কবি গিরিধর দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
রাইক হৃদয়ভাব বুঝি মাধব
কবি গিরিধর দাস
এই পদটি পীতাম্বর দাস দ্বারা সপ্তদশ শতকে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ
মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন  "অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও
রসমঞ্জরী”, ২৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” নামক
সংকলনের ৬৭১-পৃষ্ঠায় এই পদটি “গোবিন্দ” ভণিতায় অর্থাৎ গোবিন্দদাসের পদ বলে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাইক হৃদয়-                           ভাব বুঝি মাধব
পদতলে ধরণী লোটয়ী।
দুই করে দুই পদ                        ধরি রহু মাধব
তবহু বিমুখ . . . ভেল রাই॥
প্রণতি-বিনতি করূ কান।
হাম তুয়া অনুগত                     তুহু ভাল জানত
কাহে দগধ মঝু প্রাণ॥ ধ্রু।
তুহুঁ যব সুন্দরি                       মুখ নাহি হেরবি
হাম যাওব কোন ঠাম।
তুয়া বিনু জীবন                     কোন কাজে রাখব
তেজব পাপ পরাণ॥
এতেক বিনয়                           করল যব মাধব
পুন নাহি হেরল বয়ান।
গিরিধর দাস                        মিছই আস আসল
বিনুখে চলল তহি কান॥

ই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে সংকলিত এবং ১৯২৯ সালে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা
সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ১৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

রাইক হৃদয়-                        ভাব বুঝি মাধব
পদতলে ধরণী লোটায়।
দুই করে দুই পদ                     ধরি রহু মাধব
তবহুঁ বিমুখ ভেল রাই॥
পুনহি বিনতি করু কাহ্ন।
হাম তুয়া অনুগত                  তুহুঁ ভালে জানত
কাহে দগধ মঝু প্রাণ॥
তুহুঁ যদি সুন্দরি                      মুখ নাহি হেরবি
হাম রহব কোন ঠাম।
তুয়া বিনে জীবন                  কোন কাজে রাখব
তেজব ও পাপ পরাণ॥
রাই-চরণে ধরি                    এতেক বিনতি করি
তভু নাহি হেরত বয়ান।
গিরিধরদাস                        মিছই আশোয়াসল
রোই রোই চলু কাহ্ন॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মধুর বৃন্দাবিপিনে মাধব
কবি গিরিধর দাস
এই পদটি বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  সংকলিত ও বিরোচিত এবং
১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”,
উনবিংশ ক্ষণদা-শুক্লা চতুর্দ্দশী, ২৩৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পূরবী॥

মধুর বৃন্দা-                           বিপিনে মাধব
বিহরে মাধবী সঙ্গিয়া।
দুহুঁ গুণ দুঁহু                        গাওয়ে সুললিত
চলত নর্ত্তক-ভঙ্গিয়া॥
শ্রবণ-যুগ পর                        দেই পরস্পর
নওল কিশলয় তোড়িয়া।
দোহুঁক ভুজ দুহুঁ                      কান্ধে শোহই
চুম্বই মুখ-শশী মোড়িয়া॥
তেজি মকরন্দ                           ধাই বেঢ়ল
মুখর-মধুকর-পাঁতিয়া।
মত্ত-কোকিল                           মঙ্গল গাওত
নাচত শিখি-কুল মাতিয়া॥
সকল সখীগণ                         কুসুম বরিষণ
করয়ে আনন্দ ভোরিয়া।
দাস গিরিধর                           কবহুঁ হেরব
কাঁতি শ্যামর-গোরিয়া॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ১২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য পরিষদের
২০১পুথি থেকে।

রাস-লীলা
॥ পূরবী॥

মধুর বৃন্দা-                        বিপিনে মাধব
বিহরে মাধবি সঙ্গিয়া।
দুহুঁক গুণ দুঁহু                     গাওয়ে সুললিত
চলত নর্ত্তন-ভঙ্গিয়া॥
শ্রবণ-যুগ পরি                      দেই অনোঅন
নওল-কিসলয় তোড়িয়া।
দুহুঁক ভুজ দুহুঁ-                        কান্ধ হেলন
চুম্বই মুখশশি মোড়িয়া॥
তেজি মকরন্দ                          ধাই বেঢ়ল
মুখর-মধুকর-পাঁতিয়া।
মত্ত-কোকিল                        মঙ্গল গাওত
নাচ শিখি কুল মাতিয়া॥
সকল সখি-গণ                      কুসুম-বরিখণ
করয়ে আনন্দ ভোরিয়া।
দাস গিরিধর                          কবহুঁ হেরব
কাঁতি শ্যামের-গোরিয়া॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন পাদাবলী”, ১২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ - জপতাল॥

মধুর বৃন্দা-বিপিনে মাধব
বিহরে মাধবী সঙ্গীয়া।
দুহু গুণ দুহু গাওয়ে সুললিত
চলত নর্ত্তক-ভঙ্গিয়া॥
শ্রবণ যুগল পর, দেই পরস্পর
নওল কিশলয় তোড়িয়া।
দুহুক ভুজ দুহু কান্ধে সোহই
চুম্বই মুখ-শশি মোড়িয়া॥
তেজি মকরন্দ---ধাই বেঢ়ল
মুখর মধুকর-পাঁতিয়া।
মত্ত কোকিল মঙ্গল গায়ত
নাচত শিখি-কুল মাতিয়া॥
সকল সখিগণ কুসুম বরিষণ
করত আনন্দ ভোরিয়া।
দাস গিরিধর কবহু হেরব---
কাঁতি শামর-গোরিয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
১০৯২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রাস-লীলা
॥ পূরবী॥

মধুর বৃন্দা-                        বিপিনে মাধব
বিহরে মাধবি সঙ্গিয়া।
দুহুঁক গুণ দুঁহু                    গাওয়ে সুললিত
চলত নর্ত্তন-ভঙ্গিয়া॥
শ্রবণ-যুগ পরি                    দেই অনো অন
নওল-কিসলয় তোড়িয়া।
দুহুঁক ভুজ দুহুঁ-                       কান্ধ হেলন
চুম্বই মুখ শশি মোড়িয়া॥
তেজি মকরন্দ                          ধাই বেঢ়ল
মুখর-মধুকর-পাঁতিয়া।
মত্ত-কোকিল                         মঙ্গল গাওত
নাচে শিখি কুল মাতিয়া॥
সকল সখি-গণ                       কুসুম-বরিখণ
করয়ে আনন্দ ভোরিয়া।
দাস গিরিধর                          কবহুঁ হেরব
কাঁতি শ্যামর-গোরিয়া॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৯৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ - জপতাল॥

মধুর বৃন্দা বিপিনে মাধব
বিহরে মাধবি সঙ্গীয়া।
দুহুঁক গুণ দুঁহু গাওয়ে সুললিত
চলত নর্ত্তন ভঙ্গিয়া॥
শ্রবণ যুগ পরি দেই অনো অন
নওল কিসলয় তোড়িয়া।
দুহুঁক ভুজ দুঁহু কান্ধ হেলন
চুম্বই মুখ শশি মোড়িয়া॥
তোঁজ মকরন্দ ধাই বেঢ়ল
মুখর মধুকর পাঁতিয়া।
মত্ত কোকিল মঙ্গল গাওত
নাচে শিখি কুল মাতিয়া॥
সকল সখি গণ কুসুম বরিখণ
করয়ে আনন্দে ভোরিয়া।
দাস গিরিধর কবহুঁ হেরব
কাঁতি শামর গোরিয়া॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যাকর চরণ নখর রুচি হেরইতে
কবি গিরিধর দাস
এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”,
৯১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

যাকর চরণ নখর রুচি হেরইতে মুরছই কত কত দাম।
সোমঝু পদতল ধূলী লোটায়ল পা@@ নাহেরিনু হাম॥
সজনী কি পুছলি হামারি অভাগী।
ব্রজকুল নন্দন চাঁদ পেখনু দারুণ মানক লাগি॥ ধ্রু॥
কাতর গিঠ মিট বচনামৃতে কত রূপে সাধল নাহ।
সো হামু শ্রবণ সীমে নাহি @@@ অব হিয় তুষ কি দাহ॥
কৈছে হৃদয় পন্থ কা সঞে মহা র@ সঙরি সঙরি মন বুর।
গিরিধর দাস কহই ধনী বিবমহু হরি পুনঃ তোহারি অদূর॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর