গোকুলানন্দ দাস ভণিতার কবির বৈষ্ণব পদাবলী
*
গৌর আনিলুঁ আনিলুঁ বৈলো
ভণিতা গোকুলানন্দ দাস
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (১৯৩৪, প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৯৯-পৃষ্ঠায়  এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

গৌর আনিলুঁ আনিলুঁ বৈলো১।
নাচে রে অদ্বৈত পহুঁ দুবাহু তুলে॥
ক্ষণে ক্ষণে ঘুরিয়া ঘুরিয়া।
নাচে বুড়া মণ্ডলি করিয়া॥
ক্ষণে জোড় করি পদ দুটী।
লাফে লাফে যায় কাঁপাইয়া মাটি॥
ক্ষণে বুড়া চায় আড়ে আড়ে।
গোরা পানে চাহি আঁখি ঠারে॥
মপচকি মুচকি ক্ষণে হাসে।
হাসায় গোকুলানন্দ দাসে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তুমি কহ খেনে নারীর চরণে
ভণিতা গোকুলানন্দ দাস
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৪৯৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

চূড়া-নূপুরের দ্বন্দ্ব
॥ তথারাগ॥

তুমি কহ খেনে                               নারীর চরণে
সদাই আমারে দেখ।
তুমি বড় জনা                          বড়াই কোরো না
আপন ভরম রাখ॥
শূনহ ময়ূর চান্দা।
জনমে জনমে                             তপস্যা করিয়ে
পেয়েছি সুন্দরী রাধা॥
রাধার নখচান্দে                            ময়ূরের চান্দে
সুমেল করিয়া দেখি।
দেখি নখচান্দ                                গগনের চান্দ
হইয়াছে বড় দুখী॥
রাধার চরণে                                লয়েছি শরণ
পরম সুখেতে থাকি।
রাধা চরণের                             মহিমা জানিতে
তোমার অনেক বাকি॥
আমার রাধিকা                           মানিনী হয়েছে
তোমার রসিক রায়।
কাকুতি মিনতি                            করিয়া যতনে
ধরেছে রাধার পায়॥
জনমে জনমে                             করিয়াছি সদা
রাধা চরণের আশ।
চরণ কমলে                                  শরণ লইল
গোকুলানন্দ দাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুতিয়া ছিলেন বলবীর
ভণিতা গোকুলানন্দ দাস
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৪৯৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

স্বপ্নগোষ্ঠ

শুতিয়া ছিলেন বলবীর।
বিভোল বারুণী পিয়া                            স্বপনে উতলা হইয়া
নীলবাস জাগিয়া অধীর॥
স্বপনে শুনিলা যেন                               কানু বেণু পুরে হেন
গোঠে যেতে দাদা বলি ডাকে।
উছর হইল বেলা                                অঙ্গনে রাখাল মেলা
বড় লাজ দিলেক আমাকে॥
উঠিয়া সে বলরাম                                শিঙ্গায় দিলেন সান
শুনি সে গভীর গরজনে।
ধেণু ডাকে হাম্বারবে                              জাগিল রাখাল সবে
এ দাস গোকুলানন্দ ভণে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর