| কবি অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের বৈষ্ণব পদাবলী |
| নয়নক লোর ওর নাহি ঢরকত কবি ঘনশ্যাম দাস আনুমানিক ১৭২৫ সালে রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, পৃষ্ঠা ৩৫৪। যদিও পদামৃত সমুদ্রর সংকলক কবি রাধামোহন দাস এবং কবি ঘনশ্যাম ওরফে নরহরি চক্রবর্তী সমসাময়িক, তবুও বলা যাচ্ছে না যে এই পদটি ঘনশ্যাম চক্রবর্তীর না আরও পূর্ব কালের কবি ঘনশ্যাম কবিরাজের। তবে ঘনশ্যাম কবিরাজের হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। তাই এই পদটি এই অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের পাতায় রাখা হলো। অথ মোহ। ॥ দেশাগ রাগৈক তালি তালাভ্যাং॥ নয়নক লোর ওর নাহি ঢরকত ধারা পদতল গেল। রেহইতে মরমে ভরম অছু হোয়ত থলহি জলজ যনু ভেল॥ মাধব কি কহব ও পরসঙ্গ। সহচরি মেলি কোলে করি রোয়ত হেরি অবশ প্রতি অঙ্গ॥ ধ্রু॥ উচ কুচ উপর রহত মুখ মণ্ডল সো এক অপরূপ ভাঁতি। কনয়া শিখরে যনু উয়ল শশধর পাঁতর ধূসর কাতিঁ॥ থোড়ি অলকা বোলি আপন কর তুলি পুন পুন পরশই নাসা। বিকচ কমল সঞে নব কিসলয় কিয়ে হেরইতে যৈছে প্রকাশা॥ ঐছে দশা বর যাক কলেবর হেরইতে ঐছন ভান। কহ ঘন শ্যাম দাস তছু জীবন তোহারি বিহনে কিএ জান॥ এই পদটিই, দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”-এর পৃষ্ঠা ৪৩০-এ এভাবে দেওয়া রয়েছে। ॥ বালা ধানশ্রী॥ নয়নক কওত লোর নাহি ঢরকত ধারা পদতলে গেল। হেরইতে মরম ভরম ওছু হোওত থলহু জলজ জনু ভেল॥ মাধব কি কহব ও পরসঙ্গ। সহচরী মেলী কোরে করি রোয়ত হেরি অবশ ভেল অঙ্গ॥ উচ কুচ উপরে রহত মুখমণ্ডল সো য়েক অপরূপ ভাতি। কনয়া শিখরে জনু উয়ল শশধর প্রাতর ধূসর কাতি॥ থোড়ি অলকাবলি আপন কর তুলি পুনপুন পরসই নাসা। বিকচ কমল সঞে নব কিশলয় কিয়ে হেরইতে ঐছে প্রকাশা॥ ঐছে দশাবর জাক কলেবর হেরইতে ঐছন ভান। কহে ঘনশ্যামদাস তছু জীবন তোহারি বিহনে কিয়ে জান॥ . ******************* অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . . ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . . ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . . দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . . সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অপরূপ পহুঁ করু শয়ন বিলাস কবি ঘনশ্যাম ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, পৃষ্ঠা-২৩৩। এই পদটি এই গ্রন্থের সূচীতে কেবল ঘনশ্যাম ও ঘনশ্যাম দাস এর পদ বলে উল্লেখ করা রয়েছে। জগবন্ধু ভদ্র বলে যাননি এই পদটি কোন ঘনশ্যামের। তাই এই পদটি মিলনসাগরের উভয় বা অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের পাতায় রাখা হলো। ॥ বিভাস॥ অপরূপ পহুঁ করু শয়ন বিলাস। অলস যুত যুগ- নেত্র রুচিরচর তারক কর কুঞ্চিত পরকাশ॥ ধ্রু॥ রজত পাত্র মধি শোহত জম্বূ জনু তিমির শরদ শশী রিকণ মাঝার। কুন্দ কুসুম মধি অতসী পুষ্প জনু কপুরপূর মধি মৃগমদসার॥ দুগ্ধসিন্ধু মপি অসিত দ্বীপ জনু নীলমণি মণ্ডপ সিত ক্ষিতি মাঝ। হর গিরি পর নব মেঘ খণ্ড জনু বিশদ কুমুদ মধি মধুপ বিরাজ॥ নির্ম্মল যশ সুপতাক মধ্য জনু যুবতী-নয়ন-অঞ্জন জিতকাম। পদ্মরাগ মণি আসনে জনু বিলসত রস মধুর ভণত ঘনশ্যাম॥ . ******************* অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . . ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . . ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . . দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . . সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জনমন ময় মদনময় মন্দির কবি ঘনশ্যাম ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, পৃষ্ঠা-২৩৫। এই পদটি এই গ্রন্থের সূচীতে কেবল ঘনশ্যাম ও ঘনশ্যাম দাস এর পদ বলে উল্লেখ করা রয়েছে। জগবন্ধু ভদ্র বলে যাননি এই পদটি কোন ঘনশ্যামের। তাই এই পদটি মিলনসাগরের উভয় বা অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের পাতায় রাখা হলো। ॥ ললিত॥ জনমন ময় মদনময় মন্দির কৌনে গড় অনুভব নাহি হোই। রজনীক শেষ অশেষ শোহে তছু লস ন বরণি শকত কবি কোই॥ দ্বার-বেদ বসু- বিহিত-গবাক্ষ বিরাজিত বিহি সম সম সুখকারী। ললিত লাস্য নব কুঞ্জ কেলি বহু চিত্রিত ভীত ভীত ভ্রমহারী॥ পরিসর গর্ভ রুচির সুরধুনী জনু অনুপম রতনদীপ চহু ওর। ঊর্দ্ধ অতূল চন্দ্রাতপতর পরিষঙ্ক মধ্যে লস গৌরকিশোর॥ তাকর প্রতি অঙ্গ কিরণ অদ্ভূত ঝলকত অন্তর বহিরনুপাম। মন্দির নহ ইহ স্বর্ণপুঞ্জ মণি জটিত সুসম্পুট ভণ ঘনশ্যাম॥ . ******************* অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . . ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . . ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . . দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . . সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| তরী বয়ে যায় কানাই যমুনার জলে কবি দ্বিজ ঘনশ্যাম ১৮৭০ সাল নাগাদ, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, পৃষ্ঠা ৮৯। নৌকা বিহার। নৌকা খণ্ড॥ ॥ ভাটিয়ারী॥ তরী বয়ে যায় কানাই যমুনার জলে। ললিতা বিশাখা তবে কহে কুতুহলে॥ যমুনার তরঙ্গে পুন ফেলিলা তরণী। কাতর হইয়া বলে রাই বিনোদিনী॥ ডুবাইছ ডুবাওনা কেনে ওহে রসিক নেয়ে। কেনবা আইলাম আমি আপনা খাইয়ে॥ তোমারে দিয়াছি ভার, কর বা না কর পার, দয়া নাহি অবলা বলিয়ে। যে লায়ে কাণ্ডারী তুমি, সে লায়ে কি মরি আমি কিছু নাহি জানে আহির মেয়ে॥ সকলি করিতে পার, মনে যাহা ইচ্ছা কর, পার কর বিকি যায় বয়ে। এই তোমার ছিল মনে, ডুবাইবে নিজ জনে, নারী মর দুকুল খোয়াইয়া। এত যমুনা নদী, তাহে ডুবে মরি যদি, ব্রজে যাবে কি বোল বলিয়ে॥ কানাই বলে চল রাই, আর ভয় কিছু নাই, যাই চল লা খানি বহিয়ে। দ্বিজ ঘনশ্যাম গায়, তরণী বহিয়া যায়, পার করে হরষিত হয়ে॥ . ******************* অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . . ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . . ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . . দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . . সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . . মিলনসাগর |