| কবি গোপাল দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| চরণে ধরি তুহুঁ কত বেরি নিষেধলুঁ কবি গোপাল দাস সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও রসমঞ্জরী” গ্রন্থ, অথ কালহান্তরিতা, পৃষ্ঠা ৩০৭। অথ ধীরা--- চরণে ধরি তুহুঁ কত বেরি নিষেধলুঁ বেরি বেরি সাধলুঁ হাম। বিরস বঅনে হেরি মোহে তুহুঁ কোপলি চিতে না গুণলি পরিণাম॥ সুন্দরী সরল হৃদঅ তোহাঁরি। কুটিলক সঙ্গে প্রেম বাঢ়াঅলি বঞ্চলি দিন দুই চারি॥ গুরুজন-বচন হিত নাহি মানলি বসন পালটি নাহি পিন্ধ। বিরহক বেদনে তনু মন জারলি অব তুআ ভাঙলি নিদ॥ ধরণী শয়নে পাতর মহা বঞ্চসি পুছইতে হেন নাহি কোই। তুআ মুখ হেরি অবহুঁ জীঁউ ফাটত গোপালদাস মরু রোই॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| মুগধিনী নারী মান নাহিঁ বুঝই কবি গোপাল দাস সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও রসমঞ্জরী” গ্রন্থ, অথ কালহান্তরিতা, পৃষ্ঠা ৩১১। ॥ গুর্জ্জরী॥ মুগধিনী নারী মান নাহিঁ বুঝই না জান এ সুরতিবিলাস। কেবল তোহারি পিরীতি-রসলালসে মীলল পহিল সম্ভাস॥ মাধব, তোহে কি বুঝিএ হেন রীত। বিনি দোষে বালিকা কাহে উপেখলি না বুঝলুঁ তোহাঁরি চরিত॥ বদনে আঁচর দেই খিতি মহ বিলুঠই বচন কহিতে নাহি জানে। মালতী ভমরী মিলল নাঞি লোকসি মাতলি নলিনী-মধুপানে॥ নব রস-রঙ্গ তাহে সিখাঅলি পিরীতি করবি নিজ দাস। গোপালদাস ভণি রসিক-শিরোমণি মীলল রাইক পাস॥ ১৯২৬ সালে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-কত্নাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১১৫ তে এই পদটিই এভাবে রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” গ্রন্থ থেকে। মুগধিনী নারী মান নাহিঁ বুঝই না জান এ সুরত-বিলাস। কেবল তুহারি পিরিতি-রস-লালসে মীলল পহিল সম্ভাস॥ মাধব তুহে কি বুঝায়ব রীত। বিনি দোখে বালিকা কাহে উপেখলি না বুঝলু তুহারি চরীত॥ ধ্রু॥ আঁচর বদনে দেই খিতি-তলে বৈঠই বচন কহিতে নাহি জানে। মালতী-ভ্রমর মিলন নাহি হেরসি ভোরি নলিনী-মধু-পানে॥ রস রঙ্গ কত শত তাহে শিখায়বি পিরিতি করবি নিরযাস। গোপাল দাস ভণ রসিক-শিরোমণি মীলল রাইক পাশ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সহচরী মেলি রাইতনু হেরই কবি গোপাল দাস সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও রসমঞ্জরী” গ্রন্থ, অথ স্বাধীনভর্ত্তৃকা, পৃষ্ঠা ৩১৩। ॥ মঙ্গল-গুর্জ্জরী॥ সহচরী মেলি রাইতনু হেরই শ্রমজলে সকল মিটায়। সিথিল কবরী জতনে পুন বাঁধই সিন্দুর কাজর বনায়॥ সজনি বিদগদ সুনাগর কান। নিজকৃত দোষ আপন মুখে মানই রাইক অধীন সে জান॥ দশন করে খত সঙ্গিণী মেটায়ই কুঙ্কুম নকরেখ পূর। উচকুচ-চুচুক কুঞ্জকি বনাঅই আন আন চিন্ করি দূর॥ বসন ভূষণ দেই অঙ্গে সাজায়ই পিন্ধায়ল নীল দুকুল। গোপালদাস পহুঁ মন ভুলল নিজগুণে হোই অনুকূল॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সজনি ডাহিন নআন কেনে নাচে কবি গোপাল দাস সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও রসমঞ্জরী” গ্রন্থ, অথ প্রোষিতভর্ত্তৃকা, পৃষ্ঠা ৩২৪। ॥ ধানশী॥ সজনি ডাহিন নআন কেনে নাচে। খাইতে খাইতে মুঞি সোয়াস্থ না পাইলুঁ অকুশল হব জানি পাছে॥ ধ্রু॥ শয়নে স্বপনে আমি ভয় জেন বাসি গো বিনি দুখে চিন্তা উপজায়। পিয় সখীর কথা সহনে না জাঅ গো সুখ নাহি পাই নিজ গায়॥ নগর বাজারে সব কানাকানি করে গো ঘরে ঘরে করে উতরোল। কাহারে পুছিলে কেহ উতর না দেয় গো কেহ নাহি কহে সাঁচা বোল॥ আমারে ছাড়িআ পিআ বিদেশ জাইব গো এহি কথা বুঝি অনুমানে। গোপালদাস কহে কহিতে লাগএ ভয় কেবা জানি আইল বিমানে॥ ১৯২৬ সালে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-কত্নাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১১৬ তে এই পদটিই এভাবে রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য পরিষদের ২০১ পুথি থেকে। ॥ বরাড়ী॥ সজনি দখিণ-নয়ন কেনে নাচে। খাইতে খাইতে আমি সোয়াস্তি না পাই গো অমঙ্গল হব জানি পাছে॥ ধ্রু॥ শয়নে সপনে আমি ভয় কেন বাসি গো বিনি দুখে চিন্তা উপজায়। পিয় সখীর কথা সহা নাহি যায় গো সুখ নাহি পাই আপন গায়॥ নগর-বাজারে কেনে কানাকানি শুনি গো ঘরে ঘরে শুনি উতরোল। কাহারে পুছিলে কেহ উতর না দেয় গো কেহ নাহি কহে সাঁচা বোল॥ আমারে ছাড়িয়া পিয়া বিদেশে যাইবে গো এই কথা বুঝি অনুমানে। গোপাল দাসেতে কয় কৈতে বাসি ভয় গো কেবা জানি আইল বিমানে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বিরহব্যাধি সমাধি নাঞি পাঅই কবি গোপাল দাস সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও রসমঞ্জরী” গ্রন্থ, অথ প্রোষিতভর্ত্তৃকা, পৃষ্ঠা ৩২৭। দশম দশা--- বিরহব্যাধি সমাধি নাঞি পাঅই অনুখনে উচাটন গেহ। কাঞ্চন বরণ মলিন হেরই উজাগরে বঞ্চই সেহ॥ মাধব, অতি খীন ভৈগেল রাধা। বিরহে আকুল কতহি উপজল জীবইতে সংশয় বাধা॥ খিতি মাহা সুতই কতহি তনু লোটই খনে খনে হিঅ উনমাদ। খনে মোহ লোহ ভই কাঁপই খনে খনে খনে তনু হঅ অবসাদ॥ ঐছে দশাদশ সুনইতে সহচরি করই মরণ প্রতিকার। গোপালদাস চরণে ধরি সাধই তোহেঁ কি জানাওব আর॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |