কবি দীনবন্ধু দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
আন্ধল কহই চান্দ নহি অম্বরে
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৪৪৯ পদসংখ্যা।

॥ ধানশ্রী ॥

আন্ধল কহই                   চান্দ নহি অম্বরে
ঐছন দুরজন ভাষ ।
শুনি পুন তুহুঁ অবি-             চারে দঢ়াওলি
মঝু মাথুর পরবাস ॥
       সুন্দরি অন্তরে করু অনুমান ।
তুহুঁ মঝু জীবন              পরিহরি মৃত তনু
কৈছনে করব পয়ান ॥
মধুকর বিকচ               কমল যদি তেজই
চাতক নবরস মেহ ।
ভুখিল চকোর               চান্দ যদি তেজই
কৈছে ধরব নিজ দেহ ॥
মঝু ইহ বচন                কপট যদি মানসি
অঙ্গ পরশি নিজ হাথে ।
দীনবন্ধু ভণ                শপথ করিএ যেন
সংশয় নহ অছু বাতে ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আবির চন্দন আতর কুঙ্কুম
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৩৪৫ পদসংখ্যা।

আবির চন্দন                   আতর কুঙ্কুম
প্রিয় সহচরিগণ সাথে ।
জয় জয় দেই                চলল নব রঙ্গিনী
বীজই ফুলধনু হাথে ॥
সুন্দরি হোরি খেলত বহু রঙ্গে ।
বৃন্দাবনে পুন               কিএ শুভ দরশন
একলি শ্যামর সঙ্গে ॥
দুহুঁ মুখ হেরি           দুহুঁক অতি কৌতুক
ফাগুয়া খেলন রঙ্গ ।
সহচরি মেলি                ফাগু ঘন বরষই
জর জর শ্যামর অঙ্গ ॥
বহু জন ফাগু-            সমরে অতি কাতর
বিদগধ নাগররাজ !
সহচরি দীন-                 বন্ধু করু বারণ
কুলবতি যুবতি সমাজ ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আলসে অবশ অঙ্গ যশোমতি রাণী
আনন্দে অবশ অঙ্গ যশোমতি রাণী
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ৯ পদসংখ্যা।

আলসে অবশ অঙ্গ যশোমতি রাণী  ।
সপন দেখএ নিজ কোরে যদুমণি ॥
অলস ভাঙ্গিল যদুমণি করি কোলে ।
লাখে লাখে চুম্ব দিল বদনকমলে ॥
নন্দ উপনন্দ সব মিলিল আসিঞা ।
আনন্দে ভরল হিয়া চান্দমুখ চাঞা ॥
দ্বিজগণ গণক আনিঞা নিজ ঘরে ।
কাঞ্চন গোধন কত তিল দান করে ॥
গোচরণধুলি রাণি ধরি নিজ হাথে ।
রক্ষা বান্ধে কত সুখে গোপালের মাথে ॥
বন্দী মাগধগণ মঙ্গল গায় ।
দীনবন্ধু আনন্দে অবধি নাহি পায় ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

আনন্দে অবশ অঙ্গ যশোমতি রাণী  ।
সপন দেখএ নিজ কোরে যদুমণি ॥
অলস ভাঙ্গিল যদুমণি করি কোলে ।
লাখে লাখে চুম্ব দিল বদনকমলে ॥
নন্দ উপনন্দ সব মিলিল আসিঞা ।
আনন্দে ভরল হিয়া চান্দমুখ চাঞা ॥
দ্বিজগণ গণক আনিঞা নিজ ঘরে ।
কাঞ্চন গোধন কত তিল দান করে ॥
গো-চরণ-ধুলি রাণি ধরি নিজ হাথে ।
রক্ষা বান্ধে কত সুখে গোপালের মাথে ॥
বন্দী মাগধগণ মঙ্গল গায় ।
দীনবন্ধু আনন্দে অবধি নাহি পায় ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আশ্বিনে শুক্লাষ্টমী দিনার্দ্ধের কালে
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ১৬ পদসংখ্যা।

আশ্বিনের শুক্লাষ্টমী দিনার্দ্ধের কালে ।
অনুরাধা নক্ষত্র হইল সেই বেলে ॥
শুভ দিন দশ দিশ ভেল সুপ্রকাশ ।
সভাকার অন্তরে আনন্দ অভিলাষ ॥
হেন কালে কীর্ত্তিদা পরমকুতূহলী ।
প্রসবিল কন্যা নাম রাধিকা সুন্দরী ॥
আনন্দিত হইঞা ডাকিঞা নৃপবরে ।
দুই জনে নানা ধন বিতরণ করে ॥
দ্বিজগণ গণক আনিঞা শত শত ।
ধন দান দিল জার জেই অভিমত ॥
নগর বাজারে বাজে অশেষ বাজনা ।
শুনি দীনবন্ধু দাস পাসরে আপনা ॥

এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার জন্মলীলা
॥ তথা রাগ ॥

আশ্বিনের শুক্লাষ্টমী দিনার্দ্ধের কালে ।
অনুরাধা নক্ষত্র হইল সেই বেলে ॥
শুভ দিন দশ দিশ ভেল সুপ্রকাশ ।
সভাকার অন্তরে আনন্দ অভিলাষ ॥
হেন কালে কীর্ত্তিদা পরমকুতূহলী ।
প্রসবিল কন্যা নাম রাধিকা সুন্দরী ॥
আনন্দিত হইঞা ডাকিঞা নৃপবরে ।
দুই জনে নানা ধন বিতরণ করে ॥
দ্বিজগণ গণক আনিঞা শত শত ।
ধন দান দিল যার যেই অভিমত ॥
নগর বাজারে বাজে অশেষ বাজনা ।
শুনি দীনবন্ধু দাস পাসরে আপনা ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আস্য আস্য আস্য পরাণ সুবল
আইস রে সুবল পরাণের ভাই
এস এস মোর পরাণ সুবল
এস রে সুবল পরাণের ভাই
এস রে সুবল ভাই একি অপরূপ দেখা
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ১৪৮ পদসংখ্যা।

॥ ধানশী ॥

আস্য আস্য আস্য               পরাণ সুবল
এ কি অপরূপ দেখা ।
কহ দেখি বনে                 আছএ কেমনে
তোমার পরাণ-সখা ॥
যখনি হইতে                   সিঙ্গার সহিতে
বাজিল সাজন-বেণু ।
বনের বিপদ                     পথের আপদ
ভাবিতে অবশ তনু ॥
ঘরের বাহির                  মোরে অতি দূর
যুবতি কুলের বালা ।
বিরহ আনল                  জালিঞা কান্দিএ
করিঞা ধূমার ছলা ॥
কামনা করিঞা                সাগরে মরিঞা
হব সহচর সখা ।
দীনবন্ধু বলে                     সহচর হল্যে
সদাই হইবে দেখা ॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

সুবল মিলন।
॥ যথারাগ॥

এস রে সুবল ভাই, একি অপরূপ দেখা।
কি ভাব হইল মনে, কেমনে আছেন বনে, তোমার সঙ্গের প্রাণ-সখা॥
যখন হইতে, শিঙ্গার সহিতে, বাজল সাজল বেণু।
ঘরের আপদ, মনের বিপদ, ভাবিতে অবশ তনু॥
ঘরের বাহির, অতি দূরতর, আমি সে কুলের বালা।
দুখের অনল, সাজাইয়া কান্দি, করিয়া বিবিধ ছলা॥
সাগরে যাইয়া, কামনা করিয়া, হব সহচর সখা।
দীনবন্ধু কহে, সহচর হ’লে, সতত পাইব দেখা॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ৩৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী ॥

এস রে সুবল                        পরাণের ভাই
একি অপরূপ দেখা।
কহ দেখি বনে                     আছয়ে কেমনে
তোমার মরম সখা॥
যখন হইতে                         শিঙ্গার সহিতে
বাজিল মোহন বেণু।
পথের আপদ                          বনের বিপদ
ভাবিতে ভাবিতে মৈনু॥
ঘরের বাহির                        মোর অতি দূর
যুবতী কূলের বালা।
দুঃখ অনল                        জ্বালিয়া কান্দিয়ে
করিয়া ধূমের ছলা॥
কামনা করিয়া                        সাগরে মরিব
হব সহচর সখা।
দীন বন্ধু বলে                           সহচর হৈলে
সতত পাইবে দেখা॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ১৬৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন, শ্রীপাট-পুর্ণিয়া নিবাসী,
নিত্যানন্দ-বংশাবতংস কীর্তন-পারদর্শী বনবিহারী গোস্বামী কাছ থেকে প্রাপ্ত “বাঁকুড়ার পুথি” থেকে।

সুবল মিলন
॥ ধানশী ॥

এস এস মোর                     পরাণ সুবল
এ কি অপরূপ দেখা ।
কহ দেখি বনে                আছয়ে কেমনে
তোমার মরম-সখা ॥
যখনি হইতে                    সিঙ্গার সছিতে
বাজল সাজল ধেণু ।
পথের আপদ                      বনের বিপদ
ভাবিতে অবশ-তনু ॥
ঘরের বাহির                   মোর অতি দূর
যুবতী কুলের বালা ।
বিরহ আনলে                জ্বলিয়া কান্দি হে
করিয়া ধুঁয়ার ছলা ॥
সাগরে যাইয়া                   পরাণে মরিব
হব সহচর সখা ।
দীনবন্ধু বলে                     সহচর হৈলে
সদত হইবে দেখা ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবল মিলন
॥ ধানশী ॥

আস্য আস্য আস্য                  পরাণ সুবল
এ কি অপরূপ দেখা ।
কহ দেখি বনে                  আছএ কেমনে
তোমার পরাণ-সখা ॥
যখনি হইতে                    সিঙ্গার সহিতে
বাজিল সাজন-বেণু ।
বনের বিপদ                      পথের আপদ
ভাবিতে অবশ তনু ॥
ঘরের বাহির                   মোরে অতি দূর
যুবতি কুলের বালা ।
বিরহ আনল                    জালিঞা কান্দি
করিঞা ধূমার ছলা ॥
কামনা করিঞা                সাগরে মরিঞা
হব সহচর সখা ।
দীনবন্ধু বলে                     সহচর হল্যে
সদাই হইবে দেখা ॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”,
১৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবল-সংবাদ

আইস রে সুবল, পরাণের ভাই, এ কি অপরূপ দেখা।
কহ দেখি বনে, আছয়ে কেমনে, তোমার মরম-সখা॥
যখন হইতে, শিঙ্গার সহিতে, বাজিল মোহন-বেণু।
পথের আপদ, বনের বিপদ, ভাবিতে ভাবিতে মৈনু॥
ঘরের বাহির, মোর অতি দূর, যুবতী কুলের বালা।
দুখের অনল, জ্বালিয়া কান্দয়ে, করিয়া ধূমের ছলা॥
কামনা করিয়া, সাগরে মরিব, হব সহচর সখা।
দীনবন্ধু কহে, সহচর হৈলে, সতত পাইবে দেখা॥

ই পদটি সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ৪৬-পৃষ্ঠায় এঅরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী তুড়ী - তাল একতালী॥

আইস রে সুবল, পরাণের ভাই, একি অপরূপ দেখা।
কহ দেখি বনে, আছয়ে কেমনে, তোমার পরাণ সখা॥
যখন হইতে, শিঙ্গার সহিতে, বাজিল মোহন বেণু।
পথের আপদ, বনের বিপদ, ভাবিতে গণিতে মৈনু॥
ঘরের বাহির, মোর অতি দূর, যুবতী কুলের বালা।
দুঃখের অনল, জ্বালিয়া কান্দিয়ে, করিয়া ধূমার ছলা॥
কামনা করিয়া, সাগরে মরিব, হব সহচর সখা।
দীনবন্ধু কহে, সহচর হৈলে, সতত পাইবে দেখা॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
উয়ল অরুণ হেরি পহুঁ কাতর
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৩৭৩ পদসংখ্যা।

॥ ধানশ্রী ॥

উয়ল অরুণ                 হেরি পহুঁ কাতর
ঘন ঘন দীঘ নিশাস ।
শ্যামর সঙ্গ-                  সাধ বিধি বাধল
সুন্দরি পড়ল নিরাশ ॥
হরি হরি অব কি করব পরবন্ধ ।
গঢ়ল মনোরথ                      দূরহিঁ ভাগল
জীবন রহু পুন ধন্দ ॥
সহচরি-অঙ্গে                   দেই অবলম্বন
পৈঠল পহুঁ নিজ গেহ ।
কুল-মরিজাদ                লাজ সঞে ভাঙ্গল
মদন-দহন-দহ দেহ ॥
ক্ষিতিতলে নখর-             রেখ কত দেওত
অবনত মলিন বয়ান ।
অবনি বিদারি                তাহিঁ অব পৈঠব
দীনবন্ধু অনুমান ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এই তুহু জগমাঝে রসিক কহাওসি
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৪২৭ পদসংখ্যা।

॥ ধানশী ॥

এই তুহু জগমাঝে                 রসিক কহাওসি
পিরিতি-রীত নাহি জান ।
তুয়া অপরাধে                   রাই যদি রোখল
তোহে সমুচিত নহে মান ॥
মাধব কো কহু বিদগধরাজ ।
প্রেম পরশমণি                    পদতলে ডারলি
হটে নঠ কলি সব কাজ ॥
কুলবতি যুবতি               চতুর অতি রসবতি
রঙ্গিণি সহজই বামা ।
মরমি জানি যদি                     আদর সাধল
কাহে উপেখলি রামা ॥
তুয়া অপরাধে                   সাধি পুন মানিনি
মাফ করায়লুঁ মান ।
দীনবব্ধু বলে                        রাইক মন্দিরে
অব তুহুঁ করহ পয়ান ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এখনি আমরা গিছিলাম মথুরা
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ২৭০ পদসংখ্যা।

এখনি আমরা                    গিছিলাম মথুরা
না ছিল যমুনা বান ।
হেদে আচম্বিতে                ফিরিঞা আসিতে
জল বহে কানে কান ॥
বড়াই পরাণ না রহে ধড়ে ।
কুমারের চাক                    জিনি ঘন পাক
ঘুরণী ঘুরিছে জলে ॥
তিমিঙ্গিলগণ                      উঠে ঘনে ঘন
দেখিঞা কাপএ হিয়া ।
হেন মনে লয়                      পরাণ সংশয়
মথুরার বিকে যাঞা ॥
ইবে কেহো যদি                  পার করে নদী
বিকাইব তার পায় ।
দীনবন্ধু ভণে                        সহচরী সনে
চাপহ শ্যামের নায় ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নৌকাবিলাস
॥ তথারাগ॥

এখনি আমরা                     গিছিলাম মথুরা
না ছিল যমুনা বান ।
হেদে আচম্বিতে                ফিরিঞা আসিতে
জল বহে কানে কান ॥
বড়াই পরাণ না রহে ধড়ে ।
কুমারের চাক                     জিনি ঘন পাক
ঘুরণী ঘুরিছে জলে ॥
তিমিঙ্গিলগণ                        উঠে ঘনে ঘন
দেখিঞা কাঁপএ হিয়া ।
হেন মনে লয়                        পরাণ সংশয়
মথুরার বিকে যাঞা ॥
ইবে কেহো যদি                    পার কর নদী
বিকাইব তার পায় ।
দীনবন্ধু ভণে                         সহচরী সনে
চাপহ শ্যামের নায় ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এত দিনে রমণি রভস-রস জানল
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৪৪৩ পদসংখ্যা।

॥ ধানশ্রী ॥

এত দিনে রমণি               রভস-রস জানল
উপজল নব অনুরাগ ।
প্রেমক অঙ্কুর                   তুহুঁ যদি ভাঙ্গবি
লাগব তিরিবধ-ভাগ ॥
মাধব তুহুঁ বড় হৃদয় পাষাণ ।
নব নব লেহ                ছোড়ি অব কৈছনে
মধুপুর করবি পয়ান ॥
ঘরে ঘরে নগরে              সবহুঁ জন ঘোষই
তহুঁ যাওবি দুরদেশ ।
শুনইতে সুন্দরি                  বিরহ-বেয়াকুল
মরণ শরণ অবশেষ ॥
হা হরি করি করি                বদন সুখাওল
অবনি-পতন মুরছাই ।
দীনবন্ধু কহে                 তুরিতে চল মাধব
জীবইতে সংশয় রাই ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী ॥

এত দিনে রমণি               রভস-রস জানল
উপজল নব অনুরাগ ।
প্রেমক অঙ্কুর                  তুহুঁ যদি ভাঙ্গবি
লাগব তিরিবধ-ভাগ ॥
মাধব তুহুঁ বড় হৃদয় পাষাণ ।
নব নব লেহ                ছোড়ি অব কৈছনে
মধুপুর করবি পয়ান ॥
ঘরে ঘরে নগরে               সবহুঁ জন ঘোষই
তহুঁ যাওবি দুরদেশ ।
শুনইতে সুন্দরি                  বিরহ-বেয়াকুল
মরণ শরণ অবশেষ ॥
হা হরি করি করি                বদন সুখাওল
অবনি-পতন মুরছাই ।
দীনবন্ধু কহে                তুরিতে চল মাধব
জীবইতে সংশয় রাই ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এস এস প্রাণের সুবল সখা
কবি দীনবন্ধু দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবল মিলন।
॥ যথারাগ॥

এস এস প্রাণের সুবল সখা।
আমার মন্দিরে তুমি কেন দিলে দেখা॥
কহ দেখি বনে আজ কেমনে আছিলে।
কি লাগি তোমারে আজ এথা পাঠাইলে॥
তোমার বদন দেখি মোর প্রাণ যায়।
দীনবন্ধু কহে আজ কি হবে উপায়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর