কবি ঘনশ্যাম কবিরাজের বৈষ্ণব পদাবলী
*
রাইক চরিত বুঝিয়া বরনাগর
কবি ঘনশ্যাম
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৯২। এই পদটি
ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ। দশকুশী॥

রাইক চরিত                                  বুঝিয়া বরনাগর
মন মাঙা কয়ল উপায়।
চরণ পাকড়ি নিজ                                দোখ মানাইয়ে
তব কিয়ে ধনি-রোখ যায়॥
হরি হরি অপরাধ কিছুই না জান।
যাহে লাগি শয়নে                           সপনে নাহি হেরিয়ে
সোই করত অব মান॥ ধ্রু॥
এক কহি রাইক                                চরণ ধরি বোলত
ক্ষেম ধনি মঝু অপরাধ।
ঐছন দোষ হাম                                  কবহুঁ না করব
প্রেমে না কর ধনি বাদ॥
তবহুঁ সুধামুখি                                  এতহুঁ নাহি শুনি
চরণ হেলি চলি যায়।
ভণ ঘনশ্যাম                                  শ্যাম রোই চলতহিঁ
করবহিঁ কোন উপায়॥


ই পদটি, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ১২শ পল্লব,
ধীরাধীরা মধ্যা খণ্ডিতা, পদসংখ্যা ৪২৬-এ এভাবে রয়েছে।

॥ ধানশী। দশকুশী॥

রাইক চরিত                                    বুঝিয়া বরনাগর
মন মাঙা কয়ল উপায়।
চরণ পাকড়ি নিজ                                দোখ মানাইয়ে
তব কিয়ে ধনি-রোখ যায়॥
হরি হরি অপরাধ কিছুই না জান।
যাহে লাগি শয়নে                            সপনে নাহি হেরিয়ে
সোই করত অবমান॥ ধ্রু॥
এক কহি রাইক                                চরণ ধরি বোলত
ক্ষেম ধনি মঝু অপরাধ।
ঐছন দোষ                                   কবহুঁ হাম না করব
প্রেমে না কর ধনি বাদ॥
তবহুঁ সুধা-মুখি                                  এতহুঁ নাহি শুনি
চরণ হেলি চলি যায়।
ভণ ঘনশ্যাম                                  শ্যাম রোই চলতহিঁ
করবহিঁ কোন উপায়॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
লোচন-লোর ওর নহি ঢরকই
কবি ঘনশ্যাম দাস
১৯২৬ সালে প্রতাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, পৃষ্ঠা
৬৩। কবিতাটি তাঁরা পেয়েছিলেন কমলাকান্ত দাস সঙ্কলিত পদরত্নাকর ও সাহিত্য পরিষদের ২০১ পুথি
থেকে।

॥ সুহই॥

লোচন-লোর ওর নহি ঢরকই
রাধা-পদ তলে গেল।
জল সঞে আধ উয়ল কিয়ে সররুহ
মঝু মনে ঐছন ভেল॥
মাধর কি কহব সো পরসঙ্গ।
সহচরি মেলি কোরে করি রোয়ই
হেরি অবশ প্রতি-অঙ্গ॥ ধ্রু॥
উচ-কু-উপরে রহই মখ-মণ্ডল
সো এক অপরূপ-ভাঁতি।
জনু কনয়া-গিরি-শিখরে শশধর
প্রাতর ধূসর-কাঁতি॥
বীজন-পবনে বিথুরি অলকাবলি
বিচলই পুন পুন বেরি।
বিকচ কমল সঞে নব-অলিকুল কিয়ে
উছলই কোরক হেরি॥
ঐছে দশা পর যাক কলেবর
হেরইতে ঐছন ভান।
কহে ঘনশ্যাম দাস তছু কৈছন
তুহারি মিলনে নহি জান॥


ই পদটিই, ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৯৮-
তে এভাবে দেওয়া রয়েছে। এটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

॥ সুহই॥

লোচন-লোর ওর নহি ঢরকই
ধারা পদতলে গেল।
জলসঞে আধ উয়ল কিয়ে জলরুহ
মঝু মনে ঐছন ভেল॥
মাধর! কি কহব সো পরসঙ্গ।
সহচরি মেলি কোরে করি রোয়ই
হেরি অবশ প্রতি অঙ্গ॥ ধ্রু॥
উচ কুচ উপরে রহই মখমণ্ডল
সো এক অপরূপ ভাঁতি।
জনু কনয়া গিরি-শিখরে শশধর
প্রাতর ধূসর কাঁতি॥
বীজন পবনে বিথরে অলকাবলি
বিচলহুঁ পুন পুন বেরি।
বিকচ কমল সঞে নব অলিকুল কিয়ে
উছলই কোরক হেরি॥
ঐছে দশাপর যাকর কলেবর
হেরইতে ঐছন ভান।
কহে ঘনশ্যাম দাস তহি কৈছন
তোহারি মিলন নাহি জান॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শীতলকর কর পরশহি মীঠ
কবি ঘনশ্যাম দাস
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা
৭৮৯। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

.        শ্রীরাধার স্বয়ং দৌত্য

.        ॥ তিরোহিতা ধানশ্রী॥

শীতলকর কর পরশহি মীঠ।
যাহে হেরি নিরমল হোওত দীঠ॥
এ হরি তোহারি তিলক নিরমাণে।
হেরি নিশাপতি করি অনুমানে॥ ধ্রু॥
অতএ সো লোচন পুন পুন চাহ।
ইথে জনি আন বুঝবি মন মাহ॥
বিধিনিরমিত কছু কহন ন জাত।
দিনপতি দরশনে দিঠি জরি জাত॥
কহ ঘনশ্যাম দাস সুখ গোই।
কহইতে আন আন জনি হোই॥

ব্যাখ্যা -
শীতলকর ( জ্বালা নিবারণকারী হস্ত, অন্য অর্থে চন্দ্র ) করের ( জ্যোত্স্নার হস্তের ) স্পর্শও
মিষ্ট। দেখিলেই দৃষ্টি নির্ম্মল হয়। ওহে হরি, তোমার তিলক-নির্ম্মাণকে চন্দ্র অনুমান  
করিয়াছিলাম। এই জন্যই চক্ষু পুনঃ পুনঃ চাহিতেছে।  ইহাতে  যেন  মনোমধ্যে অন্য
বুঝিও না। বিধির নির্ম্মাণ কিছু বুঝা যায় না (তাহার একই হাতের সৃষ্টি তো)। (কুন্তু দেখ)
সূর্য্যের দিকে চাহিয়া দৃষ্টি জর্জ্জরিত হয়। ঘনশ্যাম দাস সুখ গোপন করিয়া বলিতেছেন,
এক বলিতে যেন অন্য না হয় (সূর্য্যালোক হইতে নির্জ্জন কুঞ্জের অন্ধকারে যাইবার ইঙ্গিত
করিতেছেন)।
--- হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদাবলী॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুন শুন মানিনি না কহব তোয়
কবি ঘনশ্যাম দাস
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা
৭৯৩। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

.        ॥ ভূপালী॥

শুন শুন মানিনি না কহব তোয়।
অনুচিত মানে গোঙায়বি রোয়॥
রোই রোই মাধব সাধল তোয়।
কাহে কাতর দিঠে চাহসি মোয়॥
অব হাম যাইয়ে কি কহব তায়।
যাচিত রতন ত্যাগ না যুয়ায়॥
সো বিনু অব কোই পূরব আশ।
কি কহব অব ঘনশ্যাম দাস॥


ই পদটিই, আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫),
১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ১৪শ পল্লব, কলহান্তরিতা, পদসংখ্যা ৪৫৬-এ এভাবে রয়েছে।

.        ॥ ভূপালী॥

শুন শুন মানিনি না কহব তোয়।
অনুচিত মানে গোঙায়বি রোয়॥
তব নাহি শুনলি সহচরি-বোল।
ফেরি রহলি মুখ ঝাঁপি নিচোল॥
রোই রোই মাধব সাধল তোয়।
কাহে কাতর দিঠে চাহসি মোয়॥
অব হাম যাইয়া কি কহব তায়।
যাচিত রতন ত্যাগ না যুয়ায়॥
সো বিনু অব কোই পূরব আশ।
কি কহব অব ঘনশ্যাম দাস॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুন শুন শুন পুন আজুক রঙ্গ
কবি ঘনশ্যাম দাস
১৯২৬ সালে প্রতাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, পৃষ্ঠা
৬০। কবিতাটি তাঁরা পেয়েছিলেন কমলাকান্ত দাস সঙ্কলিত পদরত্নাকর পুথি ও সাহিত্য পরিষদ ২০১ পুথি
থেকে।

[ রসোদ্গার ]

সখীর প্রতি শ্রীকৃষ্ণের উক্তি :---

॥ ধানশী॥

শুন শুন শুন পুন আজুক রঙ্গ।
তুয়া সখি অঙ্গ-                                ভঙ্গ সঞে আওল
সঙ্গহি পহিল অনঙ্গ॥ ধ্রু॥
মধুর অলাপন                                    শুনইতে সো পুন
নটন-ঘটন করু মোয়।
শুনি নূপুর-ধ্বনি                                 শর বরখিয়ে ঘন
বিছুরল উনমত হোয়॥
শর সঞে কুসুম-                                  শরাসন ডারল
কিঙ্কিণি-রব যব ভেল।
নিজ-বৈভব তব                                 হরখি দরখি সব
মদন মুগধ ভই গেল॥
হম পুন কোন কি                            করি কাহাঁ আছিয়ে
অনুভবি ওর না পাই।
কহ ঘনশ্যাম                                     দাস জগ-মানস-
মোহন-মোহিনি রাই॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্যাম-তনু-মুকুরে হেরি নিজ প্রতি-তনু
কবি ঘনশ্যাম দাস
১৯২৬ সালে প্রতাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, পৃষ্ঠা
৬২। কবিতাটি তাঁরা পেয়েছিলেন গাঁড়াদহের পুথি থেকে।

॥ ধানশী॥

শ্যাম-তনু-মুকুরে                                হেরি নিজ প্রতি-তনু
ধনি ভেল অবনত-মাথ।
ছলছল-নয়নে                                        পীঠ দেই বৈঠল
কোপে ভরল সব গাত॥
সজনী দেখ দেখ শঠ গুরু-কাজ।
সমুখে হনারি                                   আন সঞে বিলসয়ে
ধিক মঝু ধৈরজ লাজ॥ ধ্রু॥
ঢীটক বয়ন কভু                                     হম নহি হেরব
এত কহি মানে বিভোর।
চমকিত নাহ                                    করত কত কাকুতি
তবহু ন পায়ল উতোর॥
চাতু নাগর                                           মনহিঁ বিচারল
প্রেম-বিছেদ ভেল জানি।
পুন পুন অকারণ                                  করতহি অপমান
পৈঠব যমুনাক পানি॥
চলু বর-নাগর                                        অন্তর গর গর
আন-কুঞ্জে উপনীত।
তহিঁ এক সহচরি                                   কানু-বদন হেরি
পুছত কাহে ভেলি ভীত॥
ছল ছল-নয়নে                                    চকিত ঘন হেরসি
তেজসি দীঘ নিশাস।
সহচরি-মুখ হেরি                                    আকুল সো হরি
কহতহি গদগদ ভাষ॥
বিনু অপরাধে                                    রাই মোহে তেজল
কিয়ে মঝু করম-অভাগি।
না বিচারি দোষ গুণ                              করতহি অপমান
পরাণ রাখব কথি লাগি॥
এত শুনি সহচরি                                   কানু-প্রবোধ করি
চলতহি রাইক পাশে।
হেরি কমল-মুখি                                    বিমুখ ভই বৈঠলি
কহ ঘনশ্যামর দাসে॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্যামর-গুণ গহ বিনু নহি জগ মাহ
কবি ঘনশ্যামর দাস
১৯২৬ সালে প্রতাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, পৃষ্ঠা
৬৪। কবিতাটি তাঁরা পেয়েছিলেন কমলাকান্ত দাস সঙ্কলিত পদরত্নাকর ও সাহিত্য পরিষদের ২০১ পুথি
থেকে।

॥ কামোদ॥

শ্যামর-গুণ গহ                                      বিনু নহি জগ মাহ
বিহিক বিশদ নিরমাণ।
রতি-পতি-বৈরি-                                      কণ্ঠে যব অনুখণ
ফুরয়ে তোহে কিয়ে আন॥
শুন শুন শুন বৃষভানু-কিশোরি।
সো পুন তোহারি বশ                                অতয়ে বিমল যশ
জগ-জনে কেবল তোরি॥ ধ্রু॥
সুরত-রতন-খনি                                      কত কত সুরমণি
মণিময় মন্দির ছোড়ি।
তুহারি মিলন যাহাঁ                                    সোই নিকুঞ্জ মাহা
পন্থ নেহারত তোরি॥
তছু কর-বিরচিত                                       হার সফল কর
পহিরহ নিরমল বাস।
চান্দনি রাতি                                         চন্দনে তনু লেপহ
কহ ঘনশ্যামর দাস॥


ই পদটিই, ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন,
পৃষ্ঠা ৮০১-এ রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে উল্লেখ করা রয়েছে।  

শ্রীকৃষ্ণের ব্রজে আগমন

॥ কামোদ॥

শ্যামরগুণগ্রহ                                         বিনা নাহি জগমহ
বিহিক বিশদ নিরমাণ।
রতিপতি বৈরি                                        কণ্ঠে যব অনুখণ
ফুরয়ে তোহে কিয়ে আন॥
শুন শুন শুন বৃষভানু কুমারি।
সো পুন তোহারি বশ                                অতয়ে বিমল যশ
জগজনে কেবল তোহারি॥ ধ্রু॥
সুরত রতনখনি                                      কত শত সুরমণী
মণিময় মন্দির ছোড়ি।
তুহারি মিলন যাঁহা                                    সোই নিকুঞ্জমাহা
পন্থ নেহারত তোরি॥
তছুকর বিরচিত                                       হার সফল কর
পহিরহ নিরমল বাস।
চাঁদনি রাতি                                           চন্দন অনুলেপহ
কহ ঘনশ্যামর দাস॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সকল-কলা-রস-সাগর নাগর
কবি ঘনশ্যামর দাস বা ঘনশ্যামরূ দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩০শ পল্লব,
অয্টকালীয় নিত্য-লীলা, পদসংখ্যা ২৭২০। পদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকায়, পৃষ্ঠা ৮৮-তে সতীশচন্দ্র রায়
জানিয়েছেন যে এই পদটি তাঁরা ঘনশ্যাম কবিরাজের পদ বলে মনে করছেন।

তত্র জল-ক্রীড়া যথা

॥ কামোদ॥

সকল-কলা-রস-                                          সাগর নাগর
নাগরি-মুখ-শশি চাহ।
কেলি-বিলাস-                                          ছরম ঘরমাইত
কালিন্দি করু অবগাহ॥
দেখ সখি ইহ পুন নহ জল-কেলি।
শাকর-নিকরহি                                        ঘুমল মদন পর
শর বরখিয়ে দুহুঁ মেলি॥ ধ্রু॥
নীলবসন তনু                                             নীল নিসিঞ্চন
বেকত হোয়ত প্রতি-অঙ্গ।
তোড়ি নলিনি-দল                                      ধনি কুচ-মণ্ডলে
ধরু কিয়ে ফলক অনঙ্গ॥
সো অব নখর-                                    শিখরে হরি ফাড়ল
মনসিজ ভেল উদাস।
তহি পুন ভুজ-যুগ                                      পাশ পসারল
কহ ঘনশ্যামর দাস॥


ই পদটিই,  দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”-এর পৃষ্ঠা ২৬২-এ এভাবে দেওয়া রয়েছে।

॥ জলক্রীড়া রাগিণী কামোদ তাল দশকোশি॥

সকল কলারস সাগর নাগর নাগরী মুখশশী চাহ।
কেলিবিলাস ছরম ঘরমাইত কালিন্দী করূ অবগাহ॥
নীলবসন তনু নীরনিসেকেত বেকত হোত প্রতি অঙ্গ।
তুরি নলিনীদল ধনি কুচমণ্ডলে ধরূ কিএ কনক অনঙ্গ॥
সো অব নখর শিখর হরিকারণ মনসিজ ভেল উদাস।
তহি পুন ভূজযুগ পাস পসারল কহ ঘনশ্যামরূ দাস॥


ই পদটিই, ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৯৬-
তে এভাবে দেওয়া রয়েছে। এটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

মিলন

॥ কামোদ॥

সকল-কলা-রস সায়র নায়র
নায়রিমুখশশি চাহ।
কেলিবিলাস ছরম ঘরমাইত
কালিন্দি করু অবগাহ॥
দেখ সখি এ পুন নহ জলকেলি।
শীকর নিকরহিঁ ঘুমল মদন পর
শর বরিখয়ে দুহুঁ মেলি॥ ধ্রু॥
নীল বসন তনু নীর নিষিঞ্চন
বেকত হোয়ত প্রতি অঙ্গ।
তোড়ি নলিনিদল ধনি কুচমণ্ডলে
ধরু কিয়ে ঢাল অনঙ্গ॥
সো অব নখর-শিখরে হরি ফারল
মনসিজ ভেল উদাস।
তহিঁ পুন ভুজযুগ পাশ পশারল
কহ ঘনশ্যামর দাস॥

.          *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সখিগণ সঞে নাহি হাস সম্ভাষ
কবি ঘনশ্যামর দাস
১৯২৬ সালে প্রতাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, পৃষ্ঠা ৫৯। কবিতাটি তাঁরা পেয়েছিলেন ১৮০৬-৭ সালে সংকলিত, কমলাকান্ত
দাসের পদরত্নাকর পুথি থেকে।

[ শ্রীরাধার আপ্ত-দূতী ]

.        ॥ নট রাগ॥

সখিগণ সঞে নাহি হাস সম্ভাষ।
অনুখণ ধরণি শয়নে অভিলাষ॥
এ হরি যব ধরি পেখলি তোয়।
তব ধরি দিনে দিনে ঐছন হোয়॥ ধ্রু॥
নয়ন-কমলে জল গলয়ে সদায়।
বিরলে বসিয়া শেজে কিনা জানি গায়॥
তহি যব প্রিয়-সখি আওত কোই।
চরণে লিখই মহি নিশবদ হোই॥
যতনে পুছিয়ে যব মরমক বোল।
উতর না দেই রোই উতরোল॥
কিয়ে পুন আছয়ে হিয়-অভিলাষ।
না বুঝি কহ ঘনশ্যামর দাস॥


ই পদটি, আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫),
১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ--সবিস্তার, পদসংখ্যা ১৫৫-তে এইভাবে
রয়েছে।

অথ শ্রীমতীর আপ্ত-দূতীর উক্তি।

.        ॥ দশদশা॥

লালসোদ্বেগ জাগর্য্যা তানবং জড়িমা তথা।
বৈয়গ্র্যং ব্যাধিরুন্মাদো মোহো মৃত্যুর্দশা দশ॥

.        অথ লালসা।
.        শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।

“কুসুমিত কানন হেরি শচী-নন্দন”
ইত্যাদি পদং গেয়ম্।

.        ॥ ধানশী॥

সখিগণ সঞে নাহি হাস পরিহার।
অনুখন ধরণী-শয়নে অভিলাষ॥
এ হরি যব ধরি পেখলুঁ তোয়।
তব ধরি দিনে দিনে ঐছন হোয়॥ ধ্রু॥
নয়ন-কমলে জল গলয়ে সদায়।
বিরলে বসিয়া সে তোহারি গুণ গায়॥
তহিঁ যব প্রিয়সখি আওত কোই।
চরণে লিখই মহী নিশবদ হোই॥
যতনে পুছিয়ে যব মরমক বোল।
উতর না দেই রোয় উতরোল॥
কিয়ে পুন আছয়ে হিয়-অভিলাষ।
না বুঝিয়ে কহ ঘনশ্যামর দাস॥


ই পদটি, ১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী”
সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৮৮-এ এইভাবে রয়েছে। এই পদটি ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই
গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

শ্রীরাধার আপ্তদূতী

.        ॥ সিন্ধুড়া॥

সখিগণ সঞে নাহি হাস সম্ভাষ।
অনুখণ ধরণি শয়নে অভিলাষ॥
এ হরি যব ধরি পেখল তোয়।
তব ধরি দিনে দিনে ঐছন হোয়॥ ধ্রু॥
নয়নকমলে জল গলয়ে সদায়।
বিরলে বসিয়া সে তোহারি গুণ গায়॥
তহি যব প্রিয় সখী আওত কোই।
চরণে লিখই মহি নিশবদ হোই॥
যতনে পুছিয়ে যব মরমক বোল।
উতর না দেয়ই রোয়ে উতরোল॥
কিয়ে পুন আছয়ে হিয়ে অভিলাষ।
না বুঝিয়ে কহ ঘনশ্যামর দাস॥


ই পদটিই, ১৯১৬ সালে হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলি সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৯১-এ এভাবে দেওয়া রয়েছে।

.        ॥ ধানশী॥

সখিগণ সঙ্গে নাহি হাস পরিহাস।
অনুক্ষণ ধরণী শয়নে অভিলাষ॥
এ হরি যব ধরি পেখল তোয়।
তব ধরি দিনে দিনে ঐছন হোয়॥ ধ্রু॥
নয়ান কমলে জল গলয়ে সদায়।
বিরলে বসিয়া সে তোহারি গুণ গায়॥
তহি যদি প্রিয়সখী আওত কোই।
চরণে লিখত মহী নিশবদ হোই॥
যতনে পুছিয়ে যব মরমক বোল।
উতর না দেয়ই রোয়ে উতরোল॥
কিয়ে পুনঃ আছয়ে হিয়ে অভিলাষ।
না বুঝিয়া কহ ঘনশ্যামর দাস॥


ই পদটিই, দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত,
বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”-এর পৃষ্ঠা ৪৩০-এ
এভাবে দেওয়া রয়েছে।

সখিগণ সঞে নাহি হাস পরিহাস। অনুক্ষণ ধরণী শয়নে অভিলাষ॥
এ হরি যব ধরি পেখনু তোয়। তব ধরি দিনে দিনে ঐছন হোয়॥ ধ্রু॥
নয়নকমল জল গলএ সদায়। বিরলে বসিএ সে তোহাঁরি গুণ গায়॥
তহি জদি প্রিয়সখী আওত কোই। চরণে লিখত মহী নিশবদ হোই॥
জতনে পুছিয়এ জবে মরমক বোল। উতর না দেই রোয়ে উতরোল॥
কি এ পুন আছয়ে হিয়া অভিলাষ। না বুঝিএ কহ ঘনশ্যামর দাস॥

.                  *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সহজই বিষম অরুণ দিঠি
কবি ঘনশ্যাম দাস
১৯৪৬ সালে প্রতাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৮৮। এই পদটি
ঘনশ্যাম দাস কবিরাজের পদ বলে এই গ্রন্থে উল্লেখ করা রয়েছে।

॥ কামোদ ॥

সহজই বিষম                   অরুণ দিঠি অঞ্চল
আর তাহে কুটিল কটাখি।
হেরইতে হামারি                 ভেদি উর অন্তর
ছেদল ধৈরয শাখী॥
এ সখি বিহরই কো পুন এহ।
পীত বসন জনু                  বিজুরী বিরাজিত
সজল জলদরুচি দেহ॥ ধ্রু॥
মৃদু মৃদু হাসি                     ভাষি উপজায়ল
দারুণ মনসিজ-আগি।
যাকর ধূমে                      ধরমপথ কুলবতী
হেরই বহু পুণ ভাগি॥
তঁহি পুন বেনু                  অধরে ধরি ফুকরই
দহইতে গৌরব লাজ।
কহ ঘনশ্যাম                       দাস ধনি ঐছন
আন আন হৃদয়ক মাঝ॥

ই পদটি রয়েছে আনুমানিক ১৭২৫ সালে, ১১৭০টি পদ সম্বলিত, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত, ৪৬২
শ্রীগৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত, শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় ( পূর্বরাগ ) গ্রন্থ, পৃষ্ঠা-২১৭-এ। এই
জন্য এই পদটি ঘনশ্যাম চক্রবর্তীর রচনা বলে মনে করা অসংগত হবে না। কিন্তু যেহেতু পদকল্পতরুর
সতীশচন্দ্র রায় ও বৈষ্ণদব পদাবলী গ্রন্থের হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের মত বিশেষজ্ঞগণ এই পদটিকে ঘনশ্যাম
কবিরাজের রচনা বলে মনে করেছেন, আমরাও এই পদটিকে ঘনশ্যাম কবিরাজের পাতায় রাখলাম। এটা
তো হতেই পারে যে, নরহরি ঘনশ্যাম চক্রবর্তী তাঁর সংকলন গীতচন্দ্রোদয়ে তাঁর পূর্বতন কবি ঘনশ্যাম
কবিরাজের কিছু পদ সন্নিবেশ করেছিলন। দুজনেরই একই ভণিতা! পাঠকের সুবিধের জন্য ঘনশ্যাম
চক্রবর্তীর পাতাতেও এই পদটি তুলে দেওয়া হলো।

॥ কামোদ ॥

সহজই বিষম                   অরুণ দিঠি তাকর
আর তাহে কুটিল কটাখ ।
হেরইতে হামারি                  ভেদি উর অন্তর
ছেদল ধৈরজ-শাখ ॥
এ সখি !  বিহরই কো পুন এহ ।
পীতবসন জনু                    বিজুরী বিরাজিত
সজল জলদরুচি দেহ ॥ ধ্রু ॥
মৃদু মৃদু হাসি                     ভাষি উপজায়ল
দারুণ মনসিজ আগি ।
যাকর ধূমে                      ধরম-পথ কুলবতী
হেরই বহু পুণ তাগি ॥
এহি পুন বেনু                  অধরে ধরি ফুকরই
দহইতে গৌরব লাজ ।
কহ ঘনশ্যাম                        দাস ধনী ঐছন
আন আন হৃদয়ক মাঝ ॥


ই পদটি, আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব,
শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ--সবিস্তার, পদসংখ্যা ১৫০-এ এভাবে রয়েছে।

॥ কামোদ ॥
সহজই বিষম                  অরুণ দিঠি তাকর
আর তাহে কুটিল কটাখি ।
হেরইতে হামারি                  ভেদি উর অন্তর
ছেদল ধৈরজ-শাখী ॥
এ সখি !  বিহরয়ে কো পুন এহ ।
পীত-বসন জনু                   বিজুরী বিরাজিত
সজল-জলদ-রুচি দেহ ॥ ধ্রু ॥
মৃদু মৃদু হাসি                      ভাষি উপজায়ল
দারুণ মনসিজ আগি ।
যাকর ধূমে                       ধরম-পথ কুলবতী
হেরই বহু পুণ তাগি ॥
এহি পুন বেণু                   অধরে ধরি ফুকরই
দহইতে গৌরব লাজ ।
কহ ঘনশ্যাম                          দাস ধনী ঐছন
অন অন হৃদয়ক মাঝ ॥

টীকা বা ব্যাখ্যা -
৮ - ১১। “মৃদু মৃদু ভাষি” ইত্যাদি। (শ্রীকৃষ্ণ) মৃদু মৃদু সম্ভাষণ ও হাস্য করিয়া (অন্তরে) প্রবল কাম-বহ্নি
উত্পাদিত অর্থাৎ প্রজ্বলিত করিলেন ; যাহার ধূমে কুলবতী কামিনী ধর্ম্মের পথ দেখিয়াও কিন্তু দূরে থাকে
(অর্থাৎ ধূমের প্রাবল্যে ধর্ম্ম-পথে চলিতে পারে না)। এ স্থলে ‘রূপক’ অলঙ্কারের ধ্বনি দ্বারা কন্দর্প-জনিত
চিত্ত-বিভ্রমরূপ বস্তু ব্যঞ্জিত হইতেছে।
১২ - ১৫। “তহি পুন” ইত্যাদি। তাহাতে আবার তিনি (কুলবতীগণের) কুলাভিমান ও লজ্জা দগ্ধ করিবার
জন্য অধরে বংশী (অপর পক্ষে অগ্নি-প্রজ্বালনের যন্ত্র বংশীর আকার-বিশিষ্ট বাঁশের চোঙ্গা) ধারণ করিয়া
ফুত্কার দিতেছেন ; (উহার ফল যে কি হইবে, তাহা কে বলিতে পারে ?) পদকর্ত্তা ঘনশ্যাম কহিতেছেন,০০০
হে শ্রীরাধে! (কেবল তোমার এই দশা ঘটে নাই ; ) এই প্রকার অন্যোন্য অর্থাৎ তোমাদের উভয়ের হৃদয়ের
মাঝেই হইয়াছে। এ স্থলে বেণুর ফুত্কারকে কবি প্রজ্বালন-যন্শ্রে ফুকাররূপে বর্ণিত করায়, শ্লেশমূলক
রূপক ও অতিশয়োক্তির সঙ্কর অলঙ্কার ঘটিয়াছে।
--- সতীশচন্দ্র বায়, পদকল্পতরু॥


ই পদটিই, ১৯৬০ সালে, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”,
পৃষ্ঠা ৩৬-এ এভাবে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ ॥
সহজই বিষম                    অরুণ-দিঠি তাকর
আর তাহে কুটিল কটাখ ।
হেরইতে হামারি                   ভেদি-উর-অন্তর
ছেদল ধৈরজ-শাখ॥
এ সখি, বিহরয়ে কো পুন এহ।
পীত বসন জনু                   বিজুরী বিরাজিত
সজল জলদ-রুচি দেহ॥
মৃদু মৃদু ভাষি                     হাসি উপজায়ল
দারুণ মনসিজ-আগি।
যাকর ধূমে                       ধরম-পথ কুলবতী
হেরই বহু পুণ ভাগি॥
তঁহি পুন বেণু                 অধরে ধরি ফুকরই
দহইতে গৌরব লাজ।
কহ ঘনশ্যাম                        দাস ধনি ঐছন
আনহ হৃদয়ক মাঝ॥

ব্যাখ্যা -
তার আরক্তিম চোখের দিকে তাকানোই কঠিন---কটাক্ষ সো তো আরো দুঃসহ। দৃষ্টির মিলন হবার সঙ্গে
সঙ্গেই সে আমার ধৈর্যের শাখা ছেদন করেছে। তার মেঘের ন্যায় মেদুর অঙ্গকান্তি আর পীত বসন, তার
মৃদু মৃদু আলাপন আমার মনে বাসনার অগ্নিশিখাকে প্রজ্বলিত করল। তার ধূমে আচ্ছন্ন হল প্রচলিত ধর্মের
পথ। সে পথের নিশানা জেনেও কুলবতী নারী তা থেকে দূরেই থেকে যায়। সে যখন বাঁশিতে তুলেছে তান
তখন তার ফুত্কারে সেই অগ্নিশিখা দ্বিগুণ জ্বলে উঠে লাজ গৌরব পুড়িয়ে ফেলল।
--- সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রীশ্রীপদ-রত্ন-মালা।


ই পদটি, ১৯৬১ সালে বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী” গ্রন্থের, পদ
সংখ্যা ২৫৪, পৃষ্ঠা ২০০-এ এইভাবে দেওয়া রয়েছে। গোবিন্দরতিমঞ্জরী ৪র্থ পদ।

সহজই বিষম                     অরুণ দিঠি তাকর
আর তাহে কুটিল কটাখি ।
হেরইতে হামারি                   ভেদি উর অন্তর
ছেদল ধৈরজ-শাখি॥
এ সখি, বিহরয়ে কো পুনঃ এহ।
পীত বসন জনু                     বিজুরী বিরাজিত
সজল-জলদ-রুচি দেহ॥
মৃদু মৃদু ভাষ                        হাসি উপজায়ল
দারুণ মনসিজ-আগি।
যাকর ধূমে                        ধরম-পথ কুলবতী
হেরই বহু পুণ ভাগি॥
তঁহি পুন বেণু                    অধরে ধরি ফুকরই
দহইতে গৌরব লাজ।
কহ ঘনশ্যাম                          দাস ধনি ঐছন
অন অন হৃদয়ম মাঝ॥

.           *******************          

এই ঘনশ্যাম ( ঘনশ্যাম কবিরাজের ) সূচীতে . . .   
ঘনশ্যাম নরহরি চক্রবর্তীর সূচীতে . . .    
দ্বিজ ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
অনির্দিষ্ট ঘনশ্যামের সূচীতে . . .    
সম্মিলিত ঘনশ্যামের সূচীতে . . .   


মিলনসাগর