কবি দীনবন্ধু দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
হে দে বড়াই কি বলে নায়্যর কালা
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ২৭৪ পদসংখ্যা।

॥ ভাটিয়ালী ॥

হে দে বড়াই কি বলে নায়্যর কালা ।
হেন উঠে তাপ                        দহে দিঞা ঝাপ
এড়াইব সব জালা ॥
নয়ন নাচাঞা                         হাসিঞা হাসিঞা
কহে কত ছলে কথা ।
যেন নিজ পতি                         দেখি হেন মতি
মরমে লাগএ বেথা ॥
আমরা যুবতি                           কুলবতি সতি
কহিতে বাসিএ লাজ ।
মুখ ঝাপি রহ                            উচিত না কহ
কেমন তোমার কাজ ॥
রাজকন্যা আমি                        কংসের যোগানি
মথুরা নগর কাছে ।
দীনবন্ধু ভণে                            এ তিন ভুবনে
কারে মোর ভয় আছে ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নৌকাবিলাস
শ্রীরাধাকৃষ্ণ ও সখীর উক্তি-প্রত্যুক্তি
॥ ভাটিয়ালী ॥

হে দে বড়াই কি বলে নায়্যর কালা ।
হেন উঠে তাপ                        দহে দিঞা ঝাঁপ
এড়াইব সব জ্বালা ॥
নয়ন নাচাঞা                         হাসিঞা হাসিঞা
কহে কত ছলে কথা ।
যেন নিজ পতি                         দেখি হেন মতি
মরমে লাগএ বেথা ॥
আমরা যুবতি                            কুলবতি সতি
কহিতে বাসিএ লাজ ।
মুখ ঝাঁপি রহ                            উচিত না কহ
কেমন তোমার কাজ ॥
রাজকন্যা আমি                        কংসের যোগানি
মথুরা নগর কাছে ।
দীনবন্ধু ভণে                              এ তিন ভুবনে
কারে মোর ভয় আছে ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হে দে হে নায়্যর কালা
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন  “সংকীর্ত্তনামৃত” ২৭১ পদসংখ্যা।

॥ ভাটিয়ালী রাগ ॥

হে দে হে নায়্যর কালা ।
পার কব়্যা দাও                      যাইব গোকুল
উছুর হইল বেলা ॥
তরণী লইঞা                      আছ ডাড়াইঞা
অগাধ যমুনাজলে ।
তীরে লোক ডাকে              কেনে মিছা পাকে
না আস্য ঘাটের কূলে ॥
আমরা যুবতি                        কুলবতি সতী
কহিতে সরম লাগে ।
পার কব়্যা দাও                     বেতন যা চাও
করিব তোমার আগে ॥
পাব়্যাইব নদী                     তোমার অবধি
ডাড়াইঞা আছি ঘাটে ।
দীনবন্ধু কয়                        করিঞা বিনয়
তুরিতে আস্যহ তটে ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নৌকাবিলাস
শ্রীরাধাকৃষ্ণ ও সখীর উক্তি-প্রত্যুক্তি
॥ ভাটিয়ালী রাগ॥

হে দে হে নায়্যর কালা ।
পার কব়্যা দাও                     যাইব গোকুল
উছুর হইল বেলা ॥
তরণী লইঞা                     আছ ডাড়াইঞা
অগাধ যমুনাজলে ।
তীরে লোক ডাকে             কেনে মিছা পাকে
না আস্য ঘাটের কূলে ॥
আমরা যুবতি                      কুলবতি সতী
কহিতে সরম লাগে ।
পার কব়্যা দাও                   বেতন যা চাও
করিব তোমার আগে ॥
পাব়্যাইব নদী                     তোমার অবধি
ডাড়াইঞা আছি ঘাটে ।
দীনবন্ধু কয়                       করিঞা বিনয়
তুরিতে আস্যহ তটে ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হে দে হে নায়্যার কালা
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ২৭৬ পদসংখ্যা।

॥ তথা রাগ ॥

হে দে হে নায়্যর কালা ।
কি আর অবধি                      পার কর নদী
উছুর হইল বেলা ॥
সোনার নাখানি                        মরকত মণি
হিরার গাথনি তায় ।
সাধ আছে মনে                        সহচরী সনে
চাপিব তোমার নায় ॥
নৌকা ধারে আন                  সুখে চাপি জেন
হে দে রে চান্দের কোণা ।
মনের কৌতুকে                     দিব চান্দ-মুখে
এ ক্ষীর নবনী ছেনা ॥
যত ধন লাগে                       সব দিব আগে
যমুনা করহ পার ।
দীনবন্ধু বলে                        এ কথা কহিলে
অবধি কি আছে আর ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুবলের বেশ ধরি চলিল রাধিকা
সুবলে রাখিয়া ঘরে চলিল রাধিকা
ভণিতা দীনবন্ধু দাস
কবি দীনবন্ধু দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৯৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবল মিলন।
॥ যথারাগ॥

সুবলের বেশ ধরি চলিল রাধিকা।
সবে মাত্র পয়োধর নাহি গেল ঢাকা॥
সুবলেরে পুছে তখন কি করি উপায়।
এ যুগ্ম পয়োধর কেমনে লুকায়॥
সুবল কহেন শুন নবীন কিশোরী।
গমন করহ কোলে লইয়া নবীন বাছুরী॥
বত্স কোলে লইয়া ধনি কৈল আগুসার॥
দীনবন্ধু দাস কহে মন্ত্রণার সার।

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারেঙ্গ॥

সুবলে রাখিয়া ঘরে চলিল রাধিকা।
সবে মাত্র পয়োধর নাহি গেল ঢাকা॥
তখন সুবল কহে কি করি উপায়।
এ যুগল পয়োধর কেমনে লুকায়॥
সুবল বলেন শুন নবীন কিশোরী।
গমন করহ কোলে লইয়া বাছুরী॥
দীনবন্ধু দাস কহে মন্ত্রণার সার।
বত্স কোলে লইয়া ধনি কর অভিসার॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবল-সংবাদ

সুবলে রাখিয়া ঘরে চলিল রাধিকা।
সবে মাত্র পয়োধর নাহি গেল ঢাকা॥
তখন সুবলে কহে কি করি উপায়।
এ যুগল পয়োধর কেমনে লুকায়॥
সুবল বলেন শুন নবীন কিশোরী।
গমন করল কোলে লইয়া বাছুরী॥
দীনবন্ধু দাস কহে মন্ত্রণার সার।
বত্স কোলে লয়্যা ধনি কর অভিসার॥

ই পদটি সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ৪৭-পৃষ্ঠায় এঅরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ধানশী - তাল ছোট দশকুশী॥

সুবলে রাখিয়া ঘরে চলিল রাধিকা।
সবে মাত্র পয়োধর নাহি গেল ঢাকা॥
তখন সুবল পুছে কি করি উপায়।
এ যুগল পয়োধর কেমনে লুকায়॥
সুবল বলেন শুন নবীন কিশোরী।
গমন করহ কোলে লইয়া বাছুরী॥
দীনবন্ধু দাস কহে মন্ত্রণার সার।
বত্স কোলে লইয়া ধনী কর অভিসার॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুবলের বেশে গৌরী উদ্দেশ করিতে হরি
ভণিতা দীনবন্ধু দাস
কবি দীনবন্ধু দাস
১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৩৪-
পৃষ্ঠা।

॥ ধানশী॥

সুবলের বেশে গৌরী                        উদ্দেশ করিতে হরি
উপনীত গহন কাননে।
মন্দ মন্দ বোল বলে                          ধারা বহে দুনয়নে
হরি হরি সঙরে বদনে॥
কৃষ্ণ অঙ্গ গন্ধ পায়                          গন্ধ অনুসারে ধায়
উপনীত মাধব যথায়।
পরিয়া করের বেণু                            ধূলায় ধূসর কানু
চুড়া ভূমে গড়াগড়ি যায়॥
কৃষ্ণ ছিল হেট মুখে                           বদন তুলিয়া দেখে
সুবল ফিরিয়া আইল পারা।
দেখিয়া নিশ্বাস ছাড়ে                        ধরণী লোটায়্যা পরে
ঘন বহে দু-নয়নে ধারা॥
কহরে সুবল ভাই                          কোথা প্রেমময়ী রাই
তবে রাই রহে হাসি হাসি।
দীনবন্ধু দাসে ভণে                          বিষাদ ভাবহ কেনে
আমি তোমার শ্রীচরণ দাসী॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”,
১৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবল-সংবাদ

সুবলের বেশে গৌরী, উদ্দেশ করিতে হরি, উপনীত গহন কাননে।
মন্দ মন্দ বোল বলে, ধারা বহে দুনয়নে, হরি হরি স্মরয়ে বদনে॥
কৃষ্ণ-অঙ্গ-গন্ধ পায়, গন্ধ অনুসারে ধায়, উপনীত মাধব যথায়।
পড়িয়া করের বেণু, ধূলায় ধূসর কানু, চূড়া ভূমে গড়াগড়ি যায়॥
কৃষ্ণ ছিল হেঁটমুখে, বদন তুলিয়া দেখে, সুবল ফিরিয়া আইল পারা।
দেখিয়া নিশ্বাস ছাড়ে, ধরণী লোটায়্যা পরে, ঘন বহে দুনয়নে ধারা॥
কহ রে সুবল ভাই, কোথা প্রেমময়ী রাই, তবে রাই করে হাসি হাসি।
দীনবন্ধু দাস ভণে, বিষাদ ভাবহ কেনে, আমি তোমার শ্রীচরণের দাসী॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নাগর কহেন সুবল কহত বচন
ভণিতা দীনবন্ধু দাস
কবি দীনবন্ধু দাস
১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৩৫-পৃষ্ঠা।

॥ শ্রীরাগ॥

নাগর কহেন সুবল কহত বচন।
যে লাগি পাঠানু তোরে কহত কারণ॥
রাই আপন বন্ধু পাইয়া কহে ভঙ্গী করি।
যাইতে নারিনু আমি জটিলার পুরী॥
ভাবিয়া গেলাম আমি চন্দ্রার ভবনে।
তাহারে কহিলাম আমি সব বিবরণে॥
আজ্ঞা হৈলে আনিতে পারি সেহত প্রেয়সী।
আজ্ঞা কর আনি গিয়া ওহে কালশশী॥
তখন নাগর কহে তুমি সব জান।
বারিক পিয়াসে কি অনল করি পান॥
রাধাকুণ্ডে ঝাপ দিয়া ত্যেজিব পরাণ।
বদনে বোলব হাম শ্রীরাধা নাম॥
এত বলি রাধাকুণ্ডের জলে ঝাঁপ দিল।
বাছুরী ত্যজিয়া ধনী কানু কোলে নিল॥
দীনবন্ধু দাস কহে বড় ভাল ভাল।
সুবলের বেশে ধনী বঁধুরে মিলিল॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবল-সংবাদ

নাগর কহেন সুবল কহত বচন।
যে লাগি পাঠানু তোরে কহত কারণ॥
রাই আপন বঁধু পায়্যা কহে ভঙ্গি করি।
যাইতে নারিনু আমি জটিলার পুরী॥
ভাবিয়া গেলাম আমি চন্দ্রার ভবনে।
তাহারে কহিলাম আমি সব বিবরণে॥
আজ্ঞা হৈলে আনিতে পারি সেইত প্রেয়সী।
আজ্ঞা কর আনি গিয়া ওহে কালশশী॥
তখন নাগর কহে তুমি সব জান।
বারিক পিয়াসে কি অনল করি পান॥
রাধাকুণ্ডে ঝাঁপ দিয়া তেজিব পরাণ।
বদনে বোলব হাম শ্রীরাধার নাম॥
এত বলি রাধাকুণ্ডের জলে ঝাঁপ দিল।
বাছুরী তেজিয়া ধনী কানু কোলে নিল॥
দীনবন্ধু দাস কহে বড় ভাল ভাল।
সুবলের বেশে ধনী বঁধুরে মিলল॥

ই পদটি সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ৪৭-পৃষ্ঠায় এঅরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ধানশী - তাল ছোট দশকুশী॥

নাগর কহেন সুবল কহত বচন।
যে লাগি পাঠানু তোমা কহত কারণ॥
রাই আপন বঁধু পাশ কহে ভঙ্গি করি।
যাইতে নারিনু আমি জটিলার পুরী॥
ভাবিয়া গেলাম আমি চন্দ্রার ভবনে।
তাহারে কহিলাম আমি সব বিবরণে॥
আজ্ঞা নৈলে আনিতে নারি সেই ত প্রিয়সী।
আজ্ঞা কর আনি গিয়া ওহে কালোশশী॥
তখন নাগর কহে তুমি সব জান।
বারিক পিয়াসে কি অনল করি পান॥
রাধাকুণ্ডে ঝাপ দিয়া তেজিব পরাণ।
বদনে বোলব হাম শ্রীরাধা নাম॥
এত বলি রাধাকুণ্ড জলে ঝাঁপ দিল।
বাছুরী তেজিয়া ধনী কানু কোলে নিল॥
দীনবন্ধু দাস কহে বড় ভাল ভাল।
সুবলের বেশে ধনী বঁধুরে মিলিল॥

ভাবার্থ -
সুবরেল চেহারা শ্রীমতীর অনুরূপ। রন্ধনশালাতে বসন ইত্যাদি বদল করিয়া শ্রীমতী সুবল
সাজিলেন। কিন্তু উঁচু পয়োধর বিঘ্ন স্বরূপ হইল, তখন সুবল বলিল “তার জন্য চিন্তা কি,
বাছুরী বুকে চাপিয়া গমন কর, আমি ত বাছুরী খুঁজিতেই এখআনে আসিয়াছি।” শ্রীমতী
তখন বাছুরী কোলে করিয়া বাহির হইয়া কৃষ্ণসঙ্গে মিলিলেন।
--- সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, “পদামৃত লহরী”॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রন্ধন শালাতে সুবল ভাবে মনে মনে
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৩৬-পৃষ্ঠা।

॥ যথারাগ॥

রন্ধন শালাতে সুবল ভাবে মনে মনে।
কুণ্ডতীরে বিনোদিনী রহিল কৃষ্ণ সনে॥
পৌর্ণমাসী ভগবতী বুঝি অনুমানে।
ললিতারে ডাকি তবে কহে বিবরণে॥
কুন্দলতা ছিল তথা তাহারে কহিল।
শুনি কুন্দলতা মনে ভাবিতে লাগিল॥
কুন্দলতা আসি হেথা কহে সুন আই।
আজ্ঞা দেহ বধু লইয়া জল আনিতে যাই॥
যমুনার জলে যাহ জটিলা কহিল।
এতেক চাতুরী করি বাহির হইল॥
সুবর্ণের কলসী লইয়া জনে জনে।
রাধা কুণ্ড তীরে সবে করিলা গমনে॥
যেখানেতে বিনোদিনী আছে কৃষ্ণ সনে।
সুবল মিলিল গিয়া দীনবন্ধু ভণে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুবলের ধরা চূড়া সুবলেরে দিল
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৩৬-পৃষ্ঠা।

॥ যথারাগ॥

সুবলের ধরা চূড়া সুবলেরে দিল।
আপনার নীল শাড়ী আপনি লইল॥
আপনার নীল শাড়ী পরি নিজ অঙ্গে।
কন্দলতার সনে ধনী চলে নানা রঙ্গে॥
যমুনার জল লৈয়া আইল সকলে।
আনন্দ হইল সবার দীনবন্ধু বলে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বড়ই তুহুঁ বর্ব্বর হে
ভণিতা দীনবন্ধু দাস
কবি দীনবন্ধু দাস
১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য়
খণ্ড, ২৭৯-পৃষ্ঠা।

ললিতা সখীর উক্তি।
॥ শ্রীরাগ - ঝাঁপতাল॥

বড়ই তুহুঁ                            বর্ব্বর হে
নন্দঘোষ-নন্দনা।
ধেনু চরাও,                       বেণু বাজাও,
পিরিতি কি রীতি জাননা॥
বড়ই মুরুখ                        পুরুখ রাজ-
পাঠ নাহি পঠনা।
ভানু-বদন,                   যে জন না হেরে,
তাসনে তোমার ঘটনা॥
তাসঞে পুন,                      সঙ্কেত করি,
রজনী করলি বঞ্চনা।
কাঁদসি কাহে,                   খালাস পায়বি,
আর কত হবে লাঞ্ছনা॥
জনম জন-                        মান্তরে তুহুঁ
ইহ সব দুখ পায়বি।
দ্বারে দ্বারে,                    প্রেম কাঙ্গালি,
হইয়ে তুহুঁ রোয়বি॥
দীন বন্ধু দাস,                   নৃত্যতি অতি,
শ্রবণে অমিয়া বাণী।
জগত মঙ্গল,                      আজু করল,
ধন্য ললিতা সজনী॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রথম সমাগম কিশোরী কিশোর
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যুগল মিলন
॥ তথারাগ॥

প্রথম সমাগম কিশোরী কিশোর।
বচন না ফুরই দুহুঁ রসে ভোর॥
জাগল মনমথ দুবাহু বাঢ়ই।
আবেশে নাহ আগোরল রাই॥
কাঁপই কমলিনী অলি নিরবন্ধ।
গিরিধরে থরকয়ে কুচগিরিছন্দ॥
চুম্বন বেরি অথির ভেল কান।
পরিরম্ভণে রাই ভেল অগেয়ান॥
জলধর দামিনী রহল অগোর।
দীনবন্ধু ভেল নিশি ভেল ভোর॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর