কবি ঘনশ্যাম-নরহরির বৈষ্ণব পদাবলী
*
জয় শুভমণ্ডিত সুপণ্ডিত নরোত্তম
কবি ঘনশ্যাম দাস
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন  “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, পৃষ্ঠা-৩১৯। এই পদটি এই গ্রন্থের সূচীতে ঘনশ্যাম
ওরফে নরহরি চক্রবর্তী রচিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থের ঘনশ্যাম ভণিতাযুক্ত পদ। তাই এই
পদটি মিলনসাগরের ঘনশ্যাম চক্রবর্তীর পাতায় রাখা হলো।

.        ॥ দেশপাল॥

জয় শুভমণ্ডিত সুপণ্ডিত নরোত্তম
মহাশয় মনোজ্ঞ সব রীতবর
.                গৌরব গভীর অতি ধীর গুণধাম।
প্রেমময়রূপ রসকূপ উপমারহিত
মত্ত দিন রাতি রত গান নবতান
.                গতিনৃত্য হৃতচিত্ত মৃদু অঙ্গ অভিরাম॥
সেবন সুবিগ্রহ নিরন্তর মহামুদিত
গৌর হরিভক্ত প্রিয়পাত্র
.                করুণা বিদিত দীনজনবন্ধুকৃত পূর্ণ সব কাম।
মঞ্জুতর কীর্ত্তি জগভূষণ ন দূষণ
অপার গুণ পার নাহি পায়ত
.                কবীন্দ্রগণ গায়ত অনুক্ষণ হি দাস ঘনশ্যাম॥

.                        *******************          

এই ঘনশ্যাম ( নরহরি চক্রবর্তীর ) সূচীতে . . .    
ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . .   
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দুর অবগাহ পয়োনিধি ভাঁতি
কবি ঘনশ্যাম দাস
আনুমানিক ১৭২৫ সালে, ১১৭০টি পদ সম্বলিত, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত, ৪৬২
শ্রীগৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত, শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় ( পূর্বরাগ ) গ্রন্থ, পৃষ্ঠা-
২১৭ । পদটি রয়েছে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত অপ্রকাশিত পদাবলী, পৃষ্ঠা ৫৯। এই পদটি
ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ করা রয়েছে। তিনি নিয়েছিলেন কমলাকান্ত
দাসের পদরত্নাকর (১৮০৭) পুথি থেকে।

.        ॥ পুনঃ ধানশী ॥

দুর অবগাহ পয়োনিধি ভাঁতি।
যৌবন জল তাহে শ্যামর কাঁতি ॥
দেখ সখি !  না বুঝিয়ে দৈবকি রীত ।
তহি ডারল মঝু নিরমল চিত ॥ ধ্রু ॥
ধৈরজ আদি সকল গুণ মেলি ।
নিশি দিশি বাস তাঁহা করতহি কেলি ॥
সো সবগুণ তাহা আকূল হোয় ।
চরণ লাগি পুন রোয়ই মোয় ॥
না বুঝিয়ে এতহু যো নিজপর খোই ।
বহইতে শকতি অবধি করু কোই ॥
কিয়ে নিজপর কিয়ে হিত অহিত ।
বিপতি সময়ে করু সব বিপরীত ॥
ধৈরজ পদ অবলম্বন কেল ।
মন্দির চলইতে সঙ্কট ভেল ॥
কহ ঘনশ্যাম দাস সমুচিত ।
বাঁধি লেহ তুহু শ্যামর চিত ॥


ই পদটি, ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী”
সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৮৭-য় রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ করা
রয়েছে।

.        ॥ বরাড়ী ॥

দুর অবগাহ পয়োনিধি ভাঁতি।
যৌবনজল তাহে শ্যামর কাঁতি॥
দেখ সখি না বুঝিয়ে দৈবকি রীত।
তহি ডারল মঝু নিরমল চিত॥ ধ্রু॥
ধৈরজ আদি সকল গুণ মেলি।
নিশিদিশি বসিয়া করতহি কেলি॥
সো সব গুণ অব আকুল হোয়।
চরণে লাগি পুন রোখই মোয়॥
না বুঝিয়ে এতহু যো নিজপর খোই।
বহইতে শকতি অবধি করু কোই॥
কিয়ে নিজপর কিয়ে হিত অহিত।
বিপতি সময়ে করু সব বিপরীত॥
ধৈরজ পদ অবলম্বন কেল।
মন্দির চলইতে সঙ্কট ভেল॥
কহ ঘনশ্যাম দাস সমুচিত।
বাঁধি লেহ তুহু শ্যামর চিত॥

ব্যাখ্যা -
দূরধিগম্য সমুদ্রের মত যৌবনজল তাহার শ্যামকান্তি। সখি, দৈবের রীতি জানি না, সেই
তলস্পর্শহীন সমুদ্রে আমার নির্ম্মল চিত্তকে নিক্ষেপ করিলাম। আমার ধৈর্য্য আদি গুণ সব
একত্রে মিলিয়া খেলা করিতেছিল। সেই সব গুণ এখন আকুলভাবে তাহার পদলগ্ন হইয়া
আমার প্রতি রোষ প্রকাশ করিতেছে। জানি না, নিজ আশ্রয় হারাইয়া কে
আবার থাকিবার জন্য শক্তি প্রকাশ করে। ধৈর্য্য পদে আসিয়া আশ্রয় লইল। এখন  
মন্দিরে ফিরিতে সঙ্কট উপস্থিত হইল। ঘনশ্যাম দাস উচিত কহিতেছেন, তুমি শ্যামের
চিত্তকে বাঁধিয়া লও।
----হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদাবলী॥


ই পদটিই, ১৯৬১ সালে বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”
গ্রন্থের, পদ সংখ্যা ২৫২, পৃষ্ঠা ১৯৯-এ এভাবে রয়েছে।

দুর অবগাহ পয়োনিধি ভাঁতি।
যৌবন জল তাহে শ্যামর কাঁতি॥
দেখ সখি !  না বুঝিয়ে দৈবকি রীত।
তহি ডারল মঝু নিরমল চিত॥ ধ্রু॥
ধৈরজ আদি সকল গুণ মেলি।
নিশি দিশি বাস তাঁহা করতহি কেলি॥
সো সবগুণ তাহা আকূল হোয়।
চরণ লাগি পুন রোয়ই মোয়॥
না বুঝিয়ে তছু যো নিজঘর খোই।
রহইতে শকতি অবধি করু কোই॥
কিয়ে নিজপর কিয়ে হিত অহিত।
বিপতি সময়ে করু সব বিপরীত॥
ধৈরয পদ অবলম্বন কেল।
মন্দির চলইতে সঙ্কট ভেল॥
কহ ঘনশ্যামর দাস উচিত।
বাঁধি লেহ তুহু শ্যামর চিত॥

টীকা বা ব্যাখ্যা -
তাঁহাকে দেখিয়া মনে হয় যেন দুরধিগম্য সমুদ্র আর তাহার শ্যামল কান্তি যেন যৌবনের
জল। সখি দৈবের কি রীতি বুঝি না, তাহারই মধ্যে ( সেই জলের মধ্যে ) আমার নির্মল
চিত্তকে নিক্ষেপ করিল। ধৈর্য প্রভৃতি সকল গুণ রাত দিন বসিয়া খেলা করিত, এখন সেই
সব গুণ আকুল হইয়া ( চিত্ত হইতে ভ্রষ্ট হইয়া ) চরণে ধরিয়াছে এবং আমাকে কাঁদাইতেছে
। যে নিজের ঘর খোয়াইয়া অন্য স্থানে থাকিবার জন্য চরম চেষ্টা করে তাহাকে বুঝি না।
বিপদের সময় নিজ ও পর, হিত ও অহিত, সকলেই বিরপরীত ব্যবহার করে।
ধৈর্য আমার চরণকে চাপিয়া ধরিয়াছে, তাই ঘরে ফিরিয়া যাওয়া সঙ্কট হইল। ঘনশ্যাম
দাস উচিত কথা বলিতেছেন, তুমি শ্যামের চিত্ত বাঁধিয়া লও।
---বিমানবিহারী মজুমদার, “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”॥

.                        *******************          

এই ঘনশ্যাম ( নরহরি চক্রবর্তীর ) সূচীতে . . .    
ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . .   
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অলখিত গতি জিতি বিজুরী সঞ্চার
কবি ঘনশ্যাম দাস, ঘনশ্যামর দাস
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা
৭৮৮। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ করা রয়েছে।

.       ॥ পুনঃ বরাড়ী ॥

অলিখিত গতি জিতি বিজুরী সঞ্চার।
চৌদিশি ধাবই লোচন তার॥
এ সখি অতএ ন পাওল ওর।
কৈছনে চিত চোরাওল মোর॥ ধ্রু॥
জানলুঁ অবশ কয়ল মঝু হাত।
অতয়ে সে অবশ ভেল সব গাত॥
লোচন যুগল লোরে পরিপূর।
কহইতে বয়নে কহন নাহি ফুর॥
চলইতে চরণ অচল সম ভেল।
কুলবতী ধরমকরম দূরে গেল॥
কয়ল বিপতি এত অব হরি আয়।
হা হা অবহু না ছোড়ই তায়॥
পুন কিয়ে আছয়ে অছু অভিলাস ।
না বুঝিয়ে কহয়ে ঘনশ্যাম দাস ॥


ই পদটি, ১১৭০টি পদ সম্বলিত, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত, ৪৬২ শ্রীগৌরাব্দে
(১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত, শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় ( পূর্বরাগ ) গ্রন্থ, পৃষ্ঠা- ২১৭-এ
এভাবে রয়েছে। তাই আমরা এই পদটি ঘনশ্যাম কবিরাজ ও ঘনশ্যাম চক্রবরী, দুজনের
পাতাতেই রাখছি।

.       ॥ পুনঃ বরাড়ী ॥

অলিখিত গতি জিতি বিজুরী সঞ্চার ।
চৌদিকে ধাবই লোচন-তার ॥
এ সখি !   অতএ না পাওলু ওর ।
কৈছনে চিত চোরাওল মোর ॥ ধ্রু ॥
জানহু অবহু কয়ল মঝু হাত ।
অতএ সে অবশ ভেল সব গাত ॥
লোচন যুগলে লোর ভরি পূর ।
কহইতে বয়নে কহন নাহি ফুর ॥
চলইতে চরণ অচল সম ভেল ।
কুলবতী ধরম করম দূরে গেল ॥
কয়ল পিরীতি এত অপহরি যায় ।
হাহা অবহু না ছাড়ই তায় ॥
পুন কিয়ে আছয়ে অছু অভিলাস ।
না বুঝিয়ে কহ ঘনশ্যামর দাস ॥


ই পদটি, আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫),
১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ--সবিস্তার, পদসংখ্যা ১৫১-তে এইভাবে
রয়েছে।

॥ ধানশী ॥

অলিখিত গতি জিতি বিজুরী-সঞ্চার ।
চৌদিকে ধাবই লোচন-তার ॥
এ সখি অতয়ে না পাওলুঁ ওর ।
কৈছনে চীত চোরাওল মোর ॥।
জানলুঁ অবহুঁ কয়ল মুঝে হাত ।
অতএ সে অবশ ভেল সব গাত ॥
লোচন-যুগলে লোর পরিপূর ।
কহইতে বয়নে কহন নাহি ফূর ॥
চলইতে চরণ অচল সম ভেল ।
কুলবতী-ধরম-করম দূরে গেল ॥
পুন কিয়ে আছয়ে অছু অভিলাস ।
না বুঝিয়ে কহ ঘনশ্যামর দাস ॥


ই পদটি, ১৯৬১ সালে বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”
গ্রন্থের, পদ সংখ্যা ২৫৩, পৃষ্ঠা ২০০-এ এইভাবে দেওয়া রয়েছে। গোবিন্দরতিমঞ্জরী ৫মপদ।

অলিখিত গতি জিতি বিজুরী সঞ্চার।
চৌদিকে ধাবই লোচন তার॥
এ সখি অতয়ে না পাওলুঁ ওর।
কৈছনে চিত চোরাওল মোর॥
জানলুঁ অবহুঁ কয়ল মুঝে হাত।
অতয়ে সে অবশ ভেল সব গাত॥
লোচন যুগলে লোর পরিপূর।
কহইতে বয়নে কহন নাহি ফূর॥
চলইতে চরণ অচল সম ভেল।
কুলবতী-ধরম করম দূরে গেল॥
পুন কিয়ে আছয়ে অছু অভিলাষ।
না বুঝিয়া কহ ঘনশ্যামর দাস ॥

টীকা বা ব্যাখ্যা -
তাহার গতি বিদ্যুৎ-চমককেও হারাইয়া দেয়, কাজেই তাহাই ভাল করিয়া দেখা যায় না।
শুধু আমার লোচন-তারা চারিদিকে তাহাকে খুঁজিতে থাকে। সখি হে, এইজন্য বুঝিতে
পারিলাম না কি করিয়া আমার চিত্ত চুরি গেল। এইটুকু মাত্র জানিলাম যে আমাকে সে
হাত করিয়া ফেলিয়াছে, তাই আমার সমস্ত দেহ অবশ হইল। চোখ দুটিতে জল ভরিয়া
থাকে, কথা বলিতে গেলে মুখে কথা বাহির হয় না। চলিতে গেলে পা যেন পাহাড়ের মতন
অচল হয়। আমার কুলবতী-ধর্ম ও কর্ম সব নষ্ট হইল। এরপরও যে তাহার মনে আর কি
অভিলাষ আছে তাহা ঘনশ্যাম দাস বুঝিতেছেন না।
--- বিমানবিহারী মজুমদার, “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”॥

.                        *******************          

এই ঘনশ্যাম ( নরহরি চক্রবর্তীর ) সূচীতে . . .    
ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . .   
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
উজর হার উর পীতবসনধর
কবি ঘনশ্যামর দাস
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৮৭। এই পদটি
ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ করা রয়েছে।

॥ কামোদ॥

উজোর হার উর                             পীতবসনধর
ভালহি চন্দনবিন্দু।
মিলিত বলাকিনি                        তড়িত জড়িতঘন
উপর উজোরল ইন্দু॥
পেখলুঁ অপরূপ শ্যামর ধাম।
কুঞ্জ সমীপ                                   নীপ অবলম্বন
রহই ত্রিভঙ্গিম ঠাম॥ ধ্রু॥
চরণ অবধি                             বনমাল বিরাজিত
হেরইতে উনমত হোই।
মধুকরীছলে কত                             ব্রজরমণী চিত
তঁহি রহু মতিগতি খোই॥
মুরলী আলাপি                             ঝাঁপি গগনাবধি
গায়ত কতহুঁ সুতান।
ভণ ঘনশ্যাম                               দাস চিত ঝুরত
মদন রায় পরমান॥

ব্যাখ্যা -
বক্ষে উজ্জ্বল মণিহার, কাটিতে পীতবসন, ললাটে চন্দনের তিলক, যেন বকপংক্তি মিলিত বিদ্যুত বিজড়িত
মেঘদাম, তাহার উপরে চন্দ্রোদয়। অপরূপ শ্যামধামকে দেখিলাম। কুঞ্জ সমীপে কদম্ব অবলম্বনে ত্রিভঙ্গিম
ঠামে দাঁড়াইয়া ছিল। চরণ পর্য্যন্ত বিলম্বিল বনমালা, দেখিতেই পাগলিনী হইলাম। তথায় (সেই বনমালার
এবং চরণ কমলে) ভ্রমরীর ছলে কত ব্রজরমণীর চিত্ত যে গতি ভুলিয়া মতি খোয়াইয়া আশ্রয় লইয়াছে
(তাহার সংখ্যা হয় না)! মুলীর আলাপনে গগনাবধি পরিপূর্ণ করিয়া কত সুতানই না গান করিতেছে।
ঘনশ্যাম বলিতেছেন, আমার চিত্ত ঝুরিতেছে, মদনরায় তাহার প্রমাণ ; (মদনরায়---কবির একজন বন্ধু ;
মদন---মন্মথ)।
----হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদাবলী॥


ই পদটি, ১১৭০টি পদ সম্বলিত, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত, ৪৬২ শ্রীগৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস
দাস দ্বারা প্রকাশিত, শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্বরাগ) গ্রন্থ, পৃষ্ঠা- ৭-এ রয়েছে। তাই আমরা এই পদটি, ঘনশ্যাম
কবিরাজ ও ঘনশ্যাম চক্রবর্তী, দুজনের পাতাতেই রাখছি।

|| কামোদ ||

উজরহার উর                          পীত বসনধর
ভাল হি চন্দন বিন্দু
মিলিত বলাকিনী                   তড়িত জড়িত ঘন
উগরে উজোরল ইন্দু
অপরূপ শ্যামর ধাম
কুঞ্জ সমীপ                              নীপ অবলম্বন
রহই ত্রিভঙ্গিম ঠাম
চরণ-অবধি                       বনমাল বিরাজিত
হেরইতে উনমত হোই
মধুকর চলে কত                        ব্রজরমণীচিত
তহি রহু মতি গতি খোই
মুরলি আলাপি                         ঝাঁপি গগনাবধি
গায়ত কতহু সুতান
ভণ ঘনশ্যাম                         দাস চিত ঝুরত
মদন রায় মন মান ||


ই পদটি, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ২৮শ পল্লব,
শ্রীকৃষ্ণের রূপ, পদসংখ্যা ২৪২১-এ এইভাবে রয়েছে।

॥ কামোদ॥

উজর হার উর পীত-বসন-ধর
ভালহিঁ চন্দন-বিন্দু।
মিলিত বলাকিনি তড়িত-জড়িত ঘন
উপরে উজোরল ইন্দু॥
অপরূপ শ্যামর-ধাম।
কুঞ্জ সমীপ নীপ অবলম্বন
রহই ত্রিভঙ্গিম ঠাম॥ ধ্রু॥
চরণ অবধি বন-মাল বিরাজিত
হেরইতে উনমত হোই।
মধুকর ছলে কত ব্রজ-রমণী-চিত
তহিঁ রহু মতি গতি খোই॥
মুরলি অলাপি ঝাঁপি গগনাবধি
গায়ত কতহুঁ সুতান।
ভণ ঘনশ্যাম দাস চিত ঝুরত
মদন রায় মন মান॥


ই পদটিই, ১৯১৬ সালে হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলি সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা” গ্রন্থ,
পৃষ্ঠা ১৫৮।

॥ শ্রীরাগ॥

উজোর হার উর                              পীতবসন ধর
ভালহি চন্দনবিন্দু।
মিলিত বলাকিনি                        তড়িত জড়িত ঘন,
উপরে উজোরল ইন্দু॥
পেখলু শ্যামর ধাম।
কুঞ্জ সমীপে                                    নীপ অবলম্বই
রহই ত্রিভঙ্গিম ঠাম॥
চরণ অবধি                               বনমাল বিরাজিত
হেরইতে উনমত হোই।
মধুকরী ছলে কত                             ব্রজ রমণী চিত
তহি রহি মতি গতি খোই॥
মুরলী আলাপি                               ঝাপি গগনাবধি
গাওত কতহুঁ সুতান।
ভণ ঘনশ্যাম                                দাস চিত ফুরত
রোয়ত মদন মান॥


ই পদটিই, ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদালীর
সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, পৃষ্ঠা ৪৭৪-এ এভাবে রয়েছে।

রূপানুরাগ

॥ রাগিণী সুহই - তাল ধরা॥

উজোর হার উর, পীত বসন ধর, ভালে হি চন্দন বিন্দু।
মিলিত বলাকিনি, তড়িত জড়িত ঘন, উপরে উজোরল ইন্দু॥
পেখলুঁ শ্যামরু ধাম।
কুঞ্জ সমীপে, নীপ অবলম্বনে, রহই ত্রিভঙ্গিম ঠাম॥
চরণ অবধি বন, মালা বিরাজিত, হেরইতে উনমতি হোই।
মধুকর ছলে কত, বরজ রমণী চিত, তহি রহু হতি মতি খোই॥
মুরলী আলাপি, ঝাঁপি গগনাবধি, গাওত কতহু সুতান।
ভণ ঘনশ্যাম, দাসচিত ঝুরত, মাদন রায় পরমাণ॥

.         *******************          

এই ঘনশ্যাম ( নরহরি চক্রবর্তীর ) সূচীতে . . .    
ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . .   
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গুরুজন-অনুমতি মতে
কবি ঘনশ্যাম দাস
১১৭০টি পদ সম্বলিত, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত, ৪৬২ শ্রীগৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস
দাস দ্বারা প্রকাশিত, শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় ( পূর্বরাগ ) গ্রন্থ, পৃষ্ঠা- ২৬৭ ।

.        ॥ শ্রীরাগ ॥

গুরুজন-অনুমতি মতে ।
সখী সহ চলয়ে যমুনা সিনাইতে ॥
বিনোদিনী রসের আবেশে ।
চলিতে চঞ্চল আঁখি চাহে চারিপাশে ॥
তীরে তরুতলে গিয়া রাই ।
ধরিতে নারয়ে হিয়া কামু-পানে চাই ॥
রাইরূপ নিরখিয়া কানু ।
মদন বিভোর ঘন পুলকিত তনু ॥
কতনা কৌতুকে সখীগণে ।
দোঁহে মিলাইল নব নিকুঞ্জ ভবনে ॥
নব নব দোহার বিলাস ।
দুহুঁ প্রেম নিছনি এ ঘনশ্যাম দাস ॥

.         *******************          

এই ঘনশ্যাম ( নরহরি চক্রবর্তীর ) সূচীতে . . .    
ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . .   
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গৌর নিত্যানন্দ অদ্বৈত চাঁদ
কবি ঘনশ্যাম
১১৭০টি পদ সম্বলিত, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত, ৪৬২ শ্রীগৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস
দাস দ্বারা প্রকাশিত, শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় ( পূর্বরাগ ) গ্রন্থ, পৃষ্ঠা- ৩৫ ।

.        ॥ পঠমঞ্জরী ॥

গৌর নিত্যানন্দ অদ্বৈত চাঁদ ।
পরম সুখকন্দ জগজন-নয়নচাঁদ ॥ ধ্রু ॥
প্রেমরসবিবশ নিশি দিবস নাহি জান ।
জীবে করু দেবদুল্লভ রতন দান ॥
অতুল করুণানিলয় ভুবনে পরচার ।
ধন্য কলিযুগে প্রকট চরিত নহু পার ॥
পাই নিজ পহুঁ চরণ শরণ সভে নেল ।
দাস ঘনশ্যাম নিজদোষে রহি গেল ॥

.         *******************          

এই ঘনশ্যাম ( নরহরি চক্রবর্তীর ) সূচীতে . . .    
ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . .   
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় জগজীবন গৌর নিতাই        
কবি ঘনশ্যাম দাস
১১৭০টি পদ সম্বলিত, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত, ৪৬২ শ্রীগৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস
দাস দ্বারা প্রকাশিত, শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় ( পূর্বরাগ ) গ্রন্থ, পৃষ্ঠা- ৩৪ ।

    ॥ গান্ধার ॥

জয় জগজীবন গৌর নিতাই ।
কলিযুগে প্রেম বিতরে দোউ ভাই ॥ ধ্রু ॥
পামর পতিত দুখী, সুখী ভেল ।
বিষময় বিষম তাপ দূরে গেল ॥
সুরগণ পরম দুলহ রসে মাতি ।
বিলসই সংকীর্ত্তনে দিন রাতি ॥
ধনি ধনি অবনী না ভেল কোই বাম ।
করম বিপাকে রহল ঘনশ্যাম ॥

.         *******************          

এই ঘনশ্যাম ( নরহরি চক্রবর্তীর ) সূচীতে . . .    
ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . .   
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় জয় পদ্মাবতী-সুত সুন্দর
কবি ঘনশ্যাম
১১৭০টি পদ সম্বলিত, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত, ৪৬২ শ্রীগৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা
প্রকাশিত, শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় ( পূর্বরাগ ) গ্রন্থ, পৃষ্ঠা- ২৬। ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন  “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, পৃষ্ঠা-২৭৩। এই পদটি এই
গ্রন্থের সূচীতে ঘনশ্যাম ওরফে নরহরি চক্রবর্তী রচিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থের ঘনশ্যাম ভণিতাযুক্ত পদ। তাই
এই পদটি মিলনসাগরের ঘনশ্যাম চক্রবর্তীর পাতায় রাখা হলো।

অথ শ্রীনিত্যানন্দচন্দ্রস্য
॥ গান্ধার রাগ ॥

জয় জয় পদ্মা                                বতীসুত সুন্দর
নিত্যানন্দচন্দ্র গুণভূপ ।
জগজন-নয়ন                                  তাপভয়-ভঞ্জন
.        জিনি কনকারুণ অপরূপ রূপ ॥
শশধর-নিকর-                                দরপহর আনন
.        ঝরত অমিয় ঝলকত মৃদুহাস ॥
গৌরপ্রেমভরে                                  গরগর অন্তর
.        নিরুপম নব নব  বচন-বিলাস ॥
টলমল অমল                              কমল লোচন জল
গিরত নিরত জনু সুরধনী ধার ॥
পুলক কদম্ব-                            বলিত সুললিত অতি
পরিসর বক্ষে তরল মণিহার ॥
কুঞ্জর-বদন                                   গমন মনোরঞ্জন
বাহু পসারি অথির অবিরাম ॥
পতিত কোরে করি                         বিতরই সো ধন
বঞ্চিত জগতে দুঃখিত ঘনশ্যাম ॥

.         *******************          

এই ঘনশ্যাম ( নরহরি চক্রবর্তীর ) সূচীতে . . .    
ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . .   
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নয়নক নীর থির নাহি বান্ধই
কবি ঘনশ্যামর দাস
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৮৫। এই পদটি
ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ করা রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম কবিরাজ ও ঘনশ্যাম চক্রবরী,
দুজনের পাতাতেই রাখছি।

শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ
সখীর উক্তি

॥ ধানশী॥

নয়নক নীর                                     থির নাহি বাঁধই
ঘন ঘনন মেটসি তাই ।
সচকিত লোচনে                                জলদ নেহারসি
চান্দসি হাথ বাঢ়াই ॥
খেনে ঘর বাহির                                করসি নিরন্তর
খেনে খেনে দশ দিশ হেরি।
ময়ুর ময়ুরী সহ                                হাসি সম্ভাষসি
কন্ঠ হেরসি ফেরি ফেরি॥
কেলিকদম্ব                                   পুনহিঁ পুন হেরসি
ঘন ঘন তেজসি শাস ।
কালিন্দী নামে                               রোই উতরোলসি
ভণ ঘনশ্যামর দাস ॥


ই পদটি, আনুমানিক ১৭২৫ সালে, ১১৭০টি পদ সম্বলিত, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত, ৪৬২
শ্রীগৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত, শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় ( পূর্বরাগ ) গ্রন্থ, পৃষ্ঠা- ১০০-য় রয়েছে।

নয়নক নীর                           থির নাহি বাঁধই
পুন পুন মেটসি তায় ।
এ মুখমণ্ডল                         কাহে নিরস ভেল
কহ কাঁহা দৌদল গায় ॥
সখিহে !  না বুঝিয়ে তোহারি চরিত ।
নিজ মনোরথ তুহুঁ                    নিজজনে বঞ্চসি
কিয়ে কঠিন তুয় চিত ॥ ধ্রু ॥
খণে খণে অঙ্গহি                     পুলক মুকুল ভরু
বসনহি গোপসি তায় ॥
সচকিত লোচনে                        জলদ নেহারসি
মানসি হাথ বাঢ়ায় ॥
ইহ ঘর বাহির                          করসি নিরন্তর
খণে খণে দশ দিশ হেরি ।
ময়ুর ময়ুরী সহ                         হাসি সম্ভাসসি
কন্ঠ হেরসি ফেরি ফেরি ॥
কেলি কদম্ব                          বিপিন পুন হেরসি
ঘন ঘন তেজসি শাস ।
কালিন্দী নামে                        রোই উতরোলসি
ভণ ঘনশ্যামর দাস ॥


ই পদটিই, আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব,
শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ--সবিস্তার, পদসংখ্যা ১৩৬, এইভাবে রয়েছে।

নয়নক নীর                            থির নাহি বান্ধই
ঘন ঘন মেটসি তাই।
সচকিত লোচনে                        জলদ নেহারসি
মানসি হাথ বাঢ়াই॥
খেনে ঘর বাহির                        করসি নিরন্তর
খেনে খেনে দশ দিশ হেরি।
ময়ুর ময়ুরী সনে                         হাসি সম্ভাষসি
কন্ঠ হেরসি ফেরি ফেরি॥
কেলি-কদম্ব                            পুনহিঁ পুন হেরসি
ঘন ঘন তেজসি শ্বাস ।
কালিন্দী নামে                          রোই উতরোলসি
ভণ ঘনশ্যামর দাস॥

দকল্পকরুর টীকায় লেখা রয়েছে যে পদরসসার ও পদ-রত্নাকর পুথিতে উপরোক্ত পাঠের অতিরিক্ত
নিচের পংক্তিগুলো রয়েছে।

ও মুখমণ্ডল                            কাহে বিরস ভেল
কহ কাঁহা দ্বন্দ্ব লাগাই॥
সখি হে, না বুঝিয়ে তোহারি চরিতে।
নিজ মনরথ তুহু                        নিজ সনে বঞ্চসি
কিয়ে কঠিন তুয়া চিতে॥ ধ্রু॥
খণে খণে অঙ্গহি                       পুলক মুকুল ভরু
বসনহি গোপসি তায়॥

.         *******************          

এই ঘনশ্যাম ( নরহরি চক্রবর্তীর ) সূচীতে . . .    
ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . .   
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যে দেখেছি যমুনার তটে
কবি ঘনশ্যামর দাস
১১৭০টি পদ সম্বলিত, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত, ৪৬২ শ্রীগৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস
দাস দ্বারা প্রকাশিত, শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় ( পূর্বরাগ ) গ্রন্থ, পৃষ্ঠা- ২৫০। যদিও পদটি ঘনশ্যাম
ওরফে নরহরির নিজের প্রকাশিত সংকলনের পদ, তবুও পদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের  
ভূমিকায়, পৃষ্ঠা ৮৮-তে সতীশচন্দ্র রায় জানিয়েছেন যে এই পদটি তাঁরা ঘনশ্যাম   
কবিরাজের পদ বলে মনে করছেন। ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়   
সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলনে এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ
করা রয়েছে। আমরা এই পদটি ঘনশ্যাম কবিরাজ ও ঘনশ্যাম চক্রবরী, দুজনের পাতাতেই
রাখছি।

.        ॥ সুহই ॥

যে দেখেছি যমুনার তটে ।
সেই এই দেখি চিত্রপটে ॥
যার নাম কহিলা বিশাখা ।
সেই এই পটে আছে লেখা ॥
যাহার মুরলীধ্বনি শুনি ।
সেই বটে এ রসিকমণি ॥
ভাটমুখে যার গুণগাথা ।
দূতীমুখে শুনি যার কথা ॥
এই মোর হরিলে পরাণ ।
ইহা বিনে কেহো নহে আন ॥
এত কহি মুরুছি পড়য়ে ।
সখীগণ ধরিয়া তোলয়ে ॥
পুন কহে পাইয়া চেতনে ।
কি দেখিলু দেখাও সে বদনে ॥
সখীগণ করয়ে আশ্বাস ।
ভণ ঘনশ্যামর দাস ॥


ই পদটি রয়েছে শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড,
১ম শাখা, ২য় পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ, পদসংখ্যা ৩৬-এ।

.        ॥ সুহই ॥

যে দেখেছি যমুনার তটে ।
সেই দেখি এই চিত্রপটে ॥
যার নাম কহিল বিশাখা ।
সেই এই পটে আছে লেখা ॥
যাহার মুরলী-ধ্বনি শুনি ।
সেই বটে এ রসিকমণি ॥
ভাট-মুখে যার গুণ-গাথা ।
দূতী-মুখে শুনি যার কথা ॥
এই মোর হরিয়াছে প্রাণ ।
ইহা বিনে কেহ নহে আন ॥
এত কহি মুরছি পড়য়ে ।
সখীগণ ধরিয়া তোলয়ে ॥
পুন কহে পাইয়া চেতনে ।
কি দেখিলুঁ দেখাওঁ সে জনে ॥
সখীগণ করয়ে আশ্বাস ।
ভণে ঘনশ্যামর দাস ॥


ই পদটিই, দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত,  
বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”-এর পৃষ্ঠা ১০-এ
এভাবে দেওয়া রয়েছে।

.                        ॥ সুহিনি॥

যে দেখেছি যমুনার ঘাটে। সেই এই দেখি চিত্রপটে॥
জার নাম কহিলা বিশাখা। সেই এই পটে আছে লেখা॥
জাহার মুরলীর ধ্বনি শুনি। সেই বটে এই রসিকমণি॥
ভাট মুখে যার গুণগাথা। দূতীমুখে শুনি যার কথা॥
এই মোর হরিয়াছে প্রাণ। ইহ বিনে কেহো নহে আন॥
এত কহি মুরুছি পড়য়ে। সখীগণ ধরিয়ে তোলয়ে॥
পুন কহে পাইয়া চেতন। কি দেখিলাম দেখায় সে বদন॥
সখীগণ করয়ে আশ্বাস। ভণ ঘনশ্যামর দাস॥


ই পদটিই, ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী”
সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৮৫-এ এইভাবে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ করা
রয়েছে।

শ্রীরাধার উক্তি

.        ॥ সুহিনী॥

যে দেখেছি যমুনার তটে।
সেই এই দেখি চিত্রপটে॥
যার নাম কহিলা বিশাখা।
সেই এই পটে আছে লেখা॥
যাহার মুরলী ধ্বনি শুনি।
সেই বটে এ রসিকমণি॥
ভাট মুখে যার গুণগাথা।
দূতী মুখে শুনি যার কথা॥
এই মোর হরিয়াছে প্রাণ।
ইহা বিনে কেহ নহে আন॥
এত কহি মুরুছি পড়য়ে।
সখীগণ ধরিয়া তোলয়ে॥
পুন কহে পাইয়া চেতনে।
কি দেখিলু দেখাও সে জনে॥
সখীগণ করয়ে আশ্বাস।
ভণ ঘনশ্যামর দাস॥


ই পদটি, ১৮৭০ সাল নাগাদ, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, পৃষ্ঠা ১৪৭।

॥ সোহই সুট - দশকুশা॥

যে দেখেছি যমুনার তটে।
সেই দেখি এই চিত্রপটে॥
যার নাম কহিলে বিশাখা।
সেই এই পটে আছে লেখা॥
যাহার মুরলী ধ্বনি শুনি।
সেই বটে এ রসিক মণি॥
ভাট মুখে জানি গুণগাঁথা।
দূতী মুখে শুনি যার কথা॥
এই মোর হরিয়াছে প্রাণ।
ইহা বিনে কেহ নহে আন॥
এত কহি মুরুছি পড়য়ে।
সখীগণ ধরিয়া তুলয়ে॥
পুন কহে পাইয়া চেতনে।
কি দেখিলাম দেখাও সে জনে॥
সখীগণ করয়ে আশ্বাস।
কহে ঘনশ্যামর দাস॥

.         *******************          

এই ঘনশ্যাম ( নরহরি চক্রবর্তীর ) সূচীতে . . .    
ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . .   
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর