| এই পাতার ভণিতা গোপাল ভট্ট, গোপাল দাস |
| আরে মোর প্রেমালয় পরম করুণাময় শ্রীগোপাল ভট্ট ভূ মাঝার। সকল সদগুণ-খনি বিপ্রবংশ-শিরোমণি শ্রীবেঙ্কট ভট্টের কুমার॥ শ্রীগৌরাঙ্গের প্রিয় যতি অদ্ভুত ভজন-রীতি জগতে বিদিত কীর্ত্তি যার। অল্পকালে মহাভক্তি কে বুঝিতে পারে শক্তি সদা কৃষ্ণ-রসে মাতোয়ার॥ দক্ষিণ-ভ্রমণ-কালে প্রভু চারি মাস হলে ত্রিমল্ল বেঙ্কটগৃহে স্থিতি। তথা নিজ নাথে পায়্যা পরম-আনন্দ হয়্যা পিতার আজ্ঞায় সেবে নিতি॥ শচীসুত গৌরহরি পরম করুণা করি প্রিয় ভট্ট গোপালের তরে। প্রেমামৃত পিয়াইয়া নিজ-তত্ত্ব জানাইয়া ভাসাইল আনন্দ সাগরে॥ পুন প্রভু গৌরহরি ভট্টের করেত ধরি কহে কিছু মধুর বচন। তুয়া প্রেমাধীন আমি শীঘ্র ব্রজে যাবে তুমি তাহা পাবে রূপ সনাতন॥ শুনিয়া প্রভুর বাণী বিচ্ছেদ হইবে জানি তিলেক ধৈরজ নাহি বান্ধে। মুখে না নিঃসরে কথা সদাই অন্তরে বেথা ও রাঙ্গা চরণে পড়ি কান্দে॥ পুন প্রভু গৌরহরি প্রিয় ভট্ট কোলে করি সিঞ্চিয়া শ্রীনয়নের জলে। কত কীপে প্রবোধিয়া ভট্ট-মুখ পানে চাইয়া কাতর-অন্তরে প্রভু চলে॥ শ্রীবেঙ্কট ত্রিমল্লেরে আশ্বাসিয়া বারে বারে দক্ষিণ ভ্রমণে প্রভু গেলা। এথা কথোদিন পরি গৃহ-সুখ পরিহরি শ্রীগোপাল ভট্ট ব্রজে আইলা॥ প্রভু আসি পুরুষোত্তমে যবে গেলা বৃন্দাবনে তাহাঁ হইতে আসিবার কালে। পথে রূপ সনাতনে শিক্ষা দিয়া দুই জনে তবে প্রভু গেলা নীলাচলে॥ রূপ আর সনাতন যবে আইলা বৃন্দাবন ভট্ট গোসাঞি মিলিলা সভায়। প্রভু-প্রিয় লোকনাথ মিলিলা সভার সাথ সভে মেলি গৌর-গুণ গায়॥ |
| নীলাচলে গৌরাঙ্গ বিহরে ভকত সঙ্গ শুনিলা শ্রীভট্ট ব্রজে গেলা। মহাপ্রভু প্রেম ভরে শ্রীগোপাল ভট্ট করে ডোর বহির্বাস পাঠাইলা॥ সভা সহ সনাতন ডোর বহির্বাস ধন পাইয়া আনন্দ উথলিল। কেহু নাচে কেহু গায় কেহু প্রেমে গড়ি যায় চারি দিগে ক্রন্দন উঠিল॥ কথো ক্ষণে স্থির হৈয়া ডোর বহির্বাস লৈয়া সমর্পিলা গোপাল ভট্টেরে। ডোর-বহির্বাস ধন পাইয়া আনন্দ মন নিয়ম করিয়া সেবা করে॥ গৌরাঙ্গের গুণ গানে দিবানিশি নাহি জানে শ্রীরূপ-সভায় সদা স্থিতি। গোসাঞি শ্রীসনাতন সঙ্গে সুখ অনুক্ষণ কে বুঝিবে তাহার পিরিতি॥ গোসাঞির বৈরাগ্য যত তাহা বা কহিব কত যার প্রেমাধীন জানাইতে। শ্রীরাধারমণ-লীলা আপনে প্রকট হৈলা শালগ্রাম-শিলাতে হইতে॥ শ্রীরাধারমণ বিনে অন্য কিছু নাহি জানে শ্রীরাধারমণ প্রাণ যার। সদা গৌর-গুণে মত্ত বাখানে ভকতি-তত্ত্ব হেন কি বৈরাগ্য হয় আর॥ সদা বাস বৃন্দাবনে কভু কুণ্ড গোবর্দ্ধনে কভু বরসান নন্দীশ্বরে। কভু বা যাবটে গিয়া পূর্ব্ব-বাস নিরখিয়া ভাসে মহা আনন্দ-সায়রে॥ শ্রীগোকুল মহাবনে কভু রহে সুনির্জ্জনে কভু প্রিয় লোকনাথ পাশ। এইরূপে ফিরে রঙ্গে স্নেহ ব্রজবাসী সঙ্গে ভক্তি-দানে পরম উল্লাস॥ গুণ কি বর্ণিব আর কৃপা কর এই বার শ্রীনিবাস আচার্য্যের প্রভু। নরহরি অকিঞ্চন ও পদে সোঁপিল মন এ অধমে না ছাড়িবা কভু॥ |