কবি দীনবন্ধু দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
রাইর পিরিতি আদর আরতি
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ২৩৬ পদসংখ্যা।

॥ ধানশী ॥

রাইর পিরিতি                     আদর আরতি
দেখিঞা লাগিল ধন্দ।
মানের ভরমে                     ধরিঞা চরণে
আকুল গোকুলচন্দ॥
নাগর কান্দিতে কান্দিতে বলে।
আচম্বিতে আসি                মোর কোলে বসি
অচেতন কেনে হল্যে॥
জনমে জনমে                       জীবনে মরণে
তোমার নফর আমি।
বিরহ আনলে                     তেজিব পরাণ
পিরিতি ভাঙ্গিলে তুমি॥
উঠ উঠ ধনি                         চরণ দুখানি
ধরহ আমার মাথে।
দীনবন্ধু বলে                        রাই পদতলে
যুড়িঞা যুগল হাথে ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কৃষ্ণের মিনতি
॥ ধানশী ॥

রাইর পিরীতি                     আদর আরতি
দেখিঞা লাগিল ধন্দ।
মানের ভরমে                       ধরিঞা চরণে
আকুল গোকুলচন্দ॥
নাগর কান্দিতে কান্দিতে বলে।
আচম্বিতে আসি                 মোর কোলে বসি
অচেতন কেনে হল্যে॥
জনমে জনমে                       জীবনে মরণে
তোমার নফর আমি।
বিরহ আনলে                      তেজিব পরাণ
পিরীতি ভাঙ্গিলে তুমি॥
উঠ উঠ ধনি                          চরণ দুখানি
ধরহ আমার মাথে।
দীনবন্ধু বলে                         রাই পদতলে
যুড়িঞা যুগল হাথে ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাইর বচনে উলসিত মনে
ভণিতা দীনবন্ধু দাস
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ২৭৭ পদসংখ্যা।

॥ তথা রাগ ॥

রাইর বচনে                    উলসিত মনে
নাখানি আনিল তটে ।
সহচরি মেলি                  দিঞা হুঁলাহুলি
আসিঞা নামিল ঘাটে ॥
ধনী রঙ্গিয়া বড়াই সাথে ।
নাএর উপরে                    চাপিল সকলে
ধরিঞা শ্যামের হাথে ॥
অঙ্গের পরশে                 রসের আবেশে
অবশ দোঁহার গা ।
রসের পাথারে                যাইঞা সাতারে
টলবল করে না ॥
ভয়ে সখীগণ                       মুদিল নয়ন
ঝাপিল যুগল করে ।
কাপিতে কাপিতে              ধনী আচম্বিতে
ধরিল শ্যামের গলে ॥
রসিক নাগর                   করিঞা আদর
ধরিল হিয়ার মাঝে ।
ঘাঘর ঘুংঘুর                     রতন নূপুর
মধুর মধুর বাজে ॥
ভাসিঞা ভাসিঞা            তরণী আসিঞা
নাগিল নদীর তটে ।
সহচরি মেলি                     নাগর নাগরি
নাহিঞা উঠিল ঘাটে ॥
দধি ক্ষীর সর                  আনিঞা সকল
ভোজন করিল সুখে ।
দীনবন্ধু দাস                    লঞা অবশেষ
তাম্বুল যোগায় মুখে ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নৌকাবিলাস
শ্রীরাধাকৃষ্ণ ও সখীর উক্তি-প্রত্যুক্তি
॥ তথারাগ ॥

রাইর বচনে                      উলসিত মনে
না-খানি আনিল তটে ।
সহচরি মেলি                    দিঞা হুলাহুলি
আসিঞা নামিল ঘাটে ॥
ধনী রঙ্গিয়া বড়াই সাথে ।
নাএর উপরে                    চাপিল সকলে
ধরিঞা শ্যামের হাথে ॥
অঙ্গের পরশে                 রসের আবেশে
অবশ দোঁহার গা ।
রসের পাথারে                 যাইঞা সাঁতারে
টলবল করে লা ॥
ভয়ে সখীগণ                        মুদিল নয়ন
ঝাঁপিল যুগল করে ।
কাঁপিতে কাঁপিতে               ধনী আচম্বিতে
ধরিল শ্যামের গলে ॥
রসিক নাগর                    করিঞা আদর
ধরিল হিয়ার মাঝে ।
ঘাঘর ঘুংঘুর                      রতন নূপুর
মধুর মধুর বাজে ॥
ভাসিঞা ভাসিঞা             তরণী আসিঞা
নাগিল নদীর তটে ।
সহচরি মেলি                     নাগর নাগরি
নাহিঞা উঠিল ঘাটে ॥
দধি ক্ষীর সর                  আনিঞা সকল
ভোজন করিল সুখে ।
দীনবন্ধু দাস                    লঞা অবশেষ
তাম্বুল যোগায় মুখে ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাম কানাই আসিঞা কালিন্দীতীরে রে
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ১৩৯ পদসংখ্যা।

॥ সারঙ্গ ॥

রাম কানাই আসিঞা কালিন্দীতীরে রে ।
বসন রাখিঞা                   ঝাপিঞা ঝাপিঞা
কালিন্দীর জলে গিরে রে ॥
উঠি উঠি পুন                          পড়ই সঘন
কলরব করি হাসে রে ।
হুলাহুলি দিঞা                     সাতার বাহিঞা
কালিন্দীর জলে ভাসে রে ॥
পরশ পাইঞা                        উলসিত হঞা
যমুনা উজান ধরে রে ।
অখিলের পতি                     পাঞা পুণ্যবতী
ভাসিল আনন্দজলে রে ॥
তটে ধেনুগণ                        আনন্দে মগন
দেখিঞা খেলার বিধি রে ।
দীনবন্ধু বলে                       কত পুণ্যফলে
যমুনা হইল নদী রে ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রামকৃষ্ণের জলক্রীড়া
॥ সারঙ্গ ॥

রাম কানাই আসিঞা কালিন্দীতীরে রে ।
বসন রাখিঞা                 ঝাঁপিঞা ঝাঁপিঞা
কালিন্দীর জলে গিরে রে ॥
উঠি উঠি পুন                        পড়ই সঘন
কলরব করি হাসে রে ।
হুলাহুলি দিঞা                  সাঁতার বাহিঞা
কালিন্দীর জলে ভাসে রে ॥
পরশ পাইঞা                     উলসিত হঞা
যমুনা উজান ধরে রে ।
অখিলের পতি                   পাঞা পুণ্যবতী
ভাসিল আনন্দনীরে রে ॥
তটে ধেনুগণ                       আনন্দে মগন
দেখিঞা খেলার বিধি রে ।
দীনবন্ধু বলে                     কত পুণ্যফলে
যমুনা হইল নদী রে ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
লাগল কুদিন বুঝই নাহি পারলোঁ
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৪২৮ পদসংখ্যা।

॥ ধানশ্রী ॥

লাগল কুদিন                     বুঝই নাহি পারলোঁ
ঐছন রস পরিণাম ।
তাকর মান-                   ভরমে হাম রোখলো
চিরদিনে বিধি ভেল বাম ॥
সজনী দারুণ মান-ভুজঙ্গ ।
রতন-হার বলি                        হৃদয়ে চঢ়াওলু
গরলে ভরল সব অঙ্গ ॥
তুয়া কর-পল্লবে                     জীবন সোঁপলোঁ
তুহুঁ সমুঝাওবি রাধা ।
অবিচল প্রেম-                        পন্থ দরশাওবি
পূরবি মনসিজ সাধা ॥
তব কিঙ্কর বলি                     খথ লিখি দেওব
নব নব রঙ্গিনি ঠাম ।
জীবনে মরণে                    তোহারি গুণ গাওব
দীনবন্ধু পরমান ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শচীর মন্দিরে আসি অকলঙ্ক পূর্ণশশী
ভণিতা দীনবন্ধু দাস
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৭ পদসংখ্যা।

॥ ধানশ্রী ॥

শচীর মন্দিরে আসি                অকলঙ্ক পূর্ণশশী
উদয় করিল মহিমাঝে ।
গ্রহণ করিঞা ছলা                সকলঙ্ক ষোলকলা
চান্দ নুকাইল বড় লাজে ॥
আনন্দে নদীয়া ভেল ভোর ।
পুণ্যের সময় পাঞা                নানা ধন বিলাইঞা
সভাই বলএ হরিবোল ॥
নদিয়া নাগরী যত               আনন্দে আন্ধল চিত
শচীর মন্দিরে উপনীত ।
গোরাচান্দ-মুখ দেখি              প্রেমে ছল ছল আখি
উপজিল নিগূঢ় পিরিত ॥
দুটি বাহু পসারিঞা            নিজ নিজ কোলে লঞা
চুম্ব দিল বদনকমলে ।
দীনবন্ধু দাসে বলে                  শচীর নন্দন মিলে
অনেক দিনের পুণ্যের ফলে ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের জন্মলীলা
॥ ধানশ্রী॥

শচীর মন্দিরে আসি                অকলঙ্ক পূর্ণশশী
উদয় করিল মহিমাঝে।
গ্রহণ করিঞা ছলা                সকলঙ্ক ষোলকলা
চান্দ নুকাইল বড় লাজে॥
আনন্দে নদীয়া ভেল ভোর।
পুণ্যের সময় পাঞা                নানা ধন বিলাইঞা
সভাই বলএ হরিবোল॥
নদিয়া নাগরী যত               আনন্দে আন্ধল চিত
শচীর মন্দিরে উপনীত।
গোরাচান্দ-মুখ দেখি              প্রেমে ছল ছল আঁখি
উপজিল নিগূঢ় পিরীত॥
দুটি বাহু পসারিঞা            নিজ নিজ কোলে লঞা
চুম্ব দিল বদনকমলে।
দীনবন্ধু দাসে বলে                  শচীর নন্দন মিলে
অনেক দিনের পুণ্যেফলে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শশিমুখি তেজি সরল দিঠি ভঙ্গিম
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ২২ পদসংখ্যা।

॥ ধানশ্রী রাগ ॥

শশিমুখি তেজি                    সরল দিঠি ভঙ্গিম
ইবে ভেল বঙ্কিম দীঠ ।
মতি গতি চঞ্চল                        হসই মনোহর
বচন সুধা সম মীঠ ॥
সজনী কাহা ধনি শীখল রঙ্গ ।
কুচযুগ দরশি                      হরসি পুন আদরে
ঘন ঘন ঝাপই অঙ্গ ॥
সহচরি করে ধরি                   কৈতবে ছল করি
পূছই রতিরস ভাতি ।
মনসিজ সাধে                         আধ পুন হাসই
মদনমদালসে মাতি ॥
তিলে কত বেরি                     খসই নিবিবন্ধন
বিগলিত কুন্তল পাশ ।
দীনবন্ধু ভন                          নিরখি নাহ মন
মনমথ জেন পরকাশ ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার বয়ঃসন্ধি
॥ ধানশ্রী॥

শশিমুখি তেজি                     সরল দিঠি ভঙ্গিম
ইবে ভেল বঙ্কিম দীঠ ।
মতি গতি চঞ্চল                          হসই মনোহর
বচন সুধা সম মীঠ ॥
সজনী কাহা ধনি শীখল রঙ্গ ।
কুচযুগ দরশি                        হরষি পুন আদরে
ঘন ঘন ঝাঁপই অঙ্গ ॥
সহচরি করে ধরি                     কৈতবে ছল করি
পূছই রতিরস ভাতি ।
মনসিজ সাধে                           আধে পুন হাসই
মদন মদালসে মাতি ॥
তিলে কত বেরি                        খসই নিবিবন্ধন
বিগলিত কুন্তলপাশ ।
দীনবন্ধু ভণ                              নিরখি নাহ মন
মনমথ জেন পরকাশ ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুনইতে সুন্দরি উলসিত চীত
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ৪১ পদসংখ্যা।

      ॥ ধানসী ॥

শুনইতে সুন্দরি উলসিত চীত ।
ছল করি পূছই রতিরস রীত ॥
কি কহলি সহচরি দারুণ বাত ।
কুলবতি-সঙ্গতি উপপতি সাথ ॥
পহিলহিঁ পুরুষ পরশ নাহি মোর ।
এ কি অপরূপ বচন সব তোর ॥
সহচরি কহে শুন রসবতি রাই ।
যতনহিঁ প্রেম রতন ধন পাই  ॥
সুপুরুষ পিরিতি বিরতি হএ জার ।
কী ফল জীবন যৌবন তার ॥
তুহুঁ যদি সুন্দরি সুরত না জান ।
মনমথ মন্ত্র পঢ়াওব কাহ্ন ॥
দুর কর কুলবতি গৌরব লাজ ।
দীনবন্ধু সমুঝাওব কাজ ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধা ও সখীর উক্তি-প্রত্যুক্তি
॥ ধানশ্রী ॥

শুনইতে সুন্দরি উলসিত চীত ।
ছল করি পূছই রতিরস রীত ॥
কি কহলি সহচরি দারুণ বাত ।
কুলবতি-সঙ্গতি উপপতি সাথ ॥
পহিলহিঁ পুরুষ পরশ নাহি মোর ।
এ কি অপরূপ বচন সব তোর ॥
সহচরি কহে শুন রসবতি রাই ।
যতনহিঁ প্রেম রতন ধন পাই  ॥
সুপুরুষ পিরীতি বিরতি হএ যার ।
কী ফল জীবন যৌবন তার ॥
তুহুঁ যদি সুন্দরি সুরত না জান ।
মনমথ মন্ত্র পঢ়াওব কান ॥
দুর কর কুলবতি গৌরব লাজ ।
দীনবন্ধু সমুঝাওব কাজ ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুন গো জটিলা নিশ্চয় কথা
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু” পদাবলী
সংকলনের, ৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবল মিলন।
॥ যথারাগ॥

শুন গো জটিলা নিশ্চয় কথা।
কহি যে তোমার বধূর কথা॥
নাগর লইয়া শ্রীকুণ্ডের তটে।
কে জানে কেমন রয়েছে বটে॥
বৃন্দাধনি তাঁর সঙ্গতি আছে।
দাঁড়ায়ে রয়েছে শ্যামের কাছে॥
শুনিয়া জটিলা লোহিত আঁখি।
পবন গমনে চলগো দেখি॥
ত্বরিতে আয়ল শ্রীকুণ্ডের তীরে।
রাগেতে ধরল সুবলের করে॥
সুবল কানাই লইয়া চলে।
উপনীত হইল যশোদার ঘরে॥
কিশোরী তরিতে যাবটে যায়।
দীনবন্ধু দাসে এ রস গায়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুন গো যশোদা আমি বলি যে তোমারে
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু” পদাবলী
সংকলনের, ৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবল মিলন।
॥ যথারাগ॥

শুন গো যশোদা আমি বলি যে তোমারে।
তোমার কালিয়া পো, যতন করিয়া থো, ভাল জালা দিতেছে আমারে॥
কে জানে বাঁশীর স্বরে, কি মোহিনী সঞ্চারে, কুলবধূ তাহে ধরে টান।
আমি দেখিলাম ভাল, তেঞি আজ রক্ষা হৈল, আয়ান দেখিলে যেত প্রাণ॥
হেন বেলা দূতী কয়, এত তোর বধূ নয়, কেন কর এ হেন জঞ্জাল।
এত বলি বস্ত্র ধরে, টানিয়া ফেলিল দূরে, সুবল দাঁড়ায়ে ভালেভাল॥
দেখিয়া জটিলা বলে, ফাঁফর হইয়া চলে, দেখে বধূ গৃহের ভিতর।
দীনবন্ধু দাসে কয়, রাধা শ্যাম ছাড়া নয়, দোঁহে দোঁহা একই অন্তর॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুন হে নূতন নায়্যা
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ২৭৩ পদসংখ্যা।

॥ ভাটিয়ালী ॥

শুন হে নূতন নায়্যা ।
নাহি জান তুমি                রাজার যোগানি
আমরা গোপের মায়্যা ॥
অঙ্গ মোড়াইঞা                 আখি ঢুলাইঞা
হাসিঞা কহিছ কথা ।
হেন শঠপনা                     করে কোন জনা
শুনিঞা লাগএ বেথা ॥
ইহা শুনে যদি                      মধুপুর-পতি
পাইবে উচিত ফল ।
পার কব়্যা দিঞা                   ভরম লইঞা
যাও আপনার ঘর ॥
পণের লাঘব                       করি অনুভব
আইলাম তোমার পাশে ।
এ কি বিপরীত                  তোমার চরিত
শুনি দীনবন্ধু হাসে ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নৌকাবিলাস
শ্রীরাধাকৃষ্ণ ও সখীর উক্তি-প্রত্যুক্তি
॥ ভাটিয়ালী ॥

শুন হে নূতন নায়্যা ।
নাহি জান তুমি                রাজার যোগানি
আমরা গোপের মায়্যা ॥
অঙ্গ মোড়াইঞা                আঁখি ঢুলাইঞা
হাসিঞা কহিছ কথা ।
হেন শঠপনা                    করে কোন জনা
শুনিঞা লাগএ বেথা ॥
ইহা শুনে যদি                      মধুপুর-পতি
পাইবে উচিত ফল ।
পার কব়্যা দিঞা                    ভরম লইঞা
যাও আপনার ঘর ॥
পণের লাঘব                       করি অনুভব
আইলাম তোমার পাশে ।
এ কি বিপরীত                    তোমার চরিত
শুনি দীনবন্ধু হাসে ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর