কবি গোপাল দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
লুঠই ধরণি ধরি সোয়
গোপাল
আনুমানিক ১৭৫০ সালে গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৩২২
(১৯১৫) সালে, সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”,
১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ - সবিস্তার, পদসংখ্যা ১৮০।


.        ॥ তিরোতা॥

লুঠই ধরণি ধরি সোয়।
শ্বাস-বিহিন হেরি সহচরী রোয়॥
মুরছলি কণ্ঠে পরাণ।
ইহ পর কো গতি দৈবে সে জান॥
এ হরি পেখলুঁ সো মুখ চাই।
বিনহি পরশে তুয়া ন জীবই রাই॥
কেহ কেহ জপয়ে দেব-দিঠি জানি।
কেহ নব-গ্রহ পূজে জোতিখ আনি॥
কেহ নাসা ধরি শ্বাস বিচারি।
বিরহ-বিঘন কেহ লখই না পারি॥
শেষ-দশা যব সো সব জান।
কহই গোপাল কি হই পরিণাম॥


পদটি রয়েছে সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও
বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা
সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও রসমঞ্জরী” গ্রন্থের, পরিশিষ্টে,
পৃষ্ঠা ৩৩৩।

.        ॥ তিরোতা॥

লুঠই ধরণি ধরি সোয়।
শ্বাস-বিহিন হেরি সহচরি রোয়॥
মুছলি কণ্ঠে পরাণ।
ইহ পর কো গতি দৈবে সে জান॥
এ হরি পেখলুঁ সো মুখ চাই।
বিনহি পরশে তুয়া ন জীবই রাই॥
কেহ কেহ জপয়ে দেব-দিঠি জানি।
কেহ নবগ্রহ পুজে জোতিখ আনি॥
কেহ নাসা ধরি শ্বাস বিচারি।
বিরহ-বিঘন কেহ লঘই না পারি॥
শেষ দশা যব সো সব জান।
কহই গোপাল কি হই পরিণাম॥


এই পদটিই, ১১৭০টি পদ সম্বলিত, নরহরি (ঘনশ্যাম) চক্রবর্তী প্রণীত, ৪৬২ শ্রীগৌরাব্দে
(১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত, শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় ( পূর্বরাগ ) গ্রন্থের ১৪৮ পৃষ্ঠায়
এইভাবে আছে।

দূতী শ্রীকৃষ্ণং প্রত্যাহ---

.        ॥ তিরোতা ধানশী॥

লোটই ধরণী ধরণী ধরি সোই।
খণে খণে দীঘ নিশ্বসি খণে রোই॥
খণে খণে মুরছই কণ্ঠে পরাণ।
ইহ পর কোগতি দৈবে সে জান॥
এ হরি পেখলু সো বর নারী।
ন জীবই বিনে কর পরশ তোহারি॥ ধ্রু॥
কেহ কেহ জপয়ে দেব দিঠি জানি।
কেহ নবগ্রহ পূজে জ্যোতিষ আনি॥
কেহ কেহ কর ধরি ধাতু বিচারি।
বিরহ বিঘন কোই লখই না পারি॥
শেষ দশা যব সো সব জান।
কহই গোপাল কি হয় পরিণাম॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ছল করি বাণি কতয়ে পরলাপসি
গোপালদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৩২২ (১৯১৫) সালে,
সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”, ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৯ম পল্লব,
ধীরা মধ্যা খণ্ডিতা, পদসংখ্যা ৩৯৫।


॥ সুহই॥

ছল করি বাণি                                    কতয়ে পরলাপসি
তোহারি বচন পরমাণ।
চারি পহর রাতি                                  জাগিয়া পোহায়লুঁ
আয়লি রাতি-বিহান॥
মাধব আজি বড় দেয়লি দূখ।
আগো ইহ আরতি                          না বুঝিয়া অব তোহে
হেরি পায়লুঁ বড় সুখ॥ ধ্রু॥
ভালহি সিন্দুর                                        কাজরে পূরল
বদনহি দশনক রেখ।
হেরইতে তোহে                                   লাজ মেহে হোয়ত
যাবক-রাগ পরতেক॥
কমলিনী পাই                                       সরস-রসে ভুললি
না বুঝলি মালতি-গন্ধ।
কহই-গোপাল-                                     দাস নাহি সমুঝলি
কী ফুলে কীয় মকরন্দ॥


ব্যাখ্যা -
শ্রীরাধা কৃষ্ণকে বলিতেছেন, আর কত মিছাকথা প্রলাপের মতন বকিবে। তোমার কথাতেই প্রমাণ হইতেছে
যে ইহা মিথ্যা। মাধব আজ বড় দুঃখ দিলে। আগে তোমার আসক্তির স্বরূপ বুঝি নাই, আজ বুঝিতে
পারিলাম, এবং সুখী হইলাম! ( ব্যাঙ্গোক্তি )। বিমানবিহারী মজুমদার, পাঁচশত বত্সরের পদাবলী, ১৯৬১।

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জথে জথে রঙ্গিণী ব্রজকুলরমণী
কবি গোপাল দাস
সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ
মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও
রসমঞ্জরী” গ্রন্থ, অথ স্বাধীনভর্ত্তৃকা, পৃষ্ঠা ৩১৮।


॥ কেদার॥

জথে জথে রঙ্গিণী                                      ব্রজকুলরমণী
কামিনী কানন-মাহ।
সবজন পরিহরি                                     কুঞ্জে চলল হরি
ভুজে ধরি রাইক বাহ॥
সজনী অব হেরি কোন বনে গেল।
গুণবতী গুনহিঁ                                        কানু মন বাঁধল
নাগর অনুকুল ভেল॥
ঠামহিঁ ঠাম                                           চরণচিহ্ন হেরই
করলি জাঁহা ( জাঁহা ) কোর।
কুসুম তোড়ি পুন                                       বেশ বনাওল
সুরতি রসে হই ভোর॥
কিশলয় সেজ                                         ঠাম ঠাম হেরই
ছুটল কত ফুল বাণ।
দুহুঁ পরিমলে                                          কাননমাহা মাহ
গুঞ্জরে মধুকর জান॥
ধনি ধনি রমণী                                     শিরোমণি সুন্দরি
আরাধল মনমথ দেব।
গোপালদাস কহু                                         প্রেমকো কহু
তহু আরাধলি হরি দেব॥


এই পদটি এই ভাবেই রয়েছে, আনুমানিক ১৭৫০ সালে গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৩২৫ (১৯১৮) সালে, সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”, ২য়
খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৪শ পল্লব, শরত্কালীয় মহারাস, পদসংখ্যা ১২৬১।


শরত্কালীয় মহারাস

॥ কেদার॥

যুথে যুথে রঙ্গিণি                                   বরজ-বর-কামিনি
যামিনি কানন মাহ।
সব জন পরিহরি                                     কুঞ্জে চলল হরি
করে ধরি রাইক বাহ॥
সজনি, অব হরি কোন কানন মাহা গেল।
গুণবতী গুনহি                                       মনহি মন বান্ধল
নাগর অনুকুল ভেল॥ ধ্রু॥
ঠামহি ঠাম                                            চরণচিহ্ন হেরই
রাই করল জাহাঁ কোর।
কুসুম তোড়ি                                        বহু বেশ বনায়ল
সুরত-রভসে ভেল ভোর॥
কিশলয় শেজ                                       ঠামহিঁ ঠাম হেরই
টুটল কত ফুলমাল।
দুহুঁ অঙ্গ-পরিমলে                                          কাননবাসল
গুঞ্জরে মধুকর-জাল॥
ধনি ধনি রমণী                                        শিরোমণি সুন্দরি
আরাধল মনমথ দেব।
গোপালদাস কহু                                         ও সহচরি সহ
রাধামাধব সেব॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্রীরাধে কৃষ্ণ গোবিন্দ হরে
গোপালদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৩৩৪
(১৯২৭) সালে, সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”,
৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা - ২য় ভাগ, ৩৪শ পল্লব, নাম সংকীর্ত্তন, পদসংখ্যা ২৯৬৬।


.  ॥ বিভাষ - আড় মধ্যমান॥

শ্রীরাধে কৃষ্ণ গোবিন্দ হরে॥ ধ্রু॥
গোপীনাথ মদন-মোহন-বর
যুগল-কিশোর রসিক মুলী-ধর
রাধা-বল্লভ প্রেম-সুধাকর
ছয়ল ছবীলে রস বরসীলে
.        রূপে মদন-মন মোহে।
শ্রীব্রজ-বিনোদ মাধব গিরি-ধারি
চীর-হরণ নাগর বনওআরি (বনওয়ারি)
ললিত-ত্রিভঙ্গী কুঞ্জ-বিহারি
রূপ উজাগর রতি-সুখ-সাগর
.        ললিত বিভূষণ শোহে॥
ঘোক-বিলাসী গোকুল-বাসী
অভরণ অঙ্গ-অঙ্গ পরকাশী
ত্রিভুবন-তিলক কলা-মৃদুরাশী
লালা-লাড়লি রূপ-রসায়ন
.        সব সখিগণ-মন মোহে॥
বালা ঘন তন বসন নিভাঙন
ভামা নিজ-পতি-মোদ বাঢ়ায়ন
চম্পক-বরণী রীঝ রিঝাওন
.        বিমল-জ্যোতি অপরশ মন মোহে॥
ব্রজপতি-বাল লাল মদ-নায়ক
পরম প্রবীণ প্রেম-সুখ-দায়ক
পূরল মনকি ভই বিধায়ক
.        রুপ শিল গুণ তাহে সুন্দর কোহে।
রাধা রমণী প্যারিক মোহন
শ্যামা শ্যাম রহত নিতি গোহন
অলক লড়ী যব বেণী শোহন
.        শ্রীগোপাল দাস-প্রভু জোহন জোহে॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় রাধে কৃষ্ণ গোবিন্দ
গোপালদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৩৩৪
(১৯২৭) সালে, সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”,
৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা - ২য় ভাগ, ৩৪শ পল্লব, নাম সংকীর্ত্তন, পদসংখ্যা ২৯৬৭।


॥ বিহাগ ভৈরবী - চালি মধ্যমান॥

.        জয় রাধে কৃষ্ণ গোবিন্দ।
মধুর সুগোকুল নন্দ ছবীলে
.        শ্রীবৃন্দাবন-চন্দ॥
মুরলী-ধর মধু-সূদন মাধব
.        গোপী-নাথ মুকুন্দ।
কেলি-কলা-নিধি কুঞ্জ-বিহারী
.        গিরি-ধর আনন্দ-কন্দ॥
ব্রজ-নাগর ব্রজ-রাজকে নন্দন
.        ব্রজ-জন-নয়নানন্দ।
রাধা-রমণ কসিক রস-শেখর
.        রসময় হাসন মন্দ॥
গোপ-গোপাল-গোপি-জন-বল্লভ
.        গোকুল-পরমানন্দ।
কমল-নয়ন করুণাময় কেশব
.        দাস গোপাল দেহ পদ-মকরন্দ॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হরি হরি আমার এমন কবে হবে
গোপালদাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৩৩৪
(১৯২৭) সালে, সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”,
৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা - ২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০৫৪। এই পদটিই একই
রূপে সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও বিরচিত এবং
১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও রসমঞ্জরী” গ্রন্থের, পরিশিষ্ট, পৃষ্ঠা ৩৩৪-এ রয়েছে।


.        ॥ ধানশী॥

হরি হরি আমার এমন কবে হবে।
বিষয়-দারণ-বিষ-জঞ্জাল ছুটিবে॥
দারা-সুখ-ভোগে মুঞি হইব বিরকত।
শরণ লইব শুক বৈষ্ণব ভাগবত॥
করঙ্গ কোথলি হাতে গলায় কাঁথা দিয়া।
মাধুকরী মাগি খাব ব্রজ-বাসী হৈয়া॥
সংসার-সুখের মুখে আনল জ্বালিয়া।
থু থু করিয়া কবে যাইব ছাড়িয়া॥
জাতি-কুল-অভিমান সকল ছাড়িব।
গোপালদাসের আশা কত দিবসে ফলিব॥


এই পদটিই, ১৯৩৪ সালে জগবন্ধু ভদ্র সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ
তরঙ্গিণী” পরিশিষ্ট, প্রথম উচ্ছ্বাস, পদসংখ্যা ৬৯, পৃষ্ঠা ৩৫২, -তে এইভাবে দেওয়া আছে।


.        ॥ ধানশী॥

হরি হরি আমার এমন দশা হবে।
বিষয় দারণ বিষ জঞ্জাল টুটিবে॥
দারা সুখভোগে মুই হব বিরকত।
শরণ লইব শুক বৈষ্ণব ভাগবত॥
করঙ্গ কোথালি হাতে গলায় কাঁথা দিয়া।
মাধুকরী মাগি খাব ব্রজবাসী হৈয়া॥
সংসার সুখের মুখে অনল জ্বালিয়া।
থুথু করিয়া কবে যাইবে ছাড়িয়া॥
জাতি কুল অভিমান সকল ছাড়িব।
গোপালের আশা কত দিবসে ফলিব॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মঙ্গলাচরণ
শ্রীগোপালদাস
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, প্রথম কোরক, মঙ্গলাচরণ।


বিলোক্য গোস্বামিকৃতং হি শাস্ত্রং প্রণম্য রাধাং সততঞ্চ কৃষ্ণম্।
শ্যামাত্মজঃ শ্রীমদনানুজোহহং তনোমি যত্নাদ্ রসকল্পবল্লীম্॥


প্রণমহো গুরুদেব করিঞা ভকতি।
চরণযুগলে তাঁর দণ্ডবৎ নতি॥
পরমগুরু গোঁসাঞ্রির বন্দিয়ে চরণ।
পরাপরগুরু বন্দো করিঞা যতন॥
গুরুশ্রেণী বন্দিঞা বন্দো বৈষ্ণব গোসাঞি।
এ তিন ভুবনে যার তুলনা দিতে মাঞি॥
বন্দো শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য লীলায় অবতারী।
করুণা করিয়া প্রেম ভুবনে বিস্তারি॥
দয়াময় প্রভু বন্দো শ্রীশচীনন্দন।
অনাথের নাথ প্রভু পতিতপাবন॥
বন্দো নিত্যানন্দ প্রভু সর্ব্বগুণধাম।
রেবতীরমণ প্রভু সেই বলরাম॥


তথাহি অমরে---
বলভদ্রঃ প্রলম্বঘ্নো বলদেবোহচ্যুতাগ্রজঃ।
রেবতীরমমো রামঃ কামপালে হলায়ুধঃ॥ ইতি


বন্দো অদ্বৈতপ্রভু সীতাদেবী সঙ্গে।
যাহার প্রতিজ্ঞা প্রভু না করিলা ভঙ্গে॥
গঙ্গাজল তুলসী দিয়া কৃষ্ণ আরাধিলা।
সেই কৃপাফলে প্রভু ভুবনে জন্মিলা॥


তথাহি---
শ্রীচৈতন্যতরিতামৃতে অদ্বৈততত্ত্বোপাখ্যান
মহাবিষ্ণুর্জগত্কর্ত্তা মায়য়া যঃ সৃজত্যদঃ।
তস্যাবতার এবায়মদ্বৈতাচার্য্য ঈশ্বর॥
অদ্বৈত হরিণাদ্বৈতমাচার্য্যং ভক্তিশংসনাৎ।
ভক্তাবতারমীশং তমদ্বৈতাচার্য্যমাশ্রয়ে॥ ইতি


বন্দো গদাধর নাম পণ্ডিত মহাশয়।
যাহার মধুর রসে কৃষ্ণ বশ হয়॥
বন্দো শ্রীমুকুন্দদাস আর নরহরি।
শ্রীবঘুনন্দন বন্দো বড় ভক্তি করি॥
দামোদরস্বরূপ বন্দো পণ্ডিত বক্রেশ্বর।
বন্দো দুই হরিদাস আর কাশীশ্বর॥
শ্রীবাস বাসুদেব আদি পারিষদগণ।
দ্বাদশ গোপাল আর মহান্তের চরণ॥
বন্দো রূপ সনাতন দুই মহাশয়।
চরণযুগল তার করিয়ে হৃদয়॥
শ্রীজীব গোস্বামীর বন্দিয়ে চরণ।
রঘুনাথ গোস্বামী বন্দো করিয়া যতন॥
শ্রীভট্ট গোসাঞির চরণ বন্দিয়া।
ব্রজবাসীগণ বন্দো সাবধান হঞা॥
আত্মনিবেদন মঞি করিতে ডরাঙ।
শ্রীবৈষ্ণবের উপরোধ নাহিক এড়াঙ॥
দুই চারি বৈষব মোরে কৈল উপরোধ।
সংস্কৃত বুঝিতে মোর নাহি কিছু বোধ॥
ভাষা করিয়া রস বুঝাহ আমারে।
অতএব সংক্ষেপে কহি না হয় বিস্তারে॥
কেতুগ্রামে ভানুগ্রামে বৈষ্ণব দুই চারি।
সভাকার উপরোধ এড়াউতে নারি॥
আমিহ পণ্ডিত নহি না জানি কোন শাস্ত্র।
মহাজনের মুখে কথা যেই শুনি মাত্র॥
মহাজনের গীত গ্রন্থ পদ্য দুই চারি।
ক্রম-ব্যতিক্রম কিছু বুঝিতে না পারি॥
অতএব সভার চরণে করো পরিহার।
উপাধি জানিয়া দোষ ক্ষেমিবে আমার॥
রাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লী এ গ্রন্থের নাম।
প্রতি দলে রসের কথা করো অনুপাম॥
শ্রীরতিকান্ত প্রভু ঠাকুর আমার।
যাহার চরণ বহি গতি নাহি আর॥
তাহার উচ্ছিষ্ট মোর আছয়ে অন্তরে।
সেই বলে যেই কিছু নিবেদন করে॥
শ্রোতা বৈষ্ণবের গণে করো পরিহার।
শ্রীগোপাল দাস কহে রসের বিচার॥

ইতি শ্রীরাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লীগ্রন্থে প্রথমদলে মঙ্গলাচরণে সুমঙ্গলো নাম প্রথমঃ কোরকঃ।

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আর চারি সখা হয় লীলার সহায়
শ্রীগোপালদাস
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, দ্বিতীয় কোরক, নায়কলক্ষণ, পৃষ্ঠা ১।


আর চারি সখা হয় লীলার সহায়।
রসস্বরূপ বাক্যে রস উপজায়॥
বসন্ত কোকিল আর উজ্জ্বল মদন।
প্রকৃতি স্বভাব অঙ্গ অনঙ্গবর্ধন॥
অভিন্ন দেহ সব কৃষ্ণের স্বরূপ।
উদ্দীপন আলম্বন মহাভাব-রূপ॥
নায়কের সামগ্রী কহিলাঙ অল্পাক্ষরে।
নায়িকার কথা কিছু কহিব বিস্তারে॥
আগে স্থুল কহিল চারি নায়ক এক করণ।
চতুবিংশতি অনেকে করিঞাছেন বর্ণন॥
দুই চারি লেখি মাত্র দিগদরশন।
সব বুঝা না যায় কৈল সংক্ষেপে বর্ণন॥
শ্রীরতিপতি-চরণযুগল করি সার।
গোপালদাস কহে গতি নাহি আর॥

ইতি শ্রীরাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লীগ্রন্থে দ্বিতীয়দলে পুন্নাগো নাম [ দ্বিতীয়ঃ ] করকোঃ সমাপ্ত।

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ক্ষণে অঙ্গ পুষ্ট করে ক্ষেণে অঙ্গ ক্ষীণ
শ্রীগোপালদাস
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, চতুর্থ কোরক, ভাবের বিচার, পৃষ্ঠা
৪৬।


অথ মহাভাব---

ক্ষণে অঙ্গ পুষ্ট করে ক্ষেণে অঙ্গ ক্ষীণ।
রক্তোদ্গম দন্ত হালে চর্ম্ম রহে ভীন॥
সাক্ষাতে বিরহ হএত অনুরাগে।
রাধার ভাবে ভাবিত তাহাকে ব্যথা লাগে॥
রাধা বিনু এই ভাব অন্যে নাহি হয়ে।
মহাভাবস্বরূপা রাধা সর্ব্বশাস্ত্রে কহে॥
উদ্ঘূর্ণা চিত্রজল্পা হএত বিরহে।
উদ্ধব জানে দশ শ্লোকে অর্থ এই কহে॥
এই সব ভাব অঙ্গে অলঙ্কার ভূষণ।
গর্ব্ব পর্য্যাঙ্ক আদি দেহের বীক্ষণ॥
অন্যত্র বর্ণনা ইহার আছয়ে সুন্দর।
এই সব গ্রন্থ দেখিলে বুঝিবে সকল॥
প্রেম ইক্ষন সম ইহা করেন আস্বাদন।
স্নেহ মান প্রণয় তাহাতে প্রয়োজন॥
মান গুড়েত হয়ে তাহাতে বিকার।
প্রণয় যে খণ্ডবৎ তাহাতে হয়ে সার॥
রাগশর্করা সার তাহাতে জন্ময়।
অনুরাগ সিতাসার মাধুরী তাহা কয়॥
মহাভাব সিতোত্পল মিশাল মিলনে।
রতিপতিচরণযুগলে যার আশ।
রাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লী কহে গোপালদাস॥

ইতি শ্রীরাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লী চতুর্থদলে ভাবকদম্বঃ নাম চতুর্থঃ কোরকঃ।

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ধীরাধীর প্রগলভার কথা বুঝা নাহি যায়
শ্রীগোপালদাস
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, পঞ্চম কোরক, নায়িকা বর্ণন, পৃষ্ঠা
৬৩।


অথ ধীরাধীরগুণোপেতা ধীরাধীরেতি কথ্যতে॥ ইতি

ধীরাধীর প্রগলভার কথা বুঝা নাহি যায়।
কভু স্তুতি কভু নিন্দা কভু ব্যথা পায়॥
কভু বা কান্তের দুখে হয়েত সম্মতি।
কভু এক আধো কথা কহেত ছলোক্তি॥

তথাহি পদম্
এড়ী বস্য পাএ পড়োঁ সাধ নাহি মোর।
মরুক সে নিলজিনী পিরিতি করে তোর॥
হাসি হাসি কহ কথা গাখানি মোর জ্বলে।
সোই খানে হাস জাঞা নিলজিনির কোলে॥
পোড়া ঘায়ে লোনের ছিটা সহা নাহি জায়।
যাতে তোমার হয় সুখ ধর তার পায়॥
কসিক শেখর কহে গদগদ ভাষ।
গোপালদাস হেরি মনে না গেল তরাস॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর