কবি দীনবন্ধু দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
নাচিতে নাচিতে হরি দক্ষিণ চরণ ধরি
ভণিতা দীনবন্ধু দাস
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৬৬ পদসংখ্যা।

॥ সুহই রাগ ॥

নাচিতে নাচিতে হরি                     দক্ষিণ চরণ ধরি
মাএর সমুখে ডাড়াইল ।
করতলে কর জুড়ি                      মলিন বদন করি
গদ গদ কহিতে লাগিল ॥
জননি গো নাচিঞা চরণ হল্য ভারি ।
এই না ক্ষুধার বেলা                 খস্যা পড়ে পীত ধড়া
আর আমি নাচিতে না পারি ॥
ক্ষীর সর দেহ যদি                     তবে নাচি নিরবধি
ঘন ঘন চরণ তুলিঞা ।
রুনুর ঝুনুর স্বর                       বাজিবে নূপুর মোর
শুনিলেই রহিবে ভুলিঞা ॥
ঘাঘর ঘুংঘুর খর                     বাজিবে পঞ্চম স্বর
নবনি পাইলে দুটি হাথে ।
দীনবন্ধু দাস গানে                       পরম আনন্দ মনে
নাচিঞা বেড়াব আঙ্গিনাতে ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের নবনী প্রার্থনা
॥ সুহই॥

নাচিতে নাচিতে হরি                    দক্ষিণ চরণ ধরি
মাএর সমুখে ডাঁড়াইল ।
করতলে কর জুড়ি                     মলিন বদন করি
গদ গদ কহিতে লাগিল ॥
জননি গো নাচিঞা চরণ হল্য ভারি ।
এই না ক্ষুধার বেলা                খস্যা পড়ে পীত ধড়া
আর আমি নাচিতে না পারি ॥
ক্ষীর সর দেহ যদি                   তবে নাচি নিরবধি
ঘন ঘন চরণ তুলিঞা ।
রুনুর ঝুনুর স্বর                     বাজিবে নূপুর মোর
শুনিলেই রহিবে ভুলিঞা ॥
ঘাঘর ঘুংঘুর খর                    বাজিবে পঞ্চম স্বর
নবনি পাইলে দুটি হাথে ।
দীনবন্ধু দাস গানে                    পরম আনন্দ মনে
নাচিঞা বেড়াব আঙ্গিনাতে ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
না দেখিঞা নীলমণি আকুল হইল রাণী
ভণিতা দীনবন্ধু দাস
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৬১ পদসংখ্যা।

॥ কামোদ রাগ ॥

না দেখিঞা নীলমণি                আকুল হইল রাণী
ধরিতে না পারে নিজ তনু ।
দেখিঞা মাএর দুখ                  উভ করি চান্দ-মুখ
সব শিশু বাজাইল বেণু ॥
গগন ভরিল বেণুরবে ।
শুনিঞা জানিল হরি                  সব সহচর মেলি
বনে ধেনু লঞা জাত্যে হবে ॥
রাইর বিচ্ছেদে শ্যাম                আকুল অবশ প্রাণ
আসি যমুনার ধারে ধারে ।
 উছুর দেখিঞা বেলা              শ্রীঅঙ্গে মাখিঞা ধূলা
কান্দিতে কান্দিতে আল্য ঘরে ॥
পাইঞা রতন-মণি                  আনন্দে আকুল রাণী
বদন চুম্বয়ে অনুরাগে ।
দীনবন্ধু দাস ভণে                    পাঠাইতে হবে বনে
শপথ কব়্যাছ মোর আগে ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের গৃহাগমন
॥ কামোদ॥

না দেখিঞা নীলমণি                 আকুল হইল রাণী
ধরিতে না পারে নিজ তনু ।
দেখিঞা মাএর দুখ                   উভ করি চান্দ-মুখ
সব শিশু বাজাইল বেণু ॥
গগন ভরিল বেণুরবে ।
শুনিঞা জানিল হরি                    সব সহচর মেলি
বনে ধেনু লঞা যাত্যে হবে ॥
রাইর বিচ্ছেদে শ্যাম                 আকুল অবশ প্রাণ
আসি যমুনার ধারে ধারে ।
উছোর দেখিঞা বেলা           শ্রীঅঙ্গে মাখিঞা ধূলা
কান্দিতে কান্দিতে আল্য ঘরে ॥
পাইঞা রতন-মণি                 আনন্দে আকুল রাণী
বদন চুম্বয়ে অনুরাগে ।
দীনবন্ধু দাস ভণে                   পাঠাইতে হবে বনে
শপথ কব়্যাছ মোর আগে ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নাহ জাগাই চমকি ধনী বৈঠল
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৪৫৩ পদসংখ্যা।

॥ ধানশ্রী ॥

নাহ জাগাই                      চমকি ধনী বৈঠল
জানি রজনি অবশেষ ।
চন্দন অলক                   তিলক শিখিচন্দ্রক
দেই বনাওল বেশ ॥
দুহুঁ দরশনে দুহুঁ ভোর ।
সিন্দুর কাজরে                  সাজি রাই মুখে
চুম্বই নন্দকিশোর ॥
আদর সাধ                   রভস রস কৌতুকে
দুহুঁ তনু যৌতুক দেল ।
যত যত বিপদ                বিরহ-দুখ চিরদিন
চপল সপন সম ভেল ॥
অরুণ উদয় হেরি                   নাগর নাগরি
থরহরি কাপই দেহ ।
দীনবন্ধু ভণ                    তুরিতহিঁ দুহুঁ জন
পৈঠল নিজ নিজ গেহ ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উভয়ের মিলন
॥ ধানশ্রী ॥

নাহ জাগাই                      চমকি ধনী বৈঠল
জানি রজনি অবশেষ ।
চন্দন অলক                    তিলক শিখিচন্দ্রক
দেই বনাওল বেশ ॥
দুহুঁ দরশনে দুহুঁ ভোর ।
সিন্দুর কাজরে                      সাজি রাই মুখে
চুম্বই নন্দকিশোর ॥
আদর সাধ                      রভস রস কৌতুকে
দুহুঁ তনু যৌতুক দেল ।
যত যত বিপদ                   বিরহ-দুখ চিরদিন
চপল সপন সম ভেল ॥
অরুণ উদয় হেরি                     নাগর নাগরি
থরহরি কাঁপই দেহ ।
দীনবন্ধু ভণ                     তুরিতহিঁ দুহুঁ জন
পৈঠল নিজ নিজ গেহ ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নাহ সোহাগ মানমদে মাতল
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ২৮৩ পদসংখ্যা।

নাহ সোহাগ                   মানমদে মাতল
কামিনি গোপগোয়াঁরি ।
রাই হৃদয়ে ধরি                তবহিঁ লুকাওল
বিদগধ কুঞ্জবিহারি ॥
গোপিনী ঢূড়ত কানন মাঝ ।
তরু তরু হেরি                 নাহ পথ পূছত
পরিহরি ধৈরজ লাজ ॥
বনে বনে ভরমি            ছরমি তহিঁ পায়ল
গোরি শ্যামপদ ভিন্ন ।
পুন অনুরাগে                আগে পহুঁ পেখল
অধিক মগন পদচিহ্ন ॥
মনে অনুমানি               জানি সব গোপিনি
রাই বহন পরিবন্ধ ।
রঙ্গিনি-পুণ্য-                    পুঞ্জ সব ঘোষই
দীনবন্ধু সখিবৃন্দ ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিজ মন্দির তেজি গতং ঝটকং
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ১৫১ পদসংখ্যা।

॥ কানড় ॥

নিজ মন্দির তেজি গতং ঝটকং ।
চলকুণ্ডলমণ্ডিতগণ্ডতটং ॥
মদমত্তমতঙ্গজমন্দগতা ।
জটিলাপদপঙ্কজধূলিনতা ॥
নত কন্ধর হেরি গতং সুবলং ।
জটিলা জয় দেই বনে কুশলং ॥
মধুরাধরবাদ সুধা সম মীঠ ।
গুরু গর্ব্বিত ছর্দ্দিত দেওল পীঠ ॥
সুবলাকৃতি রাই বনে গমনং ।
পহুঁ দীনবন্ধুকলিতং ভণনং ॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৩৪-পৃষ্ঠা।

॥ সুহিনী॥

নিজ মন্দির ত্যজি গতং ঝটকং।
দোল কুণ্ডল মণ্ডিত গণ্ড তটং॥
মদমত্ত মাতঙ্গিনী মন্দগতা।
জটিলা পদপঙ্কজ ধূলি নতা॥
নত কন্দর হেরি গতং সুবলং।
জটিলা জয় দেই বনে কুশলং॥
মধুরাধর কেলি সুধা রস মীঠং।
গুরু গর্ব্বিত বচনে দেল পীঠং॥
সুবলাকৃতি রাইক বনে গমনং।
দীন বন্ধু ভণে গলিতং ভূষণং॥


ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১৬৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন,
নিমানন্দ দাস বিরচিত “পদরসসার” পুথি থেকে।

সুবল মিলন
॥ ধানশী ॥

নিজ মন্দির তেজি গতং ঝকটং ।
চল-কুণ্ডল-মণ্ডিত-গণ্ড-তটং ॥
মদ-মত্ত-মতঙ্গজ-মন্দ-গতা ।
জটিলা-পদ-পঙ্কজ-ধূলি-নতা ॥
নত-কন্ধর হেরি গতং সুবলং ।
জটিলা জয় দেই বনে কুশলং ॥
মধুরাধর-বাতহি শূধ-মিঠং ।
গুরু-গর্ব্বিত শূনি ত দেয় পীঠং ॥
সুবলাকৃতি রাই বনে গমনং ।
রহু দীনবন্ধু কলিতং ভবনং ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার সুবল বেশ
॥ কানড় ॥

নিজ মন্দির তেজি গতং ঝটকং ।
চলকুণ্ডল মণ্ডিত গণ্ডতটং ॥
মদমত্তমতঙ্গজ মন্দগতা ।
জটিলাপদপঙ্কজ-ধূলিনতা ॥
নত কন্ধর হেরি গতং সুবলং ।
জটিলা জয় দেই বনে কুশলং ॥
মধুরাধরবাদ সুধা সম মীঠ ।
গুরু গর্ব্বিত ছর্দ্দিত দেওল পীঠ ॥
সুবলাকৃতি রাই বনে গমনং ।
দীনবন্ধুকলিতং ভণনং ॥

ব্যাখ্যা -
সুবল বেশধারিণী শ্রীরাধা নিজ মন্দির ত্যাগ করিয়া দ্রুত গমনে চলিলেন। গতিবেগে দুলিয়া
দুলিয়া কানের কুণ্ডল গণ্ডতট মণ্ডিত করিতে লাগিল। সুবল বেশধারিণী রাই চলিলেন
মদমত্ত হস্তিনিন্দিত মন্দগতিতে। যাত্রা কালে তিনি নত হইয়া জটিলার (শ্বাশুরী মাতা)
পদধূলি গ্রহণ করিলেন। সুবল বেশধারিণী প্রণতা রাইকে নত কন্ধরে যাইতে
দেখিয়া জটিলা জয়ধ্বনি করিয়া কুশল কামনা করিলেন। মধুরাধরে সুধাসম মিষ্ট অতি
মৃদুস্বরে কৃষ্ণগুণ গান করিতে করিতে গুরুগৌরব ছেদনপূর্ব্বক রাধা তাঁহাদের প্রতি পৃষ্ঠ
প্রদর্শন করিলেন (উপেক্ষা দেখাইলেন)। সুবলাকৃতি শ্রীরাধার বনে গমন দীনবন্ধু আনন্দে
বর্ণনা করিলেন।---হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, “বৈষ্ণব পদাবলী”॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ২২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নিজ মন্দির তেজি গতং ঝটকং।
চল কুণ্ডল মণ্ডিত গাঙতটং॥
মদমত্ত মতঙ্গজ মন্দগতা।
জটিলাপদপংকজধূলিনতা॥
নত কন্ধর হেরি গতং সুবলং ।
জটিলা জয় দেই বলে কুশলং॥
মধুরাধরবাদ সুধা সম মীঠ।
গুরু গর্বিত ছর্দিত দেওল পীঠ॥
সুবলাকৃতি রাই বনে গমনং।
পহুঁ দীনবন্ধু কলিতং ভণনং॥

ই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবলমিলন

নিজ মন্দির তেজি গতং ঝটকং
চলকুণ্ডলমণ্ডিতগণ্ডতটং।
মদমত্তমতঙ্গজমন্দগতা
জটিলাপদপঙ্কজধূলিনতা।
নত-কন্ধর হেরি গতং সুবলং
জটিলা জয় দেই বলে কুশলং।
মধুরাধরবাত সুধা সম মীঠ
গুরুগর্বিত পূছিত দেই পীঠ।
সুবলাকৃতি রাই বনে গমনং
পহুঁ দীনবন্ধু কলিতং ভণনং।

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিশি পরভাত জানি যদুরাজ
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ৪৫৪ পদসংখ্যা।

॥ যাত্রা ॥

নিশি পরভাত জানি যদুরাজ ।
অক্রূর আনি কয়ল রথসাজ ॥
দাম শ্রীদাম সঙ্গে বলরাম ।
রথ আরোহণ করলেহিঁ কাহ্ন ॥
অক্রূর সারথি করু আগুসার ।
সঙ্গে চলল সব গোপ গোয়ার ॥
নন্দমহল কলরব উতরোল ।
শুনইতে দীনবব্ধু ভেল ভোর ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মখুরা যাত্রা
॥ তথারাগ॥

নিশি পরভাত জানি যদুরাজ ।
অক্রূর আনি কয়ল রথসাজ ॥
দাম শ্রীদাম সঙ্গে বলরাম ।
রথ আরোহণ করলেহিঁ কান ॥
অক্রূর সারথি করু আগুসার ।
সঙ্গে চলল সব গোপ গোঁয়ার ॥
নন্দমহল কলরব উতরোল ।
শুনইতে দীনবব্ধু ভেল ভোর ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিশি পরভাতে ময়ূর নাহিঁ নাচত
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৪৫৬ পদসংখ্যা।

নিশি পরভাতে                ময়ূর নাহিঁ নাচত
রোয়ত শুক পিক সারি ।
নন্দ মহল কল-                 রব শুনি আকুল
ধাওল ব্রজপুরনারী ॥
       সুন্দরি মন্দির-বাহির ভেল ।
গুরু জনে এক                  নয়ন পথ-পাঁতরে
অপর নয়ন ধনী দেল ॥
হরি লই অক্রূর                    যাওত মধুপুর
হেরি পড়ল পরমাদ ।
কুল-ভয় পরিহরি                 নাহ হৃদয়ে ধরি
অন্তরে উপজএ সাধ ॥
হৃদয় জানি পুন                আওব বলি হরি
কর-সঙ্কেত কবি গেল ।
দীনবব্ধু হরি-                     বিরহ-বেয়াকুল
জীবইতে সংশয় ভেল ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

নিশি পরভাতে                ময়ূর নাহিঁ নাচত
রোয়ত শুক পিক সারি ।
নন্দ মহল কল-                  রব শুনি আকুল
ধাওল ব্রজপুরনারী ॥
সুন্দরি মন্দির-বাহির ভেল ।
গুরু জনে এক                  নয়ন পথ-পাঁতরে
অপর নয়ন ধনী দেল ॥
হরি লই অক্রূর                    যাওত মধুপুর
হেরি পড়ল পরমাদ ।
কুল-ভয় পরিহরি                 নাহ হৃদয়ে ধরি
অন্তরে উপজএ সাধ ॥
হৃদয় জানি পুন                  আওব বলি হরি
কর-সঙ্কেত করি গেল ।
দীনবব্ধু হরি-                     বিরহ-বেয়াকুল
জীবইতে সংশয় ভেল ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পবনে গমনে নিকুঞ্জ ভবনে
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবল মিলন।
॥ যথারাগ॥

পবনে গমনে নিকুঞ্জ ভবনে আসিয়া মিলিল রাধা।
ঘাঘর ঘুঙ্ঘুর কলরব শুনি, পূরল মনের সাধা॥
চঞ্চল নয়নে, দশ দিক পানে, চাহয়ে চিকণ-কালা।
নিকটে দেখয়ে, একলা সুবল, বাড়িল বিষম জ্বালা॥
নয়নের জল, করে ছল ছল, পড়িল ধরণীতলে।
সিক নাগরী, দুবাহু পসারি, বন্ধুয়া করিল কোলে॥
অঙ্গের পরশে, রসের আবেশে, ঘুচিল মনের ধান্ধা।
নিরখি বদন করয়ে চুম্বন, চকোর মিলল চাঁদা॥
আনন্দের ভরে, আপনা পাসরে, বঁধুয়া করিয়া কোরে।
দীনবন্ধু ভণে, মিলিল দুজনে, শ্রীরাধাকুণ্ডের তীরে॥


ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ১৬৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন, নিমানন্দ দাস বিরচিত
“পদরসসার” পুথি থেকে।

সুবল মিলন
॥ সারঙ্গ ॥

পবন-গমনে                           নিকুঞ্জ-ভবনে
আসিয়া মিলিল রাধা।
নূপুর-কিঙ্কিণী-                        কলবর১ শুনি
পূরিল শ্যামের সাধা॥
চঞ্চল-নয়নে                         দশ দিগ পানে
চাহিতে নাগর-কালা।
নিকটে দেখিল                        একলা সুবল
দ্বিগুণ বাড়িল জ্বালা॥
নয়নের জল                            করে ছলছল
পড়িল ধরণী-তলে।
রসিকা নাগরী                        দু-বাহু পসারি
নাগরে করিল কোলে॥
অঙ্গের পরশে                      রসের আবেশে
ভাঙ্গিল মনের ধন্ধ।
নিরখি বদন                            করিল চুম্বন
চকোরে মিলল চন্দ॥
আনন্দের ভরে                      আপনা পাসরে
বন্ধুরে পাইয়া রাধা।
দীনবন্ধু বলে                         সুবলের ছলে
পূরল মনের সাধা॥

১ - কলরব - কলরব হবে।


.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পরিবার নীল শাটী দিল আজাড়িয়া
পরিবার তরে শাড়ী দিল আজাড়িয়া
ভণিতা দীনবন্ধু দাস
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“সংকীর্ত্তনামৃত” ১৫০ পদসংখ্যা।

॥ ধানশী ॥

পরিবার নীল শাটী দিল আজাড়িঞা ।
কটিতে বান্ধিল ধটী যতন করিঞা ॥
কুচযুগ ঝাপিঞা উঢ়নী দিল গাএ ।
মণিময় রতন নূপুর নিল পাএ ॥
মুকুরে নিরখি মুখ সিন্দুর উজরি ।
বান্ধিল বিনোদ চূড়া আলাঞা কবরি ॥
করের কঙ্কণ দিল সুবলের হাথে ।
নিজ করে কবরী বনাঞা দিল মাথে ॥
সুবলে রাখিঞা ঘরে করল পয়ান ।
দীনবন্ধুদাস তছু পদতলে গান ॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবল মিলন।
॥ যথারাগ॥

পরিবার নীল সাড়ী দিল আজাড়িয়া ।
কটিতে বান্ধিল ধটী যতন করিয়া ॥
মুকুরে নিরখি মুখ সিন্দুর উতারি ।
বান্ধিল বিনোদ চূড়া আলায়ে কবরী ॥
করের কঙ্কণ দিল সুবলের হাথে ।
নিজ করে কবরী বান্ধিয়া দিল মাথে ॥
সুবলে রাখিঞা ঘরে করল পয়াণ ।
দীনবন্ধুদাস তছু পদযুগে গান ॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

পরিবার তরে শাড়ী দিল আজাড়িয়া।
কটিতে বান্ধিল ধটী যতন করিয়া॥
করের কঙ্কণ দিল সুবলের হাতে।
নিজ করে কবরী বান্ধিয়া দিল মাথে॥
মুকুরে নিরখি মুখ সিন্দুর উতারি।
বান্ধিল বিনোদ চূড়া এলায়ে কবরী॥
সুবলে রাখিয়া ঘরে করিল পয়াণ।
দীনবন্ধু দাস তছু পদ যুগ গান॥


ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১৬৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন,
নিমানন্দ দাস বিরচিত “পদরসসার” পুথি এবং শ্রীপাট-পুর্ণিয়া নিবাসী, নিত্যানন্দ-
বংশাবতংস কীর্তন-পারদর্শী বনবিহারী গোস্বামী কাছ থেকে প্রাপ্ত “বাঁকুড়ার পুথি” থেকে।

সুবল মিলন
॥ ধানশী ॥

পরিবার নীল শাড়ী দিল আজাড়িয়া ।
কটিতে বান্ধিল ধটী যতন করিয়া ॥
করের কঙ্কণ দিল সুবলের হাথে ।
নিজ করে কবরী বান্ধিয়া দিল মাথে ॥
দর্পণে নিরখি মুখ সিন্দুর উতারি ।
বাঁধিল বিনোদ চূড়া আউলাই কবরী ॥
বহুত যতনে বেশ বনায়ন তায়।
কুচ-ছিরিফল দুহুঁ তভু না লুকায়॥
ভাবিয়া সুবল তখন মনে বিচারিল।
নবীন বাছুরী আনি রাইয়ের কোলে দিল॥
বাছুড়ীর আড়ে পয়োধর লুকাইল।
হরষিত হয়্যা ধনী গমন করিল॥
সুবলে রাখিয়া ঘরে কয়ল পয়ান ।
দীনবন্ধু দাস তছু পদ-যুদ চান ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার সুবল বেশ
॥ ধানশী ॥

পরিবার নীল শাটী দিল আজাড়িঞা ।
কটিতে বান্ধিল ধটী যতন করিঞা ॥
কুচযুগ ঝাঁপিঞা উঢ়নী দিল গাএ ।
মণিময় রতন নূপুর নিল পাএ ॥
মুকুরে নিরখি মুখ সিন্দুর উবরি ।
বান্ধিল বিনোদ চূড়া আলাঞা কবরি ॥
করের কঙ্কণ দিল সুবলের হাথে ।
নিজ করে কবরী বনাঞা দিল মাথে ॥
সুবলে রাখিঞা ঘরে করল পয়ান ।
দীনবন্ধু দাস তছু পদতলে গান ॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবল-সংবাদ

পরিবার তরে শাড়ী দিল আজড়িয়া।
কটীতে বান্ধিল ধটি যতন করিয়া॥
করের কঙ্কণ দিল সুবলের হাতে।
নিজ করে কবরী বন্ধিয়া দিল মাথে॥
মুকুরে নিরখি মুখ সিন্দুর উতারি।
বান্ধিল বিনোদ চূড়া এল্যায়ে কবরী॥
সুবলে রাখিয়া ঘরে করলা পয়ান।
দীনবন্ধু দাস তছু পদযুগে গান॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পরিসর ঘর দেহলি পুর গোপুর
ভণিতা দীনবন্ধু
কবি দীনবন্ধু দাস
১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে
(১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত” ৫৮ পদসংখ্যা।

॥ ধানসী ॥

পরিসর ঘর দে-              হলি পুর-গোপুর
হেরি যশোমতি রাণী ।
গোকুল চান্দ               কতিহ নাহি পাওল
বিপদ পড়ল হেন জানি ॥
মাই সুতবিরহাকুল ভেল ।
বিগলিত ক্ষীর                 পয়োধর-মণ্ডলে
লোরে নয়ন ঢরি গেল ॥
বল বসুদাম                    সুবল মধুমঙ্গলে
সাধই বারহি বার ।
ধর ধর ক্ষির সর              আনি দেহ মোর
জীবনলাল দুলাল ॥
যো অব নিলমনি               কোরে মিলাওব
ক্ষির সর সব দিব তায় ।
দীনবন্ধু বলে           তিলে তিলে না দেখিলে
পরান ধরিতে নারে মায় ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যশোদার কৃষ্ণ অন্বেষণ
॥ ধানশী॥

পরিসর ঘর                দেহলি পুর গোপুর
হেরি যশোমতী রাণী ।
গোকুল চান্দ               কতিহুঁ নাহি পাওল
বিপদ পড়ল হেন জানি ॥
মাই সুত বিরহাকুল ভেল ।
বিগলিত ক্ষীর                 পয়োধর-মণ্ডলে
লোরে নয়ন ঢরি গেল ॥
বল বসুদাম                   সুবল মধুমঙ্গলে
সাধহি বারহি বার ।
ধর ধর ক্ষির সর             আনি দেহ মোর
জীবনলাল দুলার ॥
যো অব নীলমণি               কোরে মিলাওব
ক্ষির সর সব দিব তায় ।
দীনবন্ধু বলে           তিলে তিলে না দেখিলে
পরাণ ধরিতে নারে মায় ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর