কবি দীনবন্ধু দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
সাধি নিজ কাজে চলল নব রঙ্গিণী
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৭৭-
পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের সখাগণসহ মিলন

সাধি নিজ কাজে                        চলল নব রঙ্গিণী
সঙ্গিনি সখিগণ মেল।
বিদগধ নাহ                              গোঠ পরবেশল
সহচর জয় জয় দেল॥
কানাই তুহুঁ পাগল অনুমানী।
ঘোক গহন ইথি                      একলি নিতি নিতি
কী ফল পৈঠহ জানী॥
শ্যামর সকল                          অঙ্গ ভেল ঝামর
লাগল কণ্টক আঁচোড়।
চিরদিন পুণ্য-                     পুঞ্জ ফলে অব জানি
জীবন বাঁচল তোর॥
তুয়া বিনে কাতর                       অবশ কলেবর
নয়ন আন্ধাওল মোর।
সহচর মেলি                          কহত হরি হাসত
দীনবন্ধু-পহুঁ ভোর॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এই ত কহিল রাধাকৃষ্ণসংকীর্ত্তন
ভণিতা দীনবন্ধু দাস
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত”, ১৬৯-পৃষ্ঠায় “উত্তর খণ্ডের শেষে দেওয়া বিষয়ের বর্ণনা” এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

এই ত কহিল রাধাকৃষ্ণসংকীর্ত্তন।
ইবে কহি উত্তর খণ্ডের নির্ঘণ্টন॥
প্রথম পরিচ্ছেদে রুপোত্কণ্ঠা অভিসার।
বাসকসজ্জা উত্কণ্ঠিতা বিপ্রলব্ধা আর।
খণ্ডিতা নায়িকা কৃষ্ণ প্রতি ক্রোধবতী॥
কৃষ্ণ রুষ্ট হঞা যাত্রা কৈল গৃহ প্রতি॥
প্রেমের বিচ্ছেদে অতি ব্যকুল হইঞা।
বনে বনে ফিরে কৃষ্ণ ক্রন্দন করিয়া॥
হেন কালে বৃন্দা সঙ্গে হইল দরশন।
বৃন্দা সঙ্গে লঞা গেল রাধার ভবন॥
মানিনী রাধিকা বৃন্দা কৃষ্ণ দুই জনে।
ভঞ্জন করিল মান অনেক সাধনে॥
তাথে হইল রাধা সঙ্গে কৃষ্ণের সঙ্গম।
প্রাতঋকাল জানি কৃষ্ণের স্বগৃহ গমন॥
কিংবা একা কৃষ্ণ বনে বিলাপ করিঞা।
মনে অনুমান করি যোগিবেশ হঞা॥
*        *        *        *        *
রাধাকৃষ্ণ সঙ্গ জটিলাকেই বঞ্চিঞা॥
অথবা একলা বৃন্দা রাধা মন্দিরে।
আসিঞা অনেক মত বুঝাইল তারে॥
বুঝিয়া না বুঝিল সে দুর্জ্জয় মানিনী।
বৃন্দা পুন আসি কৃষ্ণে কহিল কাহিনী॥
তার বাক্যে যোগিবেশে মানভঞ্জন।
সঙ্গ রঙ্গ লীলা নিজ গৃহে আগমন॥
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে ধনী কলহান্তরিতা।
রাধিকার দূতী বলে কৃষ্ণ সঙ্গে কথা॥
আশ্বাস পাইয়া দূতীর বাক্যে দামোদর।
রাধা সঙ্গে রসরঙ্গে আনন্দ অন্তর॥
তারপর বনে কৃষ্ণ সখাগণ সঙ্গে।
বিহার করিঞা ঘরে গেলা নানা রঙ্গে॥
তৃতীয় পরিচ্ছেদে ধনী প্রোষিতভর্ত্তৃকা।
ভাবি কৃষ্ণ প্রবাসেই ব্যাকুল রাধিকা॥
দূতী দ্বারা কৃষ্ণসঙ্গ বহু নিবেদন।
কৃষ্ণের বিনয়বাক্যে বিরহ খণ্ডন॥
চতুর্থে ভবন্ বিরহ প্রাতঃকালে।
রাধা দেখে কৃষ্ণচন্দ্র মথুরাকে চলে॥
তারপর মাথুর বিরহ বিবরণ।
সেইখানে দূতী করে বহু আশ্বাসন॥
তাবাতে কৃষ্ণের আর্ত্তি দূতীমুখে শুনি।
ভাবোল্লাসে আনন্দবিহ্বলা হৈল ধনী॥
অথবা দূতীর কৃষ্ণ নিকটে গমন।
দূতী দেখি কৃষ্ণ কৈল বহু আশ্বাসন॥
মথুরা হৈতে এই করিলাম গমন।
কহ যাঞা রাধা যেন না করে রোদন॥
এই বাক্য দূতী আসি কহে রাধিকারে।
শুনিঞা আনন্দে ধনী ধৈরজ না ধরে॥
নায়ক আসিব বলি হৈল ভাবোল্লাস।
প্রোষিত ভর্ত্তৃকির সঙ্গ সমান লক্ষণ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদে এই পর্য্যন্ত লিখন॥
পঞ্চমে প্রার্থনা আর বৈষ্ণব গোসাঞি।
দীনবন্ধু দাস গায় শুন স্রোতা ভাই॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাধাকৃষ্ণসংকীর্ত্তনামৃত সুমধুর
ভণিতা দীনবন্ধু দাস
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত”, ১৬৯-পৃষ্ঠায় “উত্তর খণ্ডের শেষে দেওয়া নিজের পরিচয় এবং তাঁর রচিত
গ্রন্থের, উত্স গ্রন্থাবলী” এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


রাধাকৃষ্ণসংকীর্ত্তনামৃত সুমধুর।
শুনিতে শুনিতে বাঢ়ে আনন্দ প্রচুর॥
আমি অজ্ঞ হঞা এই করিল সংগ্রহ।
নিন্দা না করিহ কেহো করি অনুগ্রহ॥
বর্ণন না করি কিন্তু পূর্ব্বপদাবলী।
দেখি দিবারাত্রি লীলা মাত্র ক্রম করি॥
প্রপিতামহের নাম শ্রীঠাকুর হরি।
তার পাদপদ্মধূলি নিজ শিরে ধরি॥
পিতামহ ঠাকুর নাম  শ্রীনন্দকিশোর।
তাহার করুণাবলে হেন ইত্সা মোর॥
পিতা বল্লবীকান্ত ঠাকুরের দয়া।
সেই বলে লিখি আমি ভক্তিশক্তি পাঞা॥
পূর্ব্বপ্রতি পুরুষের যোগ্যতা অনন্ত।
পাণ্ডিত্যে সংগ্রহ কৈল কত শত গ্রন্থ॥
স্তবমালা স্তবাবলী বিদগ্ধ মাধব।
গোবিন্দলীলামৃত আর ললিত মাধব॥
বিল্বমঙ্গল কর্ণামৃত রসামৃতসিন্ধু।
ব্রহ্মসংহিতা ভাগবতামৃত নানা ছন্দ॥
সন্দর্ভ দশম টিপ্পনী আদি যত।
ভক্তিগ্রন্থ সংগ্রহ করিল শত শত॥
ইতিহাস পুরাণ আগম অলঙ্কার।
নব্য প্রাচীন স্মৃতি সাহিত্য আপার॥
পদ পদাবলী কত করিল বর্ণন।
প্রাচীন আনিয়া কত করিল লিখন॥
আমি অল্পজ্ঞানী গ্রন্থ বুঝিতে নাহি শক্তি।
সত্সঙ্গ নাহিক তাথে নাহিঁ জানি ভক্তি॥
যথাকথঞ্চিৎ গ্রন্থ করিয়া দর্শন।
কিঞ্চিত লিখিল এই সংকীর্ত্তন ক্রম॥
শ্রোতাগণ শুন রাধাকৃষ্ণসংকীর্ত্তন।
তোমরা শুনিলে সফল হয় মোর শ্রম॥
শ্রীনন্দকিশোরপাদপদ্ম করি আশ।
সংকীর্ত্তনামৃত কহে দীনবন্ধু দাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
লুনি দিলে দুটি করে ভূমি পেলে
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৬৯ পদসংখ্যা।


লুনি দিলে দুটি করে              ভূমে পেলে বারে বারে
হাথে করি মোর পদ ছান্দে ।
দে মা দে বলি                            গাএ মাখএ ধুলি
বসন ধরিয়া কান্দে ॥
রেহিণি গো, বল কি করিব আমি ।
একি হল্য দায়                             না দেখি উপায়
যাচিলে না খায় লুনি ॥
এ ঘর ও ঘর                            যাতায়াতে মোর
কান্দিঞা বেড়ায় সাথে ।
হোর নাহি জায়                         না জানি কি চায়
জুড়িঞা যুগল হাথে ॥
আধ আধ বোল                           বুঝিতে বিরল
না জানি কি ধন মাগে ।
দীনবন্ধু বলে                             জত আ@ ঘরে
সকলি করহ আগে ॥

@ অপাঠ্য অক্ষর

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রসে ঢর ঢর বিনোদ নাগর
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ১৬৯ পদসংখ্যা।

॥ প্রেমবৈচিত্ত্য ॥

রসে ঢর ঢর                     বিনোদ নাগর
বসিঞা রাইএর কোরে ।
মুখ নিরখিঞা                    উলসিত হঞা
ভাসিল নয়ন জলে ॥
হরি হরি একি অপরূপ ধন্দ ।
রাই রাই করি                কান্দিঞা আকুল
হইল গোকুলচন্দ্র ॥
রাইর আচর                      ধরি গিরিধর
কান্দিতে কান্দিতে বলে ।
রসবতি সনে                   আর কত দিনে
বিধি মিলাওব মোরে ॥
পুলকিত তনু                       মলিন বদন
অঝরে নয়ন ঝরে ।
পরাণপুতলী                      অধিক মুরলী
পড়িঞা রহিল দূরে ॥
পিরিতি পাগল                     রসিক নাগর
দেখিঞা আপন কোরে
দীনবন্ধু ভণে                     রসবতি প্রেমে
ধৈরজ ধরিতে নারে ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের প্রেমবৈচিত্ত্য
॥  তথা রাগ ॥

রসে ঢর ঢর                     বিনোদ নাগর
বসিঞা রাইএর কোরে ।
মুখ নিরখিঞা                    উলসিত হঞা
ভাসিল নয়ন জলে ॥
হরি হরি একি অপরূপ ধন্দ ।
রাই রাই করি                কান্দিঞা আকুল
হইল গোকুলচন্দ্র ॥
রাইর আঁচর                      ধরি গিরিধর
কান্দিতে কান্দিতে বলে ।
রসবতি সনে                   আর কত দিনে
বিধি মিলাওব মোরে ॥
পুলকিত তনু                       মলিন বদন
অঝরে নয়ন ঝরে ।
পরাণপুতলী                     অধিক মুরলী
পড়িঞা রহিল দূরে ॥
পিরীতি পাগল                   রসিক নাগর
দেখিঞা আপন কোরে
দীনবন্ধু ভণে                   রসবতি প্রেমে
ধৈরজ ধরিতে নারে ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
খণ্ডিতা মিলন হয় প্রত্যূষের লীলা
ভণিতা দীনবন্ধু দাস
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ৪০৯ ও ৪১০-এর মধ্যে প্রক্ষিপ্ত পদসংখ্যাহীন পদ ।

খণ্ডিতা মিলন হয় প্রত্যূষের লীলা ।
তারপর কৃষ্ণচন্দ্র নিজ ঘরে গেলা ॥
নিজ ঘরে শয়ন উথ্বান গো-দোহন ।
বাত্সল্য গোষ্ঠাদিলীলা পূর্ব্ববত ক্রম ॥
খণ্ডিতা মিলনাভাবে কলহান্তরিতা ।
মানদদগ্ধ কৃষ্ণ তাহে গেলা যথা তথা ॥
অভিপ্রায়ে জানি নিজ গৃহকে গমন ।
রাধা লঞা কথা এথা নাহি সে বর্ণন ॥
কিন্তু নিজ গৃহে শয্যোথ্বান গো-দোহন ।
বাত্সল্য লালন গোষ্ঠ আর গোচারণ ॥
বিরহ ব্যাকুল কৃষ্ণ গোচারণ হৈতে ।
রাধা লাগি একা বনে ভ্রমিতে ভ্রমিতে ॥
রাধিকার দূতী আসি কৃষ্ণ লৈঞা যায় ।
গৌরীপূজা ছলে বনে ঘরে বা মিলায় ॥
সংগমের পরে পুন যায় গোচারণে ।
দীনবন্ধু দাস কহে রসের বিধানে  ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যার প্রেমগুণে পতি আকৃষ্ট হইঞা
ভণিতা দীনবন্ধু দাস
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ৪৮৩ ও ৪৮৪-এর মধ্যে প্রক্ষিপ্ত পদসংখ্যাহীন পদ ।

অথ স্বাধীনভর্ত্তৃকা
স্তবমালায়াং তল্লক্ষণং,---
যস্যাঃ প্রেমগুণাকৃষ্টঃ প্রিয়ঃ পার্শ্বং ন মুঞ্চতি
বিচিত্রবিভ্রমাশক্তা  সা স্যাৎ স্বাধীনভর্ত্তৃকা ॥

যার প্রেমগুণে পতি আকৃষ্ট হইঞা ।
নিরবধি কাছে রহে মন যোগাইঞা ॥
মনে যত ইচ্ছা তাহা স্বামীকে আদেশে ।
আজ্ঞাকারী স্বামী তাহা করে রসাবেশে ॥
স্বামীকে অধীন করি মানে যে নায়িকা ।
রসতন্ত্রে তার নাম স্বাধীনভর্ত্তৃকা ॥
স্বাধীনভর্ত্তৃকা  প্রবাসের পর মীলা ।
মহান্তের বর্ণন অনেক এই লীলা ॥
বুঝিহ রসিক ভাই বৈদগ্ধ্য মিলনে ।
নায়িকার সমাদরে দীনবন্ধু গানে ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এই ত কহিল অষ্ট রস-বিতরণ
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ৪৮৩ ও ৪৮৪-এর মধ্যে প্রক্ষিপ্ত পদসংখ্যাহীন পদ।

এই ত কহিল অষ্ট রস-বিবরণ ।
মাথুরে নাহিঁক কৃষ্ণ আসিঞা মীলন ॥
অতএব ভাবোল্লাস সম্ভোগের প্রায় ।
যেই রসে শ্রোতা বক্তার আনন্দ জন্মায় ॥
অষ্ট প্রকার ভেদ হএত নায়িকা ।
তার মধ্যে শেষ দেখি স্বাধীনভর্ত্তৃকা ॥
দ্বারকা হইতে ব্রজে কৃষ্ণের আগমন ।
ব্রহ্মবৈবর্ত্তে আছে স্পষ্ট এ লিখন ॥
সম-দ্ধমান সম্ভোগ দূর প্রবাসের পর।
এইখানে স্বাধীনভর্ত্তৃকা দৃঢ়তর॥
অতএব শেষে তার করিল বর্ণন।
কিন্তু তাহা সহ নহে কীর্ত্তনের ক্রম॥
ভাবোল্লাস পরে সংকীর্ত্তন আর নাঞি।
আছও প্রার্থনা আর বৈষ্ণব গোসাঞি॥
দশ দিন দিবা রাত্রি করি এক ক্রম।
দীনবন্ধু কহে রাধাকৃষ্ণসংকীর্ত্তন॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর