গিরিধর দাসের রচনা সম্ভার -                                                          পাতার উপরে . . .  
মিলনসাগরে আমরা
সতীশচন্দ্র রায়ের কথা অনুসারে, “এই গিরিধরের বিলুপ্তপ্রায় অন্যান্য পদগুলি সংগৃহীত
ও প্রকাশিত” করার চেষ্টাই করেছি, যাতে গিরিধর পদগুলি একত্রে প্রকাশিত করতে পারি।

অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাতে বাধ্য হচ্ছি যে, আমরা চল্লিশটি পদাবলী সংকলন ও অন্যান্য বৈষ্ণব-সাহিত্য-
গ্রন্থ থেকে তাঁর মাত্র তিনটি পদ হাতে পেয়ে এখানে তুলতে সমর্থ হয়েছি। মিলনসাগরের বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন ও অন্যান্য বৈষ্ণব সাহিত্যের
গ্রন্থের সূচীতে যেতে এখানে ক্লিক করুন . . . ।     

আমরা
মিলনসাগরে  কবি গিরিধর দাসের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই  
প্রচেষ্টার সার্থকতা।


কবি গিরিধর দাসের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।  


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ১১.৯.২০১৮
...
কবির একটি ছবি ও তাঁর জীবন সম্বন্ধে
আরও তথ্য যদি কেউ আমাদের পাঠান
তাহলে আমরা, আমাদের কৃতজ্ঞতাস্পরূপ
প্রেরকের নাম এই পাতায় উল্লেখ করবো।
আমাদের ঠিকানা -
srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতার কবিতার ভণিতা -
গিরিধর, গিরিধর দাস
গিরিধর দাস
সপ্তদশ শতক
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
.
গিরিধর দাস - এই কবির সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানা যায় না। “গিরিধর দাস” তাঁর পদবলীর ভণিতা। তাঁর
পুরো নাম বা আসল নাম কি ছিল তা জানা যায় নি। আমরা তাঁর তিনটি মাত্র পদ পেয়েছি, আমাদের
সংগ্রহের বৈষ্ণব পদাবলী সংকলনগুলি থেকে।
রামগোপাল দাসের এক শিক্ষাগুরুর নাম গিরিধর -                                 পাতার উপরে . . .  
শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লীর রচয়িতা
রামগোপাল দাসের অন্যান্য শিক্ষাগুরুর মধ্যে একজনের নাম পাওয়া
গিয়েছে “গিরিধর চক্রবর্তী”। তিনিও “গিরিধর দাস” ভণিতার পদকর্তা হতে পারেন! গ্রন্থের সম্পাদক
হরেকৃষ্ণ
মুখোপাধ্যায় তাঁর মুখবন্দে লিখেছেন . . .

গোপালদাস কয়েকজন শিক্ষাগুরুর নাম করিয়াছেন। ইঁহাদের মধ্যে ব্রজদেবীদাস ঠাকুর, শ্রীরূপ ঘটক,
রামেশ্বর ভট্টাচার্য্য, গিরিধর চক্রবর্ত্তী, জয়রামদাস, গৌরগতিদাস এবং পিতৃব্য রাধাকৃষ্ণদাসের নাম
উল্লেখযোগ্য
।”

শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লীর সপ্তম কোরক-এ
রামগোপাল দাস লিখেছেন . . .

জয় জয় দীক্ষা শিক্ষা গুরুর চরণ।
শিক্ষা শ্রীগুরু মোর হএ পঞ্চজন॥
শ্রীঘটক ঠাকুর হন ব্রজদেবীর দাস।
অনেক কহিল তেহোঁ লীলার প্রকাশ॥
শ্রীরাধাকৃষ্ণ দাস মোর পিতৃব্য মহাশয়।
জাহা হইতে শ্রীচরণ হইলাম আশ্রয়॥
গৌরগতি দাস জানাইল গোপাল মহান্ত।
জয়রাম দাস কহিল মোরে স্তবাদি নিতান্ত॥
রামেশ্বর ভট্টাচার্য্য মোরে গ্রন্থ পড়াইলা।
গিরিধর চক্রবর্ত্তী অনেক কহিলা


পদকর্তা ও সংকলক
রামগোপাল দাসের, গিরিধর নামের এক শিক্ষাগুরুর উল্লেখ এবং তাঁরই পুত্র পীতাম্বর
দাসের বিরচিত অষ্টরস ব্যাখ্যায় গিরিধর দাসে একটি পদ সংকলিত হওয়াকে নিতান্ত “কাকতালীয়” বলে
ভাবার কোনো কারণ নেই বলে আমরা মনে করছি।

আমরা “প্রায়” নিশ্চিত যে গিরিধর দাস এবং গিরিধর চক্রবর্তী একই ব্যক্তি।
.
রামগোপাল দাসের এক শিক্ষাগুরুর নাম গিরিধর   
বিভিন্ন পদাবলীতে তাঁর পদ   
সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি   
গিরিধর দাসের রচনা সম্ভার      
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"    
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?        
বিভিন্ন পদাবলীতে তাঁর পদ -                                                             পাতার উপরে . . .  
বৈষ্ণবদাসের পদকল্পতরুতে না থাকলেও, গিরিধর দাসের পদ রয়েছে, আরও প্রাচীন, পীতাম্বর দাসের  
“অষ্টরস ব্যাখ্যায়” এবং
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ওরফে হরিবল্লভের “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি” পদসংকলনে।

দীনবন্ধু দাসের “সংকীর্ত্তনামৃতে” গিরিধর দাসের একটি ব্রজ-লীলার পদ পাওয়া গিয়েছে, “রাইক  হৃদয়ভাব
বুঝি মাধব”।
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” নামক সংকলনে এই পদটি “গোবিন্দ”  
ভণিতায় অর্থাৎ
গোবিন্দদাসের পদ বলে দেওয়া রয়েছে। তিনি এই পদটির উত্স জানান নি।

“শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি” ও সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত “কীর্ত্তন পদাবলী” সংকলনে, গিরিধর  
দাসের অন্য একটি পদ রয়েছে “মধুর বৃন্দা-বিপিনে মাধব”। ব্রজ-লীলার এই পদটি তাঁরা কোন পুথি বা গ্রন্থ
থেকে পেয়েছিলেন তা জানান নি।  

তৃতীয় “যাকর চরণ নখর রুচি হেরইতে” পদটি আমরা পেয়েছি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত,
গৌরমোহন দাসের  
“পদকল্পলতিকা” সংকলন থেকে।

তাই আমরা মনে করছি যে এর থেকে প্রমাণ হয় যে এই কবি অন্তত ষোড়শ শতকের প্রথমার্ধ বা তারও  
পূর্বের। মোটের উপর গিরিধর দাস “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”-এর রচয়িতা
রামগোপালদাসের পূর্ববর্তী কবি
তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
.
সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি -                                                               পাতার উপরে . . .  
১৯২৬ সালে প্রকাশিত,
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”-এর
ভূমিকায়, গিরিধর দাস সম্বন্ধে তিনি লিখেছেন . . .

গিরিধর দাসের সম্বন্ধে কিছুই জানা যায় নাই। ইহাঁর একটি মাত্র রাস-লীলার পদ পদ-রত্নাবলীতে সংগৃহীত
হইয়াছে। পদটির রচনা সুন্দর। বৃন্দাবনচন্দ্রের রাস-লীলার উত্সবে বৃন্দাবনের ভ্রমর কোকিল ময়ূর পর্যন্ত
কিরূপ উল্লাসে যোগ দিয়াছে, গিরিধরের---
তেজি মকরন্দ                ধাই বেঢ়ল
.        মুখর মধুকর পাঁতিয়া।
মত্ত কোকিল                মঙ্গল গাওত
.        নাচে শিখি-কুল মাতিয়া॥
ইত্যাদি বর্ণনায় তাহার চিত্রটি বেশ ফুটিয়াছে। এই গিরিধরের বিলুপ্তপ্রায় অন্যান্য পদগুলি সংগৃহীত ও
প্রকাশিত হওয়া একান্ত বাঞ্ছনীয়
।”
.