কবি ঘনশ্যাম কবিরাজের বৈষ্ণব পদাবলী
*
অধর সুধা-কণ-মিলিত সমীরণ
কবি ঘনশ্যাম দাস
১৯২৬ সালে প্রতাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, পৃষ্ঠা
৬২। কবিতাটি তাঁরা পেয়েছিলেন কমলাকান্ত দাস সঙ্কলিত পদরত্নাকর ও সাহিত্য পরিষদের ২০১ পুথি
থেকে।

[ রাস ]
॥ কেদার॥

অধর সুধা-কণ-মিলিত সমীরণ
ভরি নব রন্ধ্র সুযন্ত্র।
মনসিজ-তস্ত্র বিচার-বিশারদ
গাওত মনসিজ-মন্ত্র।
অপরূপ নট-বর-রাজ।
পরিসর শশধর রতন-বেদি পর
মদন-মনোহর সাজ॥ ধ্রু॥
কল-পদ সমুঝি নাম সঞে নিজ নিজ
পরিহরি কুল-ভয়-লাজ।
হেরি সুলম্পট রতি-রণ-প্রতিভট
বেঢ়ল যুবতি-সমাজ॥
কেহ ভূজ-পাশ পসারল পীঠহিঁ
কেহ কুচ-গিরি দরশায়।
ভুরু-যুগ-কাম-কমান ধুনায়ত
জোরি বিষম-শর তায়॥
ঈষত-হাস সুধা-রসে মাতল
বিছুরল নিজ পর-ভান।
কহ ঘনশ্যাম দাস মিলি সব সঞে
নাচত নাগর কান॥

ই পদটি, ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন,পৃষ্ঠা ৭৯৬-এ
এভাবে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

রাসনৃত্য

॥ কেদার॥

অধরসুধাকণ                                   মিলিত সমীরণ
ভরি নবরন্ধ্র সুযন্ত্র।
মনসিজ তস্ত্র                                   বিচার বিশারদ
গাওত মনসিজ মন্ত্র॥
অপরূপ পেখলুঁ নট-বর-রাজ।
পরিসর শশধর                                  রতনবেদি পর
মদন মনোহর সাজ॥ ধ্রু॥
কলপদ সমুঝি                            নাম সঞে নিজ নিজ
পরিহরি গুরুভয় লাজ।
হেরি সুলম্পট                                রতিরণ প্রতিভট
বেঢ়ল যুবতিসমাজ॥
কেহ ভূজপাশ                                  পসারল পীঠহি
কেহো কুচগিরি দরশায়।
ভুরুযুগ কাম-                                  কামান ধুনাওত
জোড়ি বিষম শর তায়॥
ঈষৎ হাস-                                    সুধারসে মাতল
বিছুরল নিজপর ভান।
কহ ঘনশ্যাম দাস                             মিলি সব সঞে
নাচত নাগর কান॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অধর সুধারস লুবধক মানস
কবি ঘনশ্যামর দাস
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৮০২-তে এভাবে
দেওয়া রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

মিলন

॥ কামোদ॥

অধর সুধারস                                   লুবধক মানস
তনু পরিরম্ভণ চাহ।
অনিমিখ লোচন                                মুখ অবলোকন
কৈছে হোত নিরবাহ॥
দেখ সখি রাধামাধব প্রেম।
দুলহ রতন জনু                                 দরশন মানয়ে
পরশন গাঁঠিক হেম॥ ধ্রু॥
আনন্দনীরে                                   নয়ন যব ঝাঁপয়ে
তবহি পসারিত বাহ।
কাঁপিয়ে ঘন ঘন                               কৈছে করব পুন
সুরত-জলধি-অবগাহ॥
মধুরিম হাসি                                সুধারস বরিখনে
গদগদ রোধয়ে ভাষ।
চিরদিনে মিলন                                লাখগুণ নিধুবন
ভণ ঘনশ্যামর দাস॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অনুখন হেরিয়ে তোহে আকুল চীত
কবি ঘনশ্যামর দাস
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা
৭৮৮। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

.        ॥ বালা ধানশী॥

অনুখন হেরিয়ে তোহে আন চিত।
দূরে গেও মুরলী আলাপন গীত॥
মরম না কহ কাহে প্রাণ সাঙ্গাতি।
তুয়া মুখ হেরি জ্বলত মঝু ছাতি॥
মরকত জিনি যো কলেবর কাঁতি।
সো অব ঝামর কুবলয় ভাঁতি॥
হেরইতে নিরময় লোচন তোর।
কো জানে কৈছে করত হিয়া মোর॥
শুনইতে ঐছন সহচর বাণী।
ছোড়ি নিশ্বাস উলটায়ল পাণি॥
দূর অবগাহ মরম অভিলাষ।
না বুঝিয়া কহ ঘনশ্যামর দাস॥

ই পদটি, আনুমানিক ১৭২৫ সালে ১১৭০টি পদ সম্বলিত, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী
প্রণীত, ৪৬২ শ্রীগৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত, শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (
পূর্বরাগ ) গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৩৮১-এ এইভাবে রয়েছে।

সুবলঃ শ্রীকৃষ্ণং প্রত্যহ ---

.        ॥ বালা ধানশী॥

অনুখন তোহে হেরিয়ে আকুল চীত।
দূরে গেও মুরলী আলাপন গীত॥
মরম না কহ কাহে প্রাণ সংঘাতি।
তুয়া মুখ হেরি জলত মঝু ছাতি॥
মরকত জিনিয়া যো কলেবর কাঁতি।
সো অব ঝামর কুবলয় ভাঁতি॥
হেরইতে নিরমল লোচন ওর।
কো জানে কৈছে করয়ে হিয় মোর॥
শুনইতে ঐছন সহচর-বাণী।
ছোড়ি নিশ্বাস উলটায়ল পাণি॥
দূর অবগাহ মরম অভিলাষ।
সমঝুই কহ ঘনশ্যামর দাস॥


ই পদটিই, আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ, ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫),
১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৩য় পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ--প্রকারান্তর, পদসংখ্যা ৫৫-এ এইভাবে
রয়েছে।

সুবল-বাক্য।

.        ॥ বালা ধানশী॥

অনুখন হেরিয়ে তোহে আন-চীত।
দূরে গেও মুরলী-আলাপন গীত॥
মরম না কহ কাহে প্রাণ-সাঙ্গাতি।
তুয়া মুখ হেরি জ্বলত মঝু ছাতি॥
মরকত জিনিয়া যো কলেবর-কাঁতি।
সো অব ঝামর কুবলয়-ভাঁতি॥
হেরইতে নিরমল লোচন জোর।
কো জানে কৈছে করত হিয় মোর॥
শুনইতে ঐছন সহচর-বাণী।
ছোড়ি নিশাস উলটায়ল পাণি॥
দূর-অবগাহ মরম-অভিলাষ।
সমুঝিয়া কহ ঘনশ্যামর দাস॥

ই পদটিই, দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত,
বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”-এর পৃষ্ঠা ২০-এ
এভাবে দেওয়া রয়েছে।

.                      ॥ বালা ধানসি॥

অনুক্ষণ হেরইতে তোহে অনুচিত। দূরে গেয় মুরলি আলাপন গীত॥
মরম না কহ কাহে প্রাণসঙ্ঘাতি। তুয়া মুখ হেরি জ্বলত মঝু ছাতি॥
মরকত জিনিয়া যো কলেবর কাতি। সো অব ঝামর কুবলয় ভাতি॥
হেরইতে নিরমল লোচন জোড়। কো জানে কৈছে করত হিয়া মোর॥
শুনইতে ঐছন সহচর বাণী। ছোড়ি নিশাস উলটায়ল পাণি॥
দূর অবগাই মরম অভিলাষ। সমঝিয়া কহ ঘনশ্যামর দাশ॥

.                         *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অলখিত গতি জিতি বিজুরী সঞ্চার
কবি ঘনশ্যাম দাস, ঘনশ্যামর দাস
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা
৭৮৮। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ করা রয়েছে।

.       ॥ পুনঃ বরাড়ী ॥

অলিখিত গতি জিতি বিজুরী সঞ্চার।
চৌদিশি ধাবই লোচন তার॥
এ সখি অতএ ন পাওল ওর।
কৈছনে চিত চোরাওল মোর॥ ধ্রু॥
জানলুঁ অবশ কয়ল মঝু হাত।
অতয়ে সে অবশ ভেল সব গাত॥
লোচন যুগল লোরে পরিপূর।
কহইতে বয়নে কহন নাহি ফুর॥
চলইতে চরণ অচল সম ভেল।
কুলবতী ধরমকরম দূরে গেল॥
কয়ল বিপতি এত অব হরি আয়।
হা হা অবহু না ছোড়ই তায়॥
পুন কিয়ে আছয়ে অছু অভিলাস ।
না বুঝিয়ে কহয়ে ঘনশ্যাম দাস ॥


ই পদটি, ১১৭০টি পদ সম্বলিত, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত, ৪৬২ শ্রীগৌরাব্দে
(১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত, শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় ( পূর্বরাগ ) গ্রন্থ, পৃষ্ঠা- ২১৭-এ
এভাবে রয়েছে। তাই আমরা এই পদটি ঘনশ্যাম কবিরাজ ও ঘনশ্যাম চক্রবর্তী, দুজনের
পাতাতেই রাখছি।

.       ॥ পুনঃ বরাড়ী ॥

অলিখিত গতি জিতি বিজুরী সঞ্চার ।
চৌদিকে ধাবই লোচন-তার ॥
এ সখি !   অতএ না পাওলু ওর ।
কৈছনে চিত চোরাওল মোর ॥ ধ্রু ॥
জানহু অবহু কয়ল মঝু হাত ।
অতএ সে অবশ ভেল সব গাত ॥
লোচন যুগলে লোর ভরি পূর ।
কহইতে বয়নে কহন নাহি ফুর ॥
চলইতে চরণ অচল সম ভেল ।
কুলবতী ধরম করম দূরে গেল ॥
কয়ল পিরীতি এত অপহরি যায় ।
হাহা অবহু না ছাড়ই তায় ॥
পুন কিয়ে আছয়ে অছু অভিলাস ।
না বুঝিয়ে কহ ঘনশ্যামর দাস ॥


ই পদটি, আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫),
১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ--সবিস্তার, পদসংখ্যা ১৫১-তে এইভাবে
রয়েছে।

॥ ধানশী ॥

অলিখিত গতি জিতি বিজুরী-সঞ্চার ।
চৌদিকে ধাবই লোচন-তার ॥
এ সখি অতয়ে না পাওলুঁ ওর ।
কৈছনে চীত চোরাওল মোর ॥।
জানলুঁ অবহুঁ কয়ল মুঝে হাত ।
অতএ সে অবশ ভেল সব গাত ॥
লোচন-যুগলে লোর পরিপূর ।
কহইতে বয়নে কহন নাহি ফূর ॥
চলইতে চরণ অচল সম ভেল ।
কুলবতী-ধরম-করম দূরে গেল ॥
পুন কিয়ে আছয়ে অছু অভিলাস ।
না বুঝিয়ে কহ ঘনশ্যামর দাস ॥


ই পদটি, ১৯৬১ সালে বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”
গ্রন্থের, পদ সংখ্যা ২৫৩, পৃষ্ঠা ২০০-এ এইভাবে দেওয়া রয়েছে। গোবিন্দরতিমঞ্জরী ৫মপদ।

অলিখিত গতি জিতি বিজুরী সঞ্চার।
চৌদিকে ধাবই লোচন তার॥
এ সখি অতয়ে না পাওলুঁ ওর।
কৈছনে চিত চোরাওল মোর॥
জানলুঁ অবহুঁ কয়ল মুঝে হাত।
অতয়ে সে অবশ ভেল সব গাত॥
লোচন যুগলে লোর পরিপূর।
কহইতে বয়নে কহন নাহি ফূর॥
চলইতে চরণ অচল সম ভেল।
কুলবতী-ধরম করম দূরে গেল॥
পুন কিয়ে আছয়ে অছু অভিলাষ।
না বুঝিয়া কহ ঘনশ্যামর দাস ॥

টীকা বা ব্যাখ্যা -
তাহার গতি বিদ্যুৎ-চমককেও হারাইয়া দেয়, কাজেই তাহাই ভাল করিয়া দেখা যায় না।
শুধু আমার লোচন-তারা চারিদিকে তাহাকে খুঁজিতে থাকে। সখি হে, এইজন্য বুঝিতে
পারিলাম না কি করিয়া আমার চিত্ত চুরি গেল। এইটুকু মাত্র জানিলাম যে আমাকে সে
হাত করিয়া ফেলিয়াছে, তাই আমার সমস্ত দেহ অবশ হইল। চোখ দুটিতে জল ভরিয়া
থাকে, কথা বলিতে গেলে মুখে কথা বাহির হয় না। চলিতে গেলে পা যেন পাহাড়ের মতন
অচল হয়। আমার কুলবতী-ধর্ম ও কর্ম সব নষ্ট হইল। এরপরও যে তাহার মনে আর কি
অভিলাষ আছে তাহা ঘনশ্যাম দাস বুঝিতেছেন না।
--- বিমানবিহারী মজুমদার, “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”॥

.                         *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আজুক গমন কোন ধনী সেবি
কবি ঘনশ্যাম
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা
৭৯১। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

শ্রীরাধার উক্তি প্রত্যুক্তি

.        ॥ শ্রীরাগ॥

আজুক গমন কোন ধনী সেবি।
তুয়া বিন আন নাহি অধিদেবী॥
এ হরি পুছিয়ে কোন নিবাস।
তোহারি পরশ বিনু নাহি অভিলাষ॥ ধ্রু॥
পুছইতে এক কহসি পুন আন।
মান সঞে কিয়ে মতি করু দান॥
এ ধনি সো পুন তোহারি সমীপ।
অনুখন যৈছে অরুণ মণিদীপ॥
পশুপ স্বভাব রজনী কাঁহা দেল।
তোঁহারি পরশ লাগি গোকুলে ভেল॥
ঢীঠ বিভাবরী পুছিয়ে তোহে।
তুহুঁ অরু তোঁহারি সঙ্গিনী যত হোয়ে॥
আজু তুয়া শুভ খন কাঁহা গেলি।
তুহুঁ চিরজীবী আলি সঞে মেলি॥
শুনইতে কানুক ঐছন ভাষ।
সখীমুখ হেরি রাই মৃদু মৃদু হাস॥
তব ঘনশ্যাম দাস মহি লেখ।
অনুগত জন নাহি কবহুঁ উপেখ॥

ব্যাখ্যা -
রাধা॥        আজি (কোথা হইতে) কোন্ ধনীর সেবা করিয়া আসিতেছ?
কৃষ্ণ॥        তুমি ভিন্ন তো আমার অন্য কোন অধিদেবী নাই ?
রাধা॥        ওহে হরি, তোমার নিবাস জিজ্ঞাসা করিতেছি ?
কৃষ্ণ॥        (নিবাস ইচ্ছা অর্থে) তোমার স্পর্শ ভিন্ন তো অন্য অভিলাষ নাই।
রাধা॥         এক কথা জিজ্ঞাসা করিতেছি, অন্য উত্তর দিতেছ ? সম্মানের সঙ্গে মতিও
.                    কি দান করিয়াছ ?
কৃষ্ণ॥        (মতি রত্ন অর্থে) সে তো তোমার নিকটেই অনুক্ষণ মণিদীপ জ্বলিতেছে।
রাধা॥        পশুপালকের স্বভাব, রজনী কোথায় দিলে (গত রাত্রিটা কাহাকে দান করিলে)?
কৃষ্ণ॥        (রজনী অর্থে হরিদ্রা, গোরোচনা, গৈরিক আদি বুঝিয়া) গোকুলে তোমার স্পর্শ
.                    লাগিয়া এইরূপ হইয়াছে।
রাধা॥        ধৃষ্ট, আমি বিভাবরীর কথা বলিতেছি।
কৃষ্ণ॥        (বিভাবরী অর্থে শ্রেষ্ঠা সুন্দরী) বিভাবরী --- সৌন্দর্য্যে, লাবণ্যের ঔজ্জ্বল্য সে
.                    তো তুমি আর তোমার সখীগণ-ই ঐ অভিধানের যোগ্যা।
রাধা॥        আজ তোমার শুভক্ষণ কোথায় গেল ?
কৃষ্ণ॥       তুমি আর তোমার সখীগণ মিলিয়া চিরজীবনী হও। উহাই আমার শুভ সুযোগ।

কানুর এই সব কথা শুনিয়া রাই, সখীগণের মুখ চাহিয়া মৃদু মৃদু হাসিতে লাগিলেন।
ঘনশ্যাম দাস ভূমিতলে আঁচড় কাটিতে কাটিতে (মুখ নামাইয়া) বলিলেন, অনুগত জনে
কখনো উপেক্ষা করিও না।
--- হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, “বৈষ্ণব পদাবলী”॥

.                         *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আজুক মিলন-সময়-নিরবন্ধ
কবি ঘনশ্যাম দাস
১৯২৬ সালে প্রতাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, পৃষ্ঠা ৬১। কবিতাটি তাঁরা পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাস সঙ্কলিত পদরসসার ও
সাহিত্য পরিষদ ২০১ পুথি থেকে।

[ উত্কণ্ঠিতা ]
শ্রীরাধার উক্তি :---

॥ বরান্দী॥

আজুক মিলন-সময়-নিরবন্ধ।
সোই কয়ল করি কত পরবন্ধ॥
করে কর পরশি আপন-শিরে রাখি।
শপথি করাওল মনমথ সাথি॥
বিছুরল মোহে তবহুঁ যব কান।
জানলুঁ বিঘটল বিহিক বিধান॥ ধ্রু॥
উয়ল চান্দ নহি আওল নাহ।
কামিনি কৈছে সহয়ে ইহ দাহ॥
আরে অবলা পর মদন দুরন্ত।
বেকত জনাহ ধরু নহ দন্ত॥
থীর-সন্ধান ফিরয়ে চৌ-পাশ।
ঝাঁপি পড়ল অরু করল গরাস॥
কহ ঘনশ্যাম দাস তব ওত।
সুপুরখ-সিংহ দরশ যব হোত॥

ই পদটি, ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী”
সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৯০-এ এইভাবে রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই
গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

.        উত্কণ্ঠিতা

.        ॥ শ্রীরাগ॥

আজুক মিলন সময় নিরবন্ধ।
সোই কয়ল করি কত পরবন্ধ॥
করে কর পরশি আপন শিরে রাখি।
শপথি করাওল মনমথ সাথী॥
বিছুরল মোহে তবহুঁ যব কান।
জানলুঁ বিঘটল বিহিক বিধান॥ ধ্রু॥
উয়ল চান্দ নহি আওল নাহ।
কামিনি কৈছে সহয়ে ইহ দাহ॥
আরে অবলা পর মদন দুরন্ত।
বেকত জন হর ধনু নহ দন্ত॥
থীর সন্ধানে ফিরই চহুঁ পাশ।
ঝাঁপি পড়ল অরু করল গরাস॥
কহ ঘনশ্যাম দাস তব ওত।
সুপুরখ-সিংহ দরশ যব হোত॥

.        *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আজুক হাম স্বপনে সমুখে এক মুনিবর
কবি ঘনশ্যামর দাস বা ঘনশ্যামরু দাস
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৮০১-এ এভাবে
দেওয়া রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

স্বপ্নোল্লাস

॥ বিভাস॥

আজু হাম স্বপনে                               সমুখে এক মুনিবর
হেরি করলু পরণাম।
সো মোহে কহল                                অচিরে তুয়া মঙ্গল
পূরব মানস কাম॥
সজনি ইহ পুন কহ জনি কোই।
রজনিক শেষ                                     সময় অরুণোদয়
স্বপন বিফল নাহি হোই॥ ধ্রু॥
আওব কানু                                 পুনহি কিয়ে ব্রজমাহা
ঐছে মনহি যব কেল।
তবহুঁ একজন                                     ফুকরিয়ে আওত
তত বিহি ইঙ্গিত ভেল।
ফূরয়ে বাম                                      নয়ন ভুজ ঘন ঘন
হোওত মনহি উল্লাস।
ঐছে সুলক্ষণ                                       আন নহত পুন
ভণ ঘনশ্যামর দাস॥


ই পদটিই, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১২শ
পল্লব, ভাবোল্লাস, পদসংখ্যা ১৯৭১-এ এভাবে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

আজুক সপনে সমুখে এক মুনিবর
দেখি করলুঁ পরণাম।
সো মুঝে কহল অচিরে তুয়া মঙ্গল
পূরব মনরথ কাম॥
এহ পুন কহ জনি কোয়।
রজনিক শেষ-সময় অরুণোদয়
স্বপন বিফল নাহি হোয়॥
আওব কানু পুনহি কিয়ে ব্রজ মাহা
ঐছে মনহি যব কেল।
তবহি এক জন ফুকরই যায়ত
উতরহি ইঙ্গিত ভেল।
ফূরয়ে বাম নয়ন ভুজ ঘন ঘন
হোয়ত মন হি উলাস।
ঐছে সুলক্ষণ আন নহত পুন
ভণ ঘনশ্যামর দাস॥

ই পদটিই, দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”-এর পৃষ্ঠা ৪৩৫-এ এভাবে রয়েছে।

॥ রাগিণী কামোদ তালোচিত॥

আজুক সপনে সমুখে এক মুনিবর দেখি করলু পরনাম।
সো মুঝে কহল অচিরে তুয়া মঙ্গল পূরব মনরথ কাম॥
এহ পুন কহো জানি কোয়।
রজনিক শেষ সময় অরুণোদয় সপন বিফল নাহি হোয়॥
আওব কানু পুনহি কিয়ে ব্রজমাহা ঐছে মনহি জব কেল।
তবহি একজন ফুকুরিয়া যায়ত উতরহি ইঙ্গিত ভেল।
ফুরই বাম নয়ন ভুজ ঘনঘন হোওত মনহি উল্লাস।
ঐছে সুলক্ষণ আন লহত পুন ভণ ঘনশ্যামরু দাস॥

.        *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আজু হম যাইতে যমূনা একান্ত
কবি ঘনশ্যাম দাস
১৯২৬ সালে প্রতাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, পৃষ্ঠা ৫৯। কবিতাটি তাঁরা পেয়েছিলেন কমলাকান্ত দাস সঙ্কলিত পদরত্নাকর
পুথি থেকে।

[ শ্রীরাধার পূর্ব্ব-রাগ ]

.        ॥ নট রাগ॥

আজু হম যাইতে যমূনা একান্ত।
একলি নেহারি অগোরল পন্থ॥
চৌ দিশে সচকিত পুন পুন হেরি।
ঈষত হাসি পুছই বেরি বেরি॥
কর পরশিতে মঝু করু অনুবন্ধ।
শপতি করাওল করি কত ছন্দ॥
কুল-অবলা হম সো যুবরাজ।
নিরজনে তা সঞে হঠ নহি সাজ॥
পেখলুঁ হম যব সঙ্কট ভেল।
লোচন-ইঙ্গিতে অনুমতি কেল॥
এ সখি অব কিয়ে করব বিধান।
আজু পুন মন্দিরে আওব কান॥
কহ ঘনশ্যাম দাস সখি গোই।
সতি-অনুমতি কভু অসতি ন হোই॥

ই পদটি, ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী”
সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৯০-এ এভাবে রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই
গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

.        শ্রীরাধার উক্তি

.        ॥ তিরোহিতা ধানশ্রী॥

আজু হম যাইতে যমূনা একান্ত।
একলি নেহারি অগোরল পন্থ॥
চৌ দিশে সচকিত পুন পুন হেরি।
ঈষৎ হাসি পুছত বেরি বেরি॥
কর পরশিয়া মঝু করু অনুবন্ধ।
শপতি করাওল রতিনিরবন্ধ॥
কুল অবলা হাম সো যুবরাজ।
নিরজনে তা সঞে হঠ নহি কাজ॥
পেখলুঁ হাম বিসঙ্কট ভেলি।
লোচন ইঙ্গিতে অনুমতি কেল॥
এ সখি অব কিয়ে করব বিধান।
আজু পুন মন্দিরে আওব কান॥
কহ ঘনশ্যাম দাস সুখ গোই।
সতীঅনুমতি কভু অসতি ন হোই॥

.        *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
উজর হার উর পীতবসনধর
কবি ঘনশ্যামর দাস
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৮৭। এই পদটি
ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ করা রয়েছে।

॥ কামোদ॥

উজোর হার উর                             পীতবসনধর
ভালহি চন্দনবিন্দু।
মিলিত বলাকিনি                        তড়িত জড়িতঘন
উপর উজোরল ইন্দু॥
পেখলুঁ অপরূপ শ্যামর ধাম।
কুঞ্জ সমীপ                                   নীপ অবলম্বন
রহই ত্রিভঙ্গিম ঠাম॥ ধ্রু॥
চরণ অবধি                             বনমাল বিরাজিত
হেরইতে উনমত হোই।
মধুকরীছলে কত                             ব্রজরমণী চিত
তঁহি রহু মতিগতি খোই॥
মুরলী আলাপি                             ঝাঁপি গগনাবধি
গায়ত কতহুঁ সুতান।
ভণ ঘনশ্যাম                               দাস চিত ঝুরত
মদন রায় পরমান॥

ব্যাখ্যা -
বক্ষে উজ্জ্বল মণিহার, কাটিতে পীতবসন, ললাটে চন্দনের তিলক, যেন বকপংক্তি মিলিত বিদ্যুত বিজড়িত
মেঘদাম, তাহার উপরে চন্দ্রোদয়। অপরূপ শ্যামধামকে দেখিলাম। কুঞ্জ সমীপে কদম্ব অবলম্বনে ত্রিভঙ্গিম
ঠামে দাঁড়াইয়া ছিল। চরণ পর্য্যন্ত বিলম্বিল বনমালা, দেখিতেই পাগলিনী হইলাম। তথায় (সেই বনমালার
এবং চরণ কমলে) ভ্রমরীর ছলে কত ব্রজরমণীর চিত্ত যে গতি ভুলিয়া মতি খোয়াইয়া আশ্রয় লইয়াছে
(তাহার সংখ্যা হয় না)! মুলীর আলাপনে গগনাবধি পরিপূর্ণ করিয়া কত সুতানই না গান করিতেছে।
ঘনশ্যাম বলিতেছেন, আমার চিত্ত ঝুরিতেছে, মদনরায় তাহার প্রমাণ ; (মদনরায়---কবির একজন বন্ধু ;
মদন---মন্মথ)।
----হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদাবলী॥


ই পদটি, ১১৭০টি পদ সম্বলিত, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত, ৪৬২ শ্রীগৌরাব্দে (১৯৪৯),
হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত, শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় ( পূর্বরাগ ) গ্রন্থ, পৃষ্ঠা- ৭-এ রয়েছে। তাই আমরা এই পদটি,
ঘনশ্যাম কবিরাজ ও ঘনশ্যাম চক্রবর্তী, দুজনের পাতাতেই রাখছি।

|| কামোদ ||

উজরহার উর                       পীত বসনধর
ভাল হি চন্দন বিন্দু
মিলিত বলাকিনী                   তড়িত জড়িত ঘন
উগরে উজোরল ইন্দু
অপরূপ শ্যামর ধাম
কুঞ্জ সমীপ                    নীপ অবলম্বন
রহই ত্রিভঙ্গিম ঠাম
চরণ-অবধি                বনমাল বিরাজিত
হেরইতে উনমত হোই
মধুকর চলে কত                 ব্রজরমণীচিত
তহি রহু মতি গতি খোই
মুরলি আলাপি                 ঝাঁপি গগনাবধি
গায়ত কতহু সুতান
ভণ ঘনশ্যাম                দাস চিত ঝুরত
মদন রায় মন মান ||


ই পদটি, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ২৮শ পল্লব,
শ্রীকৃষ্ণের রূপ, পদসংখ্যা ২৪২১-এ এইভাবে রয়েছে।

॥ কামোদ॥

উজর হার উর পীত-বসন-ধর
ভালহিঁ চন্দন-বিন্দু।
মিলিত বলাকিনি তড়িত-জড়িত ঘন
উপরে উজোরল ইন্দু॥
অপরূপ শ্যামর-ধাম।
কুঞ্জ সমীপ নীপ অবলম্বন
রহই ত্রিভঙ্গিম ঠাম॥ ধ্রু॥
চরণ অবধি বন-মাল বিরাজিত
হেরইতে উনমত হোই।
মধুকর ছলে কত ব্রজ-রমণী-চিত
তহিঁ রহু মতি গতি খোই॥
মুরলি অলাপি ঝাঁপি গগনাবধি
গায়ত কতহুঁ সুতান।
ভণ ঘনশ্যাম দাস চিত ঝুরত
মদন রায় মন মান॥


ই পদটিই, ১৯১৬ সালে হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলি সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা” গ্রন্থ,
পৃষ্ঠা ১৫৮।

॥ শ্রীরাগ॥

উজোর হার উর                              পীতবসন ধর
ভালহি চন্দনবিন্দু।
মিলিত বলাকিনি                        তড়িত জড়িত ঘন,
উপরে উজোরল ইন্দু॥
পেখলু শ্যামর ধাম।
কুঞ্জ সমীপে                                    নীপ অবলম্বই
রহই ত্রিভঙ্গিম ঠাম॥
চরণ অবধি                               বনমাল বিরাজিত
হেরইতে উনমত হোই।
মধুকরী ছলে কত                             ব্রজ রমণী চিত
তহি রহি মতি গতি খোই॥
মুরলী আলাপি                               ঝাপি গগনাবধি
গাওত কতহুঁ সুতান।
ভণ ঘনশ্যাম                                দাস চিত ফুরত
রোয়ত মদন মান॥


ই পদটিই, ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদালীর
সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, পৃষ্ঠা ৪৭৪-এ এভাবে রয়েছে।

রূপানুরাগ

॥ রাগিণী সুহই - তাল ধরা॥

উজোর হার উর, পীত বসন ধর, ভালে হি চন্দন বিন্দু।
মিলিত বলাকিনি, তড়িত জড়িত ঘন, উপরে উজোরল ইন্দু॥
পেখলুঁ শ্যামরু ধাম।
কুঞ্জ সমীপে, নীপ অবলম্বনে, রহই ত্রিভঙ্গিম ঠাম॥
চরণ অবধি বন, মালা বিরাজিত, হেরইতে উনমতি হোই।
মধুকর ছলে কত, বরজ রমণী চিত, তহি রহু হতি মতি খোই॥
মুরলী আলাপি, ঝাঁপি গগনাবধি, গাওত কতহু সুতান।
ভণ ঘনশ্যাম, দাসচিত ঝুরত, মাদন রায় পরমাণ॥

.        *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
একে বিরহানল সহজে দুরন্ত
কবি ঘনশ্যামর দাস বা ঘনশ্যামরূদাস
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা
৭৯৮-তে এভাবে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে
উল্লেখ করা রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতী

.        ॥ সিন্ধুড়া॥

একে বিরহানল সহজে দুরন্ত।
দোসর ভেল তাহে কাল বসন্ত॥
এ হরি কহলুঁ তুয়া পায় লাগি।
সো অব জীবই বহু পুন-ভাগি॥
কিয়ে ঘর বাহির নাহিক সংবিৎ।
যত উপচার ততহিঁ বিপরীত॥
হিমকর হেরি হেরি হুতাশন ভান।
ঘরে পৈঠে ভয়ে মুদিত নয়ান॥
কোকিল কলরবে কুলিশ গেয়ান।
হরি হরি বোলি ততহিঁ মুরছান॥
গরল গরল কিয়ে মলয়জ ভাস।
কি কহব অব ঘনশ্যামর দাস॥


ই পদটিই, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ৮ম পল্লব, গ্রীষ্ম-সময়োচিত বিরহ, পদসংখ্যা ১৭২৩-এ এভাবে রয়েছে।

.        ॥ ধানশী॥

একে বিরহানল সহজে দুরন্ত।
দোসর ভেল তাহে কাল বসন্ত॥
এ হরি কহলুঁ তুয়া পায় লাগি।
সো অব জীবই বহু পুন-ভাগি॥
কী ঘর বাহির নাহিক সম্বীত।
যত উপচার ততহিঁ বিপরীত॥
হিমকর হেরি হেরি হুতাশন-ভান।
ভয়ে পৈঠয়ে ঘরে মুদিত নয়ান॥
কোকিল-কলরব কুলিশ সমান।
হরি হরি বোলি ততহিঁ মুরছান॥
গরল গরল কিয়ে মলয়জ-ভাস।
কি কহব অব ঘনশ্যামর দাস॥


ই পদটি, দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”-এর
পৃষ্ঠা ৩৮২-এ এভবে রয়েছে।

.        ॥ রাগিণী ধানশী। তালোচিত॥

একে বিরহানল সহজে দুরন্ত। দোসর ভেল তাহে কালবসন্ত॥
এ হরি কহলু তুয়াপদ লাগী। সে অব জীয়বে রহু পুনভাগি॥
কি ঘর বাহির নাহিক সম্বিত। জত উপহার ততহি বিপরীত॥
হিমকর হেরি হেরি হুতাশন ভান। ভয়ে পৈঠত ঘরে মুদিল নয়ান॥
কোকিল কলরবে কুলিশ সমান। হরি হরি বলিতে তোহি মুরূছান॥
গরল কিয়ে জনু তীল অজভাস। কি কহব অব ঘনশ্যামরূদাস॥

.                       *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর