কবি দীনবন্ধু দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
কুঙ্কুম আনিঞা মুখানি মাজিঞা
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ২৯৯ পদসংখ্যা।

॥ ধানশ্রী ॥

কুঙ্কুম আনিঞা                     মুখানি মাজিঞা
কাজরে নয়ন সাজায় ।
দীপ করে ধরি                       চুম্বন করি করি
অনিমিখ মঝু মুখ চায় ॥
    সজনি বড় বিদগধ শ্যামরায় ।
দেখি মোর মুখ                      মনে জত সুখ
এক মুখে কহনে না যায় ॥
আদর করে হরি                 হৃদয় উপরে ধরি
কুসুম-শয়নে না শোয়ায় ।
মনের মানসে                     বান্ধি ভুজ-পাশে
জাগিঞা রজনী পোহায় ॥
পয়োধর ধরি                       কাপে থরহরি
চন্দন যতনে পরায় ।
দীনবন্ধু বলে                        রস-কুতূহলে
রসিক সময় গোঁয়ায় ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কুলবতি করি কো বিহি নিরমাওল
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৩০২-পদসংখ্যা।

॥ ধানশ্রী ॥

কুলবতী করি কো                 বিহি নিরমাওল
ঘর বাহিরে পরবাস ।
করতলে জীবন                     করি পহুঁ মীললুঁ
বিদগধ নাগর পাশ ॥
    সজনী বিধি পুন সাধল বাদ ।
যামিনি কোটি                 কলপ নাহি সিরজিল
না পূরল মনসাধ ॥
পাপ দিবাকর                    সপদি উদয় ভেল
শঙ্কাতঙ্কিত দেহ ।
গাঠিক রতন                     জলধিজলে ডারলুঁ
তেজলুঁ তছু নব লেহ ॥
পুন যদি মাধব-                      দরশন পাওব
পূরব মনসিজ সাধ ।
হৃদয় উপরে ধরি                  ভুজ-বন্ধন করি
না ছোড়ব তিল আধ ॥
তব করে জীবন                   যৌবন সোপলোঁ
আনি মিলাওবি নাহ ।
দীনবন্ধু বলে                        দেওব করতলে
গগনচান্দ যদি চাহ ॥

ই পদটি পুনঃ “সংকীর্ত্তনামৃত” গ্রন্থে ৩০৭ পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী ॥

কুলবতি করি কো                বিহি নিরমাওল
ঘর বাহিরে পরবাস ।
করতলে জীবন                     করি পহুঁ মীললু
বিদগধ নাগর পাশ ॥
সজনী বিহি পুন সাধল বাদ ।
যামিনী কোটি                 কলপ নাহি সিরজিল
না পূরল মনসাধ ॥
পাপ দিবাকর                    সপদি উদয় ভেল
শঙ্কাতঙ্কিত দেহ ।
গাঠক রতন                      জলধিজলে ডারলু
তেজলুঁ  অছু নব লেহ ॥
পুন যদি মাধব-                      দরশন পাওব
পূরব মনসিজ সাধ ।
হৃদয় উপরে ধরি                   ভুজ-বন্ধন করি
না ছোড়ব তিল আধ ॥
তব করে জীবন                     যৌবন সোপলুঁ
আনি মিলাওবি নাহ ।
দীনবন্ধু বলে                        দেওব করতলে
গগনচান্দ যদি চাহ ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কুল ভয় লাজ নিবারণ করইতে
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৩৩৩ পদসংখ্যা।

॥ ধানসী ॥

কুল ভয় লাজ               নিবারণ করইতে
সঙ্গিনি রঙ্গিনি মেল ।
মধু মদিরা করি              রতন-ঝারি ভরি
রাই বদনে ধরি দেল ॥
সুন্দরি পান করল মধু জানি ।
আদরে নাহ-                 বদনে পুন দেওল
সুধই সুধাসম মানি ॥
পুন পুন পান                করত পুন দেওত
সহচরিগণ মুখচান্দে ।
সহজই মদন-                   মদাকুল মধুমদ
পান করত কত ছান্দে ॥
পিবি পিবি সহচরি               নাগর নাগরি
মাতল মদ উনমাদে ।
দীনবন্ধু কিছু                    বুঝই না পারই
কি কহই গদগদ বাদে ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কোন বিঘটনে না দেখি যে দিনে
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৪৫১ পদসংখ্যা।

॥ ধানশ্রী ॥

কোনো বিঘটনে              না দেখি যে দিনে
তোমার ও চান্দ মুখ ।
কে জানে সে দিনে              কত উঠে মনে
দুখের উপরে দুখ ॥
 ধনি পরান-পুতলি তুমি ।
শিরে হাথ দিঞা                 বলি দঢ়াইঞা
তোমা না ছাড়িব আমি ॥
অগতির গতি                  তোমার পিরিতি
পাঞাছি অনেক সাধে ।
ও মুখ মলিন                         সজল নয়ন
দেখিঞা পরান কান্দে ॥
জল বিনে মীন                      মরএ যেমন
তোমা না দেখিলে মরি ।
দীনবন্ধু বলে                   তোমারে ছাড়িলে
বাচিব কেমন করি ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ ধানশ্রী ॥

কোনো বিঘটনে               না দেখি যে দিনে
তোমার ও চান্দ মুখ ।
কে জানে সে দিনে               কত উঠে মনে
দুখের উপরে দুখ ॥
ধনি পরান-পুতলি তুমি ।
শিরে হাথ দিঞা                  বলি দঢ়াইঞা
তোমা না ছাড়িব আমি ॥
অগতির গতি                   তোমার পিরীতি
পাঞাছি অনেক সাধে ।
ও মুখ মলিন                          সজল নয়ন
দেখিঞা পরান কান্দে ॥
জল বিনে মীন                       মরএ যেমন
তোমা না দেখিলে মরি ।
দীনবন্ধু বলে                    তোমারে ছাড়িলে
বাঁচিব কেমন করি ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গহন কাননে অশেষ ভয়
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ১৩৮ পদসংখ্যা।

॥ সারঙ্গ রাগ॥

গহন কাননে অশেষ ভয়
ধাওয়া ধাওই বড় উচিত নয়
অতি সুকোমল চরণ তায়
.                কুশাঙ্কুর পাছে বাজে রে ।
লতাএ জড়িত পথের মাঝে
উচা নিচা কত পাষাণ বাজে
ঘামিল ও মুখ-পঙ্কজরাজে
.                ধাইতে বনের মাঝে রে ॥
বিষম সঙ্কট লাগএ মনে
বিপুল কন্টক আছএ বনে
পথপানে চাঞা না চল কেনে
.                মরি যে মনের তাপে রে ।
একি হল্য মোরে দারুণ দায়
যদি বাজে তোর কমল গায়
দেখিলে তবে কি বলিবে মায়
.                অয়ি ভএ প্রাণ কাঁপে রে ॥
ও মুখ বিকচ কমল বলি
মধুলোভে পাছে দংশে অলি
চল চল সব রাখাল মেলি
.                কি ফল কাননে ধাইঞা ।
চল চল বন তেজিঞা মাঠে
কলিন্দ-নন্দিনী নদীর তটে
বংশীবট তট নিকট ঘাটে
.                বসিঞা রহিব যাইঞা ॥
আর এক ভয় আছএ মনে
এত দুখ যদি জননী শুনে
তোরে কভো নাহি পাঠাবে বনে
.                আমা সভাকার সঙ্গে রে ।
মধুর মধুর বাজাঞা বেণু
চল চল সভে লইঞা ধেনু
দীনবন্ধু মাগে চরণ-রেণু
.                  পড়িঞা পদতলে রঙ্গে রে ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের প্রতি সখার উক্তি
॥ সারঙ্গ রাগ॥

গহন কাননে অশেষ ভয়
ধাওয়া ধাওই বড় উচিত নয়
অতি সুকোমল চরণ তায়
.                কুশাঙ্কুর পাছে বাজে রে ।
লতাএ জড়িত পথের মাঝে
উঁচা নিচা কত পাষাণ বাজে
ঘামিল ও মুখ-পঙ্কজরাজে
.                ধাইতে বনের মাঝে রে ॥
বিষম সঙ্কট লাগএ মনে
বিপুল কন্টক আছ এ বনে
পথপানে চাঞা না চল কেনে
.                মরি যে মনের তাপে রে ।
একি হল্য মোরে দারুণ দায়
যদি বাজে তোর কোমল গায়
দেখিলে তবে কি বলিবে মায়
.                অই ভয়ে প্রাণ কাঁপে রে ॥
ও মুখ বিকচ কমল বলি
মধুলোভে পাছে দংশে অলি
চল চল সব রাখাল মেলি
.                কি ফল কাননে ধাইঞা ।
চল চল বন তেজিঞা মাঠে
কলিন্দ-নন্দিনী নদীর ঘাটে
বংশীবট তট নিকট বাটে
.                বসিঞা রহিব যাইঞা ॥
আর এক ভয় আছএ মনে
এত দুখ যদি জননী শুনে
তোরে কভো নাহি পাঠাবে বনে
.                আমা সভাকার সঙ্গে রে ।
মধুর মধুর বাজাঞা বেণু
চল চল সভে লইঞা ধেনু
দীনবন্ধু মাগে চরণ-রেণু
.                  পড়িঞা পদতলে রঙ্গে রে ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গিরি পুরি ভারতী বড়ই কঠিন-মতি
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৪৩২ পদসংখ্যা।

॥ যথা রাগ ॥

গিরি পুরি ভারতী                 বড়ই কঠিন-মতি
যব আওল পুরমাঝ ।
তাহে হেরি অন্তর                    থরহরি কাপই
এত দিনে পড়ল অকাজ ॥
সজনী ঘরে ঘরে শুনি উপদেশ ।
নিশি পরভাতে                       গৌরবর-নাগর
ছোড়ি চলব দুরদেশ ॥
রজনি বিরামি                     যৈছে নহে প্রাতর
ঐছন রচহ উপায় ।
গগনক চান্দ                        ফান্দ করি বান্ধহ
মন্দিরে রহু গোরা রায় ॥
অহনিশি অম্বরে                    চান্দ উদয় হেরি
দিনকর পড়ব নিরাশ ।
রোখহিঁ নিজসুত                   শমন আনি কিএ
দীনবন্ধু করু নাশ ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নদীয়া নাগরীর বিলাপ
॥ তথারাগ॥

গিরি পুরি ভারতী                  বড়ই কঠিন-মতি
যব আওল পুরমাঝ ।
তাহে হেরি অন্তর                    থরহরি কাঁপই
এত দিনে পড়ল অকাজ ॥
সজনী ঘরে ঘরে শুনি উপদেশ ।
নিশি পরভাতে                        গৌরবর-নাগর
ছোড়ি চলব দুরদেশ ॥
রজনি বিরামি                      যৈছে নহে প্রাতর
ঐছন রচহ উপায় ।
গগনক চান্দ                         ফান্দ করি বান্ধহ
মন্দিরে রহু গোরা রায় ॥
অহনিশি অম্বরে                     চান্দ উদয় হেরি
দিনকর পড়ব নিরাশ ।
রোখহিঁ নিজসুত                    শমন আনি কিএ
দীনবন্ধু করু নাশ ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গুরুজন সকল ঘুমাওল সুন্দরি
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৩৫৪ পদসংখ্যা।

গুরুজন সকল                  ঘুমাওল সুন্দরি
পুরজন নিসবদ ভেল ।
অবসর রভস-                সময় অব যামিনি
সাজহ সহচরি মেল ॥
ধনি ধনি তুহুঁ যদি ভেঠবি কাহ্ন ।
সঙ্কেত-কেলি-                   কদম্ব-কুসুম-বন
তুরিতহি করহ পয়ান ॥
চন্দন কপুর                    খপুর কর সঞ্চয়
মৃগমদ কুঙ্কুম লেহ ।
সাজহ তাম্বুল                   গাথি বিবিধ ফুল
সহচরি-করে ভরি দেহ ॥
শীতল বারি                 ঝারি ভরি আনহ
কনক-দীপ উজিআর ।
সহচরি সঙ্গে                    রঙ্গে চলু কানন
দীনবন্ধু আগুসার ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোকুলে আনন্দ বড় জয় জয়কার
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ৮ পদসংখ্যা।

      ॥ যথা রাগ ॥
গোকুলে আনন্দ বড় জয় জয়কার ।
আপনি অখিলপতি ভেল অবতার ॥
ভাদ্রমাসে কৃষ্ণাস্টমী নক্ষত্র রোহিণী ।
অর্দ্ধরাত্রে জনম লভিলা যদুমণি ॥
কত চান্দ জিনি মুখ ঝলমল করে ।
জগজনার মোনের আন্ধার গেল দুরে ॥
বরণ চিকণ ইন্দ্রনীলমণি জিনি ।
দীনবন্ধু কহে রূপে পরান নিছনি ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মলীলা
॥ তথারাগ॥

গোকুলে আনন্দ বড় জয় জয়কার ।
আপনি অখিলপতি ভেল অবতার ॥
ভাদ্রমাসে কৃষ্ণাষ্টমী নক্ষত্র রোহিণী ।
অর্দ্ধরাত্রে জনম লভিলা যদুমণি ॥
কত চান্দ জিনি মুখ ঝলমল করে ।
জগজনার মনের আন্ধার গেল দূরে ॥
বরণ চিকণ ইন্দ্রনীলমণি জিনি ।
দীনবন্ধু কহে রূপে পরান নিছনি ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোধন দোহন করি যদুনন্দন
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৫৭ পদসংখ্যা।

॥ ধানসী ॥

গোধন দোহন                       করি যদুনন্দন
মন্দির পরিহরি গেল ।
সহচরি সঙ্গে                      চলত নব রঙ্গিনী
পন্থহি দরশন ভেল ॥
কো কহু দুহুঁ জন রঙ্গ ।
ক্ষির সর মোদক                ধর ধর বলি ধনি
সঘনে দেখাওত অঙ্গ ॥
চঞ্চল নাহ                       ধরল যব অঞ্চল
সুন্দরি কোরে আগোর ।
নীল নিচোলে                  ঝাঁপি ভুজ পাসহি
বান্ধল মানস-চোর ॥
পুরল মনোরথ                 দুহু নিজ নিজ পথ
মন্দিরে করল পয়ান ।
জগ ভরি কোই                 লখই নাহি পারল
দীনবন্ধু রস গান ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠে মিলন
॥ ধানশী॥

গোধন দোহন                       করি যদুনন্দন
মন্দির পরিহরি গেল ।
সহচরি সঙ্গে                     চলত নব রঙ্গিণী
পন্থহি দরশন ভেল ॥
কো কহু দুহুঁ জন রঙ্গ ।
ক্ষির সর মোদক                ধর ধর বলি ধনি
সঘনে দেখাওত অঙ্গ ॥
চঞ্চল নাহ                       ধরল যব অঞ্চল
সুন্দরি কোরে আগোর ।
নীল নিচোলে                   ঝাঁপি ভুজ পাশহি
বান্ধলি মানস-চোর ॥
পুরল মনোরথ                দুহু নিজ নিজ পথ
মন্দিরে করল পয়ান ।
জগ ভরি কোই                 লখই নাহি পারল
দীনবন্ধু রস গান ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোধন লইঞা বেণু বাজাইঞা
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ১৫৫ পদসংখ্যা।

॥ ধানশ্রী॥

গোধন লইঞা                      বেণু বাজাইঞা
গহনে আইলে তুমি।
তখনি হইতে                       কত উঠে চিতে
কান্দিঞা মরিএ আমি॥
বন্ধু কত না কহিব তোরে।
তবহিঁ সুবল                          তোমার কুশল
সকলি কহিল মোরে॥
মোরে পাঠাইঞা                        কুলবধূ হঞা
রহিল ঘরের কাজে।
তোমা দরশনে                          হরষিত মনে
আইলাম সুবল সাজে॥
আমি পরাধীন                        তেঞি সে এমন
বাহির হইতে ছলা।
দীনবন্ধু বলে                           এমতি নহিলে
কেমনে পাইবে কালা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার উক্তি
॥ ধানশ্রী ॥

গোধন লইঞা                        বেণু বাজাইঞা
গহনে আইলে তুমি।
তখনি হইতে                        কত উঠে চিতে
কাদিঞা মরিএ আমি॥
বন্ধু কত না কহিব তোরে।
তবহিঁ সুবল                          তোমার কুশল
সকলি কহিল মোরে॥
মোরে পাঠাইঞা                        কুলবধূ হঞা
রহিল ঘরের কাজে।
তোমা দরশনে                          হরষিত মনে
আইলাম সুবল সাজে॥
আমি পরাধীন                        তেঞি সে এমন
বাহির হইতে ছলা।
দীনবন্ধু বলে                           এমতি নহিলে
কেমনে পাইবে কালা॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর