কবি অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের বৈষ্ণব পদাবলী
*
বসি দান ছলে, কদম্বের তলে
কবি ঘনশ্যাম
১৮৭০ সাল নাগাদ, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, পৃষ্ঠা ৭৯।

.                ॥ বরাড়ী॥

বসি দান ছলে, কদম্বের তলে, কানু মিলে রাই সঙ্গে।
নবীন কিশোরী, দুবাহু পসারি, শ্যামা কোলে করে রঙ্গে॥
কানু পরশিয়া আলুইয়া পড়িছে শ্যামের গায়।
রাইয়ের পরশে আনন্দ, হরিষে বিনোদ, নাগর রায়॥
রাইমুখ ঘন, করয়ে চুম্বন, অধরে অধর ধরি।
দোহে রসে ভোর, আনন্দ অন্তর, নব কিশোর কিশোরী॥
সখীগণ মেলি, করে হুলাহুলি, আনন্দ নাহিক ওর।
ঘনশ্যাম ভণে, গায় রস গানে, দোহ রসে দোহ ভোর॥

.          *******************          

অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিকি কিনি করি সভে, ফিরিয়া আইল তবে
কবি ঘনশ্যাম
১৮৭০ সাল নাগাদ, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, পৃষ্ঠা ৯০।

.        নৌকা বিহার। নৌকা খণ্ড॥

বিকি কিনি করি সভে, ফিরিয়া আইল তবে, উপনীত যমুনার তীরে।
বেলা দেখি অবসানে, বড়াই ডাকে হাত সানে, পার করে দেহ সভাকারে॥
হেদেহে রসিক নেয়ে, পার কর বেলা চেয়ে, তীরে বসি রয়েছি সকলে।
অস্ত গেল দিবাকর, ঝাট মোরা যাব ঘর, পার করি রাখহ গোকুলে॥
তাহা শুনি রসিক রায়, তরণী বহিয়া যায়, আরোহণ করে গোপীগণ।
কেরুয়াল লয়ে হরি, যমুনাতে বহে তরী, বসে যায় যত গোপীগণ॥
একেত যমুনা জল, অঙ্গ করে ঝল মল, তীরে বসি দেখে ঘনশ্যাম।
রাই গোরি শ্যাম কাল, দুকূল করেছ আলো, দেখ রূপ অতি অনুপাম॥

.                  *******************          

অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভাইক ভাবে মত্তগতি বিরহিত
কবি ঘনশ্যাম
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন  
“শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, পৃষ্ঠা-২৯০। এই পদটি এই গ্রন্থের সূচীতে কেবল ঘনশ্যাম ও ঘনশ্যাম দাস এর পদ
বলে  উল্লেখ করা রয়েছে। জগবন্ধু ভদ্র বলে যাননি এই পদটি কোন ঘনশ্যামের। তাই এই পদটি
মিলনসাগরের উভয় বা অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের পাতায় রাখা হলো।

॥ বেলোয়ার॥

ভাইক ভাবে মত্ত-                               গতি বিরহিত
পদ্মাবতীসুত অতিশয় ধীর।
ঘন ঘন কম্পত                                   জনু মর্ম্মাবলী
লসত পুলকাকুল ললিত শরীর॥
ছুটি পড়ত উর-                                 হার চারু কচ-
ভূষণ বসন ন সম্বরু তায়।
গৌরবরণ বয়                                 তাকর অলখিত
বুঝি তুরুতহি সব লৈত চুরায়॥
উপজত কত                                  আনন্দ চিত্ত মধি
ঝর ঝর ঝরত সুলোচন-লোর।
ও মুখচন্দ-                                   সুধাতি পান করি
বমন করত বুঝি লুব্ধ চকোর॥
অঙ্গুরি-পর ভর                                 করি রহু ঠাটহি
ঊর্দ্ধ করত কর-যুগ অনুপাম।
কনক-ধরাধর                                 ধরণী ত্যজি বুঝি
গগন গমন করু ভণ ঘনশ্যাম॥

.                  *******************          

অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্রীচৈতন্য-পরিকর সবে করুণাসাগর
কবি ঘনশ্যাম
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন  
“শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, পৃষ্ঠা-৩২৪। এই পদটি এই গ্রন্থের সূচীতে কেবল ঘনশ্যাম ও ঘনশ্যাম দাস এর পদ
বলে  উল্লেখ করা রয়েছে। জগবন্ধু ভদ্র বলে যাননি এই পদটি কোন ঘনশ্যামের। তাই এই পদটি
মিলনসাগরের উভয় বা অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের পাতায় রাখা হলো।

॥ কামোদ॥

শ্রীচৈতন্য-পরিকর                                      সবে করুণাসাগর
শক্তিমন্ত সুধীর পণ্ডিত।
এক গুণে এক জনে                                     অতুলন ত্রিভুবনে
সবার বাসনা লোকহিত॥
বড় সাধ হয় মনে                                     মিলিয়া তাদের সনে
সদানন্দে দুবাহু বাজাই।
মুখে গৌর গৌর বলি                                সদা ফিরি বুলি বুলি
প্রেমেতে গোরার গুণ গাই॥
মধুপুর বৃন্দাবন                                        ক্ষেত্র গিরি গোবর্দ্ধন
নানাদেশে ভ্রমিয়া ভ্রমিয়া।
ভাগবতের সার মর্ম্ম                                   চৈতন্যের সার ধর্ম্ম
দেশে দেশে ফিরি প্রচারিয়া॥
কিন্তু কুকর্ম্মের ফলে                                না জন্মিনু সেই কালে
না ভুঞ্জিনু সেই সুখ আনন্দ।
প্রভুর প্রিয় পরিকর                                 সবে অঙ্গীকার কর
কহে ঘনশ্যাম মতি মন্দ॥

.      *******************          

অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্রীনরহরি সুচতুর কুলরাজ
কবি ঘনশ্যাম
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন  
“শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, পৃষ্ঠা-৩০৩। এই পদটি এই গ্রন্থের সূচীতে কেবল ঘনশ্যাম ও ঘনশ্যাম দাস এর পদ
বলে  উল্লেখ করা রয়েছে। জগবন্ধু ভদ্র বলে যাননি এই পদটি কোন ঘনশ্যামের। তাই এই পদটি
মিলনসাগরের উভয় বা অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের পাতায় রাখা হলো।

॥ ধানশী॥

শ্রীনরহরি সুচতুর কুলরাজ।
মাধক তনয়ক                                  নিয়ড়ে বিরাজত
ভঙ্গী সুসদৃশ জগমাঝ॥ ধ্রু॥
গৌরবদনবিধু                                      মধুর হাসযুত
তহি যুগলনয়ন সঁপি বহু রঙ্গ।
নাসা তনু-সৌরভে                               সুকর্ণ বচনামৃত
শ্রণে চাহু নহু ভঙ্গ॥
পরম রুচির নিশি                               বেশ শিথিল ঘন
নিরখত হিয় মধি অধিক উল্লাস।
প্রেমক গতি গতি                                 চিত্র ন অনুভব
মানি পূরব ব্রজবিপিনবিলাস॥
ধৈরজ ধরইতে                                 করত যতন কত
রহত ন ধিরজ অথির অবিরাম।
মৃদুতর দেহ                                   নেহ ভরে গর গর
নিরুপম চরিত নিছনি ঘনশ্যাম॥

.      *******************          

অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুন্দরি বেরি এক কর অবধান
কবি ঘনশ্যাম
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ১৭শ পল্লব, দুর্জ্জয় মান,
পদসংখ্যা ৫২২। পদটি রয়েছে নিমানন্দ দাস সঙ্কলিত পদরসসার এবং কমলাকান্ত দাস
সঙ্কলিত পদরত্নাকর পুথিতেও।

॥ কামোদ॥

সুন্দরি বেরি এক কর অবধান।
ক্ষেম অপরাধ প্রেম-                                বাদ করবি যব
তব কৈছে ধরব পরাণ॥ ধ্রু॥
লিখি লহ কবজ                                   দাস করি সুন্দরি
জীবন যৌবনে বহু ভাগি।
তুয়া গুণ-রতন                                    শ্রবণে মণি-কুণ্ডল
এবে ভেল ত্রিভঙ্গ বৈরাগী॥
পীতাম্বর গলে                                       করি কর-যূগলে
মিনতি করিয়ে তুয়া আগে।
হাম ঐছে লাখ                                      লাখ শ্যাম লুঠত
তুয়া ধনি চরণ সোহাগে॥
মনসিজ করে ধেনু                                হেরি কাতর তনু
বিছুরলু ধন-জন-মায়া।
তছু ভয় লাগি                                     শরণ হাম লেয়লু
দেহ পদ-পঙ্কজ ছায়া॥
ঐছন মিনতি                                        কয়ল যব নাগর
ধনি-লোচন জল পূর।
হেরইতে বদন                                 রোদন করু দুহুঁ জন
অব ঘনশ্যাম মন পূর॥


মলাকান্থ দাস সংকলিত, পদ-রত্নাকর পুথিতে এই পদটির শেষ চারটি পংক্তি বদলে নরহরি দাসের
ভণিতাযুক্ত চারটি পংক্তি পাওয়া গিয়েছে এ ভাবে।

॥ কামোদ॥

সুন্দরি বেরি এক কর অবধান।
ক্ষেম অপরাধ প্রেম-                                বাদ করবি যব
তব কৈছে ধরব পরাণ॥ ধ্রু॥
লিখি লহ কবজ                                    দাস করি সুন্দরি
জীবন যৌবনে বহু ভাগি।
তুয়া গুণ-রতন                                     শ্রবণে মণি-কুণ্ডল
এবে ভেল ত্রিভঙ্গ বৈরাগী॥
পীতাম্বর গলে                                        করি কর-যূগলে
মিনতি করিয়ে তুয়া আগে।
হাম ঐছে লাখ                                      লাখ শ্যাম লুঠত
তুয়া ধনি চরণ সোহাগে॥
মনসিজ করে ধেনু                                হেরি কাতর তনু
বিছুরলু ধন-জন-মায়া।
তছু ভয় লাগি                                    শরণ হাম লেয়লু
দেহ পদ-পঙ্কজ-ছায়া॥

তোহারি মুখের বাণী                                এ তিমির-যামিনী
দূরে গেল বৈধগধি রঙ্গ।
নরহরি দাস বলে                                  যদি বিধি অনুকুল
মিলাওব হিমকর সঙ্গ॥


ই পদটিই, ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৯৪-
তে এভাবে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।
তাই আমরা এই পদটিকে এই অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের পাতায় এবং ঘনশ্যাম কবিরাজের পাতায় রেখেছি।

মানভঞ্জন

॥ কামোদ॥

সুন্দরি বেরি এক কর অবধান।
ক্ষেম অপরাধ প্রেম-                                বাদ করবি যব
তব কৈছে ধরব পরাণ॥ ধ্রু॥
লিখি লহ কবজ                                   দাস করি সুন্দরি
জীবন যৌবনে বহু ভাগি।
তুয়া গুণ-রতন                                    শ্রবণে মণিকুণ্ডল
এবে ভেল ত্রিভঙ্গ বৈরাগী॥
পীতাম্বর গলে                                        করি করযূগলে
মিনতি করিয়ে তুয়া আগে।
হাম ঐছে লাখ                                      লাখ যুগ লুঠই
তুয়া ধনি চরণ সোহাগে॥
মনসিজ করে ধেনু                               হেরি কাতর তনু
বিছুরলু ধনজন মায়া।
তছু ভয় লাগি                                     শরণ হাম লেয়লু
দেহ পদ-পঙ্কজ-ছায়া॥
ঐছন মিনতি                                      কয়ল যব নাগর
ধনি লোচন জল পুর।
হেরইতে বদন                                রোদন করু দুহুঁ জন
অব ঘনশ্যাম মন পূর॥

.      *******************          

অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুখময় পুলিন মন্দ মলয়ানীল
কবি ঘনশ্যামরুদাস
১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদালীর সংকলন
“শ্রীপদামৃতমাধুরী”, পৃষ্ঠা ৪৭৪।

ঝুলন লীলা

॥ মল্লার বেলাবলি - ডাঁশপাহিড়া॥

সুখময় পুলিন,                                  মন্দ মলয়ানীল,
তরুকুল শোভিত কুসুম-বিথার।
উনমত ময়ূর,                                ময়ূরী সব নাচত,
অলিকুল বিপুল ঝঙ্কার॥
যত সব সখীগ্ণ,                               বনি মনোমোহন,
বরিখা শাঙন সময় রসাল।
সখীগণ মেলি,                                  ঝুলায়ত ঝুলনা,
ঝুলত রাধা মদনগোপাল॥
মঞ্জীর রুনু ঝুনু                                 বাজত মধুরহি
কত শত যন্ত্র বায়ত এক তাল।
ঝুলত হিলত,                                    সরস সম্ভাষত,
রসবতী রসিক ব্রদ-বাল॥
চামর বীজন,                                     কোই ঢুলায়ত,
কিঙ্কিণী কঙ্কণ শবদ-তরঙ্গ।
মণিময় দোলা,                               দোলায়ত সখীগণ,
ঝুলে বিনোদ-বিনোদিনী সঙ্গ॥
রাই-কানু রস-                                      বাদর পূরল,
নিধুবনে কেলি বিলাস।
জয় জয় সখীগণ,                               করত হুলাহুলী,
আনন্দে মগন ঘনশ্যামরুদাস॥

.      *******************          

অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হেদে হে সুন্দর নেয়ে
কবি দ্বিজ ঘনশ্যাম
১৮৭০ সাল নাগাদ, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, পৃষ্ঠা ৮৭।

.                          নৌকা বিহার। নৌকা খণ্ড॥

হেদে হে সুন্দর নেয়ে, মোরা তেমন নই মেয়ে, বুঝিতে না পারি তোমার কাজ।
দিয়া পারের সম্বল, কেন বা সেঁচিব জল, কহিতে না বাস মনে লাজ॥
তুমি ভাঙ্গা নায়ের দাঁড়ি, কড়া চারি পাবে কড়ি, তাহে আবার কত কথা কও।
সারাদিন যায় বাটে, রৌদ্রে মাথা যায় ফেটে, তার কথা সহনে না যায়॥
খেতে নাহি দেয় মা, পেটের জ্বালায় বাও না, আমি তোমার জানি ভরিভুরি।
আপন মায়ের ডরে, আমাদের ঘরে ঘরে, নবনী করিয়ে বেড়াও চুরি॥
নহে তোমার মানুষতা, ছোট মুখে বড় কথা, শুনিয়া জ্বলিয়া যায় গা।
আপনি না বাস লাজ, ধীবরের কর কাজ, ভাল লোকে কেবা বহে লা॥
সকলি জানয়ে রাধা, বয়ে বেড়াও নন্দের বাধা, মোর আগে কি কর চাতুরী।
দ্বিজ ঘনশ্যাম গায়, ভাবি দোঁহার রাঙ্গা পায়, তাহে যেন ভবনদী তরি॥

.                              *******************          

অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
ঘনশ্যাম কবিরাজের সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর