কবি দীনবন্ধু দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
কত কত কোটি জনম করি জপ তপ
কবি দীনবন্ধু দাস
১৭৭১ খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৯৭ পদসংখ্যা।

॥ তথা রাগ ॥

কত কত কোটি              জনম করি জপ তপ
পাওলুঁ তুয়া নব লেহ ।
যমুনাজল ফল                    তিল তুলসীর-দল
দেই সমাপলু দেহ ॥
সুন্দরি ধনি ধনি সাধু বিবাদ ।
তুহু যদি নিজ কিং-              কর করি রাখবি
মাফ করবি অপরাধ ॥
নিতি নিতি রজনি                দিবস মঝু মানস
গুণগণ গাওব তোর।
তুয়া মুখ হেরি                    কোন বর পামর
আন যুবতি করু কোর ॥
তুয়া পদ পল্লব-                     নখমণি কাগজ
দাস-কবজ তহিঁ লেখি ।
জীবনে মরণে                   তোহে তনু সোপলুঁ
দীনবন্ধু রহু সাখি ॥

ই পদটি পুনরায় “সংকীর্ত্তনামৃত” গ্রন্থের ৩৯৪ পদসংখ্যা হিসেবে এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী ॥

কত কত কোটি           জনম করি জপ তপ
পাওলুঁ তুয়া নব লেহ ।
যমুনাজল ফল                   তিল তুলসী-দল
দেই সমাপলু দেহ ॥
ধনি ধনি সাধু বিবাদ ।
তুহু যদি নিজ কিং-            কর করি রাখবি
মাফ করবি অপরাধ ॥
নিশি দিশি শয়নে             সপনে মঝু মানস
গুণগণ গাওব তোর ।
তুয়া মুখ হেরি                কোন বর-পামর
আন যুবতি করু কোর ॥
তুয়া গদপঙ্কজ-                   নখমণি কাগজ
দাসকবজ তহিঁ লেখি ।
জীবনে মরণে              তোহে তনু সোপলু
দীনবন্ধু রহু সাখি ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের আত্মনিবেদন
॥ তথারাগ॥

কত কত কোটি           জনম করি জপ তপ
পাওলুঁ তুয়া নব লেহ ।
যমুনাজল ফল                   তিল তুলসী-দল
দেই সমাপলুঁ দেহ ॥
সুন্দরি ধনি ধনি সাধু বিবাদ ।
তুহু যদি নিজ কিং-            কর করি রাখবি
মাফ করবি অপরাধ ॥
নিতি নিতি রজনি              দিহস মঝু মানস
গুণগণ গাওব তোর ।
তুয়া মুখ হেরি                  কোন বর পামর
আন যুবতি করু কোর ॥
তুয়া গদ-পল্লব--                   নখমণি কাগজ
দাস-কবজ তহিঁ লেখি ।
জীবনে মরণে                 তোহে তনু সোপলুঁ
দীনবন্ধু রহু সাখি ॥


.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কবে আর এমন দিন হব
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৪৮৯ পদসংখ্যা।

॥ যথা রাগ ॥

কবে আর এমন দিন হব ।
সখীর সঙ্গিনী হঞা             কল্পতরুমূলে যাঞা
রাধাকৃষ্ণ নয়নে দেখিব ॥
সখীর ইঙ্গিত জানি              আপনাকে ধন্য মানি
যুগল চরণ ধোয়াইব ।
সুবাসিত সুশীতল                আনি যমুনার জল
দোহাঁকারে স্নান করাইব ॥
দিঞা নীল পীত বাস            পুরিব মনের আশ
চন্দন পরাব রসরঙ্গে ।
কিংকিণী-কঙ্কণ আদি             আভরণ মহানিধি
ইছিঞা নিছিঞা দিব অঙ্গে ॥
কুটজ মালতী যূথী              কাঞ্চন করবি জাতি
চম্পক কেশর শেফালিকা ।
পুন্নাগ টগর কুন্দ                    নল দল মুচকন্দ
বকপুষ্প বিবিধ মল্লিকা ॥
মালা গাথি নানা ফুলে          পরাঞা দোঁহার গলে
যতনে আনিব নানা ফল ।
কদলী পনস জম্বু                    বিল্ব পিল্ব দাড়িম্ব
পিয়াল রসাল নারিকেল ॥
পুরি ঝুরি চিনি ফিনী             মণ্ডা মিশ্র শিখরিণী
দধি দুগ্ধ সন্দেশাদি যত ।
খণ্ড খিরিসার বৃক্ষ              এই মত নানা ভক্ষ্য
আনিঞা জোগাব শত শত ॥
করাইঞা ভোজন                 দিঞা পুন আচমন
কর্পূর তাম্বুল দিব মুখে ।
রসের পদবী যত                  শুনাইব শত শত
রভস করিব রস সুখে ॥
বুঝিঞা মনের কাজ              শ্রীমণিমন্দির মাঝ
কুসুম আসন বিছাইঞা ।
শয়ন করাঞা তাথে             চামর লইঞা হাথে
ঢুলাইব যতন করিঞা ॥
দোহাঁর অঙ্গ হেলাহেলি      দেখি কোনো ছলা করি
মন্দির বাহিরে ডাড়াইব ।
মধুমতী পদ পাশে             লুকাইঞা অভিলাষে
দীনবন্ধু রভস দেখিব ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
করযুগ যোড়ি মোড়ি তনু মাধব
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৪২৬ পদসংখ্যা।

॥ ধানশী ॥

করযুগ যোড়ি                   মোড়ি তনু মাধব
কহতহিঁ সহচরি আগে ।
কে জানে কামিনী                   কাহে উপেখল
অবিচল নব অনুরাগে ॥
সজনী কাহে কয়ল ধনী দ্বন্দ্ব ।
রসবতী হোই                  পিরিতি-পথ রোধল
মঝু মনে এ বড়ি ধন্দ ॥
একল প্রেম                        জানি দুহুঁ জীবন
কেবল ভিন ভিন দেহ ।
ঐছন লেহ                      কাহে ধনি তেজল
মঝু মনে সংশয় এহ ॥
গণি গণি অমনি                   থেহ নাহি পাওলুঁ
মান-দগধ তনু শেষ ।
সহচরি দীন-                      বন্ধু যদি আওলি
কহ কহ বচন বিশেষ ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কাঁখে কুম্ভ করি বৃন্দা সহচরী যাবটে যাইয়া বলে
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবল মিলন।
॥ যথারাগ॥

কাঁখে কুম্ভ করি, বৃন্দা সহচরী, যাবটে যাইয়া বলে।
শোন গো জটিলে, তোমার কুশলে, রাধা লয়ে যাব জলে॥
শুনি আনন্দিত ভেল।
দূতীর সংহতি, যাইতে সংপ্রতি, তহি অনুমতি দেল॥ ধ্রু॥
দূতী হাসি হাসি, মন্দিরে প্রবেশি, রাধার নিকটে যায়।
প্রবেশি মন্দিরে, রন্ধন আহারে, সুবলে দেখিতে পায়॥
দেখিয়া সুবল, আঁখি ছল ছল, কহয়ে দূতীর পায়।
দীনবন্ধু ভণে, কহত দুজনে, সলিল আনিতে যায়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কানাই ফিরা রে ধেনু ফিরা রে
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ১৪০ পদসংখ্যা।

॥ সারঙ্গ ॥

কানাই ফিরা রে ধেনু ফিরা রে ।
এ কি ঠাকুরাল                কে তোর রাখাল
সভাই গোয়ালছাল্যা রে ॥
কত বারে বার                   ফিরাইব আর
ধবলি শ্যামলি চোরা রে ।
খন্দ খাইলে                          মন্দ বলিলে
ডাড়াঞা দেখিব মোরা রে ॥
ধেনু না ফিরাল্যে              আখি আড় হল্যে
পালে পালে হবে মেলা রে ।
গোধন হারাবে                  চাহিঞা বেড়াবে
তখনি করাবে খেলা রে ॥
হের দেখ ভাই                  তোর চোরা গাই
ধাইয়া চলিল কতি ।
দীনবন্ধু বলে                  ধেনু না ফিরাল্যে
হইবে তোমার ক্ষতি ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের প্রতি রাখালের ইক্তি
॥ সারঙ্গ ॥

কানাই ফিরা রে ধেনু ফিরা রে ।
এ কি ঠাকুরাল                কে তোর রাখাল
সভাই গোয়ালছাল্যা রে ॥
কত বারে বার                   ফিরাইব আর
ধবলি শ্যামলি চোরা রে ।
খন্দ খাইলে                          মন্দ বলিলে
ডাড়াঞা দেখিব মোরা রে ॥
ধেনু না ফিরাল্যে             আখি আড় হল্যে
পালে পালে হবে মেলা রে ।
গোধন হারাবে                 চাহিঞা বেড়াবে
তখনি করাবে খেলা রে ॥
হের দেখ ভাই                 তোর চোরা গাই
ধাইয়া চলিল কতি রে ।
দীনবন্ধু বলে                  ধেনু না ফিরাল্যে
হইবে তোমার ক্ষতি রে ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কালিন্দীর কূলে নাগররাজ
ভণিতা দীনবন্ধু দাস
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ২২৯ পদসংখ্যা।

কালিন্দীর কূলে নাগররাজ
দেখিয়া কুল শীলে পড়িল বাজ
নয়ন সন্ধানে ভাঙ্গিল লাজ
.            হৃদয়ে রহল ধন্দ রে ।
মদনমোহন চূড়ার ছান্দ
কুলবতিচিত বান্ধিতে ফান্দ
তাহার উপরে ময়ূরচান্দ
.             পবনে উড়িছে মন্দ রে ॥
কপালে চন্দন শরদ-শশী
সুরঙ্গ অধরে মধুর হাসি
রাধা রাধা বলি বাজায় বাঁশী
.              উগারে অমিয়াপুঞ্জ রে ।
নবীন পল্লব শিরীষ ফুলে
শেজ বিছাইঞা কদম্বমূলে
চৌদিগে ঘেরিঞা মাধবী দলে
.              তাহি করল কুঞ্জ রে ॥
দেখি মোর মুখ আনন্দভরে
পড়িল মুরলী ধরণীতলে
বিকচ কমল চুম্বন করে
.              পুলকে পুরিত অঙ্গ রে ।
দেখিঞা যে ধনী ধৈরজ ধরে
কুলবতী সতী বলিএ তারে
আমার পরাণ না রহে ঘরে
.               মাগএ শ্যামের সঙ্গ রে ॥
অবহুঁ যে ধনী বিলম্ব করে
গোবিন্দের পদ দোহাই তারে
ত্বরিতে লইঞা চলহ মোরে
.               রসিক নাগর পাশে রে ।
নিরখি বদন শরদ চান্দ
নয়ন পাওব জনম আঁধ
পূরব সকল মনের সাধ
.                 কহে দীনবন্ধু দাসে রে ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের রূপ
॥ তথারাগ॥

কালিন্দীর কূলে নাগররাজ
দেখিয়া কুল শীলে পড়িল বাজ
নয়ন সন্ধানে ভাঙ্গিল লাজ
.            হৃদয়ে রহল ধন্দ রে ।
মদনমোহন চূড়ার ছান্দ
কুলবতিচিত বান্ধিতে ফান্দ
তাহার উপরে ময়ূর চান্দ
.             পবনে উড়িছে মন্দ রে ॥
কপালে চন্দন শরদ-শশী
সুরঙ্গ অধরে মধুর হাসি
রাধা রাধা বলি বাজায় বাঁশী
.              উগারে অমিয়াপুঞ্জ রে ।
নবীন পল্লব শিরীষ ফুলে
শেজ বিছাইঞা কদম্বমূলে
চৌদিগে ঘেরিঞা মাধবী দলে
.              তাহি করল কুঞ্জ রে ॥
দেখি মোর মুখ আনন্দভরে
পড়িল মুরলী ধরণীতলে
বিকচ কমল চুম্বন করে
.              পুলকে পুরিত অঙ্গ রে ।
দেখিঞা যে ধনী ধৈরজ ধরে
কুলবতী সতী বলিএ তারে
আমার পরাণ না রহে ঘরে
.               মাগএ শ্যামের সঙ্গ রে ॥
অবহুঁ যে ধনী বিলম্ব করে
গোবিন্দের পদ দোহাই তারে
ত্বরিতে লইঞা চলহ মোরে
.               রসিক নাগর পাশে রে ।
নিরখি বদন শরদ চান্দ
নয়ন পাওব জনম আঁধ
পূরব সকল মনের সাধ
.                 কহে দীনবন্ধু দাসে রে ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কালুক দিন হাম মধুপুর গেল
কাহুঁক দিন হাম মধুপুর গেল
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ৪৬৯ পদসংখ্যা।

অত্রাব ভাবোল্লাসঃ।
অথবা দূতী।

কালুক দিন হাম মধুপুর গেল ।
পন্থহিঁ তাকর দরশন ভেল ॥
তুহুঁ ধনি মানিনি অন্তরে জানি ।
সাধল মাধব ধার মঝু পাণি ॥
সুন্দরি কী ফল রোদন তোর ।
শুনইতে অন্তর দর দর মোর ॥
দুর করু দারুণ বিরহক দাহ ।
অবহিঁ মিলব তোহে বিদগধ নাহ ॥
চিরদিন তাপ করব অব দূর ।
চলতহিঁ দীনবন্ধু মধুপুর ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার প্রতি দূতী
॥ তথারাগ॥

কাহুঁক দিন হাম মধুপুর গেল ।
পন্থহিঁ তাকর দরশন ভেল ॥
তুহুঁ ধনি মানিনি অন্তরে জানি ।
সাধল মাধব ধার মঝু পাণি ॥
সুন্দরি কী ফল রোদন তোর ।
শুনইতে অন্তর দর দর মোর ॥
দুর করু দারুণ বিরহক দাহ ।
অবহিঁ মিলব তোহে বিদগধ নাহ ॥
চিরদিন তাপ করব অব দূর ।
চলতহিঁ দীনবন্ধু মধুপুর ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কাহ্নক কপট বচন শুনি ঐছন
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ২৮১ পদসংখ্যা।
॥ ধানসী ॥
কাহ্নক কপট                   বচন শুনি ঐছন
বিরহবেয়াকুল রমণী ।
কাজর লোরে                   ঘোরি কুচকুঙ্কুম
পদনখে লেখই ধরণী ॥
গোপিনী বোলত কাতর বদনে ।
তুয়া পদ ছোড়ি                পাদ নাহি প@ই
কৈছনে যাওব সদনে ॥
বেণু শুনাই                      চীত হরি মাধব
আনি রমণিগণ গহনে ।
কৈতব অব যদি                রভস উপেখবি
বিরহিণী পৈঠব দহনে ॥
কুলভয় লাজ                  তেজি সব আওলুঁ
শরণ লইতে তুয়া চরণে ।
দীনবন্ধু ভণ                      দেহ আলিঙ্গন
জীবন রাখহ মরণে ॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি কহব বরজ রাজকুল-মঙ্গল
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৪৭১ পদসংখ্যা।

॥ সুহই ॥

কি কহব বরজ-                  রাজকুল-মঙ্গল
তুহু জীবন দুরদেশ ।
ব্রজজন-মীন                   খীন-তনু জল বিনু
মরণ শরণ অবশেষ ॥
মাধব যব তুহুঁ কয়লি পয়ান ।
তব ধরি গোকুল                 বিরহ-বেয়াকুল
ছটফট ধরণি শয়ান ॥
ব্রজপুরে অবিরতি                শমন গতাগতি
যমুনা দেখি নিজ নীরে ।
আদরে সোদর-                      চরণ পাখালই
ব্রজবধুলোচন নীরে ॥
নাগরি-নগর                    হেরি তুহুঁ বিছুরলি
বনচারিণি বনকুঞ্জ ।
দীনবন্ধু কহে                      বেদ বিফল নহে
নাগর তিরিবধপুঞ্জ ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার প্রতি দূতী
॥ সুহই ॥

কি কহব বরজ-                     রাজকুল-মঙ্গল
তুহু জীবন দুরদেশ ।
ব্রজজন-মীন                      খীন-তনু জল বিনু
মরণ শরণ অবশেষ ॥
মাধব যব তুহুঁ কয়লি পয়ান ।
তবধরি গোকুল                     বিরহ বেয়াকুল
ছটফট ধরণি শয়ান ॥
ব্রজপুরে অবিরতি                   শমন গতাগতি
যমুনা দেখি নিজ নীরে ।
আদরে সোদর-                        চরণ পাখালই
ব্রজবধুলোচন-নীরে ॥
নাগরি-নগর                      হেরি তুহুঁ বিছুরলি
বনচারিণি বনকুঞ্জ ।
দীনবন্ধু কহে                        বেদ বিফল নহে
নাগর তিরিবধপুঞ্জ ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি বোল বলিলে দানী
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ২৫৫ পদসংখ্যা।

॥ সারঙ্গ ॥

কি বোল বলিলে দানী ।
খল বল করি                        কথার চাতুরী
আমরা অনেক জানি ॥
মোরে পরশিতে                   যদি কর চিতে
মনের ভরমে আশ ।
নৈমিষ কাননে                       বদরিকাশ্রমে
যাইঞা করহ বাস ॥
কোটি কলপ                       করিঞা অলপ
গৌরী আরাধনা কর ।
সাগর যাইঞা                      কামনা করিঞা
মোর পতিরূপ ধর ॥
আমা হেন সতী                      কুলের যুবতী
হইঞা তাহার নাথ ।
দীনবন্ধু বলে                        রাধার আঁচলে
তবে দিতে হবে হাথ ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর