কবি দীনবন্ধু দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
পহুঁ নিজ কাজে চলল নব রঙ্গিনী
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৩১৪ পদসংখ্যা।

॥ ধানসী ॥

পহুঁ নিজ কাজে                 চলল নব রঙ্গিনী
সঙ্গিনি সখিগণ মেল ।
বিদগধ নাহ                      গোঠ পরবেশল
সহচর জয় জয় দেল ॥
কানাই তুহুঁ পাগল অনুমানী ।
ঘোর গহন ইথি               একলি নিতি নিতি
কী ফল পৈঠহ জানী ॥
শ্যামর সকল                    অঙ্গ ভেল ঝামর
লাগল কন্টক আচোর ।
চিরদিন পুণ্য-                পুঞ্জ ফলে অব জনি
জীবন বাচল তোর ॥
তুয়া বিনে কাতর                 অবশ কলেবর
নয়ন আন্ধাওল মোর ।
সহচর মেলি                    কহত হরি হাসত
দীনবন্ধু-পহুঁ ভোর ॥

ই পদটি পুনরায় “সংকীর্ত্তনামৃতে” ৪৩০ পদসংখ্যায় এইরূপেই দেওয়া রয়েছে।

॥ ততঃ ॥

পহুঁ নিজ কাজে               চলল নব রঙ্গিণি
সঙ্গিনি সখীগণ মেল ।
বিদগধ নাহ                    গোঠ পরবেশল
সহচর জয় জয় দেল ॥
কানাই তুহুঁ পাগল অনুমানী ।
ঘোর গহন ইথি            কী ফল নিতি নিতি
একলি পৈঠহ জানি ॥
শ্যামর সকল                  অঙ্গ ভেল ঝামর
লাগল কন্টক আচোর ।
চিরদিন পুণ্য-             পুঞ্জ ফলে অব জনি
জীবন বাচল তোর ॥
তুয়া বিনে কাতর               অবশ কলেবর
নয়ন আন্ধাওল মোর ।
সহচর মেলি                    কহত হরি হাসত
দীনবন্ধু পহুঁ ভোর ॥


.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পিরিতি আদরে নাগরের কোরে
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ২৩৪ পদসংখ্যা।

পিরিতি আদরে               নাগরের কোরে
বসিঞা মনের সাধে ।
ভুখিল চকোর                      নয়ন যুগল
পড়িল বদন-চান্দে ॥
ধনী আলাল্য আনন্দ ভরে ।
ভাবে গদ গদ                   আধ আধ পদ
বচন কহিতে নারে ॥
নয়নের জল                      করে ছল ছল
ঢাকিল আখির তারা ।
অধনের ধন                      ও চান্দ-বদন
পাইঞা হইল হারা ॥
মুরুছা খাইঞা                    ধরণী পড়িঞা
কান্দিঞা কান্দিঞা বলে ।
অনেক সাধের                    পরাণ পুতলী
কে মোর হরিঞা নিলে ॥
মনের আগুন                     উঠিল দ্বিগুণ
কহিব কাহার কাছে ।
দীনবন্ধু বিনে                     এ তিন ভুবনে
কে মোর বেথিত আছে ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার প্রেমবৈচিত্ত্য
॥ ধানশ্রী॥

পিরীতি আদরে            নাগরের কোরে
বসিঞা মনের সাধে ।
ভুখিল চকোর                    নয়ন যুগল
পড়িল বদন-চান্দে ॥
ধনী আউলাল্য আনন্দ ভরে ।
ভাবে গদ গদ                 আধ আধ পদ
বচন কহিতে নারে ॥
নয়নের জল                   করে ছল ছল
ঢাকিল আঁখির তারা ।
অধনের ধন                    ও চান্দ-বদন
পাইঞা হইল হারা ॥
মুরুছা খাইঞা                 ধরণী পড়িঞা
কান্দিঞা কান্দিঞা বলে ।
অনেক সাধের                পরাণ পুতলী
কে মোর হরিঞা নিলে ॥
মনের আগুন                 উঠিল দ্বিগুণ
কহিব কাহার কাছে ।
দীনবন্ধু বিনে                এ তিন ভুবনে
কে মোর বেথিত আছে ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পুন পুন গোপি গোঠ-পথ হেরই
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৩১১ পদসংখ্যা।

॥ ধানসী ॥

পুন পুন গোপি                     গোঠ-পথ হেরই
তরুতলে ঝাপই দেহ ।
তৈখনে ক্ষণভ-                        ঙ্গুর মধুমঙ্গল
রোখি চলত নিজ গেহ ॥
সহচরি মনে মনে করি অনুমান ।
কবরি উতারি                  বিবিধ ফুল-মণ্ডিত
চূড়া করল বনান ॥
কটিতটে ছান্দি                  বান্ধি নিজ অম্বর
করি মধুমঙ্গল সাজ ।
বনে বনে বাহুড়ি                  গোকুল-পথ ধরি
মীলল গোঠসমাজ ॥
মধুমঙ্গল ফিরি                    আওল বলি বলি
ঘেরল গোপ গোঁয়ার ।
ছল চাতুরি করি                      মীলল সহচরি
কোই লখই নাহি পার ॥
হঠ চাতুরি করি                  মুরহর করে ধরি
পদ দুই করল পয়ান ।
শ্রুতিমুলে বদন                     দেই সমুঝাওল
রাইক মনসিজ কাম ॥
কপট বেশ ধরি                      আওল সহচরি
জানল রসময় নাহ ।
দীনবন্ধু মুখ                        হেরি পরম সুখ-
সাগরে করল বিহাগ ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দূতীর মধুমঙ্গলবেশে শ্রীকৃষ্ণের নিকট গমন
॥ ধানসী ॥

পুন পুন গোপি                    গোঠ-পথ হেরই
তরুতলে ঝাঁপই দেহ ।
তৈখনে ক্ষণ-                      ভঙ্গুর মধুমঙ্গল
রোখি চলত নিজ গেহ ॥
সহচরি মনে মনে করি অনুমান ।
কবরি উতারি                  বিবিধ ফুল-মণ্ডিত
চূড়া করল বনান ॥
কটিতটে ছান্দি                 বান্ধি নিজ অম্বর
করি মধুমঙ্গল সাজ ।
বনে বনে বাহুড়ি                গোকুল-পথ ধরি
মীলল গোঠসমাজ ॥
মধুমঙ্গল ফিরি                  আওল বলি বলি
ঘেরল গোপ গোঁয়ার ।
ছল চাতুরি করি                    মীলল সহচরি
কোই লখই নাহি পার ॥
হঠ চাতুরি করি                 মুরহর করে ধরি
পদ দুই করল পয়ান ।
শ্রুতিমুলে বদন                     দেই সমুঝায়ল
রাইক মনসিজ কাম ॥
কপট বেশ ধরি                     আওল সহচরি
জানল রসময় নাহ ।
দীনবন্ধু মুখ                       হেরি পরম সুখ-
সাগরে করল বিহাগ ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রিয় সহচরীর অঙ্গে অঙ্গ হেলাইঞা
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ১৮২ পদসংখ্যা।

॥ পাহিড়া ॥

প্রিয় সহচরীর অঙ্গে অঙ্গ হেলাইঞা ।
হা নাথ বলিঞা কান্দে করুণা করিঞা ॥
অনেক পুণ্যের ফলে মিলাওল বিধি ।
কে মোর হরিঞা নিলে শ্যাম গুণনিধি ॥
যশোমতী নন্দ ঘোষ কি বলিব তারে ।
কেমনে বিদায় দিল বনের ভিতরে ॥
কি করিব কোথা যাব কহ তা উপায় ।
পিয়া বিনু হিয়া মোর ধরণে না জায় ॥
দুরে রহুঁ কুলবতি ধৈরজ লাজ ।
দীনবন্ধু কহে পড়িল অকাজ ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া ॥

প্রিয় সহচরীর অঙ্গে অঙ্গ হেলাইঞা ।
হা নাথ বলিঞা কান্দে করুণা করিঞা ॥
অনেক পুণ্যের ফলে মিলাওল বিধি ।
কে মোর হরিঞা নিলে শ্যাম গুণনিধি ॥
যশোমতী নন্দ ঘোষ কি বলিব তারে ।
কেমনে বিদায় দিল বনের ভিতরে ॥
কি করিব কোথা যাব কহ তা উপায় ।
পিয়া বিনু হিয়া মোর ধরণে না যায় ॥
দুরে রহুঁ কুলবতি ধৈরজ লাজ ।
দীনবন্ধু কহে পড়িল অকাজ ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বংশী আর বার বাজিছে বনে
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৩২৮ পদসংখ্যা।

॥ ইমন কল্যাণ রাগ॥

বংশী আর বার বাজিছে বনে ।
শুনি মোর মন                      করে উচাটন
ভেঠিব শ্যামের সনে ॥
অবুধ মুরলী                     রাধা রাধা বলি
বিপিনে সদাই বাজে ।
গুরু গরবিত                      করিলে বেকত
শুনিঞা মরিএ লাজে ॥
খলের বদনে                     থাকিঞা যতনে
মধুর মধুর গায় ।
হাসিতে হাসিতে                  কুলের সহিতে
পরান লইতে চায় ॥
আমি চিরদিন                     পরের অধীন
জানিঞা না জানে বাঁশী ।
দীনবন্ধু ভণে                       চল সখী বনে
নিষেধ করিঞা আসি ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ইমন কল্যাণ॥

বংশী আর বার বাজে বনে ।
শুনি মোর মন                      করে উচাটন
ভেটিব শ্যামের সনে ॥
অবুধ মুরলী                     রাধা রাধা বলি
বিপিনে সদাই বাজে ।
গুরু গরবিত                      করিলে বেকত
শুনিঞা মরিএ লাজে ॥
খলের বদনে                     থাকিঞা যতনে
মধুর মধুর গায় ।
হাসিতে হাসিতে                  কুলের সহিতে
পরান লইতে চায় ॥
আমি চিরদিন                     পরের অধীন
জানিঞা না জানে বাঁশী ।
দীনবন্ধু ভণে                       চল সখী বনে
নিষেধ করিঞা আসি ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বধূর গমন বিলম্বে তখন
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ১৫৮ পদসংখ্যা।

॥ ধানশী ॥

বধূর গমন                        বিলম্বে তখন
জটিলা কুটিলমতি ।
যমুনার তটে                       কুঞ্জ নিকটে
চলিল তুরিতগতি ॥
বনে বনে আসি                 রাধাকুণ্ডে পশি
দেখিল শ্যামের কাছে ।
রাধা বিনোদিনী                    কুলকলঙ্কিণী
বধূ ডাড়াইঞা আছে ॥
অবুধ পাগলি                      নিজ বধূ বলি
ধরে সুবলের করে ।
সুবলের বেশে                    রাধিকা তরাসে
পলাইল নিজ ঘরে ॥
লোহিত লোচন                       কঠিন বচন
সঘন তাজনী তাজে ।
দীনবন্ধু বলে                        ধরি সুবলেরে
আনিল গোকুল মাঝে ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জটিলা ও রাধাবেশধারী সুবল
॥ ধানশী ॥

বধূর গমন                        বিলম্বে তখন
জটিলা কুটিলমতি ।
যমুনার তটে                       কুঞ্জ নিকটে
চলিল তুরিত গতি ॥
বনে বনে আসি                 রাধাকুণ্ডে পশি
দেখিল শ্যামের কাছে ।
রাধা বিনোদিনী                    কুলকলঙ্কিণী
বধূ ডাড়াইঞা আছে ॥
অবুধ পাগলি                     নিজ বধূ বলি
ধরে সুবলের করে ।
সুবলের বেশে                   রাধিকা তরাসে
পলাইল নিজ ঘরে ॥
লোহিত লোচন                       কঠিন বচন
সঘন তাজনী তাজে ।
দীনবন্ধু বলে                       ধরি সুবলেরে
আনিল গোকুল মাঝে ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বনে বনে আসি কুণ্ড পরবেশল
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ১৫৭ পদসংখ্যা।

॥ তথারাগ ॥

বনে বনে আসি                  কুণ্ড পরবেশল
সুবল বিনোদিনী সাজে ।
লহুঁ লহুঁ হাসি                   আসি পহুঁ মীলল
ধনি অবনতমুখ লাজে ॥
রাইক হৃদয়                    জানি পহুঁ মাধব
বিদগধ রসিক সুজান  ।
সুবলেরে পুছই                 সকল শুভ মঙ্গল
দিঞা আলিঙ্গন দান ॥
গমনাবধি পুন                       কুণ্ড সমাগম
সুবল কহল শুভবাণী  ।
মল্লিক মাল                    গাথি পহুঁ রসবতি
সুবলে পরাওল আনি ॥
মন্দির গমন                     শমন সম মানই
জর জর কাতর দেহ ।
দীনবন্ধু কহে                  বিরহ বিপদ ভয়ে
বিছুরল পরিজন গেহ ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

বনে বনে আসি                  কুণ্ড পরবেশল
সুবল বিনোদিনী সাজে ।
লহু লহু হাসি                    আসি পহুঁ মীলল
ধনি অবনতমুখ লাজে ॥
রাইক হৃদয়                     জানি পহুঁ মাধব
বিদগধ রসিক সুজান  ।
সুবলেরে পুছই                 সকল শুভ মঙ্গল
দিঞা আলিঙ্গন দান ॥
গমনাবধি পুন                      কুণ্ড সমাগম
সুবল কহল শুভবাণী  ।
মল্লিক মাল                   গাঁথি পহুঁ রসবতি
সুবলে পরাওল আনি ॥
মন্দির গমন                     শমন সম মানই
জর জর কাতর দেহ ।
দীনবন্ধু কহে                   বিরহ বিপদ ভয়ে
বিছুরল পরিজন গেহ ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বনে বনে করত বিহার
ভণিতা দিনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ১৪৩ পদসংখ্যা।

বনে বনে করত বিহার ।
আনন্দের নাহি পার ॥
ফল ফুল বিকসিত কুঞ্জে ।
ভ্রমরা ভ্রমরীগণ গুঞ্জে ॥
কনকলতা অবলম্ব ।
বিকসিত কুসুম-কদম্ব ॥
হেরইতে নাগর কাহ্ন ।
রাই রমণী ভেল ভাণ ॥
যব দাড়িম ফল হেরি ।
নিজ করে ধরে কত বেরি ॥
চুম্বই বান্ধলি ফুল ।
ঘন ঘন খসই দুকূল ॥
রাধা সঙ্গম আশে ।
ঘন লখই চারি পাশে ॥
আকুল গোকুল ইন্দু ।
সংগতি চলু দিনবন্ধু ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের বনবিহার
রাধাসমৃতি
॥ তথারাগ॥

বনে বনে করত বিহার ।
আনন্দের নাহি জনু পার ॥
ফল ফুল বিকসিত কুঞ্জে ।
ভ্রমরা ভ্রমরীগণ গুঞ্জে ॥
কনকলতা অবলম্ব ।
বিকসিত কুসুম-কদম্ব ॥
হেরইতে নাগর কান ।
রাই রমণী ভেল ভান ॥
যব দাড়িম ফল হেরি ।
নিজ করে ধরে কত বেরি ॥
চুম্বই বান্ধলি ফুল ।
ঘন ঘন খসই দুকূল ॥
রাধা সঙ্গম আশে ।
ঘন লখই চারি পাশে ॥
আকুল গোকুল ইন্দু ।
সংগতি চলু দীনবন্ধু ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বনে যত দুখ সেহো মোর সুখ
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৩২২ পদসংখ্যা।

বনে যত দুখ                  সেহো মোর সুখ
তোমা সভাকার সনে ।
তোমার পিরিতি               আদর আরতি
তেঁই সে আসিএ বনে ॥
ভাই প্রেমের অধীন আমি ।
নিতি নিতি যাঞা              মায়েরে কহিঞা
গোঠেরে আনিহ তুমি ॥
আমি মনে মনে                   শয়নে সপনে
এ বড় বিপদ মানি ।
আমারে ছাড়িঞা              পাছে ধেনু লঞা
গোঠেরে আস্যহ জানি ॥
তোমা সভা লঞা                বনে বেড়াইঞা
যত সুখ মোর হয় ।
দীনবন্ধু বলে                      শত মুখ হল্যে
তবহুঁ কহিল নয় ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ তথারাগ॥

বনে যত দুখ                  সেহো মোর সুখ
তোমা সভাকার সনে ।
তোমার পিরিতি                আদর আরতি
তেঁই সে আসিএ বনে ॥
ভাই প্রেমের অধীন আমি ।
নিতি নিতি যাঞা               মায়েরে কহিঞা
গোঠেরে আনিহ তুমি ॥
আমি মনে মনে                    শয়নে সপনে
এ বড় বিপদ মানি ।
আমারে ছাড়িঞা              পাছে ধেনু লঞা
গোঠেরে আস্যহ জানি ॥
তোমা সভা লঞা               বনে বেড়াইঞা
যত সুখ মোর হয় ।
দীনবন্ধু বলে                    শত মুখ হল্যে
তবহুঁ কহিল নয় ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বন্ধু কি আর বলিব তোরে
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ১২৫ পদসংখ্যা।

সুই

বন্ধু কি আর বলিব তোরে ।
এ তিন ভুবনে                    আর কেহো নাহিঁ
দয়া না ছাড়িহ মোরে ॥
জাতি কুল শীল                      ছাড়িঞা সকল
তোমার হইলাম আমি ।
জনমে জনমে                          জীবনে মরণে
প্রাণনাথ হয়্য তুমি ॥
আমার পরাণে                        তোমার চরণে
একুই করিঞা বাসি ।
নিশ্চয়ে জানিহ                          জনমের মত
হইলাম তোমার দাসী ॥
শয়নে স্বপনে                         তোমাধন বিনে
আর কিছু নাহিঁ জানি ।
অকিঞ্চনে বিধি                        মিলাওল নিধি
দেখিলে এমতি মানি ॥
মন-সুত দিঞা                        তোমা গুণনিধি
গলাএ গাথিঞা নিব ।
দীনবন্ধু ভণে                           জীবনে মরণে
আর কি ছাড়িঞা দিব ॥

ই পদটি পুনরায় “সংকীর্ত্তনামৃতে” ১৭৪ পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই ॥

বন্ধু কি আর বলিব তোরে ।
এ তিন ভুবনে                   আর কেহো নাহি
দয়া না ছাড়িহ মোরে ॥
জাতি কুল শীল                     ছাড়িঞা সকল
তোমার হইলাম আমি ।
জনমে জনমে                        জীবনে মরণে
প্রাণনাথ হয়্য তুমি ॥
আমার পরাণে                     তোমার চরণে
একুই করিঞা বাসি ।
নিশ্চএ জানিহ                        জনমের মত
হইলাম তোমার দাসী ॥
শয়ন সপনে                      তোমা ধন বিনে
আর কিছু নাহি জানি ।
অকিঞ্চনে বিধি                     মিলাওল নিধি
দেখিলে এমতি মানি ॥
মন সুত করি                      তোমা গুণনিধি
গলাএ গাথিঞা নিব ।
দীনবন্ধু ভণে                        জীবনে মরণে
আর কি ছাড়িঞা দিব ॥


.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর