কবি গোপাল দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
শ্যাম বন্ধুয়া মিলন হইব চিরদিনে
কবি গোপাল দাস
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, দশম কোরক, বিশেষ বচন,
পৃষ্ঠা ১৫২।


শ্যাম বন্ধুয়া মিলন হইব চিরদিনে।
নবজলধর বরিখয়এ হরিষ পড়এ মনে॥
রতিপতি-চরণকমল করি সার।
গোপালদাস কহে গতি নাহি আর॥



ইতি রাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লীগ্রন্থে বিলাসকদম্বঃ নাম দশমঃ কোরকঃ।

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাধা মাধব বৃন্দাবন মাঝ
কবি গোপাল দাস
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, প্রকাশকদম্ব, লীলা, পৃষ্ঠা ১৫৬।


রাধা মাধব বৃন্দাবন মাঝ।
দুহু পরিহাস দূরে রহু লাজ॥
কানু বিচারল মনমথ তন্ত্র।
ধনি পসারল সুরসিত জন্ত্র॥
এক গুণ কানু শত গুণ রাই।
সহচরি হাস রস অবগাই॥
উত্তর প্রতি পুন উত্তর দেল।
কি কহব মাধব নিশবদ ভেল॥
সঙ্গিনী রঙ্গে সব জয় জয় ভাষ।
দূরে রহল তহি গোপাল দাস॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দ অবতার
কবি গোপাল দাস
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, দ্বাদশ কোরক, সমাপ্ত, পৃষ্ঠা ১৬৭।


জয় জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দ অবতার।
আচণ্ডাল আদি সভার করিল নিস্তার॥
সভার উপায় আছে প্রভু তোমার করুণায়।
মো হেন অপরাধীর নাহিক উপায়॥
ব্যাধের আচার মোর আহারে বক কাক।
ঘৃষ্ট কুকুর সম সংসারের পাক॥
আমিহ হই এ গর্দ্দভ ঘোষিত গর্দ্দভী।
অজিতেন্দ্রিয় মূঢ় হঙ মহাপাপী॥
ভূত ভবিষ্যৎ আদি যত পাপ আছে।
এ সকল আসিয়া অল্প হয় আমার কাছে॥
অসার গুণিঞা প্রভু লউলুঁ স্মরণ।
আপন গুণে যে কর মোর নাহিক ভজন॥
একমাত্র হয়ে ভাগ্য জন্ম বৈদ্যবংশে।
দুই চারি বৈষ্ণব পূর্ব্বপুরুষে প্রশংসে॥
বৈদ্যখণ্ডে গ্রামে রাঘব সেন নাম।
সমাজ করিল বৈদ্য অতি অনুপাম॥
তার বংশাবলী হয়ে অনেক বিস্তার।
খবি পণ্ডিত নাম আর বৈষ্ণব আপার॥
যশরাজ খান দামোদর মহাকবি।
কবিরঞ্জন আদি সভে রাজ সেবি॥
চিরঞ্জীব সুলোচন মহাভাগবত।
শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে আছয়ে বিদিত॥
চক্রপাণি মহানন্দ দুই মহাশয়।
নীলাচলে দুই ভাই প্রভুকে মিলয়॥
রঘুনন্দনে সেবক বলি প্রীত করিলা।
দুই জনার মস্তকে নিজ চরণ ধরিলা॥
মহানন্দকে কহিল বৈষ্ণব অকিঞ্চন।
সেবাধর্ম্ম করি তুমি করহ সাধন॥
চক্রপাণিকে শ্রদ্ধা করি কহিল বৈষ্ণব।
পুত্রপৌত্রাদিতে তোমার অনেক বৈভব॥
তাঁর আজ্ঞা পাঞা দুই [ ভাই ] খণ্ডকে আইলা।
সরকার ঠাকুর অতি পিরিতি করিলা॥
বৃন্দাবনচন্দ্রের সেবা দিলেন করিতে।
সেই দুই ভ্রাতার সেবা ঘোষয়ে জগতে॥
চক্রপানি চৌধুরির পুত্র নাম নিত্যানন্দ।
বৃন্দাবনের সেবা করে পরম আনন্দ॥
তাহার তনয় চৌধুরী গঙ্গারাম।
তার জ্যৈষ্ঠ পুত্র হ’ন শ্যামরায় নাম॥
তাঁর পুত্রের নাম হএন মদন রায়।
রাধাকৃষ্ণলীলা কথা সদাই হিয়ায়॥
গোবিন্দলীলামৃত ভাষা আর কৈল পদাবলী।
নিরন্তন বাঞ্ছেন তেহোঁ বৈষ্ণব পদধূলি॥
তাহার কনিষ্ঠ হউয়ে রামগোপাল নাম।
কুলাঙ্গার কুশীল বিষয় তৃষ্ণাকাম॥
পূর্ব্বে করিঞাছি সকল নিবেদন।
দৈন্য নহে মোর এই সাহজিক বচন॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আত্মপরিচয় ও নিজাভীষ্ট  
কবি গোপাল দাস
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, দ্বাদশ কোরক, সমাপ্ত, পৃষ্ঠা ১৭৪।


নাহি পঢ়ি গ্রন্থ না জানি কোন শাস্ত্র।
শ্রীরতিপতি প্রভু মোর এই ভরসা মাত্র॥
পরম দয়াল প্রভু করুণা প্রচুর।
অদোষ-দর্শিত প্রভু আমার ঠাকুর॥
শেষ কালে প্রভু মোরে করুণা করিলা।
পঞ্চতত্ত্ব বিবরিঞা সকল কহিলা॥
রাধাকৃষ্ণ-উজ্জ্বললীলা-মাধুর্য্য অতিশয়।
রাগনিষ্ঠা প্রেম সেবা আশ্রয় বিষয়॥
এই সব কথা প্রভু কহিল অল্পাক্ষরে।
আমার যে মন্দ মেধা নহিল অন্তরে॥
সংকীর্ত্তণ করি প্রভু গেলা আতোহাটে।
মহাদেবীর সান্নিধ্য গঙ্গাদেবীর নিকটে॥
বৃন্দাবন নীলাচল করেন স্মরণ।
রাধাকৃষ্ণ চৈতন্য আর গদাধর চরণ॥
জ্যৈষ্ঠ মাসে শুক্ল পক্ষে পঞ্চমী দিবসে।
অপ্রকট হৈলা প্রভু লোকে এই ঘোষে॥
আমি সে প্রকটরূপ দেখি নিরন্তর।
অতি সুবলিত দেহ গমন মন্থর॥
সদা স্ফূর্ত্তি হয়ে যেন সেই কলেবর।
জন্মে জন্মে হই যেন তাহার কিঙ্কর॥
অল্পকালে পিতৃবিয়োগ না হইল অধ্যয়ন।
মাতা চন্দ্রাবলী দাসী করিল পালন॥
মাতামহ গৌরাঙ্গদাস মহাবংশ হয়।
প্রমাতামহ মধুসূদনদাস বৈষ্ণব আশ্রয়॥
কৃষ্ণ সংকীর্ত্তনে তেহোঁ করেন বাজন।
যাতে নৃত্য করেন প্রভু শ্রীরঘুনন্দন॥
খণ্ডের সম্প্রদা বলি নীলাচলে কহেন।
চৈতন্যচরিতামৃতে আছয়ে বিবরণ॥
এই সব কথায় মোর উপাধি না লইবা।
যাহার কথা কহি তেহোঁ বৈষ্ণব জানিবা॥
আরম্ভ করিল গ্রন্থ প্রথম বৈশাখে।
বাণ অঙ্ক শর ব্রহ্ম নরপতি শকে॥
সপ্ত মাস অবলম্বন কার্ত্তিকে সম্পূর্ণ।
বুধবার দীপযাত্রা হইল পরসন্ন॥
শ্রীবৃন্দাবনচন্দ্রের সেবা মধ্যাহ্ন আরতি।
পুস্তক হৈলে কৈলাঙ দণ্ডবত নতি॥
কেতুগ্রামে আরম্ভ সম্পূর্ণ বৈদ্যখণ্ডে।
শ্রীবৈষ্ণব গোসাঞি দর্শন পাইলা সেই দণ্ডে॥
আচার্য্যের প্রিয় রামচন্দ্র চক্রবর্ত্তী ঠাকুর।
গঙ্গা পার বসতি গ্রাম নাম ফরিদপুর॥
প্রণাম করিয়ে আমি তাহার চরণে।
মোরে শিখাইতে তেহোঁ করিলেন কখনে॥
সেই ক্রমে ভাষা কৈল না নিবে দোষ।
শ্রীরাধাকৃষ্ণলীলা খেলা কথাদি সন্তোষ॥
রাধাকৃষ্ণ লীলা ব্রজে ত্রিবিধ প্রকার।
বাল্যপৌগণ্ডলীলা কৈশোর যে আর॥
এই তিন লীলায়ে ভাব হয় চারিমত।
দাস্য সখ্য বাত্সল্য আর গোপীমত॥
রাগানুগা গোপীভাবের পরম কারণ।
অন্যের যে নাই এই শ্রূবণ দর্শন॥
পরম প্রিয় সখ্য হয় আর সুহৃদাদিগণ।
ভাবে যে বুঝিল সেহো করে আস্বাদন॥
সম্প্রদাই বনা জেবা দরশন করে।
অপরাধ হয় তার কৃষ্ণবৈষ্ণবের ঘরে॥
অবৈষ্ণব হৈঞা যদি করে দরশন।
নির্ব্বংশ যায় পুন নরকে গমন॥
অপ্রাকৃত রস যে প্রাকৃত করি জানে।
তাহে হেন নারকি আর নাহি ত্রিভূবনে॥
কত দিনে নিজাভীষ্ট হইবে প্রবল।
হৃদয় আনন্দ হবে জনম সফল॥

অথ নিজাভীষ্ট---
কত দিনে হবে মোর বৃন্দাবনে বাস।
কত দিনে পুরিব মোর ভাব অভিলাষ॥
কত দিনে রাধাকৃষ্ণ চরণ সেবা পাব।
কত দিনে দুহু রূপ নয়ানে হেরিব॥
ললিতাদি সখী দেখি হব পরস্পর।
রসের কথা শ্রবণে যে করিব নিরন্তর॥
চামর ব্যজন আর ভৃঙ্গার করি করে।
রতিশ্রান্ত দেখিব দোঁহার কলেবরে॥
সহচরীগণ মোরে আজ্ঞা করিব।
হার মালাভরণ সকল জোগাব॥
এ হেন অধম জনে এঁ হেন কৃপা হবে।
পঙ্গু হৈঞা যেন গিরি যে লঙ্ঘিবে॥
বামন হইঞা চান্দ ধরিতে সাধ করে।
অপরাধী হঞা মনে কত সাধ করে॥
অল্প লোক হঞা জেন চাহে রায্য ভারে।
পাপী হঞা চাহে জেন সুখ ভুঞ্জিবারে॥
নামলীলাগুণ কভু না করে স্মরণ।
গোপালদাস আশা করে রাধাকৃষ্ণের চরণ॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী গ্রন্থের সূচী
কবি গোপাল দাস
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, দ্বাদশ কোরক, সমাপ্ত, পৃষ্ঠা ১৭৭।


প্রথম কোরকে কৈল মঙ্গল আচরণ।
দ্বিতীয় কোরকে কহিল নায়ক লক্ষণ॥
তৃতীয় কোরকে কৈল নায়িকার পরিবার।
চতুর্থ কোরকে কহিল ভাবের বিচার॥
পঞ্চম কোরকে কৈল নায়িকা বর্ণন।
ষষ্ঠ কোরকে বিপ্রলম্ভ দীগ্ দরশন॥
সপ্তমে কহিল ভাব অনুরাগ।
অষ্টমে কহিল অষ্ট নায়িকা বিভাগ॥
নবমে কহিল বিরহ ভাব উদ্দীপন।
দশমে কহিল সম্ভোগ বিবরণ॥
একাদশ কোরকে নানা লীলা কৈল।
দ্বাদশ কোরকে গ্রন্থ সম্পূর্ণ হইল॥
নিজাভীষ্ট রূপ সব করি নিবেদন।
কৃষ্ণের অসংখ্য লীলা না হয় বর্ণন॥
ভাষাএ কবিতা ক্রম চিত্তে হয়ে ক্ষোভ।
প্রবন্ধ করিয়া বোল এই সভে লোভ॥
দোষ নাহি দিবে মোরে না দেখিয়া আদ্য অন্ত।
অনুভব করিলে সব রসের পাই অন্ত॥
রতিপতিচরণ-যুগলে যার আশ।
রাধাকৃষ্ণসরকল্পবল্লী কহে গোপালদাস॥

ইতি শ্রীরাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লী নাম গ্রন্থে দ্বাদশঃ কোরকঃ সমাপ্তঃ।

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অসংখ্য কোরক দাম বাসন্তিক ভূপ (গ্রন্থের সমাপ্তি)
কবি গোপাল দাস
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, দ্বাদশ কোরক, সমাপ্ত, পৃষ্ঠা ১৭৮।


অসংখ্য কোরক দাম বাসন্তিক ভূপ।
রাধাকৃষ্ণ লীলা তাহে হএ অতি রূপ॥
দ্বাদশ কোরক গ্রন্থ সম্পূর্ণ করিতে।
সম্বরণ হয় না প্রাণে ক্ষোভ হয় চিত্তে॥
মোর মনে নিরন্তর এই অভিলাস।
অহর্নিশিলীলা গানে করিয়ে নির্য্যাস॥
যতেক বৈষ্ণব আছযে খিতিতলে।
ভুত ভবিষ্যৎ কিবা বর্ত্তমান কালে॥
তাঁ সভারে করি কোটি কোটি নমস্কারে।
তাঁ সভার চরণে অপরাধ নহে এ আমার॥
সভার উচ্ছিষ্ট মুঞি হই তুঁ কুকুর।
আমি ত অধম জীব তাঁহারা ঠাকুর॥
না পঢ়িয়া কবি পাণ্ডিত্য হএ যেই জন।
রাধাকৃষ্ণের হএ সেই কৃপার ভাজন॥
মনোবাঞ্ছা পূর্ণ তার হএ সর্ব্বক্ষণ।
এই রসকল্লপবল্লী কৈল সমাপন॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
চৌদিকে বকুল বন গুঞ্জরে ভ্রমরা
কবি গোপাল দাস
সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও রসমঞ্জরী” গ্রন্থ, অথ বিপ্রলব্ধা, পৃষ্ঠা ২৯৩।


.        ॥ ভূপালী॥
চৌদিকে বকুল বন গুঞ্জরে ভ্রমরা।
কোকিলী কুহুরে জাকে পেখন ধরে মউরা॥
বড় দুঃখ লাগে সই বড় দুঃখ লাগে।
রজনী জাগিএ আমি শ্য়াম অনুরাগে॥
সিরীস কুসুমদলে সেজ বিছাইঞা।
এ ঘর বাহির করি পথপানে চাঞা॥
দারণ মদন মোরে জত দেই তাপ।
হেন মনে উঠেগো জমুনাএ দিএ ঝাঁপ॥
পরপতি আসে মুঞি পুহাইলুঁ রাতি।
গোপালদাস কহে পুরুষ নিঠুর জাতি॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি কাজ কুসুমসেজ কর্পূর চন্দন
কবি গোপাল দাস
সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও রসমঞ্জরী” গ্রন্থ, অথ বিপ্রলব্ধা, পৃষ্ঠা ২৯৪।


কি কাজ কুসুমসেজ কর্পূর চন্দন।
কি করিব হেম মালা মণি আভরণ॥
কর্পূর তাম্বুল বিড়া কি করিব ইহা।
জমুনার জলে সখি দেহ ভাসাইআ॥
নাহ নিঠুর সনে বাড়াইয়া নেহ।
ধিক্ রহু যুবতী ধরএ জনু দেহ॥
ধিক্ রহু জীবন জৌবন অভিমান।
ধিক্ রহু দূতিকে লাজ নাহিঁ মান॥
ধিক্ রহু মদনকদন দুরাচার।
গোপালদাস ধিক্ জাউ ছরখার॥


১৯২৬ সালে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-কত্নাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১১৫ তে এই
পদটিই এভাবে রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” গ্রন্থ
থেকে।

কি কাজ কুসুম-শয্যা কুঙ্কুম-চন্দন।
কি করব মণি-মালা হেম-অভরণ॥
কর্পূর তাম্বুল কি করব ইহাই।
জমুনার জলে সব দেই গো ভাসাই॥
নাহ-নিঠুর সঙ্গে বাড়াইয়া লেহ।
ধিক্ রহু যুবতী যেবা ধরে দেহ॥
ধিক্ রহু জীবন-যৌবন অভিলাস।
ধিক্ রহু দূতি যে লাজ নাহি বাস॥
ধিক্ রহু মদন কদন দুরাচার।
গোপাল দাস ধিক্ জাউ-পরকার॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মন্দির তেজি কানন হাঁমে পেঠলু
কবি গোপাল দাস
সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ
মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও
রসমঞ্জরী” গ্রন্থ, অথ বিপ্রলব্ধা, পৃষ্ঠা ২৯৬।


মন্দির তেজি                                  কানন হাঁমে পেঠলু
কানু চরণ প্রতি আসে।
অভরণ বসন                                      অঙ্গে সাজায়ল
তাম্বুল কর্পূর সুবাসে।
সজনি সো মুঝে বিপরীত ভেল।
কানু রহল দূরে                                অনরথ আন ফুরে
মনমথ দরশন দেল॥ ধ্রু॥
ফুলশরে জরজর                                   সকল কলেবর
কাতরে মহি গড়ি জাই।
পরভৃত রোলে                                  ডোলে সব অন্তর
উঠি বসি রজনী পুহাই॥
শীতল চন্দন                                     গরল সম লাগয়ে
মলয়জ অনল হুতাস।
লোচনে নীর                                      থির নাহি বাঁধই
কান্দই গোপালদাস॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভালে হৈল ওহে বঁধু আইলে সকালে
কবি গোপাল দাস
সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও রসমঞ্জরী” গ্রন্থ, অথ খণ্ডিতা, পৃষ্ঠা ২৯৯।


.        ॥ রাগিণী বিভাষ॥

ভালে হৈল ওহে বঁধু আইলে সকালে।
প্রভাতে দেখিলুঁ মুখ দিন জাব ভালে॥
বঁধুয়ারে তুমার বলিহারি জাঙ।
ফিরিয়া ভাণ্ডাহ তুমার চাঁদমুখ চাঙ॥
আইস আইস পড়িছে রূপে কাজরের শোভা।
ভাল সে সিন্দুর তোমার মুনি-মনোলোভা॥
খর-নখ-দংসে ভেল অঙ্গ জর জর।
ভাল সে কঙ্কণ দাগ হিয়ার উপর॥
নীল পাটের সাড়ী কোঁচার বলনী।
রমণীর বশ হঞা বঞ্চিলা রজনী॥
সুরঙ্গ যাবক রঙ্গ অঙ্গে ভাল সাজে।
এখন কহ মনের কথা আইলা কোন্ লাজে॥
চারি পানে চাহে নাগর আঁচলে মুখ পুছে।
গোপালদাসের লাজ ধুইলে না ঘুচে॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর