেন কেহ কেহ এরূপ বলিয়া থাকেন।

এই পদটি ১৯২৭ সালে নবদ্বীপ ধাম থেকে প্রকাশিত, শ্রীপাদ হরিদাস গোস্বামী সম্পাদিত, মাসিক শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া-গৌরাঙ্গ পত্রিকার ১ম বর্ষ ১ম সংখ্যার ১৩-পৃষ্ঠায় ‘সংগৃহীত’, “শ্রীশ্রীমন্মহাপ্রভুর রচিত বাঙ্গালা পদ” ছোট প্রবন্ধে এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কানু পরশমণি আমার (ঐ)।
কর্ণের ভূষণ আমার সে নাম শ্রবণ।
নয়নের ভূষণ আমার সে রূপ দরশন॥
বদনের ভূষণ আমার তাঁর গুণ গান।
হস্তের ভূষণ আমার সে পদ সেবন॥
(আমার) ভূষণ কি বাকি আছে?
আমি শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র-হার পরিয়াছি গলে॥”


*************************************