| কবি গোপাল দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| বিরহ আনলে জদি দেহ উপেখবি কবি গোপাল দাস সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও রসমঞ্জরী” গ্রন্থ, অথ প্রোষিতভর্ত্তৃকা, পৃষ্ঠা ৩২৯। অথ সংখ্যুক্তিকা--- ॥ গান্ধার॥ বিরহ আনলে জদি দেহ উপেখবি খোয়াইবি আপন পরাণ। তুয়া অনুচর সব কোহি না জিয়ব সবহু করবি সমাধান॥ সুন্দরি মাধব আঅবি গেহ। তোহাঁ দশা অব সো জব সুনইব তব কি ধরব সোই দেহ॥ আপনাক হাতে রমণীকুল ঘাতবি হানবি শ্যামরু চন্দ্র। জগভরি বিপুল কলঙ্ক তুয়া ঘোষব দোষব কল্মষবন্ধ॥ সজল কমলফুলে কমলাপতি পূজহ আরাধহ মনমথদেব। গোপালদাস আসত পূরব রাধামাধব সেব॥ ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা” গ্রন্থের, ১০২ পৃষ্ঠায় পদটি এইভাবে আছে। ॥ ধানশী॥ বিরহ আনলে যদি দেহ খোয়ায়বি খোয়াইবি আপন পরাণ। তুয়া অনুচরী সখী কই না জীবই সবহু করব সমাধান॥ সুন্দরী মাধব আয়ব গেহ। তোহারি দশা শ্রবণে যব শুনব তব কি ধরব সোই দেহ॥ ধ্রু॥ আপনাক যাতে রমণী কুল ঘাতবি বিহনে শ্যামর চন্দ। জগভরি পুলক কলঙ্ক তুয়া ঘোষব কমল সবন্দ॥ সফল কমল দেই কমলা পতি পূজহ আরাধহ মনমথ দেব। গোপাল দাস আশ তব পূরব রাধামাধব সেব॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| চিকুর ফুরিছে বসন খসিছে কবি গোপাল দাস সপ্তদশ দশকে, পীতাম্বর দাস ( রামগোপাল দাসের পুত্র ) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অষ্টরস-ব্যাখ্যা ও রসমঞ্জরী” গ্রন্থ, অথ প্রোষিতভর্ত্তৃকা, পৃষ্ঠা ৩৩০। ॥ ভাট্যালি রাগ॥ চিকুর ফুরিছে বসন খসিছে পুলক যৌবন ভার। বাম অঙ্গ আখি সঘনে নাচিছে নাচিছে হিয়ার হার॥ সজনি মাধব মিলব মোয়। সব শুভক্ষণ পায়ল এখন স্বরূপে কহলোঁ তোয়॥ ধ্রু॥ দেখি সপন চারুনন্দন গিরির উপরে বসি। মালতির মালা দধির ডালা মাধব মিলব আসি॥ প্রভাত সময়ে কাক কলরব আহার বাটিয়া খায়। বন্ধু আসিবার নাম করিলে লড়িয়া বৈসয় তায়॥ হাথের বাসন খসিয়া পড়িছে দেবতা মাথার ফুল। গোপালদাস কহে সব সুলক্ষণ বিধি ভেল অনুকূল॥ এই পদটিই রয়েছে, ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলনের পৃষ্ঠা ৭৭৬- তে এই ভাবে। ভাবোল্লাস ॥ তুড়ী॥ চিকুর ফুরিছে বসন খসিছে পুলক যৌবন ভার। বাম অঙ্গ আখি সঘনে নাচিছে নাচিছে হিয়ার হার॥ সজনি মাধব মিলব মোয়। সব শুলক্ষণ পাইলুঁ এখন স্বরূপে কহিলুঁ তোয়॥ ধ্রু॥ দেখিলুঁ সপন চারু চন্দন- গিরির উপরে বসি। মালতীর মালা দধির যে ডালা মাধব মিলব আসি॥ পরাত কালের কাক কলকলি আহার বাঁটিয়া খায়। বন্ধু আসিবার- নাম সুধাইতে উড়িয়া বৈসয়ে ঠায়॥ হাতের বাসন খসিয়া পড়িছে দেবের মাথার ফুল। গোপাল দাসে কয় সব সুলক্ষণ বিধি ভেল অনুকুল॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নিভৃত-নিকুঞ্জে শেজ বিছাইয়া কবি গোপাল দাস ১৯২৬ সালে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদ-কত্নাবলী” গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১১৭। পদটি তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাস রচিত “পদরসসার” গ্রন্থ থেকে। স্বপ্ন-সম্মিলন ॥ শ্রীরাগ॥ নিভৃত-নিকুঞ্জে শেজ বিছাইয়া শুতিয়া আছিলুঁ একা। উরে হেলা দিয়া সে বন্ধু কালিয়া সপনে পাইলুঁ দেখা॥ সখি সুখের নাহিক ওর। রসের আবেশে বান্ধি ভূজ-পাশে যতনে লইলুঁ কোর॥ ধ্রু॥ পীন পয়োধরে হিয়ার মাঝারে কনর-ভুখণে থুল্য। হাসিয়া হাসিয়া মধুর ভাষিয়া বয়ানে বয়ান দিল॥ অঙ্গ-মোড়া দিতে বিধি জাগাইল মনে না পূরল আশ। সুখ দূরে গেল আনল হইল পোড়ল গোপাল দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |