কবি ঘনশ্যাম কবিরাজের বৈষ্ণব পদাবলী
*
তছু গুণগণ সঞে প্রেম গাঁঠিময়
কবি ঘনশ্যাম
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা
৭৯৭-তে এভাবে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে
উল্লেখ করা রয়েছে।

.        শ্রীরাধার উক্তি

.        ॥ বরাড়ী॥

তছু গুণগণ সঞে প্রেম গাঁঠিময়
.                আপন জাল নিরমাই।
তঁহি পরবেশি হরখি বরখি অরু
.                চিত উচিত ফল পাই॥
.        সজনি তোহে কহইতে কিয়ে ওত।
যদি হত মনে সহই আপন রস
.                তব কিযে ঐছন হোত॥ ধ্রু॥
তনুমাহা সো পুন বিপিনে লুব্ধ জনু
.                রহু মৃগবন্ধনি ডারি।
প্রাণ পযান সমযে যব রোধয়ে
.                আশা পাশ পসারি॥
ধৈরজ লাজ মণি সব খোয়লু
.                চেতন পুন নাহি খোই।
কহ ঘনশ্যাম দাস নহ কৈছনে
.                বেদন অনুভব হোই॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
(তথা হি) কালিন্দী কিনারে কান
কবি ঘনশ্যাম
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা
৭৯২। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

শ্রীরাধার প্রতি দূতীবাক্য

.        ॥ বরাড়ী॥

(তথা হি) কালিন্দী কিনারে কান
বৈঠহি তুহারি ধ্যান
.        একহু পলক যুগ কোটি কোটি মানহি।
কুহু কুহু লিয়ে তান
কোকিলাক সারি গান
.        দুসরে অনঙ্গবাণ হোই প্রাণ হানহি॥
ফুলহি বিছাই সেজ
দুরহি দূরণ তেজ
.        শ্রবণে বয়নে আওর আন নাহি বাতহি।
বাঁশুরী মে সোই ঠাম
নেতহি তোহারি নাম
.        যামিনী সো যাম যাম যায় হোয় যাঁতহি॥


ব্যাখ্যা -
কালিন্দী কিনারে কানু তোমারি ধ্যান ধরিয়া বসিয়া আছেন। এক ক্ষণকে কোটি কোটি যুগ
মনে করিতেছেন। কুহু তানে কোকিল যে সারীগান (নৌকা বাহিবার সময় নাবিকেরা
যে গান গায়) গাহিতেছে, সেই গান দ্বিতীয় মদনশর স্বরূপ প্রাণে আঘাত হানিতেছে।
ফুলশয্যা বিছাইয়া দূরে নিক্ষেপ করিয়াছেন, শ্রবণে অন্য কথা শুনিতে চাহিতেছেন না।
মুখেও তোমার নাম ভিন্ন অন্য কথা নাই। সেখানে বসিয়া বাঁশীতেও তোমার নাম
লইতেছেন। রাত্রি তো প্রহরে প্রহরে শেষ হইয়া আসিতেছে।
--- হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদাবলী॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তপন-তনয়া-তট নিকট-নীপ-মূলে
কবি ঘনশ্যামর দাস
১৯২৬ সালে প্রতাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, পৃষ্ঠা
৬১। কবিতাটি তাঁরা পেয়েছিলেন গাঁড়াদহের পুথি থেকে।

[ মান ]
॥ ধানশী॥

তপন-তনয়া-তট                                নিকট-নীপ-মূলে
মালল যুগল-কিশোর।
থীর বিজুরি কিয়ে                               নব-ঘনে বেঢ়ল
নিল-মণি-কাঞ্চন-জোর॥
সজনী রাধা কমণ দুহুঁ মেলি।
দুহুঁ-তনু-দরপণে                              দুহুঁ দুহাঁ হেরইতে
উয়ল রভস-রস-কেলি॥ ধ্রু॥
শ্যাম-তনু-পরশ-                            লুবধ ভেল বিধুমুখি
ইঙ্গিতে শশি-মুখ চাই।
কানুক প্রতি-তনু                                নিরখই সুন্দরি
জানি সখি রহল ছাপাই॥
শ্যাম-তনি হেরইতে                             প্রতিবিম্বু দেখই
তা সঞে করত বিলাস।
শঙ্কিত হোই ধনি                              পুনবার না হেরই
কহ ঘনশ্যামর দাস॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তুয়া উপহার কয়ল যব সুন্দরি
কবি ঘনশ্যাম দাস
১৯২৬ সালে প্রতাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, পৃষ্ঠা
৬৪। কবিতাটি তাঁরা পেয়েছিলেন কমলাকান্ত দাস সঙ্কলিত পদরত্নাকর পুথি থেকে।

॥ সুহই॥

তুয়া উপহার কয়ল যব সুন্দরি
তনু মন দুহুঁ একু-মেলি।
তৈখনে যত ছিল নিরমল কুল শিল
সবহুঁ শ্যামময় ভেলি॥
শুন মাধব ইথে কিয়ে দোখব তোয়।
জগতে অসিত-সিত কবহুঁ ন হোয়ত
সিত-গুণ নিজ-গুণ খোয়॥ ধ্রু॥
জগ মাহা সুজন সোই যছু অন্তর
বাহির সঞে নহি ভেদ।
শুনইতে যৈছন কেরি ন তৈছন
ইহ এক মরমক খেদ॥
অব তুহে চিহ্ন খীণ ভেল এত-দিনে
লোচন-শ্রবণ-বিরোধ।
কহ ঘনশ্যাম দাস হত-চীতহিঁ
তবহিঁ নাহি পরবোধ॥

ই পদটিই, ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৯৮-
তে এভাবে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

শ্রীকৃষেণের প্রতি দূতী

॥ সুহই॥

তুয়া উপচার                                  করল যব সুন্দরী
তনু মন দুহুঁ একু মেলি।
তৈখনে যত ছিল                               নিরমল কুলশীল
সবহুঁ শ্যামময় ভেলি॥
শুন মাধব ইথে কিয়ে দোখব তোয়।
জগতে অসিত সিত                            কবহু না হোয়ত
সিত পুণ নিজ তনু খোয়॥ ধ্রু॥
জগমাহা সুজন                                  সোই যছু অন্তর
বাহির সঞে নাহি ভেদ।
শুনইতে যৈছন                                না হেরিয়ে তৈছন
ইহ এক মরমক খেদ॥
অব তোহে চিন                             খীণ ভেল এতদিনে
লোচন শ্রবণ বিরোধ।
কহ ঘনশ্যাম                                    দাস হত চিতহি
তবহুঁ নাহি পরবোধ॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তুয়া বিনু কান আন নাহি জানত
কবি ঘনশ্যাম
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৯৩। এই পদটি
ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

দূতীর অনুনয়

॥ গান্ধার॥

তুয়া বিনু কানু                                  আন নাহি জানত
ফুলশরে জর জর দেহ।
তুহুঁ বিনি মান                                    আন নাহি জানসি
অপরূপ তোহারি সিনেহ॥
সুন্দরি দূর কর বচন-বিভঙ্গ।
তোহারি বিরহ-জ্বরে                               সো গিরিবরধর
ধরই না পারই অঙ্গ॥ ধ্রু॥
কি কহব তোহে অতি                        তোহারি চরণে নতি
কহইতে বচন না ফূর।
এতহুঁ পরাভব                                     শুনইতে তুহুঁ যব
অবহি ন চাতুরি দূর॥
হেরইতে রীত                                      ভীত মঝু চীতহিঁ
কঠিন হৃদয় হেন মানি।
কহ ঘনশ্যাম                                      দাস তুয়া পাশহিঁ
অতয়ে সে ঐছন বাণী॥


ই পদটি, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ১৯শ পল্লব, মান-
প্রকারান্তর, পদসংখ্যা ৫৩৭-এ এইভাবে রয়েছে।

অথ মানঃ প্রকারান্তরং যথা

পুনর্দূত্যুক্তিঃ।

॥ গান্ধার॥

তুয়া বিনে কান                                    আন নাহি জানত
ফুল-শরে জরজর দেহ।
তুহুঁ বিনু মান                                      আন নাহি জানসি
অপরূপ তোহারি সুনেহ॥
সুন্দরি দূরে কর বচন-বিভঙ্গ।
তহারি বিরহ-জরে                                ছিরি গিরিবর-ধর
ধরই না পারই অঙ্গ॥ ধ্রু॥
কি কহব তোহে অতি                         তোহারি চরণে নতি
কহইতে কথন না ফূর।
এতহুঁ বিপতি যব                                 শুনইতে তুহুঁ অব
চাতুরি না করহ দূর॥
হেরইতে রীত                                      ভীত মঝু চীতহিঁ
কঠিন হৃদয় হেন জানি।
কহ ঘনশ্যাম                                        দাস তুয়া পাশহিঁ
অতয়ে সে ঐছন বাণী॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তুয়া মুখ-কমল দূর সঞে হেরইতে
কবি ঘনশ্যাম দাস
১৯২৬ সালে প্রতাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, পৃষ্ঠা
৬০। কবিতাটি তাঁরা পেয়েছিলেন কমলাকান্ত দাস সঙ্কলিত পদরত্নাকর পুথি ও সাহিত্য পরিষদ ২০১ পুথি
থেকে।

॥ কামোদ॥

তুয়া মুখ-কমল                                দূর সঞে হেরইতে
হরি-লোচন-অলি-জোর।
বিছুরল চপল                                  চরিত সব তৈখনে
মাতি রহল তহিঁ ভোর॥
সুন্দরি মঝু মনে হোত সন্দেহ।
কথি লাগি চঞ্চল                                তুয়া লোচন-অলি
কথিহুঁ না বান্ধই থেহ॥ ধ্রু॥
খণে নিজ চরণ-                                  কমল অবলম্বই
খণে সচকিত নিজ গাত।
খণে খণে কানুক                                 বদন-সরোরুহে
অলখিতে আওত যাত॥
কিয়ে রস-মাধুরি                                পরিখণ-চাতুরি
কিয়ে পীবই নহি জান।
কহ ঘনশ্যাম                                   দাস সখি সমুঝহ
মনহিঁ মনহিঁ অনুমান॥

ই পদটি, এই পদটি, ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন,
পৃষ্ঠা ৭৮৯-এ এইভাবে রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

সংক্ষিপ্ত সম্ভোগ
॥ কামোদ॥

তুয়া মুখ-কমল                                 দূর সঞে হেরইতে
হরিলোচন অলি জোর।
বিছুরল চপল                                   চরিত সব তৈখনে
মাতি রহল তঁহি ভোর॥
সুন্দরি মঝু মনে হোত সন্দেহ।
কথি লাগি চঞ্চল                                তুয়া লোচন অলি
কতিহুঁ না বাঁধই থেহ॥ ধ্রু॥
ক্ষণে নিজচরণ                                    কমল অবলম্বই
ক্ষণে সচকিত নিজ গাত।
ক্ষণে ক্ষণে কানুক                                 বদন সরোরুহে
অলখিতে আওত যাত॥
কিয়ে রসমাধুরি                                  পরিখন চাতুরি
কিয়ে পিবই নহি জান।
কহ ঘনশ্যাম                                      দাস সখি বুঝহ
মনহি মনহি অনুমান॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তুহুঁ যদি মাধব চাহসি লেহ
কবি ঘনশ্যাম
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ১৬শ পল্লব, বসন্তকালোচিত মান, পদসংখ্যা ২০৫৬। পদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের
ভূমিকায়, পৃষ্ঠা ৮৮-তে সতীশচন্দ্র রায় জানিয়েছেন যে এই পদটি তাঁরা
ঘনশ্যাম কবিরাজের পদ বলে মনে করছেন। এই পদটিই, ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ
মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৯৪-তে একই রূপে রয়েছে। এই
পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

.        ॥ ধানশী॥

তুহুঁ যদি মাধব চাহসি লেহ।
মদন সাখি করি খত লেখি দেহ॥
মো বিনে নয়নে না হেরবি আন।
হামারি বচনে করবি জল পান॥
ছোড়বি কেলি-কদম্ব-বিলাস।
দূরে করবি গুরু-গৌরব আশ॥
এ সব কবজ ধরব যব হাত।
তবহি তোহারি সঞে মরমকি বাত॥
তব ঘনশ্যাম দাস মুখ গোই।
কাতর নাহ কহত তব রোই॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দুর অবগাহ পয়োনিধি ভাঁতি
কবি ঘনশ্যাম দাস বা ঘনশ্যামর দাস
কবি ঘনশ্যাম কবিরাজের পদ
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা
৭৮৭। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ করা রয়েছে।

.        ॥ বরাড়ী ॥

দুর অবগাহ পয়োনিধি ভাঁতি।
যৌবনজল তাহে শ্যামর কাঁতি॥
দেখ সখি না বুঝিয়ে দৈবকি রীত।
তহি ডারল মঝু নিরমল চিত॥ ধ্রু॥
ধৈরজ আদি সকল গুণ মেলি।
নিশিদিশি বসিয়া করতহি কেলি॥
সো সব গুণ অব আকুল হোয়।
চরণে লাগি পুন রোখই মোয়॥
না বুঝিয়ে এতহু যো নিজপর খোই।
বহইতে শকতি অবধি করু কোই॥
কিয়ে নিজপর কিয়ে হিত অহিত।
বিপতি সময়ে করু সব বিপরীত॥
ধৈরজ পদ অবলম্বন কেল।
মন্দির চলইতে সঙ্কট ভেল॥
কহ ঘনশ্যাম দাস সমুচিত।
বাঁধি লেহ তুহু শ্যামর চিত॥

ব্যাখ্যা -
দূরধিগম্য সমুদ্রের মত যৌবনজল তাহার শ্যামকান্তি। সখি, দৈবের রীতি জানি না, সেই
তলস্পর্শহীন সমুদ্রে আমার নির্ম্মল চিত্তকে নিক্ষেপ করিলাম। আমার ধৈর্য্য আদি গুণ সব
একত্রে মিলিয়া খেলা করিতেছিল। সেই সব গুণ এখন আকুলভাবে তাহার পদলগ্ন হইয়া
আমার প্রতি রোষ প্রকাশ করিতেছে। জানি না, নিজ আশ্রয় হারাইয়া কে
আবার থাকিবার জন্য শক্তি প্রকাশ করে। ধৈর্য্য পদে আসিয়া আশ্রয় লইল। এখন মন্দিরে
ফিরিতে সঙ্কট উপস্থিত হইল। ঘনশ্যাম দাস উচিত কহিতেছেন, তুমি শ্যামের চিত্তকে
বাঁধিয়া লও।
----হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদাবলী॥


ই পদটি রয়েছে, আনুমানিক ১৭২৫ সালে, ১১৭০টি পদ সম্বলিত, নরহরি (ঘনশ্যাম)
চক্রবর্তী প্রণীত, ৪৬২ শ্রীগৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত,
শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় ( পূর্বরাগ ) গ্রন্থ, পৃষ্ঠা- ২১৭-তে। পদটি রয়েছে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
অপ্রকাশিত পদাবলী, পৃষ্ঠা ৫৯-এ। তিনি নিয়েছিলেন কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর
(১৮০৭) পুথি থেকে। কবিতাটি আমরা দুই ঘনশ্যামের পাতাতেই রাখছি।

.        ॥ পুনঃ ধানশী ॥

দুর অবগাহ পয়োনিধি ভাঁতি।
যৌবন জল তাহে শ্যামর কাঁতি॥
দেখ সখি !  না বুঝিয়ে দৈবকি রীত।
তহি ডারল মঝু নিরমল চিত॥ ধ্রু॥
ধৈরজ আদি সকল গুণ মেলি।
নিশি দিশি বাস তাঁহা করতহি কেলি॥
সো সবগুণ তাহা আকূল হোয়।
চরণ লাগি পুন রোয়ই মোয়॥
না বুঝিয়ে এতহু যো নিজপর খোই।
বহইতে শকতি অবধি করু কোই॥
কিয়ে নিজপর কিয়ে হিত অহিত।
বিপতি সময়ে করু সব বিপরীত॥
ধৈরজ পদ অবলম্বন কেল।
মন্দির চলইতে সঙ্কট ভেল॥
কহ ঘনশ্যাম দাস সমুচিত।
বাঁধি লেহ তুহু শ্যামর চিত॥


ই পদটিই, ১৯৬১ সালে বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”
গ্রন্থের, পদ সংখ্যা ২৫২, পৃষ্ঠা ১৯৯-এ এভাবে রয়েছে।

দুর অবগাহ পয়োনিধি ভাঁতি।
যৌবন জল তাহে শ্যামর কাঁতি॥
দেখ সখি !  না বুঝিয়ে দৈবকি রীত।
তহি ডারল মঝু নিরমল চিত॥ ধ্রু॥
ধৈরজ আদি সকল গুণ মেলি।
নিশি দিশি বাস তাঁহা করতহি কেলি॥
সো সবগুণ তাহা আকূল হোয়।
চরণ লাগি পুন রোয়ই মোয়॥
না বুঝিয়ে তছু যো নিজঘর খোই।
রহইতে শকতি অবধি করু কোই॥
কিয়ে নিজপর কিয়ে হিত অহিত।
বিপতি সময়ে করু সব বিপরীত॥
ধৈরয পদ অবলম্বন কেল।
মন্দির চলইতে সঙ্কট ভেল॥
কহ ঘনশ্যামর দাস উচিত।
বাঁধি লেহ তুহু শ্যামর চিত॥

টীকা বা ব্যাখ্যা -
তাঁহাকে দেখিয়া মনে হয় যেন দুরধিগম্য সমুদ্র আর তাহার শ্যামল কান্তি যেন যৌবনের
জল। সখি দৈবের কি রীতি বুঝি না, তাহারই মধ্যে ( সেই জলের মধ্যে ) আমার নির্মল
চিত্তকে নিক্ষেপ করিল। ধৈর্য প্রভৃতি সকল গুণ রাত দিন বসিয়া খেলা করিত, এখন সেই
সব গুণ আকুল হইয়া ( চিত্ত হইতে ভ্রষ্ট হইয়া ) চরণে ধরিয়াছে এবং আমাকে কাঁদাইতেছে
। যে নিজের ঘর খোয়াইয়া অন্য স্থানে থাকিবার জন্য চরম চেষ্টা করে তাহাকে বুঝি না।
বিপদের সময় নিজ ও পর, হিত ও অহিত, সকলেই বিরপরীত ব্যবহার করে।
ধৈর্য আমার চরণকে চাপিয়া ধরিয়াছে, তাই ঘরে ফিরিয়া যাওয়া সঙ্কট হইল। ঘনশ্যাম
দাস উচিত কথা বলিতেছেন, তুমি শ্যামের চিত্ত বাঁধিয়া লও।
---বিমানবিহারী মজুমদার, “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নয়নক নীর থির নাহি বান্ধই
কবি ঘনশ্যামর দাস
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৮৫। এই পদটি
ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ করা রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম কবিরাজ ও ঘনশ্যাম চক্রবরী,
দুজনের পাতাতেই রাখছি।

শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ
সখীর উক্তি

॥ ধানশী॥

নয়নক নীর                                     থির নাহি বাঁধই
ঘন ঘনন মেটসি তাই ।
সচকিত লোচনে                                জলদ নেহারসি
চান্দসি হাথ বাঢ়াই ॥
খেনে ঘর বাহির                                করসি নিরন্তর
খেনে খেনে দশ দিশ হেরি।
ময়ুর ময়ুরী সহ                                হাসি সম্ভাষসি
কন্ঠ হেরসি ফেরি ফেরি॥
কেলিকদম্ব                                   পুনহিঁ পুন হেরসি
ঘন ঘন তেজসি শাস ।
কালিন্দী নামে                               রোই উতরোলসি
ভণ ঘনশ্যামর দাস ॥



ই পদটি, আনুমানিক ১৭২৫ সালে, ১১৭০টি পদ সম্বলিত, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত, ৪৬২
শ্রীগৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত, শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় ( পূর্বরাগ ) গ্রন্থ, পৃষ্ঠা- ১০০-য় রয়েছে।

নয়নক নীর                           থির নাহি বাঁধই
পুন পুন মেটসি তায় ।
এ মুখমণ্ডল                         কাহে নিরস ভেল
কহ কাঁহা দৌদল গায় ॥
সখিহে !  না বুঝিয়ে তোহারি চরিত ।
নিজ মনোরথ তুহুঁ                    নিজজনে বঞ্চসি
কিয়ে কঠিন তুয় চিত ॥ ধ্রু ॥
খণে খণে অঙ্গহি                     পুলক মুকুল ভরু
বসনহি গোপসি তায় ॥
সচকিত লোচনে                        জলদ নেহারসি
মানসি হাথ বাঢ়ায় ॥
ইহ ঘর বাহির                          করসি নিরন্তর
খণে খণে দশ দিশ হেরি ।
ময়ুর ময়ুরী সহ                         হাসি সম্ভাসসি
কন্ঠ হেরসি ফেরি ফেরি ॥
কেলি কদম্ব                          বিপিন পুন হেরসি
ঘন ঘন তেজসি শাস ।
কালিন্দী নামে                        রোই উতরোলসি
ভণ ঘনশ্যামর দাস ॥


ই পদটিই, আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব,
শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ--সবিস্তার, পদসংখ্যা ১৩৬, এইভাবে রয়েছে।

নয়নক নীর                            থির নাহি বান্ধই
ঘন ঘন মেটসি তাই।
সচকিত লোচনে                        জলদ নেহারসি
মানসি হাথ বাঢ়াই॥
খেনে ঘর বাহির                        করসি নিরন্তর
খেনে খেনে দশ দিশ হেরি।
ময়ুর ময়ুরী সনে                         হাসি সম্ভাষসি
কন্ঠ হেরসি ফেরি ফেরি॥
কেলি-কদম্ব                            পুনহিঁ পুন হেরসি
ঘন ঘন তেজসি শ্বাস ।
কালিন্দী নামে                          রোই উতরোলসি
ভণ ঘনশ্যামর দাস॥

দকল্পকরুর টীকায় লেখা রয়েছে যে পদরসসার ও পদ-রত্নাকর পুথিতে উপরোক্ত পাঠের অতিরিক্ত
নিচের পংক্তিগুলো রয়েছে।

ও মুখমণ্ডল                            কাহে বিরস ভেল
কহ কাঁহা দ্বন্দ্ব লাগাই॥
সখি হে, না বুঝিয়ে তোহারি চরিতে।
নিজ মনরথ তুহু                        নিজ সনে বঞ্চসি
কিয়ে কঠিন তুয়া চিতে॥ ধ্রু॥
খণে খণে অঙ্গহি                       পুলক মুকুল ভরু
বসনহি গোপসি তায়॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিজ কুল গৌরব খোয়
কবি ঘনশ্যামর দাস
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা
৭৯৮-তে এভাবে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে
উল্লেখ করা রয়েছে।

.        ॥ বরাড়ী॥

নিজ কুল গৌরব খোয়।
তনু মন সোঁপল তোয়॥
তুহুঁ সে গগন পরশাই।
তৈখনে তেজলি তাই॥
শুন শুন নাগররাজ।
তোহারি সে ঐছন কাজ॥ ধ্রু॥
পুরনায়রি সঞে ভোর।
তছুঁ নামহিঁ দিয়া ডোর॥
সো পুন ঐছে নিদান।
কব কিয়ে হোত না জান॥
অতয়ে নিবেদিয়ে তোয়।
তোহে জনি অপযশ হোয়॥
সখিগণ ছোড়ল পাশ।
কহ ঘনশ্যামর দাস॥


ই পদটিই, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ১৯শ পল্লব, দূতী-সংবাদ, পদসংখ্যা ১৬৯৫-এ এভাবে রয়েছে।

.        ॥ ধানশী॥

নিজ কুল গৌরব খোয়।
তনু মন সোঁপল তায়॥
তুহুঁ সে গগন পরশাই।
তৈখনে তেজলি তাই॥
শুন শুন নাগর-রাজ।
তোহারি সে ঐছন কাজ॥
পুর-নাগরি সঞে ভোর।
তছু নামহি দিয়ে ডোর॥
সো পুন ঐছে নিদান।
সো হাম কি কহিতে জান॥
তোহে জনি অপযশ হোয়।
অতয়ে নিবেদিয়ে তোয়॥
সখিগণ ছোড়ল পাশ।
কহ ঘনশ্যামর দাস॥


টীকা বা ব্যাখ্যা -
১ - ৪। “নিজ” ইত্যাদি। (শ্রীরাধা) নিজের কুল-গৌরব খোয়াইয়া, তোমায় দেহ ও মন সমর্পণ
করিয়াছিল, --- (কিন্তু) তুমি কিনা তাহাকে গগন স্পর্শ করাইয়া, তত্ক্ষণাৎ তাহাকে ত্যাগ
অর্থাৎ ভূতলে নিক্ষেপ করিলে!
৭ - ৮। “পুর” ইত্যাদি। (তুমি) মথুরা নগরের বিলাসিনীদিগের সঙ্গে (কাম-কেলিতে) বিভোর
হইয়া, তাহার অর্থাৎ শ্রীরাধার নামে ডোর দিয়াছ অর্থাৎ সেই নামের পাঠ বন্ধ করিয়াছ!
( ‘ডোর দেওয়া’ বাক্যের ব্যুত্পত্তি ১ম শাখার ৬০ সংখ্যক পদের ১৩ - ১৬ ছত্রের টীকায়
দ্রষ্টব্য)। . . .
দকল্পতরু গ্রন্থের ১ম শাখার ৬০ সংখ্যক পদের [ পদকর্তা হরিকৃষ্ণ দাসের “কি মধুর
মধুর বয়স নব কৈশোর” পদের ] ১৫ - ১৬ ছত্রের টীকা . . .  
--- পদকর্ত্তা হরিকৃষ্ণ দাস বলিতেছেন যে, এরূপ অপূর্ব্ব (গৌরাঙ্গকে) ভজন না করিলে
চলিবে না ; (অতএব) এই ঘরকন্নার কাজে ডোর দেও অর্থাৎ ডোর দিয়া ঘর-কন্নার পাঠ
তুলিয়া রাখ। প্রাচীন কালে তুলট কাগজে পুথি লিখিয়া উহা বস্ত্রখণ্ড ও ডোর দিয়া বান্ধা
হইত এবং গ্রন্থ পাঠ অন্তেও উহা ডোর দিয়া বান্ধিয়া রাখা হইত ; উহা হইতেই “কোন
কাজে ডোর দেওয়া” বলিলে সেই কার্য্যটি বন্ধ করা বুঝা যায়।

পদকর্তা
হরিকৃষ্ণ দাসের বৈষ্ণব পদাবলীর পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .

.                     *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর