কবি ঘনশ্যাম কবিরাজের বৈষ্ণব পদাবলী
*
পেখলুঁ গোকুল-বসতি বেয়াকুল
কবি ঘনশ্যাম
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (গোপাল দাস ভণিতা) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, পৃষ্ঠা ৩২৬। পদটি অবশ্যই ঘনশ্যাম কবিরাজের রচনা কারণ ঘনশ্যাম চক্রবর্তী
অনেক পরবর্তী কালের কবি এবং রসকল্পবল্লী গ্রন্থের সংকলনের সময়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন নি।

অথ দিহ্যোন্মাদ---

॥ ধানশী॥

পেখলুঁ গোকুল                                   বসতি বেয়াকুল
গোপনারীগণ রোএ।
ভিগল বসন                                       লাগি রহল তনু
তোহারি গঙন-পথ জোএ॥
হরি হে দূর নগরে মঝু গেছ।
জব তুহুঁ আঅলি                                  সঙ্গে গোপ সব
তব হাম গোকুলে থেহ॥
তহিঁ এক রমণী                                 থোরি বঅস ধনি
চিত্রপুত্তলী সম ঠারি॥
জব লোচন পথ                                 দূরে হিঁ গেল রথ
তবহিঁ পড়ল তনু ঢারি॥
ঘেরল সকল                                      সখীগণ চৌদিসে
রোঅত সখী অগেআন।

কি ভেল বলি অবধারি।
কহ ঘনশ্যাম                                  তবহিঁ চলি আঅলুঁ
পুন কিঅএ ভেল নাহি জান॥


ই পদটিই, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৩য় পল্লব,
ভবন্ বিরহ, পদসংখ্যা ১৬৩৩-এ এভাবে রয়েছে।

অথাস্য রসস্যোচিতা কৃষ্ণস্য মথুরানিবাসিন
আপ্তদূতী যথায

॥ ধানশী॥

পেখলুঁ গোকুল-                                 বসতি বেয়াকুল
গোপ-নারিগণ রোই।
ভিগি গেও বসন                                লাগি রহল তনু
তোহারি গমন পথ জোই॥
মাধব দূর নগর মঝু গেছ।
তুহুঁ আওলি যব                                রঙ্গহি গোপ সব
তব হাম গোকুলে থেহ॥ ধ্রু॥
তহিঁ এক রমণী                                থোরি বয়স ধনি
চীত-পুতলি-সম থারি॥
যবহুঁ লোচন-পথ                                 দূরহি গেও রথ
তবহুঁ পড়ল তনু ঢারি॥
ঘেরস সকল                                      সখীগণ রোয়ই
কী ভেল বলি অবধারি।
কুন্তল তোড়ই                                 বসন কোই ফারই
বিধিরে দেই কেহ গারি॥
কোই শিরে কঙ্কণ                                  হানই ঘন ঘন
কোই কোই হরই গেয়ান।
কহ ঘনশ্যাম                                    হাম চলি আয়লু
পুন কিয়ে ভেল না জান॥


এই পদটি, ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা
৭৯৭-তে এভাবে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে


শ্রীকৃষ্ণের প্রতি কোনও নাগরীর উক্তি

॥ বালা ধানশী॥

পেখলুঁ গোকুল-                                 বসতি বেয়াকুল
গোপনারীগণ রোই।
ভিগল বসন                                     লাগি রহল তনু
তোহারি গমনপথ জোই॥
এহু বিদূর নগর মঝু গেছ।
তুহুঁ আওলি যব                                সঙ্গহি গোপসব
তব হাম গোকুলে থেহ॥ ধ্রু॥
তহিঁ এক রমণী                                থোরি বয়স ধনি
চীতত্র পুতলিসম ঠারি॥
যবহুঁ লোচনপথ                                 দূরহিঁ গেও রথ
তবহু পড়ল তনু ঢারি॥
ঘেরল সকল                                      সখীগণ রোয়ই
কি ভেল বলি অবধারি।
কুন্তল তোড়ই                                 বসন কোই ফারই
বিধিরে দেই কেহ গারি॥
কোই শিরে কঙ্কণ                                  হানই ঘন ঘন
কোই কোই হরই গেয়ান।
কহ ঘনশ্যামর                                  দাস হাম আওল
পুন কিয়ে ভেল নাহি জান॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বাধা না মানয়ে ঝরয়ে নয়ান
কবি ঘনশ্যামর দাস
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা
৭৯৭-তে এভাবে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে
উল্লেখ করা রয়েছে।

.        ভাবী বিরহ

.        ॥ বরাড়ী॥

বাধা না মানয়ে ঝরয়ে নয়ান।
কৈছে করত হিয়া কহন না জান॥
তুহুঁ পুন কি করবি গুপতহি রাখি।
তনু মন দুহুঁ মুঝে দেওত সাখী॥
অবহুঁ যো গোপসি কি কহব তোয়।
বজর কি বারণ করতলে হোয়॥
পাওলুঁ রে সখি মৌনকি ওর।
পিয়া পরদেশে চলব মুঝো ছোড়॥
সময় সমাপন কী ফল আর।
প্রেমক সমুচিত অবহি বিচার॥
গমন সময় পুন রহ জানি কোই।
পিযাক অমঙ্গল যদি পাছে হোই॥
এ ধনি অচিরহি তোহারি সে পাশ।
আওব কহ ঘনশ্যামর দাস॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভকতি-রতন-খনি উঘাড়িয়া প্রেম-মণি
কবি ঘনশ্যাম
আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯২৪ সালে,
রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, পৃষ্ঠা ৩৪। পদটি
অবশ্যই ঘনশ্যাম কবিরাজের রচনা কারণ ঘনশ্যাম চক্রবর্তী অনেক পরবর্তী কালের কবি এবং ক্ষণদা-
গীতচিন্তামণি গ্রন্থের সংকলক হরিবল্লভ, তাঁর পিতা জগন্নাথের গুরু ছিলেন।

শ্রীনিত্যানন্দচন্দ্রস্য

॥ কামোদ॥

ভকতি-রতন-খনি                                 উঘাড়িয়া প্রেম-মণি
নিজ-গুণ-সোণায় মুড়িয়া।
উত্তম অধম নাই                                 যারে দেখে তার ঠাঁই
দান করে জগত জুড়িয়া॥
সোঙরি নিতাই গুণ                                   যেমন করয়ে মন
তাহা কি কহিতে পারি ভাই।
লাখে লাখে হয় মুখ                                তবে সে মনের সুখ
নিতাইচাঁদের গুণ গাই॥
এমন দায়ার ঠাঁই                                  কোথাও শুনিয়ে নাই
আছুক দেখার কাজ দূরে।
(যার) নামেই আনন্দময়                                সকল ভুবন হয়
তার লাগি কেবা নাহি ঝুরে॥
পাষাণ সমান হিয়া                                সেহো গেল মিলাইয়া
নিতাইর গুণ গাইতে শুনিতে।
কহে ঘনশ্যাম দাস                                যার নাহি বিশোয়াস
সেই সে পাষণ্ডী অবনীতে॥


ই পদটি, আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২২শ পল্লব,
শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-বর্ণন, পদসংখ্যা ২৩১০। পদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকায়, পৃষ্ঠা ৮৮-তে সতীশচন্দ্র
রায় জানিয়েছেন যে এই পদটি তাঁরা ঘনশ্যাম কবিরাজের পদ বলে মনে করছেন।

॥ কামোদ॥

ভকতি-রতন-খনি                                উখাড়িয়া প্রেম-মণি
নিজ-গুণ-সোণায় মড়িয়া।
উত্তম অধম নাই                              যারে দেখে তার ঠাঞি
দান করে জগত বেড়িয়া॥
সোঙরি নিতাই গুণ                                  যেমন করয়ে মন
তাহা কি কহিতে পারি ভাই।
লাখে লাখে হয় মুখ                               তবে সে মনের সুখ
ঠাকুর নিতাইর গুণ গাই॥
নামেই আনন্দময়                                      সকল ভুবন হয়
দেখিবার দায় রহু দূরে।
শুনিয়া নিতাইর গুণ                                  যেমন করয়ে নম
তার লাগি কেবা নাহি ঝুরে॥
পাষাণ সমান হিয়া                                সেহো গেল মিলাইয়া
নিতাইর গুণ গাইতে শুনিতে।
কহে ঘনশ্যাম দাস                                   যার নাহি বিশ্বাস
সেই সে পাষণ্ডী অবনীতে॥


ই পদটি, ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন  “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, পৃষ্ঠা-২৩৫-এ এভাবে রয়েছে। জগবন্ধু ভদ্র বলে যাননি এই পদটি কোন
ঘনশ্যামের।

॥ কামোদ॥

ভকতি রতনখনি                                উঘাড়িয়া প্রেমমণি
নিজ গুণ সোনায় মুড়িয়া।
উত্তম অধম নাই                                যারে দেখে তার ঠাঞি
দান করে জগত বেড়িয়া॥
সোঙরি নিতাইর গুণ                                যেমন করয়ে মন
তাহা কি কহিতে পারি ভাই।
লাখে লাখে হয় মুখ                                তবে সে মনের সুখ
ঠাকুর নিতাইর গুণ গাই॥
নামেই আনন্দময়                                        সকল ভুবন হয়
দেখিবার দায় রহু দূরে।
শুনিয়া নিতাইর গুণ                                যেমন করয়ে মন
তার লাগি কেবা নাহি ঝুরে॥
পাষাণ-সমান হিয়া                                সেহ যায় মিলাইয়া
নিতাইর গুণ গাইতে শুনিতে।
কহে ঘনশ্যামদাস                                যার নাহি বিশ্বাস
সেই সে পামর অবনীতে॥


ই পদটিই রয়েছে ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন,
পৃষ্ঠা ৭৮৫-এ। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ করা রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দ বন্দনা

॥ কামোদ সিন্ধুড়া॥

ভকতি রতনখনি                                       উঘাড়িয়া প্রেমমণি
নিজগুণ সোণায় মুড়িয়া।
উত্তম অধম নাই                                    যারে দেখে তার ঠাঞি
দান করে জগত বেড়িয়া॥
সোঙরি নিতাই গুণ                                       যেমন করয়ে মন
তাহা কি কহিতে পারি ভাই।
লাখে লাখে হয় মুখ                                     তবে সে মনের সুখ
নিতাইচাঁদের গুণ গাই॥
এমন দয়ার ঠাঞি                                      কোথায় শুনিয়ে যাই
আছুক দেখিবার কাজ দূরে।
(যার) নামেই আনন্দময়                                     সকল ভুবন হয়
তার লাগি কেবা নাহি ঝুরে॥
পাষাণ সমান হিয়া                                      সেহো যায় মিলাইয়া
নিতাইগুণ গাইতে শুনিতে।
কহে ঘনশ্যাম দাস                                         যার নাহি বিশ্বাস
সেই সে পাষণ্ডী অবনীতে॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভবসাগরবর দুরতর দুরগহ
কবি দীন ঘনশ্যাম
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৮৫। এই পদটি
ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ করা রয়েছে। এই পদটিই একইরূপে, আনুমানিক ১৭৫০ সালে,
বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৮
বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৩শ পল্লব, শ্রীচৈতন্য-নিত্যানন্দের রূপ-গুণ-বর্ণন, পদসংখ্যা
২৩৩৮-তে রয়েছে।

শ্রীগৌর নিত্যানন্দ বন্দনা

॥ গান্ধার॥

ভবসাগরবর দুরতর দুরগহ
দুস্তর গতি সুবিথার।
নিমগন জগত পতিত সব আকুল
কোই না পাওল পার॥
জয় জয় নিতাই গৌর অবতার।
হরিনাম প্রণব তরণি অবলম্বনে
করুণায় করল উদ্ধার॥ ধ্রু॥
অজ ভব আদি ব্যাস শুক নারদ
অন্ত না পায়ই যার।
ঐছন প্রেম পতিত জনে বিতরই
কো অছু করুণ অপার॥
হেন অবতার আর কিয়ে হোয়ব
রসিক ভকতগণ মেল।
দীন ঘনশ্যাম সোঙরি ভেল জরজর
হৃদি মাহা রহি গেল শেল॥


ই পদটি, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৩শ পল্লব, শ্রীচৈতন্য-
নিত্যানন্দের রূপ-গুণ-বর্ণন, পদসংখ্যা ২৩৩৮-এ এভাবে রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

ভব-সাগর-বর দুরতর দুরগহ
দুস্তর-গতি সুবিথার।
নিমগন জগত পতিত সব আকুল
কোই না পাওল পার॥
জয় জয় নিতাই গৌর অবতার।
হরি-নাম প্রণব তরণি অবলম্বনে
করুণায় করল উদ্ধার॥ ধ্রু॥
অজ ভব আদি ব্যাস শুক নারদ
অন্ত না পায়ই যার।
ঐছন প্রেম পতিত জনে বিতরই
কো অছু করুণা অপার॥
হেন অবতার আর কিয়ে হোয়ব
রসিক ভকতগণ মেল।
দীন ঘনশ্যাম সোঙরি ভেল জরজর
হৃদি মাহা রহি গেল শেল॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভাদ্র-শুক্লাষ্টমী তিথি বিশাখা নক্ষত্র তথি
কবি ঘনশ্যাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১৮শ পল্লব, জন্মলীলা,
পদসংখ্যা ১১৩৮। পদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকায়, পৃষ্ঠা ৮৮-তে সতীশচন্দ্র রায় জানিয়েছেন যে এই
পদটি তাঁরা ঘনশ্যাম কবিরাজের পদ বলে মনে করছেন।

গাও রে গৌরাঙ্গ-গুণ গাও।
গাইয়া দেখ কেমন জুড়াও॥
.                                               ইত্যাদি পূর্ব্বপরং গীয়তে।

॥ কল্যাণী॥

ভাদ্র-শুক্লাষ্টমী তিথি                                বিশাখা নক্ষত্র তথি
শ্রীমতীর জনম সেই কালে।
মধ্যদিন-গত রবি                                  দেখিয়া বালিকা-ছবি
জয় জয় দেই কুতূহলে॥
বৃষভানু-রাজপুরে                                  প্রতি ঘরে প্রতি ঘরে
জয় রাধে শ্রীরাধে রাধে বোলে।
নানা দ্রব্য হস্তে করি                                  নগরের যত নারী
আইলা সভে কীর্ত্তিদা-মন্দিরে।
অনেক পুণ্যের ফলে                                দৈব হৈলা অনুকূলে
এ হেন বালিকা মিলে তোরে॥
মোদের মনে হেন লয়                                এহোত মানুষ নয়
কোন ছলে কেবা জনমিলা।
ঘনশ্যাম দাস কয়                                     না করিহ সংশয়
কৃষ্ণ-প্রিয়া সদয় হইলা॥


ই পদটিই ১৯১৬ সালে হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলি সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা” গ্রন্থ,
পৃষ্ঠা ৫০-এ এভাবে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণী॥

ভাদ্র শুক্লাষ্টমী তিথি                                বিশাখা নক্ষত্র তিথি
শ্রীমতী জনম সেই কালে।
মধ্য দিন গত রবি,                                দেখিয়া বালিকা ছবি,
জয় জয় দেই কুতুহলে॥
বৃষভানু পুরে,                                            প্রতি ঘরে ঘরে,
জয় রাধে শ্রীরাধে বলে।
কন্যার চাঁদ মুখ দেখি,                                রাজা হৈল মহাসুখী
দান দেই ব্রাহ্মণ সকলে॥ ধ্রু॥
নানা দ্রব্য হাতে করি,                                 নগরের যত নারী,
আইল সবে কৃত্তিকা মন্দিরে।
অনেক পুণ্যের ফলে,                                দৈব কৈলা অনুকূলে,
এ হেন বালিকা মিলে কোরে॥
মোদের মনে হেন লয়,                                  এহত মানুষ নয়,
কোন ছলে কেবা জনমিলা।
ঘনশ্যাম দাস কয়,                                      না করিহ সংশয়
কৃষ্ণ প্রিয়া সদয় হইলা॥


ই পদটি, ১৮৭০ সাল নাগাদ, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু” গ্রন্থের পৃষ্ঠা ৫-এ এভাবে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার জন্মোত্সব

॥ কল্যাণী॥

ভাদ্র শুক্লাষ্টমী তিথি, বিশাখা নক্ষত্র তথি, শ্রীমতীর জনম সেই কালে।
মধ্যদিন গত রবি, দেখিয়া বালিকা ছবি, জয় জয় দেই কুতূহলে॥
বৃষভানু-রাজপুরে, প্রতি ঘরে ঘরে, জয় রাধে শ্রীরাধে রাধে বলে।
নানা দ্রব্য হস্তে করি, নগরের যত নারী, আইলা সভে কৃত্তিকা-মন্দিরে।
অনেক পুণ্যের ফলে, দৈব হৈলা অনুকূলে, এ হেন বালিকা মিলে তোরে॥
মোদের মনে হেন লয়, এহত মানুষ নয়, কোন্ ছলে কেবা জনমিলা।
ঘনশ্যাম দাসে কয়, না করিহ সংশয়, কৃষ্ণ-প্রিয়া সদয় হইলা॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মাধবি লতা-তলে বসি
কবি ঘনশ্যাম
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ১ম
শাখা, ৮ম পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ--প্রকারান্তর, পদসংখ্যা ২১৬। পদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের
ভূমিকায়, পৃষ্ঠা ৮৮-তে সতীশচন্দ্র রায় জানিয়েছেন যে এই পদটি তাঁরা
ঘনশ্যাম কবিরাজের পদ বলে মনে করছেন।

.        ॥ পঠমঞ্জরী॥

মাধবি লতা-তলে বসি।
চিবুকে ঠেকনা দিয়া বাঁশি॥
তোহারি চরিত অনুমানে।
যোগী যেন বসিলা ধেয়ানে॥
হরি হরি যবে গেলি রাধা।
হাঁছি জিঠি না পড়িল বাধা॥ ধ্রু॥
জল গেলে কি করিবে বান্ধে।
নিশি গেলে কি করিবে চান্দে॥
জিউ গেলে কি কাজ শরীরে।
রাধা বিনু কি নন্দকুমারে॥
রাধা রাধা জপে অবিরাম।
না জানি কি হয়ে ঘনশ্যাম॥

টীকা বা ব্যাখ্যা -
৫-৬। হরি হরি যবে ইত্যাদি। হরি হরি! হে রাধা! যখন তুমি চলিয়া গেলে, (তখন) হাঁচি
(কিংবা) টিকটিকি (এরূপ কোন) বাধা পড়িল না ; (শ্রীকৃষ্ণের মনে ইহাই আক্ষেপ রহিয়াছে
; কেন না, হাঁচি বা টিকটিকি বাধা পড়িলে, তুমি আর একটুকু তথায় থাকিয়া যাইতে!)
--- সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥


ই পদটি, ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী”
সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৮৮-এ এইভাবে রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই
গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

.        ॥ পঠমঞ্জরী॥

মাধবি লতাতলে বসি।
চিবুকে ঠেকনা দিয়া বাঁশি॥
তোহারি চরিত অনুমানে।
যোগী যেন বসিলা ধেয়ানে॥
হরি হরি যবে গেলি রাধা।
হাঁচি জিঠি না পড়িল বাধা॥ ধ্রু॥
জল গেলে কি করিবে বান্ধে।
নিশি গেলে কি করিবে চান্দে॥
জিউ গেলে কি কাজ শরীরে।
রাধা বিনু কি নন্দকুমারে॥
রাধা রাধা জপে অবিরাম।
না জানি কি হয়ে ঘনশ্যাম॥


ই পদটিই, আনুমানিক ১৭২৫ সালে, ১১৭০টি পদ সম্বলিত, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী
প্রণীত, ৪৬২ শ্রীগৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত, শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (
পূর্বরাগ ) গ্রন্থ, পৃষ্ঠা- ৩২৯-তে এভাবে রয়েছে। এই জন্য এই পদটি ঘনশ্যাম
চক্রবর্তীর রচনা বলে মনে করা অসংগত হবে না। কিন্তু যেহেতু পদকল্পতরুর সতীশচন্দ্র
রায় ও বৈষ্ণদব পদাবলী গ্রন্থের হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের মত বিশেষজ্ঞরা এই পদটিকে
ঘনশ্যাম কবিরাজের রচনা বলে মনে করেছেন, আমরাও এই পদটিকে ঘনশ্যাম কবিরাজের
পাতায় রাখলাম। এটা তো হতেই পারে যে, নরহরি ঘনশ্যাম চক্রবর্তী তাঁর সংকলন
গীতচন্দ্রোদয়ে তাঁর পূর্বতন কবি ঘনশ্যাম কবিরাজের কিছু পদ সন্নিবেশ করেছিলন।
দুজনেরই একই ভণিতা!

.         অথ মোহঃ
.        ॥ পঠমঞ্জরী ॥

মাধবীলতার তলে বসি ।
চিবুকে ঠেকনা দিয়া বাঁশী ॥
তোহারি চরিত অনুমানে ।
যোগী যেন  করয়ে ধিয়ানে ॥
ওহে রাই !  কি কাজ করিলা ।
দেখা দিয়া পরাণ বধিলা ॥
যবে জলে গিয়াছিলা রাধা ।
হাঁচি জিঠি না পাড়িল বাধা ॥
বাড়াইয়া দুখের পাথার ।
এবে তুমি না কর বিচার ॥
জল গেলে কি করিবে বান্ধে ।
নিশি গেলে কি করিবে চান্দে ॥
জীউ গেলে কি কাজ শরীরে ।
রাধাবিনে কি  নন্দকুমারে ॥
রাধা রাধা জপে অবিরাম ।
না জানি মুরুছে ঘনশ্যাম ॥


ই পদটিই, দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত,
বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”-এর পৃষ্ঠা ৩২-এ
এভাবে দেওয়া রয়েছে।

মাধবী তরুর তলে বসি।
চিবুকে ঠেকেনা দিএ বাঁশী॥
তাহারি চরিত অনুমানে।
যোগী যেন বসিল ধেয়ানে॥
হরি জপএ সদা রাধা।
হাচি জিঠি না পাড়িল বাধা॥
জল গেলে কি করিবে বান্ধে।
নিশি গেলে কি করিবে চান্দে॥
জীউ গেলে কি কাজ শরীরে।
রাধা বিনু নন্দকুমারে॥
রাধা রাধা জপে অবিরাম।
না জানি কি হয় ঘনশ্যাম ॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মানিনি অতয়ে করহ সমাধান
কবি ঘনশ্যামর দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ১৬শ পল্লব, বসন্তকালোচিত মান, পদসংখ্যা ২০৫৪। পদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের
ভূমিকায়, পৃষ্ঠা ৮৮-তে সতীশচন্দ্র রায় জানিয়েছেন যে এই পদটি তাঁরা
ঘনশ্যাম কবিরাজের পদ বলে মনে করছেন।

.        ॥ ধানশী॥

মানিনি অতয়ে করহ সমাধান।
আওল অব তুয়া অনুচর কান॥
অতিশয় ভীতে মিলল ইহ ভবনে।
অপরাধ ক্ষেমি তুহুঁ রাখবি চরণে॥
যব হরি চরণে পড়ব ধনি তোর।
হামারি শপতি তুহুঁ যদি কিছু বোল॥
যব তোহে গদগদ সাধব কান।
সজল-নয়নে তব হেরবি বয়ান॥
কহইতে কহবি সরসময় বাত
পরশিতে রোখে না বারবি হাত॥
তব পরিপূরব তাকর আশ।
সাধয়ে তব ঘনশ্যামর দাস॥


ই পদটিই, ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী”
সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৯৪-তে এইভাবে রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ
বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

.        ॥ ধানশী॥

মানিনি অতয়ে করহ সমাধান।
আওল অব তুয়া অনুচর কান॥
অতিশয় ভীতে মিলল ইহ ভবনে।
অপরাধ ক্ষেমি তুহুঁ রাখবি চরণে॥
যব হরি চরণে পড়ব ধনি তোর।
হামারি শপতি যদি কিছু বোল থোর॥
যব তোহে গদগদ সাধব কান।
সজল-নয়নে তব হেরবি বয়ান॥
কহইতে কহবি সরস-ময় বাত
পরশিতে রোখে না বারবি হাত॥
তব পরিপূরব তাকর আশ।
সাধয়ে তব ঘনশ্যামর দাস॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যাবক রচয়িতে সচকিত লোচন
কবি ঘনশ্যামর দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩০শ পল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৭৩৯। পদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকায়, পৃষ্ঠা ৮৮-তে সতীশচন্দ্র রায়
জানিয়েছেন যে এই পদটি তাঁরা ঘনশ্যাম কবিরাজের পদ বলে মনে করছেন।

॥ কেদার॥

যাবক রচয়িতে সচকিত লোচন
পদ সঞে বদন সঞ্চার।
অধর-রাগ সঞে বুঝি অনুভব করু
কোন অধিক উজিয়ার
দেখ দেখ কানুক রঙ্গ।
রাইক বেশ বনায়ত অভিমত
নিরখি নিরখি প্রতি অঙ্গ॥ ধ্রু॥
চরণ-বিভূষণ মণিগন ঊজর
শ্যাম মুরতি পরতেক।
নিরখব লাখ নয়নে হেন মানয়ে
অতয়ে সে ভেল অনেক॥
কিয়ে প্রতিবিম্ব-দম্ভ সঞে নিজ তনু
চরণ-নিছনি পরকাশ।
সম্বর-বৈরী-বিজয় বেকত ভেল
ভণ ঘনশ্যামর দাস॥

টীকা বা ব্যাখ্যা -
৮-১১। “চরণ” ইত্যাদি। উজ্জ্বল মণিগণ (শ্রীরাধার) চরণের বিভূযণ,--- (ঐ সকল মণিত
প্রতিবিম্বিত) শ্রীকৃষ্ণের (অসংখ্য) মূর্ত্তি প্রত্যক্ষ (হইতেছে) ; লক্ষ নয়নে (প্রিয়তমাকে) নিরীক্ষণ করিব,
(শ্রীকৃষ্ণ) এইরূপ মনে করিতেছেন, ---অতএব তিনি অনেক হইলেন! (শ্রীরাধার পদভূ-ষণ মণিসমূহে
শ্রীকৃষ্ণের অসংখ্য প্রতিবিম্ব-বিকাশ ---অসংখ্য নয়নে শ্রীরাধাকে দর্শন ইচ্ছায় শ্রীকৃষ্ণের অসংখ্য মূর্ত্তি-
ধারণরূপে কবি কর্ত্তৃক উৎপ্রেক্ষিত হইয়াছে)। তুলনা করুন,---
পর্য্যঙ্কীকৃত-নাগ-নায়ক-ফণা-শ্রেণী-মণীনাং গণে সংক্রান্ত-প্রতিবিম্ব-সংবলনয়া বিভ্রদ্বিভু-প্রক্রিয়াং।
পাদাম্ভোরুহু-ধারি-বারিধি-সুতামক্ষ্ণাং দিদৃক্ষুঃ শতাঃ কায়ব্যূহমিবাচরন্নু পচিতীভূতো হরিঃ পাতু বঃ॥
--- গীতগোবিন্দ, ১২শ সর্গ, সুপ্রীত পিতাম্বর।
১২-১৫। “কিয়ে” ইত্যাদি। (অথবা) প্রতিবিম্বের ছল দ্বারা (শ্রীকৃষ্ণ) নিজের দেহ (শ্রীরাধার) চরণের নিছনি,
ইহার প্রকাশ করিতেছেন কি? (মদন-মোহন শ্রীকৃষ্ণের এই শ্রীরাধার চরণানুগত্য দ্বারা) সম্বর
নামক অসুরের নাশক অর্থাৎ বীর-চূড়ামণি কন্দর্পের পরাজয় ব্যক্ত হইল --- ঘনশ্যা দাস বলিতেছেন।
(“কৈতবোহস্ত্রী ব্যাজ-দম্ভঃ” ইতি কোষঃ)।
---সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥


ই পদটি, ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন,
পৃষ্ঠা ৭৯০-এ পৃষ্ঠায়। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

॥ বিভাস॥

যাবক রচয়িতে সচকিত লোচন
পদ সঞে বয়ান সঞ্চার।
অধররাগ সঞে বুঝি অনুভব করু
কোন অধিক উজিয়ার॥
দেখ সখি কানুক রঙ্গ।
রাইক বেশ বনাওত অভিমত
নিরখি নিরখি প্রতি অঙ্গ॥ ধ্রু॥
চবণ বিভূষণ মণিগনে ঊয়ল
শ্যাম মূরতি পরতেক।
নিরখব লাখ নয়ানে হেন মানিয়ে
অতয়ে সে ভেল অনেক॥
কিয়ে প্রতিবিম্ব দম্ভ সঞে নিজতনু
চরণনিছনি পরকাশ।
শম্বর বৈরী বিজয় বেকত ভেল
ভণ ঘনশ্যামর দাস॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যুবতি-নিকর মাঝে যাকর বাস
কবি ঘনশ্যামর দাস
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা
৭৯৩। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

.        ॥ ধানশী॥

যুবতি নিকর মাহ যাকর বাস।
অনুখন নব নব যছু অভিলাষ॥
ঐছন জন তুয়া পরশক লাগি।
বিপিনে গোঙায়ল যামিনি জাগি॥
তবহুঁ প্রাতে নিজ পৌরুষ ছোড়ি।
তোহারি সমীপে করহিঁ কর জোড়ি॥
আয়ল যব নব নাগর কান।
তৈখনে ভেল তোহে দারুণ মান॥
অনুনয়-বচন না শুনবি জানি।
চরণে পশারল সো নিজ পাণি॥
লোচন ওরে তবহুঁ নাহি হেরি।
বৈঠলি তহিঁ পুন আনন ফেরি॥
অবনত মুখ যব চলু নিজ বাস।
কি করব কহ ঘনশ্যামর দাস॥


ই পদটিই, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড,
২য় শাখা, ১৫শ পল্লব, কলহান্তরিতা, পদসংখ্যা ৪৬৭-এ এভাবে রয়েছে।

.        ॥ ধানশী॥

যুবতি-নিকর মাঝে যাকর বাস।
অনুখন নব নব যছু অভিলাষ॥
ঐছন জন তুয়া পরশক লাগি।
বিপিনে গোঙায়ল যামিনি জাগি॥
তবহুঁ প্রাতে নিজ গৌরব ছোড়ি।
তোহারি সমীপে করহিঁ কর যোড়ি॥
আওল যব নব নাগর কান।
তৈখনে ভেল তোহেঁ দারুণ মান॥
অনুনয় বচন না শূনলি জানি।
চরণে পসারল সো নিজ পাণি॥
লোচন কোণে তবহি নাহি হেরি।
বৈঠলি তহিঁ পুন আনন ফেরি॥
অবনত মুখ যব চলু নিজ বাস।
কি কহব কহ ঘনশ্যামর দাস॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যে দেখেছি যমুনার তটে
কবি ঘনশ্যামর দাস
১১৭০টি পদ সম্বলিত, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত, ৪৬২ শ্রীগৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস
দাস দ্বারা প্রকাশিত, শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় ( পূর্বরাগ ) গ্রন্থ, পৃষ্ঠা- ২৫০। যদিও পদটি ঘনশ্যাম
ওরফে নরহরির নিজের প্রকাশিত সংকলনের পদ, তবুও পদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের  
ভূমিকায়, পৃষ্ঠা ৮৮-তে সতীশচন্দ্র রায় জানিয়েছেন যে এই পদটি তাঁরা ঘনশ্যাম   
কবিরাজের পদ বলে মনে করছেন। ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়   
সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলনে এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ
করা রয়েছে। আমরা এই পদটি ঘনশ্যাম কবিরাজ ও ঘনশ্যাম চক্রবরী, দুজনের পাতাতেই
রাখছি।

.        ॥ সুহই ॥

যে দেখেছি যমুনার তটে ।
সেই এই দেখি চিত্রপটে ॥
যার নাম কহিলা বিশাখা ।
সেই এই পটে আছে লেখা ॥
যাহার মুরলীধ্বনি শুনি ।
সেই বটে এ রসিকমণি ॥
ভাটমুখে যার গুণগাথা ।
দূতীমুখে শুনি যার কথা ॥
এই মোর হরিলে পরাণ ।
ইহা বিনে কেহো নহে আন ॥
এত কহি মুরুছি পড়য়ে ।
সখীগণ ধরিয়া তোলয়ে ॥
পুন কহে পাইয়া চেতনে ।
কি দেখিলু দেখাও সে বদনে ॥
সখীগণ করয়ে আশ্বাস ।
ভণ ঘনশ্যামর দাস ॥


ই পদটি রয়েছে শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড,
১ম শাখা, ২য় পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ, পদসংখ্যা ৩৬-এ।

.        ॥ সুহই ॥

যে দেখেছি যমুনার তটে ।
সেই দেখি এই চিত্রপটে ॥
যার নাম কহিল বিশাখা ।
সেই এই পটে আছে লেখা ॥
যাহার মুরলী-ধ্বনি শুনি ।
সেই বটে এ রসিকমণি ॥
ভাট-মুখে যার গুণ-গাথা ।
দূতী-মুখে শুনি যার কথা ॥
এই মোর হরিয়াছে প্রাণ ।
ইহা বিনে কেহ নহে আন ॥
এত কহি মুরছি পড়য়ে ।
সখীগণ ধরিয়া তোলয়ে ॥
পুন কহে পাইয়া চেতনে ।
কি দেখিলুঁ দেখাওঁ সে জনে ॥
সখীগণ করয়ে আশ্বাস ।
ভণে ঘনশ্যামর দাস ॥


ই পদটিই, দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত,  
বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”-এর পৃষ্ঠা ১০-এ
এভাবে দেওয়া রয়েছে।

.                        ॥ সুহিনি॥

যে দেখেছি যমুনার ঘাটে। সেই এই দেখি চিত্রপটে॥
জার নাম কহিলা বিশাখা। সেই এই পটে আছে লেখা॥
জাহার মুরলীর ধ্বনি শুনি। সেই বটে এই রসিকমণি॥
ভাট মুখে যার গুণগাথা। দূতীমুখে শুনি যার কথা॥
এই মোর হরিয়াছে প্রাণ। ইহ বিনে কেহো নহে আন॥
এত কহি মুরুছি পড়য়ে। সখীগণ ধরিয়ে তোলয়ে॥
পুন কহে পাইয়া চেতন। কি দেখিলাম দেখায় সে বদন॥
সখীগণ করয়ে আশ্বাস। ভণ ঘনশ্যামর দাস॥


ই পদটিই, ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী”
সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৮৫-এ এইভাবে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ করা
রয়েছে।

শ্রীরাধার উক্তি

.        ॥ সুহিনী॥

যে দেখেছি যমুনার তটে।
সেই এই দেখি চিত্রপটে॥
যার নাম কহিলা বিশাখা।
সেই এই পটে আছে লেখা॥
যাহার মুরলী ধ্বনি শুনি।
সেই বটে এ রসিকমণি॥
ভাট মুখে যার গুণগাথা।
দূতী মুখে শুনি যার কথা॥
এই মোর হরিয়াছে প্রাণ।
ইহা বিনে কেহ নহে আন॥
এত কহি মুরুছি পড়য়ে।
সখীগণ ধরিয়া তোলয়ে॥
পুন কহে পাইয়া চেতনে।
কি দেখিলু দেখাও সে জনে॥
সখীগণ করয়ে আশ্বাস।
ভণ ঘনশ্যামর দাস॥


ই পদটি, ১৮৭০ সাল নাগাদ, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, পৃষ্ঠা ১৪৭।

॥ সোহই সুট - দশকুশা॥

যে দেখেছি যমুনার তটে।
সেই দেখি এই চিত্রপটে॥
যার নাম কহিলে বিশাখা।
সেই এই পটে আছে লেখা॥
যাহার মুরলী ধ্বনি শুনি।
সেই বটে এ রসিক মণি॥
ভাট মুখে জানি গুণগাঁথা।
দূতী মুখে শুনি যার কথা॥
এই মোর হরিয়াছে প্রাণ।
ইহা বিনে কেহ নহে আন॥
এত কহি মুরুছি পড়য়ে।
সখীগণ ধরিয়া তুলয়ে॥
পুন কহে পাইয়া চেতনে।
কি দেখিলাম দেখাও সে জনে॥
সখীগণ করয়ে আশ্বাস।
কহে ঘনশ্যামর দাস॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর