কবি গোপাল দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
বিরহ আনলে জদি দেহ উপেখবি
কবি গোপাল দাস
সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ
মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও
রসমঞ্জরী” গ্রন্থ, অথ প্রোষিতভর্ত্তৃকা, পৃষ্ঠা ৩২৯।


অথ সংখ্যুক্তিকা---

॥ গান্ধার॥

বিরহ আনলে                                  জদি দেহ উপেখবি
খোয়াইবি আপন পরাণ।
তুয়া অনুচর সব                                 কোহি না জিয়ব
সবহু করবি সমাধান॥
সুন্দরি মাধব আঅবি গেহ।
তোহাঁ দশা অব                                   সো জব সুনইব
তব কি ধরব সোই দেহ॥
আপনাক হাতে                                  রমণীকুল ঘাতবি
হানবি শ্যামরু চন্দ্র।
জগভরি বিপুল                                কলঙ্ক তুয়া ঘোষব
দোষব কল্মষবন্ধ॥
সজল কমলফুলে                                কমলাপতি পূজহ
আরাধহ মনমথদেব।
গোপালদাস                                        আসত পূরব
রাধামাধব সেব॥


১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”  গ্রন্থের, ১০২
পৃষ্ঠায় পদটি এইভাবে আছে।

॥ ধানশী॥

বিরহ আনলে যদি দেহ খোয়ায়বি খোয়াইবি আপন পরাণ।
তুয়া অনুচরী সখী কই না জীবই সবহু করব সমাধান॥
সুন্দরী মাধব আয়ব গেহ।
তোহারি দশা শ্রবণে যব শুনব তব কি ধরব সোই দেহ॥ ধ্রু॥
আপনাক যাতে রমণী কুল ঘাতবি বিহনে শ্যামর চন্দ।
জগভরি পুলক কলঙ্ক তুয়া ঘোষব কমল সবন্দ॥
সফল কমল দেই কমলা পতি পূজহ আরাধহ মনমথ দেব।
গোপাল দাস আশ তব পূরব রাধামাধব সেব॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
চিকুর ফুরিছে বসন খসিছে
কবি গোপাল দাস
সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ
মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও
রসমঞ্জরী” গ্রন্থ, অথ প্রোষিতভর্ত্তৃকা, পৃষ্ঠা ৩৩০।


॥ ভাট্যালি রাগ॥

চিকুর ফুরিছে                                   বসন খসিছে
পুলক যৌবন ভার।
বাম অঙ্গ আখি                                সঘনে নাচিছে
নাচিছে হিয়ার হার॥
সজনি মাধব মিলব মোয়।
সব শুভক্ষণ                                       পায়ল এখন
স্বরূপে কহলোঁ তোয়॥ ধ্রু॥
দেখি সপন                                          চারুনন্দন
গিরির উপরে বসি।
মালতির মালা                                   দধির ডালা
মাধব মিলব আসি॥
প্রভাত সময়ে                                   কাক কলরব
আহার বাটিয়া খায়।
বন্ধু আসিবার                                    নাম করিলে
লড়িয়া বৈসয় তায়॥
হাথের বাসন                                খসিয়া পড়িছে
দেবতা মাথার ফুল।
গোপালদাস কহে                               সব সুলক্ষণ
বিধি ভেল অনুকূল॥



এই পদটিই রয়েছে, ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলনের পৃষ্ঠা ৭৭৬-
তে এই ভাবে।

ভাবোল্লাস

॥ তুড়ী॥

চিকুর ফুরিছে                                   বসন খসিছে
পুলক যৌবন ভার।
বাম অঙ্গ আখি                                 সঘনে নাচিছে
নাচিছে হিয়ার হার॥
সজনি মাধব মিলব মোয়।
সব শুলক্ষণ                                       পাইলুঁ এখন
স্বরূপে কহিলুঁ তোয়॥ ধ্রু॥
দেখিলুঁ সপন                                       চারু চন্দন-
গিরির উপরে বসি।
মালতীর মালা                                 দধির যে ডালা
মাধব মিলব আসি॥
পরাত কালের                                  কাক কলকলি
আহার বাঁটিয়া খায়।
বন্ধু আসিবার-                                 নাম সুধাইতে
উড়িয়া বৈসয়ে ঠায়॥
হাতের বাসন                                 খসিয়া পড়িছে
দেবের মাথার ফুল।
গোপাল দাসে কয়                                সব সুলক্ষণ
বিধি ভেল অনুকুল॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি কহব রাইক হরি-অনুরাগ
কবি গোপাল দাস
১৯২৬ সালে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-কত্নাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১১৫। পদটি
তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য পরিশদ ২০১ নং পুথি থেকে।

.     জ্যোত্স্নাভিসারিকা

.        ॥ ভূপালী॥

কি কহব রাইক হরি-অনুরাগ।
নিরবধি মনহিঁ মনোরথ জাগ॥
সহজে রুচির-তনি সাজি কত ভাতি।
অভিসরু শারদ ঊজর রাতি॥
ধবল-ভুষ্ণণ তনু চন্দন-পুর।
অরুণ অধরে পুগ সহিতে কপূর॥
কবরি-উপরে করু কুন্দ-বিথার।
কণ্ঠ-বিলম্বিত মোতিম হার॥
কৈরবে ঝাঁপল করতল কাঁতি।
মলয়জ-চন্দন বলয়ক পাঁতি॥
চান্দকি কৌমুদী তনু নহ ভীন।
যৈছন খীর-নীর নহ চীন॥
ছায়া-বৈরি না ছাড়ল বাধ।
বনহি শরণ করু যামিনি-আধ॥
গোপালদাস কহ সুচতুর গোরি।
নূপুর-রসন তুলো মুখ পূরি॥


এই পদটিই, আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (কবি হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও
বিরচিত এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”। প্রথম ক্ষণদা - কৃষ্ণা প্রতিপদ, পদসংখ্যা ১, পৃষ্ঠা
২-তে এই ভাবে রয়েছে।


.        ॥ ভূপালী॥

কি কহব রাইকো হরি-অনুরাগ।
নিরবধি মনহিঁ মনোভব জাগ॥
সহজে রুচির তনু সাজি কত ভাতি।
অভিসরু শারদ-পূণমিকো রাতি॥
ধবল বসন তনু চন্দন পূর।
অরুণ অধরে ধরু বিষদ কপূর॥
কবরী উপরে করু কুন্দ বিথার।
কণ্ঠে বিলম্বিত মোতিম হার॥
কৈরবে ঝাঁপল করতল-কাঁতি।
মলয়জ চন্দন বলয়কো পাঁতি॥
চান্দকি কৌমুদী তনু নহে চিন।
যৈছন ক্ষীর নীর নহে ভিন॥
ছায়া বৈরী না ছোড়ল বাদ।
চরণে শরণ করু যামিনী আধ॥
গোপালদাস কহে সুচতুরী গোরী।
নূপুর রসন তুলি মুখ পূরি॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
লোহার মুদ্গর সুতার কায়
কবি গোপাল দাস
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, প্রকাশকদম্ব, লীলা, পৃষ্ঠা ১৫৮।


লোহার মুদ্গর সুতার কায়।
পর মারিতে পরের কান্ধে জায়॥
.        হে কৃষ্ণ, এ বড় ধন্দ।
দ্বার দিয়া ঘর পালায় গৃহস্ত পড়িল বন্ধ॥

চারি ফুল ধরে ফল ধরে চারি।
চারি বিহগ ধরে কহ বরনারি॥
চারি ত্রিপদ সেই ধরে বহু রঙ্গে।
চারি চতুষ্পদ আছএ তার অঙ্গে॥
সুন সুন সুন্দরি প্রোহেলি প্রবন্ধ।
বোলবি মোহে তুমি অকৈতব ছন্দ॥
জদি নাহি বোলবি রহবি মঝু পাশ।
গোপালদাস কহে অবধি ছয় মাস॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দিবস মধ্যাহ্নে রাস সম্ভোগ পরিচার
কবি গোপাল দাস
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী”, প্রকাশকদম্ব, প্রকাশকদম্ব, পৃষ্ঠা ১৬৬।


দিবস মধ্যাহ্নে রাস সম্ভোগ পরিচার।
নানা রসক্রীড়া কতেক প্রকার॥
প্রেম রাত্রিতে সেই মধ্যাহ্নে দিবসে।
কোন রস কিছু করেন বিশেষে॥
শ্রীরতিপতি-চরণ-যুগল করি সার।
গোপালদাসের গতি নাহি আর॥

ইতি শ্রীরাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লীগ্রন্থে প্রকাশকদম্বঃ নাম একাদশঃ কোরকঃ সমাপ্তঃ।

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্রীচৈতন্যতত্ত্বসার
কবি গোপাল দাস
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী” গ্রন্থের সঙ্গে প্রকাশিত
অন্যান্য নিবন্ধের অন্তর্ভুক্ত, পৃষ্ঠা ১৬৬।


শ্রীরাধাকৃষ্ণচৈতন্যায় নমঃ।

জয় জয় গুরুদেব ঈশ্বর অবতার।
যাহা হইতে সেবকের হএত নিস্তার॥
শ্রীগুরুচরণপদ্মে করিয়া হৃদয়।
চৈতন্যতত্ত্ব সংক্ষেপে কহিব অতিশয়॥
শুন শুন আরে ভাই করি নিবেদন।
কলিযুগে হেন লীলা অকথ্য কথন॥
সাঙ্গোপাঙ্গো পারিষদ চৈতন্য অবতার।
নিগম আগম বুঝিতে বেদবিধি সার॥
কেবল ভকতে জানে নিগূঢ় বেহার।
বিশ্বাস করিয়া শুন গ্রন্থ তত্ত্বসার॥
চৈতন্য পঞ্চতত্ত্ব ভকত অবতার।
শ্রীকৃষ্ণরসলীলা যাহাতে বিস্তার॥
সর্ব্ব অবতার সার চৈতন্যগোসাঞি।
অংশ কলা আদি সর্ব্বে আসিয়া মিসাই॥


.        
শ্লোক
কৃষ্ণবর্ণৎ ত্বিষা কৃষ্ণং সাঙ্গোপাঙ্গাস্ত্রপার্ষদম্।
যজ্ঞৈঃ সংকীর্ত্তনপ্রায়ৈর্যজন্তি হি সুমেধসঃ॥


আগে অবতার পিতামাতা গুরুজন আর।
সর্ব্বে আসি আগে কৃষ্ণে(?) বলে অবতার॥
আদি গুরু প্রথমে আপনি নারায়ণ।
ব্রহ্মাকে শিষ্য করি কৈল ভাগবত কথন॥
তবে নারদ গোসাঞি হৈলা তার শিষ্য।
তাহা হইতে কত হৈলা শিষ্য পরশিষ্য॥

বেদব্যাস নারদে উপাসনা কৈলা।
সুকসুত হইতে কত শাখা হইলা॥
ব্যাস গোসাঞির শিষ্য হৈল মান্ধা আচার্য্য।
তাহার শিষ্য পদ্মনাভ হএন মহাচার্য্য॥
তাহার শিষ্য নরহরি নাম দ্বিজবর।
তাহার শিষ্য মাধব দ্বিজ নাম ধর॥
আজ্ঞোভ তাহার শিষ্য হয় জয়তীর্থ।
তাহার শিষ্য জ্ঞানসিন্ধু অতি বড় কীর্ত্ত॥
তাহার শিষ্য মহানিধি বিদ্যানিধি তার।
রাজপুত্র তাহার শিষ্য দয়ধর্ম্ম [ নাম ] যাহার॥
এহি প্রণালিতে বিষ্ণু আশ্রয়ে সন্ন্যাস।
বৃন্দাবন চিন্তামণি ভক্তিতে প্রকাশ॥
ভাগবত-সমুদ্র হইতে করিলু উদ্ধার।
ভক্তগণ রত্নাবলি পরাইল হার॥
জয়ধর্ম্ম মুনির শিষ্য পুরুষোত্তম চারি।
ব্যাসতির্থ তার শিষ্য বড় অধিকারি॥
শ্রীমান লক্ষ্মীপতি তাহার শিষ্য হয়।
পুরী উপাধি তার অনেক শিষ্য হয়॥
তাহার শিষ্য হইলা শিরীমাধবেন্দ্রপুরী।
বিরলে তেহোঁ কল্পবৃক্ষ অবতরি॥
তাহে চারি ফল ধরে কেবল প্রেমময়।
যে যাহা বাঞ্ছা করে সেহি সিদ্ধি হয়॥
বাত্সল্য সখ্য দাস্য আর যে উজ্জ্বল।
চারি শাখাতে ধরে প্রেমভক্তিফল॥
তাহার শিষ্য ঈশ্বরপুরী উজ্জল অবতার।
আপনে কৃষ্ণচৈতন্য হয় শিষ্য তাহার॥
রাধিকার ভাব কান্তি হৃদয়ে ধরিয়া।
ভক্তরূপে ফিরে সব ভক্তগণ লয়া॥

কত কত অবতার ঈশ্বরের হয়।
পূর্ব্ব অবতারে মিসাল তথা চ নিত্য হয়॥
রঘুনাথে যদি মিশাল কৃষ্ণ পতি রূপে।
তথা চ জামদগ্নি থাকিলা ব্রাহ্মণস্বরূপে॥
ঈশ্বরের লীলা কিছু না করে বিশ্বাস।
অনিত্য অনন্ত শক্তি সাথেতে প্রকাশ॥
কেশবভারতী পূর্ব্বে সান্তিপুনি মুনি।
মথুরাতে যজ্ঞপত্নী কৃষ্ণে দিল আনি॥
গীরা বস্ত্র দণ্ড হাথে দিল সেহি কালে।
নবদ্বীর লীলা এথা সন্ন্যাস করাইলে॥
রঘুনাথে পড়াইলা বশিষ্ঠ তপোবন।
সেহিরূপে গুরু গঙ্গাদাস সুদর্শন॥
বৃন্দাবনে গোলোক যেন শ্বেতদ্বীপ নাম।
নবদ্বীপ পরকাশ চৈতন্যের ধাম॥
গঙ্গা মিশিয়া কালিন্দী আইলা নবদ্বীপে।
নবদ্বীপ বেড়ি থাকে চৈতন্য সমীপে॥
মাতাপিতা শচীদেবী মিত্র পুরন্দর।
নিশ্চয় জানিবে যশোদা ব্রজেশ্বর॥
প্রেমাশ্রয়ে সদানন্দ যশোদাএ মিশায়।
যত অবতারের মাতা পিতা স্থানে পায়॥
কৌশল্যা দেবহুতি দশরথ কর্দ্দম।
সভে আসি একত্রে হএত জনম॥
বসুদেব দেবকী রোহিণী আদি করি।
হাড়াই পণ্ডিত পিতা পদ্মাবতী জননী॥
শ্রীনিবাসঘরণী মালিনী ঠাকুরাণী।
পূর্ব্বে অম্বিকা নাম ধাত্রি জননী॥
গিনিমারা নামে হয় তাহার ভগিনী।
শ্রীনিবাসের ঘরণী নাম নারায়ণী॥
কৃষ্ণের উচ্ছিষ্ট তেহু করিতা ভক্ষণ।
তে কারণে আলবাটি নাম কহিলা কখন॥
বল্লভ আচার্য্য সুতা লক্ষ্মী ঠাকুরাণী।
আচার্য্য ঘটক যেন বিশ্বামিত্র মুনি॥

বিদর্ভের কন্যা সাক্ষাতে বিষ্ণুপ্রিয়া।
সনাতন মিশ্রের ঘরে জন্মিল আসিয়া॥
পূর্ব্বে রুক্মিণী পাঠাইল ছদ্ম ব্রাহ্মণ।
সেই মতে কাশিনাথ জানিহ এখন॥
চতুর্বাহুরূপে প্রভু পূর্ণ অবতার।
অংশকলা আর যে শক্তি সঞ্চার॥
পূরিলাম অষ্টজন অষ্ঠ মহাসিদ্ধি।
রত্নখ্যান নব জন হয়ে মহানিধি॥
চারি চতুর্পহু আর দ্বাদশ গোপাল।
চৌষট্টি মহান্তের গণন করিব বিস্তার॥
ধর্ম্ম অবতারে ভক্ত নাম লিখি জত।
চৈতন্য অবতারে ভক্ত নাম শিখি কত॥
প্রথম প্রভু নিত্যানন্দ প্রভুর অংশ কয়।
একরূপে বলরাম লক্ষণ অংশ হয়॥
শেষরূপে অনন্ত তেহো প্রভুর বিলাস।
সেহি রূপ ধরি লিখিল বৃন্দাবনদাস॥
নিত্যানন্দের পহু তনয় তাহার।
পয়োধির সারিবিম্ব অংশ অবতার॥
এই তিন পহু পুন চতুর্পহু দেখি।
মীনকেতন নামে নিত্যানন্দে লেখি॥
নিত্যানন্দের প্রিয়া বসুধা জাহ্নবী।
কালা রেবতী নামক দুই দেবী॥
দ্বিতীয়ে পহুঁ অদ্বৈত সদাশিব অবতার।
যোগমায়া ভগবতী গৃহিণী যাহার॥
লিঙ্গরূপে বৃন্দাবনে কৃষ্ণের আরাধন।
যোগমায়া করে কৃষ্ণ লীলার কারণ॥
শান্তিপুরে অদ্বৈতগোসাঞি সেহি অবতার।
সীতাঠাকুরাণী আদ্যা গৃহিণী যাহার॥
শ্রীঅচ্যুতানন্দ পহু তার পুত্র প্রধান।
নবজলধরতনু মহাগুণবান॥

দ্বিতীয় পহু রঘুনন্দন বৃন্দাবনকন্দর্প।
রাধাকৃষ্ণ উজ্জ্বললীলাতে যাহার দর্প॥
অপ্রাকৃতি মদন কৃষ্ণের অংশ হয়।
নয়নানন্দ মহানন্দ যাহার আশ্রয়॥
বসন্তকোকিল উজ্জ্বল মহালীলা।
ভক্তরূপে বিগ্রহ সংকীর্ত্তন আশ্বাদিলা॥
কখন সংকীর্ত্তনে মহাভাব হয়।
তাড় বালা কখন খসিয়া পড়য়॥
চতুর্পহু বক্রেশ্বর পণ্ডিত অবতার।
অনিরুদ্র তার প্রভু দেহেত স়্চার॥
নৃত্য করিয়া তেহু প্রভুকে দিল সুখ।
দশশত গাএন মোখ দেহ চন্দ্রমুখ॥
গোপালের গুরু যাহার আপ্যয়িত হয়।
সর্ব্বগ্রন্থ জানিলে তবে হয় কিনা হয়॥
শ্রীনিবাস আদি প্রভুর পারিষদ্গণ।
নারদঋষি পূর্বে যার আখ্যা সর্ব্বজন॥
মুরারিগুপ্ত ঠাকুর জানিহ হনুমান।
পুরন্দর পণ্ডিত অঙ্গদ যার নাম॥
সুগ্রীব রামচন্দ্র আর পুরী বিভীযণ।
কহিলেন প্রভু নহে বীরের বর্ণন॥
ব্রহ্মানন্দ হরিদাস জগৎ বিখ্যাত।
পুণ্ডরীক্ষ বিদ্যানিধি ছদ্মভাণু সাক্ষাৎ॥
রাধিকার ভাবে প্রভুর বিরহ প্রতাপ।
এহি লাগি কহে প্রভু পুণ্ডরীক্ষ আরে বাপ॥
আগো নাম কহিব সকল গোপাল।
নিত্যানন্দ অদ্বৈত সঙ্গে যত রাখাল॥
পূর্ব্বে শ্রীদাম এখন নাম অভিরাম।
ঠাকুর সুন্দরা পূর্ব্বে আছিল সুদাম॥
বসুদাম নামে পণ্ডিত ধনঞ্জয়।
সুবল সখা গৌরীদাস পণ্ডিত মহাশয়॥
মহাবল নামে কমলাকর পিপলাই।
সুবাহু নামে উদ্ধারণ দত্ত তোমারে জানাই॥
মহাবাহু মহেশ পণ্ডিত মহাশয়।
লবঙ্গ নাম কালিয়া কৃষ্ণদাস কয়॥
খোলাবেচা নাম পণ্ডিত শ্রীধর।
পরিহাসে নিয়োজিল শ্রীমধুমঙ্গল॥
হলায়ুধ ঠাকুর রামের সখা প্রবল।
দ্বাদশ গোপালের নাম কহিল সকল॥
গৌরীদাস পণ্ডিতের আর তিন ভাই।
উপগোপাল সব তোমাকে জানাই॥
অদ্বৈত গোঁসাই সঙ্গে উপগোপাল হয়।
সীতাঠাকুরাণী সঙ্গে নন্দনী আদি হয়॥
অষ্টসিদ্ধি ষড়বিধি রহে তার সঙ্গে।
ভক্তরূপে মুক্তিমন্ত্র রহে লীলা রঙ্গে॥
কবি হরি আদি করি ব্রহ্মাপ দশ সুত।
পূর্ব্বে উদ্ধব এখন সন্ন্যাসী অবধূত॥
সন্ন্যাসী ব্রহ্মচারী রূপে এ সব জনম।
প্রভুর সঙ্গে ফিরেন ভক্তি-পরায়ণ॥
অনুমানি অষ্টসিদ্ধি মধুর বৃন্দাবনে।
অষ্টজনে অষ্টসিদ্ধি ধরেন ভুবনে॥
অনন্তপুরী সুখানন্দ গোবিন্দপুরী নাম।
কৃষ্ণানন্দ রঘুনাথপুরীর ব্যাখ্যান॥
কেশব পুরী আর শ্রীপুরী রাঘব।
অণিমাদি ক্রমে নাম জানিবে এহি সব॥
নববিধি হৈতে জেন নবরত্ন হয়।
শ্রীনিধি বিদ্যানিধি শ্রীগর্ভ রত্নময়॥
কবিরত্ন বিদ্যারত্ন আচার্য্যরত্ন নাম।
রত্নবাহু গুণনিধি সুধানিধি আখ্যান॥
এহি নবজন মাত্র নবরত্ন জানি।
প্রভুর পণ্ডিত তবে ফিরেন অবনি॥
ব্রহ্মার দশ পুত্র ছিল ঊর্দ্ধরেত ব্রতা।
পরম ভাগবত সভে ভাগবত কহিতা॥
সন্ন্যাসী ব্রহ্মচারী সেই সঙ্গে পরকাশ।
নিরবধি করে সেহি পদযুগ আশ॥
নরসিংহানন্দতীর্থ সত্যানন্দ ভারথি।
নরসিংহতীর্থ চিদানন্দ মহামতি॥
পুরুষোত্তমতীর্থ আর তীর্থ জগন্নাথ।
শ্রীরামতীর্থ আর বাসুদেবতীর্থ সাত॥
আশ্রমে উপেন্দ্র আর গরুড় অবধূত।
ঊর্দ্ধরেত নবজন ব্রহ্মার নবসুত॥
নীলাম্বর চক্রবর্ত্তী গর্গ মহাশয়।
এহি লাগি প্রভু ভবিষ্যকথা কয়॥
গদাধর [ দাস ] পণ্ডিত গোসাঞি রাধিকা প্রকাশে।
গদাধর ঠাকুর রাধিাকর বিলাসে॥
পূর্ব্বে যেন চন্দ্রকান্তি রাধিকা ইতিহাস।
এই দুই রূপে চাতন্যের প্রেম পরকাশ॥
মধুবতি নাম সেহি নরহরিদাস।
প্রাণসখী রাধিকার সঙ্গেত বিলাস॥
মুকুন্দদাস বৃন্দাদেবী যেন বৃন্দাবনে।
শিয়া চন্দ্রী চিরঞ্জীবি সুলোচনা লক্ষণে॥
কাঞ্চনলতা মঞ্জরি মধুবতি সঙ্গে।
সঙ্গোপন রূপে তার রাধিকা এ প্রসঙ্গে॥
লোচন গোপালিকা যার সহ্গেত বিলাস।
নিরন্তর গৌরাঙ্গ যার হৃদয়ে প্রকাশ॥
সদাশিব কবিরাজ যেন চন্দ্রাবলি।
জগন্নাথ গোপাল যেন তারকাপালি॥
পূর্ব্বে যেন ললিতা কৃষ্ণের সাক্ষাতে।
জগদানন্দ পণ্ডিত আছে কহে ত্রিজগতে॥
বিশাখা যেন শিক্ষা করান রাধিকারে।
দামোদরস্বরূপ ঐছে করান প্রভুরে॥
বনমালি কবিরাজ গোপির বিলাস।
চিত্রাদেবি সম ভাব করেন পরকাশ॥
রঙ্গদেবি সম রঘুনাথ ভট্ট মানি।
গদাধর ভট্ট আর সুদেবি বাখানি॥
তুঙ্গবিদ্যা প্রবেধানন্দ সরস্বতী।
রাঘব গোসাঞি চমনক গোবর্দ্ধনবাসী॥
ভূগর্ভ গোসাঞি তবে কহি ইন্দুরেখা।
কাশীস্বর গোসাঞি যেন নব শশীরেখা॥
রূপগোসাঞির নাম শ্রীরূপমঞ্জরী।
সনাতন গোসাঞি যেন রতিমঞ্জরী॥
রঘুনাথ গোসাঞির স্তবাবলিতে।
স্বয়ং রূপমঞ্জরী সখী লিখিল তাহাতে॥
স্বয়ং রূপ গদাধর ভট্ট মঞ্জরি।
লোকনাথ গোসাঞি লবঙ্গকেলি॥
গোবিন্দ মাধব আর বাসুদেব ঘোষ।
কলাবতি লীলাবতি গানের সন্তোষ॥
লীলা নামে দূতী আছিল বৃন্দাবনে।
কৃষ্ণের সবে লয়া তবে যান গোপীগণে॥
সেহি সব ভাব ভক্ত সঙ্গে লইয়া।
বৃন্দাবনে নাট্যলীলা সতত রহিয়া॥
শিবানন্দ গোসাঞির অতি শুদ্ধমতি।
কৃষ্ণকে স্নেহ করেন তেহু জনম অবধি॥
তার পুত্র চৈতন্য রামদাস কবিকর্ণপুর।
নানাবিদ্যা পরিপূর্ণ সকল রসে পুর॥
পূর্ব্বে জেন সারিশুক বেড়ায় বৃন্দাবনে।
সেহি মতে মহাপ্রভু পড়াইল তিনজনে॥
পরমানন্দ পুরী যেন উদ্ধব অবতার।
জগদানন্দ পণ্ডিত সত্যভামার ভাব॥
দামোদর পণ্ডিতের বাক্য নব দণ্ড।
সব্যা যেন কৃষ্ণকে করেন প্রচণ্ড॥
খণ্ডি চক্রু সব্যা বোধোক্তি শ্রীকান্ত।
তাহার অনুজ কহি শঙ্কর পণ্ডিত॥
প্রভুর পাদপদ্মধ্যান বিদিত জগতে।
[ ভদ্রার ] হৃদয়ে যেন কৃষ্ণ নিদ্রা যায়ে॥
তিলমাত্র মহাপ্রভু সর্ব্বসুখ পান।
কৃষ্ণের ভক্ষণ সামগ্রী যেন ধনিষ্ঠা যোগান॥
সেইমত রাঘবদাস যে ঝালি লয়া চলে।
তাহার ভগনি দেমন্তি তথাই আছিলে॥
শুক্লাবর ব্রহ্মচারী যাজ্ঞিক ব্রাহ্মণ।
প্রভু যারে অর্থ মাঙ্গি খাইল আপনে॥
জগদানন্দ হিরণ্যদাস যজ্ঞপত্নী ছিলা।
একাদশী দিনে প্রভু অন্ন মাঙ্গি খাইলা॥
নন্দন ব্রহ্মচারীতে প্রভুর আবির্ভাব জানি।
প্রলুব্ধ মিত্রের প্রভুর আবেশ বাখানি॥
ভগবান আচার্য্য প্রবুর ভক্ত হইলা।
বনমালি পণ্ডিত পূর্ব্বে মুষল ধরিলা॥
গরুড় পণ্ডিত পণ্ডিত গরুড় বলি তারে।
গোপীনাথ হয়্যা অক্রূর বিহরে        
ঠাকুরবংশী হএন বংশী অবতার।
শঙ্কর ন্যায় আছিলা বৈষ্ণব পরিচার॥
শঙ্কর ঘোষ যেন ডঙ্কা বাজাইলা।
ডঙ্কের বাদ্যেত প্রভুক মোহিলা॥
গঙ্গাদেবী গঙ্গা সম মাধব বসন্ত।
ভাস্কর বল্লভ বিশ্বকর্ম্মা যদু মহান্ত॥
ভিক্ষু বনমালী পূর্ব্বে আছিলা সুদামা।
ধন পায়া দুখ ভাবি পুন দিলা ক্ষেমা॥
মকরধ্বজকর গাএন চন্দ্রমুখ।
নৃসিংহানন্দ প্রহ্লাদ পান মনসুখ॥
লোকনাথ কবিশ্চন্দ্র রামনাথ শ্রীনাথ।
সনকাদি চারিজন ফিরেন প্রভুর সাথ॥
কাশীমিশ্র নীলাচলে আনন্দে বিহরে।
মথুরাতে কৃষ্ণ য়েন কুবজির ঘরে॥
মধুকণ্ঠে মধুব্রত যেন গাএ বৃন্দাবনে।
মুকুন্দ বাসু দত্ত যেন হএ দুইজনে॥
প্রতাপরুদ্র মহাশয় গজপতি রাজা।
ইন্দ্রদ্যুম্ন রূপে করে জগন্নাথের পূজা॥
তাহার পুত্র হরিচন্দন মহাশয়।
জগন্নাথের নিজ ভৃত্য মধুর আশ্রয়॥
সার্ব্বভৌম ভট্টাচার্য্য বৃহষ্পতিত সমান।
তাহার স্ত্রী শচীর মাতৃস্নেহ অনুক্ষণ॥
রায় রামানন্দ হএ ঐশ্বর্য্য অনুজ।
এই লাগি পুত্র কহে আমার দেহ ভীন্ন॥
পূর্ব্বে পূজিলা গোপী অর্জ্জুনে কহিলা।
সেই কথা রামানন্দ প্রভুরে শুনাইলা॥
জর্জ্জনর মাধুর্য্য তেঞি অর্জ্জুনের সখী।
ঐশ্বর্য্য মাধুর্য্য তেঞি প্রভুর সঙ্গে দেখি॥
এখানে রামানন্দ রায় ভবানন্দের নন্দন।
প্রভু পাণ্ডব কহেন পাণ্ডুর নন্দন॥
কালিদাস ঠাকুর যেন কলিঙ্গের দুহিতা।
গোপীগণের উচিঠভক্ষণ কবিতা॥
মাধবী আদি আর সখী মহামতি।
রাধিকার দাসী হে মাধবী মালতী॥
গোসাঞিক নিজ ভৃত্য কাশীশ্বর গোবিন্দ।
বৃন্দাবনে ভ্রমে যেন শঙ্কর আর ভৃঙ্গ॥
বড় হরিদাস আর ছোট হরিদাস।
ভৃত্যপুত্র রূপ দুই জ্যেষ্ঠ দুই দাস॥
রামাই নন্দাই ভক্ত ভাবে দুইজনে।
রাধিকা পূর্ব্বে তাহাকে নিবদনে॥
গোপীনাথ আচার্য্য যেন গোপীর ভারতী।
সারঙ্গ দাস যেন তপস্বিনী যুবতী॥
পৌর্ণমাসীর শিষ্য যেন থাকে বৃন্দাবনে।
গোপীভাবে গোপীভাব কেমত প্রমাণে॥
সর্ব্বভাবে ভক্তগণ চৈতন্যের সঙ্গে।
কি কহিতে পারি লীলা হেন সব রঙ্গে॥
কবিভূষণে বৈষ্ণব ত্রিবিধি নিকটে।
উপরোধ কহি মোখে কহিল বণিতে॥
শ্রীকৃষ্ণরাম সরকার পরমার্থ আমার।
যত্ন করি শিখাইল চাতন্যতত্ত্বসার॥
আমার দোষ নাহি কহিল বৈষ্ণব মহিমা।
গোসাঞিকে স্তুতি রূপে উপাধি গরিমা॥
শ্রীরতিপতি চরণে যাহার অভিলাষ।
শ্রীচৈতন্যতত্ত্বসার কহে রামগোপাল দাস॥

অনন্ত বৈষ্ণব জন্মিল পৃথিবীতে।
কতরূপে বৈষ্ণব ফিরে কে পারে চিনিতে॥
বৈষ্ণব সর্ব্বেশ্বর যার জাতি প্রধান।
নান্দিমুখী কহে তার বিধান কারণ॥
জগদীশ আচার্য্য হেন মহামতি।
চন্দ্রহাস দুই যেন বৃন্দাবনে খিয়াতি॥
রামানন্দ সত্যরাজ হএন দুই ভ্রাতা।
ভানুবতী কলাবতী যেন ব্রজের দুহিতা॥
গোবিন্দের বড় হয় দুই মহাশয়।
বৈকুণ্ঠে আছিলা যেন জয় বিজয়॥
আচার্য্যরত্ন হইল তবে চন্দ্র শীতল।
বিশ্বেশ্বর . . . .জেন দিবাকর॥
শ্রীবৃন্দাবন বর্ণয়ে যেন ব্যাসসম।
বল্লভভট্ট জান শুকদেবের মম্ম॥
পূর্ব্বে যেন বড়াই করিলা ধামালি।
সেইমত গোবিন্দ আচার্য্য গীতাবলি॥
শ্রীকান্ত সেন জেন শ্রুতি কাত্যায়নী।
শিবানন্দ সম্বন্ধে একান্ত ভক্তি জানি॥
শ্রীনাথ পণ্ডিত না জানে অন্য দেবা।
ব্রজে যেন পূর্ব্বে ছিলা করি কৃষ্ণসেবা॥
জগন্নাথ পণ্ডিত গঙ্গাবাস করিলা।
পূর্ব্বে যেন বেণিবন দুর্ব্বাসা আছিলা॥
অনন্ত আচার্য্য আর দ্বিজ হরিদাস।
সুরানন্দ ঈশান আর শ্রীহরিদাস॥
হৃদয়ানন্দ আর কমলনঞান।
মিশ্র আদি কবি যাখে করিলা বাখান॥
প্রভুর সঙ্গে গোপীভাবে রহে রাত্রিদিনে।
ভাব অনুরূপে মাত্র ভক্তগণে চিনে॥
চৈতন্য ভক্ত যত গুহ্য অবতার।
আগম নিগম বেদ বিধির পার॥
প্রায় ভক্তজনে মাত্র সর্ব্বতত্ত্ব জানে।
অনুভাবে কহি কেহো অনুভাবে জানে॥
কাহাকেই স্তুতি করি অনুভাবমন।
তাহার সুখ হয় প্রেমের কারণ॥
কুতর্ক কুবুদ্ধি জন বড় দুঃখ পায়ে।
আনাকালি দিয়া সে শুনি উঠি যায়ে॥
এ সকল লোকের ভাই নরকে গমন।
জন্মে জন্মে দুঃখ পাএ নহে অকারণ॥


ইতি চৈতন্যতত্ত্বসারতত্ত্ব সমাপ্ত

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মথুরার পথে সখি কি দেখিয়ে আর
কবি গোপাল দাস
১৯২৬ সালে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-কত্নাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১১৬। পদটি
তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাস রচিত “পদরসসার” গ্রন্থ থেকে।


.        ভবন বিরহ

.        ॥ সুহই॥

মথুরার পথে সখি কি দেখিয়ে আর।
দেখিতে দেখিতে তনু বিদরে আমার॥
সজনী পিয়া মোর যায় মধুপুর।
পথে লই চলে তারে দারুণ অক্রূর॥ ধ্রু॥
এ রূপ যৌবনে আমি কি আর করিব।
পিয়ার সঙ্গতি আমি মধুপুরে যাব॥
সে গতি পিয়ার মোর সে গতি আমার।
গোপাল দাসেতে কহে পিয়া সে তোমার॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিভৃত-নিকুঞ্জে শেজ বিছাইয়া
কবি গোপাল দাস
১৯২৬ সালে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-কত্নাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১১৭। পদটি তিনি পেয়েছিলেন
নিমানন্দ দাস রচিত “পদরসসার” গ্রন্থ থেকে।


স্বপ্ন-সম্মিলন

॥ শ্রীরাগ॥

নিভৃত-নিকুঞ্জে                                শেজ বিছাইয়া
শুতিয়া আছিলুঁ একা।
উরে হেলা দিয়া                             সে বন্ধু কালিয়া
সপনে পাইলুঁ দেখা॥
সখি সুখের নাহিক ওর।
রসের আবেশে                              বান্ধি ভূজ-পাশে
যতনে লইলুঁ কোর॥ ধ্রু॥
পীন পয়োধরে                                 হিয়ার মাঝারে
কনর-ভুখণে থুল্য।
হাসিয়া হাসিয়া                                 মধুর ভাষিয়া
বয়ানে বয়ান দিল॥
অঙ্গ-মোড়া দিতে                              বিধি জাগাইল
মনে না পূরল আশ।
সুখ দূরে গেল                                    আনল হইল
পোড়ল গোপাল দাস॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
করজোড়ে নবদ্বীপে বন্দিব নিমাই
কবি গোপাল দাস
১৯৩৪ সালে জগবন্ধু ভদ্র সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, থেকে
নেওয়া। প্রথম তরঙ্গ, দ্বিতীয় উচ্ছ্বাস, মঙ্গলাচরণ, পদসংখ্যা ৫৭, পৃষ্ঠা ১৫।


.        ॥ ধানশী॥

করজোড়ে নবদ্বীপে বন্দিব নিমাই।
অধম জনার বন্ধু তিঁহ বিনু নাই॥
অদ্বৈত গোসাঞি বন্দিব সাবধানে।
প্রকাশিলা যেহ হরিনাম দয়াবানে॥
বন্দো বীরভদ্রপিতা নিত্যানন্দ নাম।
প্রেম হেন দানে যেই পূর্ণ কৈলা কাম॥
বন্দো রূপ সনাতন রায় রামানন্দ।
সারঙ্গ গোসাঞি বন্দো পরম সানন্দ॥
সার্ব্বভৌম বন্দো সর্ব্বশাস্ত্রে বিশারদ।
প্রভুর সহিত যাঁর হৈল বদাবদ॥
যড়ভূজ দেখাঞা প্রভু দিলা দরশন।
গোপাল বলে প্রবোধ হৈল সার্ব্বভৌমমন॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সঙ্গে সহচর, গৌরাঙ্গ নাগর, দেখিনু পথের মাজে
কবি গোপাল দাস
১৯৩৪ সালে জগবন্ধু ভদ্র সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, থেকে
নেওয়া। তৃতীয় তরঙ্গ, দ্বিতীয় উচ্ছ্বাস, নাগরির পদ, পদসংখ্যা ৫৩, পৃষ্ঠা ১১৫। এই পদটি
১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”  গ্রন্থের, পৃষ্ঠা ৪-এ তেও রয়েছে।


.        ॥ সুহই বা সিন্ধুড়া॥

সঙ্গে সহচর, গৌরাঙ্গ নাগর, দেখিনু পথের মাজে।
ও রূপ দেখিতে, চিত বেয়াকুল, ভুলিনু গৃহের কাজে॥
সজনি গোরারূপে মদন মোহে।
সতী যুবতী এমতি হইল, আর কি ধৈরজ রহে॥ ধ্রু॥
মদনধানুকী-ধনুক জিনিয়া, নয়াণে গাথিল বাণ।
মুখ-শশধর, বান্ধুলী অধর, হাসি সুধা-নিরমাণ॥
বসন ভূষণ, কতেক ধারণ, রাতুল চরণশোভা।
গোপালদাস কহ, শচীর নন্দন, মুনির মানস লোভা॥


এই পদটিই রয়েছে, ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী”
সংকলনের পৃষ্ঠা ৭৭২-তে এই ভাবে।  

.                         গৌরচন্দ্র

.                        ॥ ধানশী॥

সঙ্গে সহচর                                 গৌরাঙ্গ সুন্দর
.                 দেখিয়া পথের মাঝে।
ওরূপ দেখিয়া                                চিত বেয়াকুল
.                 ভুলিল গৃহের কাজে॥
.              সজনি গোরারূপে মদন মোহে।
সতী কুলবতী                                   এমতি হৈল
.                আর কি ধৈরজ রহে॥ ধ্রু॥
মদন ধনুয়া                                   ধনুক জিনিয়া
.                  নয়াণে গাঁথিয়া বাণ।
মুখ-শশধর                                    বান্ধুলী অধর
.                হাসি সুধা নিরমাণ॥
বসন ভূষণ                                    কতেক ধরণ
.                 চরণ চলন শোভা।
গোপাল দাস কহে                             শচীর দুলাল
.                 মুনির মানস লোভা॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর