ভক্তিরত্নাকরে নরহরি চক্রবর্ত্তী দ্বারা গোপালভট্টের বর্ণনা -                        পাতার উপরে . . .  
নরহরি চক্রবর্তী, তাঁর ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থের প্রথম তরঙ্গে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সঙ্গে গোপাল ভট্টের  
বালকাবস্থায় সাক্ষাত থেকে শুরু করে বৃন্দাবন-গমন ইত্যাদির বর্ণনা করেছেন . . .  

কোন ভক্ত আসিয়া মিলনয়ে প্রভু সনে।
কোন ভক্তে প্রভু গিয়া মিলে ভক্তস্থানে॥
শ্রীগোপালভট্টে প্রভু দক্ষিণে মিলিলা।
প্রভু অনুগ্রহে আপনাকে জানাইলা॥
সংক্ষেপে কহিয়ে এথা ভট্টবিররণ।
শ্রীগোপালভট্ট হন বেঙ্কটনন্দন॥
শ্রীবেঙ্কটভট্টের নিবাস দক্ষিণতে।
বিশিষ্ট ব্রাহ্মণ বিজ্ঞ সকল শাস্ত্রেতে॥
ত্রিমল্ল বেঙ্কট আর শ্রীপ্রবোধানন্দ।
এ তিন ভ্রাতার প্রাণধন গৌরচন্দ্র॥
লক্ষ্মী-নারায়ণ-উপাসক এ পূর্ব্বেতে।
রাধাকৃষ্ণরসে মত্ত প্রভুর কৃপাতে॥
দক্ষিণ ভ্রমণকালে প্রভু গৌররায়।
ভট্টগৃহে চারিমাস আনন্দে গোঙায়॥
*        *        *        *        *
পিতৃব্য-কৃপায় সর্ব্বশাস্ত্র হৈল জ্ঞান।
গোপালের সম এথা নাই বিদ্যাবান্॥
কেহ কহে প্রবোধানন্দের গুণ অতি।
সর্ব্বত্র হইল যার খ্যাতি সরস্বতী॥
*        *        *        *        *
গোপালের মাতা-পিতা মহা ভাগ্যবান্।
শ্রীচৈতন্যপদে যে সোঁপিল মনঃ প্রাণ॥
বৃন্দাবন যাইতে পুত্রেরে আজ্ঞা দিয়া।
দোঁহে সঙ্গোপন হৈলা প্রভু সোঙারিয়া॥
কত দিনে গোপাল গেলেন বৃন্দাবন।
রূপ সনাতনসঙ্গে হইল মিলন॥
অন্তর্যামী প্রভু নীলাচলে সেই ক্ষণে।
জানিলেন গোপাল আইল বৃন্দাবনে
॥---নরহরি চক্রবর্তী, ভক্তিরত্নাকর, ১ম তরঙ্গ॥
ভক্তিরত্নাকরে নরহরি চক্রবর্ত্তী দ্বারা গোপালভট্টের বর্ণনা    
নরহরি চক্রবর্তীর পদে গোপালভট্টের পরিচয়    
কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃতে গোপালভট্টের নিষেধাজ্ঞা   
গোপালদাসের দুটি পদ গোপালভট্টের - সতীশচন্দ্রের উদ্ধৃতি   
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?      
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
.
কবি গোপালভট্ট - দাক্ষিণাত্য প্রদেশে কাবেরী নদীর তীরে, বেলগুঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা
ভেঙ্কটভট্ট ছিলেন বৈদান্তিক পণ্ডিত। গৌরপদতরঙ্গিণীর সম্পাদক
জগবন্ধু ভদ্রের মতে গোপাল ভট্টের জন্ম হয়
১৪২৫ শকাব্দে (১৫০৩ খৃষ্টাব্দ) এবং তিরোভাব ১৫০০ শকাব্দে (১৫৭৮ খষ্টাব্দ)।
বৈষ্ণবদাসের পদকল্পতরুতে
তাঁর ষোড়শ শতকের খাঁটি ব্রজভাষায় রচিত দুটি পদ সংকলিত হয়েছে।

গোপালভট্টের দুই কাকা ছিলেন। ত্রিমল্ল এবং প্রবোধানন্দ। প্রবোধানন্দও বেদান্তশাস্ত্রে পণ্ডীত ছিলেন এবং
"সরস্বতী" উপাধী পেয়েছিলেন। তিনি গোপালভট্টের শিক্ষাগুরু ছিলেন। তাঁরই শিক্ষাকৌশলের ফলে  
অল্পবয়সের মধ্যেই গোপাল সর্বশাস্ত্রে পারদর্শী হয়ে উঠলেন।

বেঙ্কটভট্ট পরম বৈষ্ণব ছিলেন।
চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর দেশ পর্যটনকালে বেঙ্কটভট্টের বাড়ীতে চার মাস  
অতিবাহিত করেন। সেই সময়ে তিনি বালক গোপালভট্টকে দীক্ষিত করিয়ে সন্ন্যাসধর্ম গ্রহণ করান।

এরপরে সনাতন ও
রূপ গোস্বামীর, বৃন্দাবনে আশ্রম স্থাপন করার পরে গোপালভট্ট, বৃন্দাবনে গিয়ে তাঁদের
আশ্রমবাসী হন। সেখানে তিনি তাঁদের সঙ্গে প্রসিদ্ধ ষট্ গোস্বামীদের অন্যতম স্থান অধিকার করেন। এখানেই
তিনি বৈষ্ণব-স্মৃতি হরি-ভক্তি-বিলাস নামের গ্রন্থ সংকলন করেন।

শ্রীচৈতন্য-পরবর্তী কালের প্রসিদ্ধ বৈষ্ণব আচার্য্য, শ্রীনিবাস আচার্য্য, গোপালভট্টের কাছেই দীক্ষাগ্রহণ করেন।
১৯১১ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত ষোড়শ শতকে গোস্বামী গোপাল ভট্ট রচিত এবং ১৩১৮বঙ্গাব্দে শ্যামাচরণ কবিরত্ন
দ্বারা সম্পাদিত শ্রীশ্রীহরিভক্তিবিলাসঃ, গ্রন্থের ভূমিকার সাথে দেওয়া গ্রন্থকারের সংক্ষিপ্ত পরিচয় থেকে এবং
নীচে দওয়া পদকল্পতরু  গ্রন্থে প্রাপ্ত
নরহরি চক্রবর্তীর এরটি পদ থেকে গোপাল ভট্ট সম্বন্ধে কিছু তথ্য জানা
যায়।
এই পাতার ভণিতা
গোপাল ভট্ট, গোপাল দাস
গোপালদাসের দুটি পদ গোপালভট্টের - সতীশচন্দ্রের উদ্ধৃতি -                    পাতার উপরে . . .   
প্রথম বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ রসকল্পবল্লী”-এর সংকলক পদকর্তা
রামগোপাল দাস যিনি
গোপালদাস ভণিতায় রচনা করতেন, তাঁর দুটি পদের সঙ্গে গোপালভট্টের পদের ভাষাগত সাদৃষ্যের জন্য
শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর সম্পাদক
সতীশচন্দ্র রায়ের মতে ঐ দুটি পদ গোপাল ভট্টের দ্বারা রচিত মনে হয়েছে।
আমরাও
গোপালদাসের ওই পদ দুটি গোপালভট্টের এই পাতায় তুলে দিচ্ছি পাঠকের সুবিধার জন্য। পদ
দুটি মিলনসাগরের
কবি গোপালদাসের পাতাতেও পড়া যাবে। আমরা এখানে এই বিষয়ে তাঁর উদ্ধৃতি তুলে
দিলাম . . .

গোপালদাস ভণিতার ৬টি পদ পদকল্পতরুতে উদ্ধৃত হইয়াছে। ইহার মধ্যে ২৯৬৬ সংখ্যক পদটির ভাষা
বাঙ্গালার ব্রজবুলী নহে,---উহা ষোড়শ শতাব্দীর খাঁটি ব্রজ-ভাষা। বাঙ্গালী পদ-কর্ত্তার পক্ষে ব্রজধামের প্রচলিত
ভাষার পদ-রচনা করার সম্ভাবনা কম বলিয়াআমরা এই পদটি শ্রীবৃন্দাবন-বাসী প্রসিদ্ধ ষট্  গোস্বামীর  
অন্যতম গোপাল ভট্ট গোস্বামীর রচিত বলিয়াই অনুমান করি ; কেন না, পদকল্পতরুতে তাঁহার ১০৮৮ ও  
২৮৩৩ সংখ্যক দুইটি পদ উদ্ধৃত হইয়াছে ; ঐ পদদ্বয়ের সহিত ২৯৬৬ সংখ্যক পদটির ভাষা-সাদৃষ্য স্পষ্ট
লক্ষিত হয়। ২৯৬৭ সংখ্যক পদে ব্রজ-ভাষার লক্ষণ তত সুস্পষ্ট না হইলেো আমরা ঐ পদটিও গোপাল  
ভট্টের রচিত বলিয়াই অনুমান করি। তথাপি ওই পদ-দ্বয়ে ভট্ট স্থলে দাস উপাধি থাকায়, উহা সূচীতে  
গোপালদাস  নামাঙ্কিত পদের অন্তর্গত করা হইয়াছে। সে যাহা হউক, যে যুক্তি অনুসারে বাঙ্গালী কোন পদ-
কর্ত্তা ব্রজ-ভাষায় পদের রচয়িতা হইতে পারেন না,---সেই যুক্তি অনুসারেই ব্রদ-বাসী দাক্ষিণাত্য  ব্রাহ্মণ  
গোপাল ভট্ট গোস্বামীও গোপালদাস ভণিতাক বাকী ব্রজবুলী পদের রচয়িতা হইতে পারেন না। সুতরাং এই
পদগুলির রচয়িতা যে কোন বাঙ্গালী হইবেন, তাহাতে সন্দেহ নাই
।”

১৯৪৬ সালে প্রকাশিত
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”-তে গোপালভট্টের
ভণিতায় দুটি পদ সহ রয়েছে গোপালদাস ভণিতার উক্ত পদ দুটি।



আমরা
মিলনসাগরে  কবি গোপাল ভট্টের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।


বি গোপাল ভট্টের পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।          

আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২৬.১.২০১৮
...
.
আরে মোর প্রেমালয়              পরম করুণাময়
শ্রীগোপাল ভট্ট ভূ মাঝার।
সকল সদগুণ-খনি            বিপ্রবংশ-শিরোমণি
শ্রীবেঙ্কট ভট্টের কুমার॥
শ্রীগৌরাঙ্গের প্রিয় যতি        অদ্ভুত ভজন-রীতি
জগতে বিদিত কীর্ত্তি যার।
অল্পকালে মহাভক্তি       কে বুঝিতে পারে শক্তি
সদা কৃষ্ণ-রসে মাতোয়ার॥
দক্ষিণ-ভ্রমণ-কালে            প্রভু চারি মাস হলে
ত্রিমল্ল বেঙ্কটগৃহে স্থিতি।
তথা নিজ নাথে পায়্যা        পরম-আনন্দ হয়্যা
পিতার আজ্ঞায় সেবে নিতি॥
শচীসুত গৌরহরি             পরম করুণা করি
প্রিয় ভট্ট গোপালের তরে।
প্রেমামৃত পিয়াইয়া             নিজ-তত্ত্ব জানাইয়া
ভাসাইল আনন্দ সাগরে॥
পুন প্রভু গৌরহরি              ভট্টের করেত ধরি
কহে কিছু মধুর বচন।
তুয়া প্রেমাধীন আমি        শীঘ্র ব্রজে যাবে তুমি
তাহা পাবে রূপ সনাতন॥
শুনিয়া প্রভুর বাণী           বিচ্ছেদ হইবে জানি
তিলেক ধৈরজ নাহি বান্ধে।
মুখে না নিঃসরে কথা         সদাই অন্তরে বেথা
ও রাঙ্গা চরণে পড়ি কান্দে॥
পুন প্রভু গৌরহরি          প্রিয় ভট্ট কোলে করি
সিঞ্চিয়া শ্রীনয়নের জলে।
কত কীপে প্রবোধিয়া         ভট্ট-মুখ পানে চাইয়া
কাতর-অন্তরে প্রভু চলে॥
শ্রীবেঙ্কট ত্রিমল্লেরে         আশ্বাসিয়া বারে বারে
দক্ষিণ ভ্রমণে প্রভু গেলা।
এথা কথোদিন পরি               গৃহ-সুখ পরিহরি
শ্রীগোপাল ভট্ট ব্রজে আইলা॥
প্রভু আসি পুরুষোত্তমে       যবে গেলা বৃন্দাবনে
তাহাঁ হইতে আসিবার কালে।
পথে রূপ সনাতনে           শিক্ষা দিয়া দুই জনে
তবে প্রভু গেলা নীলাচলে॥
রূপ আর সনাতন           যবে আইলা বৃন্দাবন
ভট্ট গোসাঞি মিলিলা সভায়।
প্রভু-প্রিয় লোকনাথ           মিলিলা সভার সাথ
সভে মেলি গৌর-গুণ গায়॥
নীলাচলে গৌরাঙ্গ               বিহরে ভকত সঙ্গ
শুনিলা শ্রীভট্ট ব্রজে গেলা।
মহাপ্রভু প্রেম ভরে           শ্রীগোপাল ভট্ট করে
ডোর বহির্বাস পাঠাইলা॥
সভা সহ সনাতন               ডোর বহির্বাস ধন
পাইয়া আনন্দ উথলিল।
কেহু নাচে কেহু গায়        কেহু প্রেমে গড়ি যায়
চারি দিগে ক্রন্দন উঠিল॥
কথো ক্ষণে স্থির হৈয়া       ডোর বহির্বাস লৈয়া
সমর্পিলা গোপাল ভট্টেরে।
ডোর-বহির্বাস ধন              পাইয়া আনন্দ মন
নিয়ম করিয়া সেবা করে॥
গৌরাঙ্গের গুণ গানে         দিবানিশি নাহি জানে
শ্রীরূপ-সভায় সদা স্থিতি।
গোসাঞি শ্রীসনাতন            সঙ্গে সুখ অনুক্ষণ
কে বুঝিবে তাহার পিরিতি॥
গোসাঞির বৈরাগ্য যত      তাহা বা কহিব কত
যার প্রেমাধীন জানাইতে।
শ্রীরাধারমণ-লীলা              আপনে প্রকট হৈলা
শালগ্রাম-শিলাতে হইতে॥
শ্রীরাধারমণ বিনে            অন্য কিছু নাহি জানে
শ্রীরাধারমণ প্রাণ যার।
সদা গৌর-গুণে মত্ত           বাখানে ভকতি-তত্ত্ব
হেন কি বৈরাগ্য হয় আর॥
সদা বাস বৃন্দাবনে            কভু কুণ্ড গোবর্দ্ধনে
কভু বরসান নন্দীশ্বরে।
কভু বা যাবটে গিয়া          পূর্ব্ব-বাস নিরখিয়া
ভাসে মহা আনন্দ-সায়রে॥
শ্রীগোকুল মহাবনে           কভু রহে সুনির্জ্জনে
কভু প্রিয় লোকনাথ পাশ।
এইরূপে ফিরে রঙ্গে           স্নেহ ব্রজবাসী সঙ্গে
ভক্তি-দানে পরম উল্লাস॥
গুণ কি বর্ণিব আর            কৃপা কর এই বার
শ্রীনিবাস আচার্য্যের প্রভু।
নরহরি অকিঞ্চন             ও পদে সোঁপিল মন
এ অধমে না ছাড়িবা কভু॥
নরহরি চক্রবর্তীর পদে গোপালভট্টের পরিচয় -                                      পাতার উপরে . . .  
বৈষ্ণবদাস সংকলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৫শ পল্লব, শ্রীগৌরভক্তবৃন্দের চরিত্র-বর্ণন,
পদসংখ্যা ২৩৬৯-এ গোপালভট্টের জীবন সম্বন্ধে জানা যায়। পদটি কেবল মাত্র পদকল্পতরুর "খ" পুথিতে
পাওয়া গিয়েছে বলে  
সতীশচন্দ্র রায় জানিয়েছেন। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ি এই পদটির রচয়িতা নরহরি
চক্রবর্তি যিনি নরহরি ঘনশ্যাম ভণিতাতেও পদ রচনা করেছেন । নরহরি চক্রবর্তীর পাতাতেও পদটি রাখা
হয়েছে। পাঠকের সুবিধের জন্য আমরা সেই পদটি এখানে তুলে দিয়েছি . . .
.
কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃতে গোপালভট্টের নিষেধাজ্ঞা -               পাতার উপরে . . .  
চৈতন্যচরিতামৃতে
কৃষ্ণদাস কবিরাজ, গোপালভট্টের কোনো বর্ণনা দেন নি। চৈতন্যচরিতামৃতের মধ্যলীলার
নবম পরিচ্ছেদ- দক্ষিণদেশ তীর্থ পর্য্যটন-এ বেঙ্কটভট্টের সঙ্গে আলাপ-পরিচয় ও তাঁর গৃহে চার মাস থাকার
কথা থাকলেও গোপাল ভট্টের কোনো উল্লেখ নেই! তাঁর কারণ জানিয়াছেন
নরহরি চক্রবর্তী তাঁর
ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থের প্রথম তরঙ্গে . . .

প্রভু আর প্রভু-ভক্তগণের চরিত।
বিবিধ প্রকারে বর্ণে হৈয়া সাবহিত॥
ভক্ত-ইচ্ছা প্রবল জানিয়া কবিগণ।
প্রভু-ভক্তে সম্বোধিয়া করেন বর্ণন॥
কৃষ্ণদাস-কবিরাজ মহাহৃষ্ট হৈয়া।
বর্ণিলেন গ্রন্থ অনেকের আজ্ঞা লৈয়া॥
শ্রীগোপাল ভট্ট হৃষ্ট হৈয়া আজ্ঞা দিল।
গ্রন্থে নিজ-প্রসঙ্গ বর্ণিতে নিষেধিল॥
কেনে নিষেধিল ইহা কে বুঝিতেপারে।
নিরন্তর অতিদীনে মানে আপনারে॥
কবিরাজ তার আজ্ঞা নারে লঙ্ঘিবার।
নামমাত্র লিখে অন্য না করে প্রচার॥---
নরহরি চক্রবর্তী, ভক্তিরত্নাকর, ১ম তরঙ্গ॥
.