সুবল মিলন পালা - পাতার উপরে . . .
অধ্যাপক খগেন্দ্রনাথ মিত্র তাঁর পদামৃতমাধুরী, ৪র্থ খণ্ডের ভূমিকায় দীনবন্ধু দাসের পরিচয়ে লিখেছেন,
“দীনবন্ধু দাসের পদের মধ্যে ‘সুবল মিলন’ নামক পালাটি কীর্ত্তন-সমাজে আদৃত হইয়া থাকে।” এই
কথা আমরা পুরো মাত্রায় সমর্থন করি। “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু” পদাবলী সংকলন গ্রন্থটি ১৮৭০ খৃষ্টাব্দের মধ্যে
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত।
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভূমিকায় জানিয়েছেন যে তাঁর পিতা তাঁর সমস্ত জীবন অতিবাহিত
করেছিলেন পদাবলী সংগ্রহ করতে। যেভাবে লিখেছেন তাতে মনে হয় চন্দ্রনাথ অন্তত ৫০ বছর ধরে
পদাবলী সংগ্রহ করেছিলেন। ১৮৭০ সার নাগাদ তিনি পরলোক গমন করেন। শেষ শয্যায় তিনি পুত্রদের বলে
যান যে তাঁরা যেন তাঁর সংগৃহীত পদগুলি প্রকাশিত করে। সেই সুযোগ আসে পুত্র রাজেন্দ্রনাথেরও
কর্মজীবনের শেষে ১৯২২-এ। পদ-সংগ্রহ শেষ এবং শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু সংকলনের প্রকাশনা কালের
মধ্যে তাই প্রায় ৫০ বছরের ব্যাবধান।
চন্দ্রনাথ কলকাতায় একটি সদাগরী অফিসে চাকরি করতেন। ছুটি নিয়ে তাঁর জন্মভূমি শান্তিপুরে গিয়ে রাস
মেলা সহ বিভিন্ন মেলায় মেলায়, কীর্তনিয়াদের আখড়ায়, ঘুরে বেড়িয়ে, তাঁদের বাড়ীতে নিমন্ত্রণ করে ডেকে
এনে গান শুনে সংগ্রহ করতেন, অর্থ দিতেন। ফলে তাঁর সংগ্রহটি আসলে ছিল আক্ষরিক। সেই সংগ্রহে
আমরা দীনবন্ধুর দাসের “সুবল মিলন” পালা থেকে ১৪টি গীত দেখতে পাই। তা থেকে বোঝা যায় যে দীনবন্ধু
দাসের “সুবল মিলন” পালার গান আসলে গাওয়া হোতো।
এ ছাড়াও সংকীর্তনামৃত গ্রন্থটি বিংশ শতকে মুদ্রিত হয়ে প্রকাশনার পূর্বে দীনবন্ধুদাসের ১২টি পদ সংকলিত
হয়েছে ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায়ের পদ-রত্নমালা সংকলনে।
মিলনসাগরে দেওয়া দীনবন্ধু দাসের, সংকীর্ত্তনামৃতের শেষের দুটি পয়ার, "বিষয়ের বর্ণনা" এবং "পরিচয় ও
উত্স গ্রন্থাবলী" সহ মোট পদের সংখ্যা - ২১০ যার মধ্যে ৯টি পদ সংকীর্ত্তনামৃতে নেই।
অর্থাৎ দীনবন্ধু দাসের সংকীর্ত্তনামৃতের বাইরে, অন্য পদ-সংকলন গ্রথ থেকে নয়টি পদ পাওয়া গিয়েছে।
সংকীর্ত্তনামৃতে একই পদ দুবার সংযোজন করা হয়েছে, সামান্য বদলে, এমন পদের সংখ্যা ৭।
একই পদ তিনবার সংযোজন করা হয়েছে, সামান্য বদলে, এমন পদের সংখ্যা ৪।
এই পদগুলিকে একটিই পদ হিসেবে সূচীতে দিয়ে কবিতার পাতায় প্রতিটি পদের ভিন্ন রূপ দেওয়া হয়েছে।
আমরা মিলনসাগরে কবি দীনবন্ধু দাসের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।
কবি দীনবন্ধু দাসের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ১৪.৩.২০১৮
...
এই পাতার কবিতার ভণিতা - দীনবন্ধু দাস, দীনবন্ধু
|
কবি দীনবন্ধু দাস - তাঁকে অষ্টাদশ শতকের শেষার্ধের কবি বলেই ধরা হয়। কারণ তাঁর সংকলিত
শ্রীসংকীর্ত্তনামৃত পুথির শেষে সমাপ্তির তারিখ রয়েছে ৫ই বৈশাখ ১৬৯৩ শকাব্দ বা এপ্রিল ১৭৭১।
তাঁর জন্ম স্থান ও কাল জানা যায় নি। দীনবন্ধু দাসের পদের মধ্যে “সুবল মিলন” পালা কীর্ত্তন-সমাজে
জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।
তাঁর সর্ববৃহৎ কীর্তি, বৈষ্ণব পদ-সংকলন “শ্রীসংকীর্ত্তনামৃত”-এর শেষ পদ থেকে তাঁর পিতা বল্লবীকান্ত ঠাকুর,
পিতামহ ঠাকুর শ্রীনন্দকিশোর ও প্রপিতামহ শ্রীঠাকুর হরির নাম জানা যায়। গ্রন্থশেষে তাঁর
পরিচয় এইভাবে দেওয়া রয়েছে . . .
প্রপিতামহের নাম শ্রীঠাকুর হরি।
তার পাদপদ্মধূলি নিজ শিরে ধরি॥
পিতামহ ঠাকুর নাম শ্রীনন্দকিশোর।
তাহার করুণাবলে হেন ইত্সা মোর॥
পিতা বল্লবীকান্ত ঠাকুরের দয়া।
সেই বলে লিখি আমি ভক্তিশক্তি পাঞা॥
অন্য একটি পদ থেকে তাঁর ভাই ও ভ্রাতুষ্পুত্রের নাম জানা যায় . . .
দ্বিজ অজামিল @@@@ পাপী ছিল
. শুনিয়াছি ভাগবতে।
সেহো গেল তরি নারায়ণ বলি
. ডাকিঞা আপন সুতে॥
ভাই লোকনাথ তনুজ গোলোক
. কাজে ডাকি বারে বার।
এই পদ থেকে তাঁর ভাই লোকনাথ ও ভ্রাতুষ্পুত্র গোলোক-এর নাম জানা যায়।
সংকীর্ত্তনামৃত পদাবসী সংকলন - পাতার উপরে . . .
১৩২৭ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে (মার্চ ১৯২১), দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহের ৪২৮টি
পুথি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষতের সভাপতি মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর হাতে অর্পণ করেন। সেই
সংগ্রহের একটি পুথির নাম সংকীর্ত্তনামৃত, যার সংকলয়িতা ছিলেন দীনবন্ধু দাস।
গ্রন্থটি লেখা শেষ হয় ১৬৯৩ শকাব্দের ৫ই বৈশাখে বা ১৭৭১ খৃষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে। সংকীর্তনামৃত গ্রন্থের
শেষে লেখা রয়েছে . . .
শ্রীনন্দকিশোরপাদপদ্ম করি আশ।
সংকীর্ত্তনামৃত কহে দীনবন্ধু দাস॥
ইতি শ্রীরাধাকৃষ্ণসংকীর্ত্তনামৃতে উত্তরখণ্ডে প্রার্থনা-বৈষ্ণবগোস্বামি-পদসংগ্রহঃ পঞ্চমঃ পরিচ্ছেদঃ॥
শকাব্দা ১৬৯৩ মাহ বৈশাখ ৫ রোজ॥
সমাপ্তশ্চায়ং গ্রন্থঃ॥
শেষে আলাদাভাবে কোনো লিপিকারের সাক্ষর, উল্লেখ বা পরিচয় দেওয়া নেই। তাই এই তারিখটিকেই গ্রন্থ
সমাপ্তির তারিখ হিসেবে ধরা হয়েছে। এ জন্যেই এই গ্রন্থটিকে এবং পদকর্তা দীনবন্ধুকে বৈষ্ণবদাস পরবর্তী
কবি হিসেবে ধরা হয়েছে। এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এই যে এখানে চণ্ডীদাসের কোনো পদ
সংকলিত হয়নি।
দীনবন্ধু দাসকে বৈষ্ণবদাসের শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর পরবর্তী ধরা হলেও, দীনবন্ধু দাসের পদ পাওয়া গিয়েছে
নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথিতে। তাই তাঁকে নিমানন্দ দাসের পূর্ববর্তী কবি হিসেবে ধরা হয়।