| কবি ঘনশ্যাম কবিরাজের বৈষ্ণব পদাবলী |
| কো কহ অপরূপ প্রেমসুধানিধি কবি ঘনশ্যাম দাস ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৮৫। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ করা রয়েছে। শ্রীগৌরচন্দ্র বন্দনা ॥ কামোদ॥ কো কহ অপরূপ প্রেমসুধানিধি কোই কহত রসমেহ। কোই কহত ইহ সোই কল্পতরু মঝু মনে হোত সন্দেহ॥ পেখলুঁ গৌরচন্দ্র অনুপাম। যাচক যাক মৃল নাহি ত্রিভূবনে ঐছে রতন হরি-নাম॥ ধ্রু॥ যো এক সিন্ধু সো বিন্দু ন যাচই পরবশ জলদ সঞ্চার। মানস অবধি রহত কলপতরু কো অছু করুণা অপার॥ যছু চরিতামৃত শ্রুতিপথে সঞ্চরু হৃদয় সরোবর পূর। উমড়ই নয়নে অধম মরুভূমহি হোওত পুলক অঙ্কুর॥ নামহি যাক তাপ সব মেটই তাহে কি চাঁদ উপাম। কহ ঘনশ্যাম দাস নাহি হোয়ত কোটি কোটি একু ঠাম॥ ব্যাখ্যা - কেহ বলিতেছেন অপরূপ প্রেমসিধানিধি। কেহ বলিতেছেন রসপূর্ণ মেঘ, কেহ বলিতেছেন এ সেই কল্পতরু। আমার মনে কিন্তু সন্দেহ হইতেছে। উপমারহিত গৌরচন্দ্রকে দেখিলাম। ত্রিভুবনে যাহার মূল্য নিরূপিত হয় না, এমন হরিনামরূপ অমূল্যরত্ন তিনি যাচিয়া দান করিতেছেন। সিন্ধু তো একবিন্দু জলও কাহাকেও বিনা প্রার্থনায় দেয় না। জলদ তো পরবশ ; পবনের সাহায্য ভিন্ন সঞ্চারিত হয় না। কল্পতরুর কথা (কানেই শুনিয়াছি) মনেই রহিয়া গেল (কল্পনার বস্তু)। কিন্তু এমন অপার করুণাময় কে, যাঁহার চরিতামৃত কানে শুনিলেই হৃদয়-সরোবর পূর্ণ হয়। (সেই পূর্ণ সরোবর) নয়নপথে উচ্ছলিত হইয়া অধম (দেহ) মরুভূমিকেও প্লাবিত করে। (দেহে) পুলক অঙ্কুর উদ্গত হয় (দেহ সাত্ত্বিকভাবে পুলকিত হয়)। যাঁহার নামেই সমস্ত তাপ প্রশমিত হয়, তাঁহার সঙ্গে কি চাঁদের উপমা দেওয়া চলে ? ঘনশ্যাম দাস বলিতেছেন, কোটি কোটি চাঁদ একঠাঁই হইলেও গৌরচন্দ্রের সমান হয় না। --- হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পাদাবলী॥ এই পদটিই, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৩শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৯১৪-এ এইভাবে দেওয়া রয়েছে। অথান্য প্রকারং রাত্রৌ যথা। ॥ কামোদ॥ কো কহে অপরূপ প্রেম-সুধানিধি কোই কহত রস-মেহ। কোই কহত ইহ সোই কলপতরু মঝু মনে হোত সন্দেহ॥ পেখলুঁ গৌরচান্দ অনুপাম। যাচক যাক মৃল নহি ত্রিভূবনে ঐছে রতন হরি-নাম॥ ধ্রু॥ যো এক সিন্ধু বিন্দু নাহি যাচত পরবশ জলদ-সঞ্চার। মানস অবধি রহত কলপতরু কো অছু করুণা অপার॥ যছু চরিতামৃত শ্রুতি-পথে সঞ্চর- হৃদয়-সরোবর পূর। উমড়ই নয়ন অধম মরু-ভূমহি হোয়ত পুলক-অঙ্কুর॥ নামহি যাক তাপ সব মেটয়ে তাহে কি চাঁদ উপাম। ভণ ঘনশ্যাম দাস নাহি হোয়ত কোটি কোটি এক ঠাম॥ . ******************* এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . . ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . . দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . . অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . . সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| গগনহি এক চাঁদ নাহি দোসর কবি ঘনশ্যাম দাস ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৯১। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে। খণ্ডিতা ॥ শ্রীরাগ॥ গগনহি এক চাঁদ নাহি দোসর . ধরু তাহে কালিম চিন। অরুণ কিরণে পুন লাজে মলিন তনু . বেকত না হোয়ত দিন॥ . মাধব অপরূপ তোহারি বিলাস। তুয়া উর অম্বরে চাঁদঘটা অব . দিনহিঁ হোয়ত পরকাশ॥ ধ্রু॥ বিহিক শকতি জিতি কোন কলাবতী . অরুণ ঘটায়ল তায়। চছু সেবন বিনু প্রাতরি তোহে পুন . অনত গমন না জুয়ায়॥ জানলুঁ অতয়ে কয়লুঁ হাম বহু পুণ . যব তুহুঁ অবহুঁ না যাব। কহ ঘনশ্যাম দাস নহ কৈছনে . ঐছন দরশন পাব॥ এই পদটি, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৮ম পল্লব, ধীরা মধ্যা খণ্ডিতা, পদসংখ্যা ৩৮৪-এ এভাবে রয়েছে। ॥ ধানশী॥ গগনহিঁ এক চান্দ নাহি দোসর ধরু তাহে নীলিম চীন। অরুণ উদয়ে পুন লাজে মলিন-তনু বেকত না হোঁয়ত দীন॥ মাধব অপরূপ তোহারি বিলাস। তুয়া উর-অম্বরে চান্দ ঘটা অব দিনহিঁ হোত পরকাশ॥ ধ্রু॥ বিহিক শকতি জিতি কোন কলাবতি অরুণ ঘটায়ল তায়। তছু সেবন বিনু প্রাতরে তোহে পুন অনত গমন না যুয়ায়॥ জানলুঁ অতয়ে কয়লি হাম বহু পুণ তাহে তুহুঁ অবহুঁ না যাব। কহ ঘনশ্যাম- দাস নহে কৈছনে ঐছন দরশন পাব॥ টীকা বা ব্যাখ্যা - ১ - ৪। “গগনহিঁ” এক ইত্যাদি। আকাশে একটি মাত্র চন্দ্র, দ্বিতীয় নাই ; সে কৃষ্ণ-বর্ণ কলঙ্কের চিহ্ন ধারণ করে এবং সূর্য্যের উদয়ে লজ্জায় মলিনকান্তি হইয়া দিবসে ব্যক্ত হয় না। ৫ - ৭। “মাধব অপরূপ” ইত্যাদি। হে মাধব! তোমার লীলা বিচিত্র! তোমার সুনীল বক্ষঃস্থল-রূপ আকাশে এখন (নখ-ক্ষতরূপ) চন্দ্রের ঘটা দেখিতেছি,--- উহা দিবা-ভাগেই প্রকাশিত হইতেছে! ৮ - ১১। “বিহিক শকতি” ইত্যাদি। বিধাতার শক্তিকে অতিক্রম করিয়া, কোন্ কলা-কুশলা নায়িকা তোমার হৃদয়াকাশে (নখ-চন্দ্র-কলার সহিত অলক্তক-চিহ্নরূপ) সূর্য্য উদিত করাইল ? এইরূপ কলা-কুশলা নায়িকার সেবা পরিত্যাগ করিয়া প্রাতে অন্যত্র গ্ন তোমার উপযুক্ত হইতেছে না। ১২ - ১৫। “জানলুঁ অতয়ে” ইত্যাদি। অতএব জানিতে পারিলাম যে, আমি বহু পুণ্য করিয়াছি,--- তাই তুমি এখনও (আমাকে পরিত্যাগ করিয়া) যাইতেছ না। ঘনশ্যামদাস কহিতেছেন, --- নতুবা কি প্রকারে ঐরূপ (শ্রীকৃষ্ণের) দর্শন পাইবে ? --- সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥ . ******************* এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . . ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . . দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . . অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . . সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ঘোর তিমির অতি ঘন কাজর জিতি কবি ঘনশ্যাম ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৯৩। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে। ॥ গান্ধার॥ ঘোর তিমির অতি ঘন কাজর জিতি নিবসই বিপিনে একন্ত। পিককুল বোলে সমাধি সমাপই চমকি নেহারই পন্থ॥ মানিনি ইথে কিয়ে নাহি অবধান। নিমিখ বিমুখে যছু জীবনসংশয় কী ফল তা সঞে মান॥ ধ্রু॥ যাক শয়ন পুন শিরীষ কুসুম জনু অতি সুখময় পরিযঙ্ক। সো বিরহানলে লুঠই মহীতলে লোরে ততহিঁ করু পঙ্ক॥ পেখলুঁ সো পুন তোহারি পরশ বিনু পানি-বিহনে জনু মীন। কহ ঘনশ্যাম- দাস নাহি জগমাহা ঐছক প্রেমক চীন॥ এই পদটিই, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৭ম পল্লব, কলহান্তরিতা, পদসংখ্যা ৪৯১-এ এভাবে রয়েছে। ॥ সুহই॥ ঘোর তিমির অতি ঘন কাজর জিতি নিবসই বিপিনে একান্ত। পিক-কুল-বোলে সমাধি সমাপই চমকি নেহারই পন্থ॥ মানিনি ইথে কিয়ে নাহি অবধান। নিমিখ বিমুখে যছু জীবন সংশয় কী ফল তা সঞে মান॥ ধ্রু॥ যাক শয়ন পুন শিরিষ-কুসুম-সম অতি সুখময় পরিযঙ্ক। সো বিরহানলে লুঠই মহীতলে লোরে ততহিঁ করু পঙ্ক॥ পেখলুঁ সো পুন তোহারি পরশ বিনু পানি-বিহিন জনু মীন। কহ ঘনশ্যাম- দাস নাহি জগ মাহা ঐছক প্রেমক চীন॥ . ******************* এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . . ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . . দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . . অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . . সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ঝাঁপল কনয় ধরাধর জলধর কবি ঘনশ্যামর দাস ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৮০২-তে এভাবে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে। সমৃদ্ধিমান সম্ভোগ ॥ কেদার বিহাগড়া॥ ঝাঁপল কনয় ধরাধর জলধর দামিনী জলদ আগোর। নিজ চঞ্চল গুণ জলদে সোঁপি পুন তছু ধৈরয করু চোর॥ দেখ সখি অপরূপ বাদর ভেল। নিজপদ পরিহরি দিনমণি সঞ্চারি গিরিবর সান্ধিম গেল॥ সশবদ ঘনঘন বহই সমীরণ থরকয়ে মোরক পাখ। ভয়ে আকুল ফণী ধরণি ছোড়ি মণি বেঢ়ি রহল পাঁচশাখ॥ ভণ ঘনশ্যামর দাস পুন হেরই সবহুঁ ভেল বিপরীত। উলটল ভূধর মেঘ মহীতল অদভূত দৈব-চরিত॥ এই পদটি, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৮ম পল্লব, গ্রীষ্ম- সময়োচিত বিরহ, পদসংখ্যা ২০১০। ॥ কেদার বিহাগড়া॥ ঝাঁপল কনয়-ধরাধর জলধর দামিনি জলদ আগোরি। নিজ-চঞ্চল-গুণ জলদে সোঁপি পুন তছু ধৈরজ করু চোরি॥ দেখ সখি অপরূপ বাদর ভেল। নিজ-পদ পরিহরি দিনমণি সঞ্চরি গিরিবর সান্ধিম গেল॥ সশবদ ঘন ঘন বহই সমীরণ থরকয়ে মোরক পাখ। ভয়ে আকুল ফণি ধরণি ছোড়ি মণি বেঢ়ি রহল পাঁচ-শাখ॥ ভণ ঘনশ্যাম দাস পুন হেরহ সবহুঁ ভেল বিপরীত। উলটল ভূধর মেঘ মহীতল অদভূত দেব-চরিত॥ টীকা বা ব্যাখ্যা - ১ - ৪। “ঝাঁপল” ইত্যাদি। (নায়িকার উন্মুক্ত কেশ-পাশ-রূপ) জলধর (কুচ-রূপ) স্বর্ণ পর্ব্বতকে আচ্ছাদিত করিল ; (নায়িকার দেহ-যষ্ঠি-রূপ) বিদ্যুৎ-লতা (নায়কের দেহ-রূপ) জলদকে আবৃত করিল, --- (কিন্তু অনভ্যাসিক কার্য্যে পরিশ্রম হেতু) পুনর্ব্বার নিজের চাঞ্চল্য জলদকে সমর্পণ করিয়া---তাহার ধৈর্য্য চুরি (অর্থাৎ জলদের অনিচ্ছাসত্ত্বে বল-পূর্ব্বক গ্রহণ) করিল। ৫ - ৭। “দেখ” ইত্যাদি।হে সখি! অপূর্ব্ব বাদল অর্থাৎঅদৃষ্ট-পূর্ব্ব রসের বাদল হইল। (নায়িকার মণি-হার উপবীতের ন্যায় পরিহিত হওয়ায়---হারের মধ্য-মণি-রূপ) সূর্য্য নিজ স্থান হইতে সরিয়া (কুচ-যুগের অন্তরাল- রূপ) পর্ব্বত-সন্ধির মধ্যে গেল। তুলনা করুন--- “উষসি পরিবর্ত্তয়ন্ত্যা মূর্ক্তাদামোপবীততাং নীতম্। পুরুষায়িত-বৈদগ্ধ্যাং ব্রীড়াবতি কৈ র্ন কলিতং তে॥”---আর্য্যা-সপ্তশতী। ৮ - ১১। “সশবদ” ইত্যাদি। (নায়িকার নিশ্বাস-রূপ) পবন সশব্দে ঘন ঘন প্রবাহিত হইতেছে ; (নায়কের শিরোভূষণ) ময়ূরের পাথা (পবন-হিল্লোলে) কম্পিত হইতেছে ; (তদ্দ্বারা ময়ূর আক্রমণ করিতে যাইতেছে বিবেচনা করিয়া) ভয়-হেতু (নায়িকার বেণী-রূপ) ফণী চঞ্চল হইয়া (শ্বেত-পুষ্পমাল্য-রূপ) মণি ধরণীতে পরিত্যাগ করিয়া পঞ্চ-শাখাকে (এক অর্থে পঞ্চ-শাখাবিশিষ্ট শ্যামল তরুকে, অন্য অর্থে পঞ্চ-অঙ্গুলিবিশিষ্ট শ্রীকৃষ্ণের শ্যাম-হস্তকে) জড়াইয়া রহিল। তুলনা করুন--- “সকচ-গ্রহ-চুম্বন-দানং।”---গীতগোবিন্দ, জয়দেব ২ - ১৫। “ভণ” ইত্যাদি। ঘনশ্যাম বলিতেছেন, আবার দেখ,---সমস্তই বিপরীত হইল ; (কুচ-রূপ) পর্ব্বত উলটা হইল, (নায়কের অঙ্গ-রূপ) মেঘ ভূতলে (পড়িল) ; দেবতার চরিত্র অদ্ভূত অর্থাৎ দুর্জ্ঞেয়। ---সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥ এই পদটিই, দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”-এর পৃষ্ঠা ৪৪৭-এ এভাবে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ ঝাপল কনয় ধরাধর জলধর যামিনী জলদ আগোরি। নিজ চঞ্চল গুণ জলদে সো পুন পুন তছু ধৈরজ করূ গোরি॥ দেখ সখি অপরূপ বাদর ভেল। নিজপদ পরিহরি দিনমণি সঞ্চরি গিরিবর সান্ধিম গেল॥ সশবদ ঘনঘন বহই সমীরণ থরকয়ে মৌরক পাখ। ভয়ে আকুল ফণি ধরণি ছোড়েয়নি বেঢ়ি রহল পাঁচপাক॥ ভণ ঘনশ্যামদাস পুন হেরব সবহু ভেল বিপরীত। উলটল ভূধর মেঘ মহীতল অদ্ভূত দেবচরিত॥ . ******************* এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . . ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . . দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . . অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . . সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ঝাঁপল বিরহ-মিহির নবজলধর কবি ঘনশ্যামর দাস ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৯৬-তে এভাবে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে। মিলন ॥ শ্রীগান্ধার॥ ঝাঁপল বিরহ মিহির নবজলধর সুন্দর দরশন ছায়। কয়ল সুশীতল সুরত তরঙ্গিণী সরস সমাগম বায়॥ এ সখি চতুর শিরোমণি নাহ। মধুর সম্ভাষ সুধারস বরিখণে পূরল অব অবগাহ॥ ধ্রু॥ তহিঁ অতি খরতর মনসিজ মারুত বাঢ়ল গাঢ় তরঙ্গ। রোধল লাজ-ধরাধর ধৈরজ- মান মতঙ্গজ সঙ্গ॥ ভাসল হাস-কুমুদ পুলকাঙ্কুর উয়ল স্বেদ উদবিন্দু। কহ ঘনশ্যাম দাস অছু হোয়ল যৈছে তটিনি অরু সিন্ধু॥ এই পদটিই, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৫শ পল্লব, সমৃদ্ধিমান্ লম্ভোগের রসোদ্গার, পদসংখ্যা ২০২১-এ এভাবে দেওয়া হয়েছে। ॥ ধানশী॥ ঝাঁপল বিরহ-মিহির নবজলধর সুন্দর দরশন ছায়। কয়ল সুশীতল সুরত-তরঙ্গিণি সরস সমাগম-বায়॥ এ সখি চতুর-শিরোমণি নাহ। মধুর সম্ভাষ-সুধারস বরিখণে পূরল অব অবগাহ॥ ধ্রু॥ তহি অতি খরতর মনসিজ-মারুত বাঢ়ল গাঢ় তরঙ্গ। বুরল লাজ-ধরাধর ধৈরজ- মীন মতঙ্গজ সঙ্গ॥ ভাসল হাস-কুমুদ পুলকাঙ্কুর ঊয়ল স্বেদ-উদ-বিন্দু। কহ ঘনশ্যাম দাস অছু হোয়ল যৈছে তটিনি অরু সিন্ধু॥ টীকা বা ব্যাখ্যা - ১ - ৪। “ঝাঁপল” ইত্যাদি। নব-জলঘর (অর্থাৎ জলদ-শ্যাম কৃষ্ণ) সুন্দর-দর্শন অর্থাৎ সুদৃশ্য ছায়া (এক অর্থে --- অনাতপ ; অন্য অর্থে --- কান্তি) দ্বারা বিরহ-রূপ সূর্য্যকে আচ্ছাদিত অর্থাৎ নিবারিত করিল ; (এবং) সুরত-তরঙ্গিণী অর্থাৎ সম্ভোগ-লীলার প্রবাহিণী-রূপ শ্রীরাধা রসযুক্ত সম্মিলন-রূপ বায়ু দ্বারা (প্রিয়তমকে) সুশীতল করিল। ৫ - ৭। “এ সখি” ইত্যাদি। হে সখি! নাথ শ্রীকৃষ্ণ চতুর শিরোমণি ; (সময়) বুঝিয়া এখন সম্ভাষণ রূপ অমৃত বর্ষণ দ্বারা (সুরত-তরঙ্গিণী-রূপ শ্রীরাধার অঙ্গ) পূর্ণ করিল। ৮ - ১১। “তহি” ইত্যাদি। তাহাতে অতি খরতর কন্দর্পরূপ পবন হেতু (সুরত-তরঙ্গিণীর) প্রবল তরঙ্গ বৃদ্ধি পাইল ; (গুরুত্ব হেতু ) তাহাতে লজ্জারূপ পর্ব্বত ধৈর্য্য-রূপ মত্স্য ও (জল-) হস্তীর সহিত নিমগ্ন হইল। ১২ - ১৫। “ভাসল” ইত্যাদি। (লঘুত্ব হেতু) হাস্য-রূপ কুমুদ-পুষ্প এ রোমাঞ্চ-রূপ (জলজ-লতার) অঙ্কুর ভাসিয়া উঠিল এবং (জল-বুদ্বুদ-স্বরূপ) স্বেদ-জলের বিন্দু উদিত হইল। ঘনশ্যাম দাস কহিতেছেন--- ঐরূপ হইল যেন তটিনী আর সমুদ্র ; অর্থাৎ তটিনী যেন কখনও সমুদ্রে রস-ধারা অর্পণ করে আবার কখনও সমুদ্র হইতে রস- ধারা গ্রহণ করিয়া থাকে সেইরূপ তটিনী-রূপিণী-শ্রীরাধা ও সমুদ্র-রূপী শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে রসের আদান-প্রদান চলিতে লাগিল! তুলনা করুন--- মুখার্পণেষু প্রকৃতি-প্রগল্ ভাঃ স্বয়ং তরঙ্গাধর-দান-দক্ষঃ। অনন্যসামান্য-কলত্র-বৃত্তিঃ পিবত্যসৌ পায়তে চ সিন্ধুঃ।---রঘুবংশ, ১৩/৯ ---সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥ . ******************* এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . . ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . . দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . . অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . . সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ডাকে ডাহুকি ঝনন ঝনন হ কবি ঘনশ্যাম দাস ১৯২৬ সালে প্রতাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, পৃষ্ঠা ৬৩। কবিতাটি তাঁরা পেয়েছিলেন কমলাকান্ত দাস সঙ্কলিত পদরত্নাকর ও সাহিত্য পরিষদের ২০১ পুথি থেকে। মথুরায় শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি :--- ॥ কামোদ মল্লার॥ ডাকে ডাহুকি ঝনন ঝনন হ ঝীঁঝি ঝমকত ঝাঁঝিয়া। ডিণ্ডিমায়ত মণ্ডুকী-রব মোর নাটক সাজিয়া॥ ঘনন ঘননহ গহন দুরগহ গগনে ঘন ঘন গর্জ্জিয়া। আবে রতি-পতি মত্ত গজ পর বিরহিণী-গণ তর্জ্জিয়া॥ ধ্রু॥ হানে তনি-মন পলক পলকন ঝলকে দামিনি-পাঁতিয়া। (খর) ধার খড়গ উঘারি ঝাকত বীর-রস-ভর মাতিয়া॥ (অরু) বিন্দু নহি পর জীউ সংহর অসম-শর বরখন্তিয়া। নন্দ-নন্দন চরণে ভণ ঘন- শ্যাম দাস নমন্তিয়া॥ এই পদটি, ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৯৯- তে এভাবে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি :--- ॥ সিন্ধুড়া॥ ডাকে ডাহুকি ঝমকে ঝমকল ঝিঁ ঝিঁ ঝনকত ঝাঁঝিয়া। ডিণ্ডিমায়িত মণ্ডুক-রব মৌর নাটক সাজিয়া॥ রে ঘন ঘননহ গহন দুরগহ গগনে ঘন ঘন গর্জিয়া। আওয়ে রতিপতি মত্তগজবর বিরহিণীগণ তর্জিয়া॥ হানে তনু মন পলকে পলকন ঝলকে দামিনি কাঁতিয়া। খরধার খড়গ উঘাড়ি ঝাঁকত বীররসভরে মাতিয়া॥ অরবিন্দু নহ পরজীউ সংহর অসম শর বরিখন্তিয়া। নন্দ নন্দন চরণে ভণ ঘন শ্যামদাস নমন্তিয়া॥ . ******************* এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . . ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . . দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . . অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . . সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . . মিলনসাগর |