| কবি গোপাল দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| গুরুজন সবহিঁ মন্দির তেজি চললহিঁ শ্রীগোপালদাস ১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, ষষ্ঠ কোরক, বিপ্রলম্ভের দিগ্ দরশন, পৃষ্ঠা ৮৯। গুরুজন সবহিঁ মন্দির তেজি চললহিঁ চান্দ-গহন দিন লাগি। একলি নারী কৈছে হাম বঞ্চব এ ঘোর জামিনী জাগি॥ মাধব তুহুঁ জনি করসি অকাজ। চঞ্চল চরিত তোহারি হাম জানিয়ে তুহু পৈঠবি ব্রজপুর মাঝ॥ পহিলহি যৌবন কাল মোহে লাগল নাহ রহত দূরদেশ। হেরইতে রূপ মদন মুরুছায়ই কো বুঝে বচনবিশেষ॥ ইথে লাগি তোহে নিষেধি হাম পুন পুন অন্তর করহ পয়ান। শুনইতে কানু বচন অনুমানিয়ে গোপালদাস ইহ গান॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আষাঞা কবরী ভার দূরে করে অলঙ্কার কবি রামগোপাল দাস ১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, নবম কোরক, সম্ভোগ বিবরণ, পৃষ্ঠা ১৩৯। অথ মাথুর-বিরহ তত্র পদ--- ॥ মঙ্গল গুর্জ্জরী রাগ॥ আষাঞা কবরী ভার দূরে করে অলঙ্কার ভূমে পড়ি কান্দে উচ্চস্বরে। প্রাণনাথ বলি কান্দে ধৈরজ নাহিক বান্ধে সঘনে কান্দয়ে কলরবে॥ সহচরি আজি কেনে দেখি আন ভাঁতি। যাহারা দেখিলে মোর আনন্দ পাই অগো তাহা দেখি জ্বলে কেন ছাতি॥ সারি সুক পীকগণ কেনে করে উচাটন দিবসে কেনে অন্ধকার বাসি। হিয়ার মাঝারে মোর কেমন জানি করে গো বন্ধু নাকি হৈলা পরদেসি॥ ধেনুবৃন্দ উনমন হামারব অনুক্ষণ চঞ্চল স্বভাব কেনে দেখি। বনে যত মৃগিগণ সে কেনে কান্দয়ে গো ঝুরে কেনে পোসনিয়া পাখি॥ প্রিয়নর্ম্মসখাগণে নাহি দেখি কাননে মুরলী শব্দ নাহি সুনি। মউরের ঘন নাদ সুনি কেনে পরমাদ বজর সমান সুনি ধ্বনি॥ সেই পক্ষ কলরব বিপরীত সুনি লব ডাহুক ডাহুকী ঘন ডাকে। হংস সারস বাণী শ্রবণের জ্বালা জানি এত কেনে হইল বিপাকে॥ শীতল যমুনা জল পুন দেখি গরল কালিয় আইল হেন বাসি। যে চান্দ দেখিলে মোর আনন্দ হইথ গো ই কেনে গরল বরসি॥ মন্দ মন্দ পবন সেহ দহে অনুক্ষণ চন্দন গরল সম লাগে। বিষম মদন বাণে কি লাগি পরাণে হানে হৃদয়ে দারুণ সেল জাগে॥ নীপতরু কুঞ্জবন তাহা দেখি উচাটন শীতল গরল দুখ জ্বালা। কোমল শিরিষদল পরশে দহে কলেবর কুসুমে বিষম শরজ্বালা॥ বিষম বরিষা কাল সেহ মোরে জঞ্জাল কত দুখ সহিবারে পারি। দারুণ মদন-শর হিয়া করে জরজর অবলা কেমনে প্রাণ ধরি॥ মেঘ দেখি প্রাণ ফাটে পথিকে না দেখি বাটে অনুক্ষণ উচাটন হিয়া। তাহে ত চাতক পাখি ঘন হেরি ঘন ডাকি উদ্দীপন করে পিয়া পিয়া॥ অভরণ যৌবন হেরি পরাণ ধরিতে নারি রজনী দিবস নাহি যায়। যত ছিল অনুকুল সেহ বেল প্রতিকূল নিলজ পরাণ না বাহিরায়॥ সেই মোর সরোবর সেই কুঞ্জ মনোহর সেই মোর গোবর্দ্ধন গিরি। পিয়ার নিকটে মোর যত সুখ দিত গো সে কেন হৈল মোর বৈরি॥ শ্যামের হাতের নীপতরু সেহ এবে ফুল ধরু তাহা যে দেখিতে প্রাণ ফাটে। যে সুখ যেখানে হয়ে দেখি প্রাণ বাহিরায়ে সাহানবান্ধা যমুনার ঘাটে॥ এ ঘর দেখি এ শূন্য শূন্য দেখি ত্রিভুবন নিরন্তর জরজর হিয়া। সে খাট পালঙ্ক হেরি ধৈরজ ধরিতে নারি মন বুঝে পথিক দেখিঞা॥ শরত শিশির কাল সেহ মোরে দহে ভাল দারুণ মদন সনে বাদ। তাহে ঋতু বসন্ত সেহো মোরে দুরন্ত ভ্রমর নিকর পরমাদ॥ অনিল মলয়া গতি সে হইল বিপরীতি তাহে দুখ বাঢ়ে নিরন্তর। একে সে অবলা জাতি তাহে বাদ কুলবতি কেমনে হইব স্বতন্তর॥ শ্যাম তমাল রুখ সেহ দেই মহাদুখ পিয়ার ভরমে হেরি তায়। তাহার পরশ লাগি তরুতলে জাঙ সখি দেখিতে আনল উঠে গায়॥ সুরঙ্গ রঙ্গন মালা বন্ধু মোর গলে দিলা কদম্ব-মঞ্জরী দিল কানে। নিজ করে মুছিয়া ঘাম তিলক দেল অনুপাম সেই গুণ পাসরি কেমনে॥ বান্ধেন কবরী ভার নানা ফুলে গাঁথি হার বনীর বণান কত ভাঁতি। সে হেন পিয়ার গুণ পাঁজরে বিন্ধিল ঘুণ কেমনে ধরিব দারুণ ছাতি॥ নানা কুঞ্জে নানা বনে দেখিয়া পড়য়ে মনে সেই কেনে নিরবধি জাগে। সুরতি আরতি জত বুঝিতে না পারি তত হিয়ায়ে হিয়ায়ে যেন লাগে॥ সে মধুর আলাপনে সুনি কিএ শ্রবণে আর কি হেরব চান্দমুখ। সেহ অঙ্গ পরিমল অঙ্গে লাগিব গো পরশে শীতল হবে বুক॥ আর কি আমার পিয়া দেশেরে আসিব গো আর কি বসিব মোর কোলে। হিয়া বিদরিয়া মোর প্রাণ বাহিরায় গো আমি থির হব কার বোলে॥ সেই সখা সেই সখী সেই সব পশুপাখী সেই সব দেখি ভালে ভাল। এক চান্দ বিহনে কি করিব তারাগণে কেমনে বঞ্চিব নিশিকাল॥ এ হেন দারুণ হিয়া কেন বা প্রবোধে দিঞা নেবারিব কোন অভিলাষে। উদ্দীপন বিরহে গোরি চিত্ত ধরিতে নারি মন ঝুরে রামগোপাল দাসে॥ ইতি রাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লীগ্রন্থে বিরহ উদ্দীপন নাম নবমঃ কোরকঃ। . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |