কবি দীনবন্ধু দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
বন্ধু তোমার কথায়
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৯৮ পদসংখ্যা।

॥ ধানসী॥

বন্ধু! তোমার কথায় বিকাইলাম আমি।
প্রেম দড়াইতে                          কবজ চাহিলাম
নফর হইলে তুমি॥
তুমি রসময়                                 সরল হৃদয়
নিছনি লইঞা মরি।
ও চান্দ-মুখের                             বচন শুনিঞা
পরাণ ধরিতে নারি॥
আমি বলাহক                          তুমি সে চাতক
বুঝিঞা ভাঙ্গিল ধান্দা।
দুখ দুরে গেল                           এত দিনে হল্য
পরাণে পরাণ বান্ধা॥
আমরা সকল                             অবলা অখল
তোমারে সোপিলুঁ দেহ।
দীনবন্ধু ভণে                              জীবনে মরণে
তুমি না ছাড়িহ লেহ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার আত্মনিবেদন
॥ ধানশী॥

বন্ধু তোমার কথায় বিকাইলাম আমি।
প্রেম দঢ়াইতে                          কবজ চাহিলাম
নফর হইলে তুমি॥
তুমি রসময়                                সরল হৃদয়
নিছনি লইঞা মরি।
ও চান্দ-মুখের                            বচন শুনিঞা
পরাণ ধরিতে নারি॥
আমি বলাহক                          তুমি সে চাতক
বুঝিঞা ভাঙ্গিল ধান্দা।
দুখ দুরে গেল                            এত দিনে হল্য
পরাণে পরাণে বান্ধা॥
আমরা সকল                             অবলা অখল
তোমারে সোঁপিলুঁ দেহ।
দীনবন্ধু ভণে                             জীবনে মরণে
তুমি না ছাড়িহ লেহ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বসিঞা বিনোদ ঢালি পাতিঞা যতনে
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ২২১ পদসংখ্যা।

॥ ধানশী ॥

বসিঞা বিনোদ ঢালি পাতিঞা যতনে ।
রাই কানু পাশা খেলে উলসিত মনে ॥
ললিতা বিশাখা আদি যত সখীগণ ।
মদন করিঞা সাখী দঢ়াইল পণ ॥
নব নব বলি দান পেলে বনমালী ।
দুদুয়া বলিঞা ডাকে লবঙ্গমঞ্জরী ॥
পাশাএ হারিল হরি সহচরি মেলি ।
কাঢ়িঞা লইল শ্যামের মোহন মুরলী ॥
দশ দশ বলি ধনী পেলাইল পাটি ।
না পড়িল দশ ছলে উঠাইল গুটি ॥
বলে ছলে কাচলি কাঢ়িঞা নিল হরি ।
সময় বুঝিঞা দূরে গেল সহচরী ॥
দীনবন্ধু দাস কহে রতিরসরাজ ।
বিদগধ বিরলে সাধিল নিজ কাজ ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিদগধ নাহ চলল নিজ মন্দির
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৪১০ পদসংখ্যা।

॥ ধানশ্রী ॥

বিদগধ নাহ                   চলল নিজ মন্দির
রাই অনাদর জানি ।
সহচরি হেরি                  গোরি পহুঁ রোখহিঁ
হঠ করি কহতহিঁ বাণি ॥
মানিনি তুহুঁ বড় কঠিন পরাণ ।
বিনি অপরাধে                  উপেখলি মাধবে
পিরিত রীত নাহিঁ জান ॥
যাকর দরশ-                   পরশ-রস লালসে
তেজলি কুল ভয় মান ।
সো তুয়া পদ ধরি               ধরণি লোটাওল
না হেরলি চান্দ বয়ান ॥
না বুঝিএ কো বিহি              কুমতি ঘটাওল
অতএ কয়লি অভিমান ।
সহচরি দীন-                    বন্ধু কহে মানিনি
মরণ শরণ পরিণাম ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিনি অপরাধে উপেখলি পুন পুন
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৩৯০ পদসংখ্যা।

॥ ধানশ্রী ॥

বিনি অপরাধে                 উপেখলি পুন পুন
রসময় নাগর কাহ্ন ।
রসবতি নাম                   ভুবন ভরি ঘোষই
খোয়বি সো অভিমান ॥
সুন্দরি আপহিঁ করহ বিচার ।
শরণাগত জন                     যো পুন তেজই
কী ফল জীবন তার ॥
মদন ধুনার-                       বাণভয় আকুল
চরণ শরণ পহুঁ তোর ।
কেবল অভয়                      দান দেই রাখহ
কাতর নন্দকিশোর ॥
শ্যেন-ভয়াতুর                   কপোত রাখি পুন
ধরমধারি শিবি রাজা ।
নিজ তনু কাটি                 তৌল করি দেওল
জগ ভরি পাওল পূজা ॥
তুহুঁ যদি মান-                 ভরমে অব রোখবি
ছোড়বি বিদগধ কাহ্ন ।
সহচরি দীন-                      বন্ধু ভম কো পুন
দেওব জীবনদান ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিনি গুণ পরখি পিরিতি করি সাধ
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ৩৯৩ পদসংখ্যা।

॥ ধানশ্রী॥

বিনি গুণ পরখি পিরিতি করি সাধ ।
পহিলহিঁ ঐছে পড়ল পরমাদ ॥
পুন যদি নাহ করবি তুহুঁ লেহ ।
অবিচল প্রেম কবজ লিখি দেহ ॥
মঝু গুণ নহি বিছুরবি তিল আধ ।
তেজবি আন যুবতি-রতিসাধ ॥
নিতি নিতি সহবি লাখ অপমান ।
দোখে রোখি নহি করবি পয়ান ॥
ঐছন খত যব দেওবি মোয় ।
তব আপন করি জানব তোয় ॥
সহচরি দীনবন্ধু পরমাণ ।
দঢ় করি করিব পিরিতি পরিণাম ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিপিনে ভরল অতি মনোহর
ভণিতা দীনবন্ধু দাস
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ১৫২ পদসংখ্যা।

॥ ধানশ্রী ॥

বিপিনে ভরল                 অতি মনোহর
রাইর অঙ্গের গন্ধ ।
চকিত নয়নে                  দশ দিশ পানে
হেরই গোকুলচন্দ্র ॥
নাগরের অধিক বাঢ়ল সাধা ।
সুবলের সনে                    নিকুঞ্জ ভবনে
অবহি মীলব রাধা ॥
ভাবিতে ভাবিতে               জাবটের পথে
রাইরে দেখিল একা ।
মনে অনুমানে                   রসবতী বিনে
আইল সুবল সখা ॥
বরণ বয়স                      সুবলের বেশ
কিছুই নাহিক ভেদ ।
সুবল ফিরিঞা                  আইল বলিঞা
দ্বিগুণ বাঢ়িল খেদ ॥
নয়নের জল                      করে ছল ছল
বিনয় করিঞা বলে ।
অভিমান করি                না আল্য সুন্দরী
কি দোষে ছাড়িল মোরে ॥
শ্যামের পিরিতি               আদর আরতি
বুঝিতে কুলের বালা ।
মনের কৌতুকে                 অবনত মুখে
রহিল করিঞা ছলা ॥
রসিক নাগর                  না পাঞা উত্তর
পড়িল ধরণীতলে ।
রসিক নাগরী                   দু বাহু পসারি
বব্ধুরে করিল কোরে ॥
অঙ্গের পরশে                রসের আবেশে
ভাঙ্গিল মনের ধন্দ ।
অনেক দিনের                  ভুখিল চকোর
পাইল শারদ চন্দ্র ॥
রাধার অধর                     সুধার সাগর
নাগর করএ পান ।
আনন্দের ভরে                আপনা না ধরে
দীনবন্ধু দাস গান ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মিলন
॥ ধানশ্রী ॥

বিপিনে ভরল                 অতি মনোহর
রাইর অঙ্গের গন্ধ ।
চকিত নয়নে                  দশ দিশ পানে
হেরই গোকুলচন্দ্র ॥
নাগরের অধিক বাঢ়ল সাধা ।
সুবলের সনে                    নিকুঞ্জ ভবনে
অবহি মীলব রাধা ॥
ভাবিতে ভাবিতে              জাবটের পথে
রাইরে দেখিল একা ।
মনে অনুমানে                  রসবতী বিনে
আইল সুবল সখা ॥
বরণ বয়স                     সুবলের বেশ
কিছুই নাহিক ভেদ ।
সুবল ফিরিঞা                 আইল বলিঞা
দ্বিগুণ বাঢ়িল খেদ ॥
নয়নের জল                      করে ছল ছল
বিনয় করিঞা বলে ।
অভিমান করি                না আল্য সুন্দরী
কি দোষে ছাড়িল মোরে ॥
শ্যামের পিরীতি                আদর আরতি
বুঝিতে কুলের বালা ।
মনের কৌতুকে                   অবনত মুখে
রহিল করিঞা ছলা ॥
রসিক নাগর                   না পাঞা উত্তর
পড়িল ধরণীতলে ।
রসিক নাগরী                   দু বাহু পসারি
বব্ধুরে করিল কোরে ॥
অঙ্গের পরশে                 রসের আবেশে
ভাঙ্গিল মনের ধন্দ ।
অনেক দিনের                    ভুখল চকোর
পাইল শারদ চন্দ্র ॥
রাধার অধর                      সুধার সাগর
নাগর করএ পান ।
আনন্দের ভরে                আপনা না ধরে
দীনবন্ধু দাস গান ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিবিধ মিঠাই নবনী নব ক্ষির সর
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ২১৪ পদসংখ্যা।

॥ ধানশী ॥

বিবিধ মিঠাই              নবনী নব ক্ষির সর
নেয়ল গুরুজনে মাগি ।
সহচরি সঙ্গে                    রঙ্গে চলু কানন
গৌরি আরাধন লাগি ॥
সুন্দরি বনে বনে করল পয়ান ।
জয় জয় শঙ্খ-                শবদ ঘন কলরব
শুক পিক নিন্দিত গান ॥
মঙ্গল ঘোর                     শবদ শুনি মাধব
রাই দরশ রস আশে ।
ছল করি সহচর                  সঙ্গতি পরিহরি
মীলল রসবতি পাশে ॥
দুহুঁ মুখ হেরি               দুহুঁক অতি কৌতুক
যৌতুক লহুঁ লহুঁ হাস ।
দীনবন্ধু ভণ                     নয়নে নয়নে পুন
কত আদর পরকাশ ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিহানে উঠিঞা জেই ডাড়াইলাম পথে
ভণিতা দীনবন্ধুদাস
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ৬৩ পদসংখ্যা।

॥ ধানসী ॥

বিহানে উঠিঞা জেই ডাড়াইলাম পথে ।
আসি এক গোয়ালিনী ধরিলেক হাথে ॥
হাসিঞা গোপিনী সব কাল কাল বল্যা ।
অপমান কব়্যা কত গাএ দিলে ধূলা ॥
ঢাকিঞা ক্ষীরের নাড়ু রাখিঞা আচলে ।
বারে বারে দেখাইঞা ধর ধর বলে ॥
ক্ষীর সর নবনী যাচাঞা দিঞা মোরে ।
চোর বল্যা কেহো কেহো বান্ধে দুটি করে ॥
মা বল্যা ডাকিতে চাহি মনে ভয় পাঞা ।
খরতর ধরে মুখ বসনে ঝাপিঞা ॥
কেহো কেহো ধরে মোর ধড়ার আচলে ।
শুনি দীনবন্ধুদাস ভাসে প্রেমজলে ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ ধানশী॥

বিহানে উঠিঞা জেই ডাঁড়াইলাম পথে ।
আসি এক গোয়ালিনী ধরিলেক হাথে ॥
হাসিঞা গোপিনী সব কাল কাল বল্যা ।
অপমান কব়্যা কত গাএ দিলে ধূলা ॥
ঢাকিঞা ক্ষীরের নাড়ু রাখিঞা আঁচলে ।
বারে বারে দেখাইঞা ধর ধর বলে ॥
ক্ষীর সর নবনী যাচাঞা দিঞা মোরে ।
চোর বল্যা কেহো কেহো বান্ধে দুটি করে ॥
মা বল্যা ডাকিতে চাহি মনে ভয় পাঞা ।
খরতর ধরে মুখ বসনে ঝাঁপিঞা ॥
কেহো কেহো ধরে মোর ধড়ার আঁচলে ।
শুনি দীনবন্ধুদাস ভাসে প্রেমজলে ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ব্রজ-রমণীগণ তেজল লাজ
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ১২ পদসংখ্যা।

॥ ধানশ্রী ॥

ব্রজ-রমণীগণ তেজল লাজ ।
ধাওল নন্দমহল গৃহমাঝ ॥
বিগলিত কুন্তল অঞ্চল বাস ।
চকিত বিলোকন গদ গদ ভাষ ॥
হেরই নন্দতনয়-মুখচন্দ্র ।
দীঠি পাওল পহুঁ চিরদিন অন্ধ ॥
আদরে সাধ রমণি কর পাতি ।
যদুমণি মাগি ধরত নিজ ছাতি ॥
চুম্বন অধরসুধা করু পান ।
কর গহি দেই আলিঙ্গন দান ॥
দীনবন্ধু পহুঁ পূরল সাধ ।
ভুকিল চকোর যেন পাওল চান্দ ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী ॥

ব্রজ-রমণীগণ তেজল লাজ ।
ধাওল নন্দমহল গৃহমাঝ ॥
বিগলিত কুন্তল অঞ্চল বাস ।
চকিত বিলোকন গদ গদ ভাষ ॥
হেরই নন্দতনয়-মুখচন্দ ।
দীঠি পাওল পুন চিরদিন অন্ধ ॥
আদরে সাধ রমণি কর পাতি ।
যদুমণি মাগি ধরত নিজ ছাতি ॥
চুম্বনে অধরসুধা করু পান ।
কর গহি দেই আলিঙ্গন দান ॥
দীনবন্ধু পহুঁ পূরল সাধ ।
ভুখিল চকোর যেন পাওল চান্দ ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ব্রজের গোপিনীগণ আনন্দে আকুল মন
ভণিতা দীনবন্ধুদাস
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৬৮ পদসংখ্যা।

ধানসী

ব্রজের গোপিনীগণ                    আনন্দে আকুল মন
উপনীত যশোদার ঘরে ।
দেখিঞা গোকুলচন্দ্র                     মনে মনে করি ছন্দ
হাসিতে হাসিতে কিছু বলে ॥
হেদে রাণি বারে বারে             কেনে গো কান্দাছ্য আর
অনেক সাধের নীলমণি ।
এ ক্ষীর নবনী সর                   করে দিঞা কোলে কর
আখ্যে থোল্যে যুড়াবে পরানি ॥
হঞাছে ক্ষুধার বেলা                শ্রী অঙ্গে লাগ্যাছে ধুলা
দেখ্যা ছল ছল করে আখি ।
হেন আমি মনে করি                    লইঞা তোমার হরি
বসনে ঢাকিঞা কোলে রাখি ॥
এহেন রতন মণি                         ধুলাএ রাখ্যাছ তুমি
কি তোর কব়্যাছে অপরাধ ।
লঞা জাই নিজ ঘরে                   লুনি দিঞা দুটি করে
পূরিব মনের নিজ সাধ ॥
নিতি জাঞা মোর ঘরে                 কত না জঞ্জাল করে
পরিজন মানে কত দুখ ।
হৃদয়ে পাইঞা বেথা                     কহিতে চাহিএ কথা
পাসরিএ দেখ্যা চান্দমুখ ॥
হেদে রে চান্দের কোনা                    কি ধন নবনী ছেনা
কিসের লাগিঞা কান্দ তুমি ।
দীনবন্ধু দাস বলে                    আস্য আস্য করি কোলে
তোরে দিব পরান নিছনি ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর